রাজ্যের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের কর্মরত শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বা গৃহশিক্ষকতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে এবার চূড়ান্ত রাশ টানতে চলেছে সরকার। বিগত বছরগুলোতে একাধিকবার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও তা পুরোপুরি কার্যকর করা যায়নি। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) একটি কড়া নোটিশ ও নির্দেশের পর নজিরবিহীনভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে রাজ্য স্কুলশিক্ষা দফতর।
সরকারি শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বন্ধের নির্দেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের
৪ জুন, ২০২৬-এ রাজ্য স্কুলশিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে সমস্ত জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শকদের (DI) উদ্দেশ্যে একটি অত্যন্ত কঠোর নির্দেশিকা (Memo No. 662-Sc/Apt/DSE-24011(99)/2-2026-CMO SEC-DSE) জারি করা হয়েছে, যেখানে আইন অমান্যকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল যে, সরকারি স্কুলের একশ্রেণীর স্থায়ী শিক্ষক আইনি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রমরমিয়ে প্রাইভেট টিউশন চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি এই বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে (NHRC) সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ সহ অভিযোগ জমা পড়ে। মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে রাজ্যকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরই স্কুলশিক্ষা দফতর জেলা স্তরে কড়া বার্তা পাঠায়।
এবারের নির্দেশিকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, কোনো সাধারণ বা ঢালাও সতর্কতা নয়, বরং নির্দিষ্টভাবে “নাম ধরে ধরে” অভিযুক্ত শিক্ষকদের তালিকা জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের কাছে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট জেলা পরিদর্শকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই তালিকার ভিত্তিতে অবিলম্বে তদন্ত শুরু করতে হবে এবং কোন কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো, তার বিস্তারিত রিপোর্ট (Action Taken Report) দ্রুত বিকাশ ভবনে (স্কুলশিক্ষা দফতর) পাঠাতে হবে।
বিস্তারিত জানুন! Vidyanjali: সরকারি স্কুলের উন্নয়নে ‘বিদ্যাঞ্জলি’ প্রকল্প! শিক্ষা দপ্তরের নতুন নির্দেশ দেখে নিন
স্কুল শিক্ষকদের উপর গুরুতর অভিযোগ
শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গেছে, এবার শুধু প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগই নয়, বরং কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে অত্যন্ত মারাত্মক অভিযোগ এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো পড়ুয়া যদি সংশ্লিষ্ট স্কুলের নির্দিষ্ট শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট টিউশন না নেয়, তবে স্কুলের পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেওয়া বা তাদের ‘অ্যাকাডেমিক কেরিয়ার’ নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। স্কুলশিক্ষা দফতর সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর এই ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি বা ব্ল্যাকমেইলিং কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
আইনি প্রেক্ষাপট: শিক্ষার অধিকার আইন (RTE) ২০০৯
সরকারি শিক্ষকদের গৃহশিক্ষকতা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ২০০৯ সালের কেন্দ্রীয় ‘শিক্ষার অধিকার আইন’ (Right to Education Act) এর ২৮ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, কোনো কর্মরত সরকারি বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক কোনো ধরনের ব্যক্তিগত শিক্ষণ বা গৃহশিক্ষকতার কাজের সাথে যুক্ত হতে পারবেন না।

| বিষয় | লিংক |
|---|---|
| বাংলার শিক্ষা দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট | https://banglarshiksha.wb.gov.in/ |
অবশ্যই দেখে নিন: WB School Holiday List 2026 সালের স্কুল ছুটির তালিকা! PDF
পশ্চিমবঙ্গ সরকারও এই আইনকে কার্যকর করতে ২০১১ এবং ২০১৮ সালে (Notification No. 214-SE/S/10M-/01/18) সার্কুলার জারি করেছিল। এবারের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেই পুরনো আইনের ধারাকেই অত্যন্ত কঠোরভাবে প্রয়োগ করার রূপরেখা তৈরি হলো।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -

