Syllabus Curriculum: প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক সিলেবাসে পরিবর্তন? কমিটি গঠন করল সরকার

Anjan Mahata

Published on:

পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রাথমিক (প্রথম শ্রেণি) থেকে উচ্চমাধ্যমিক (দ্বাদশ শ্রেণি) পর্যন্ত সমগ্র বিদ্যালয়শিক্ষার পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক পুনর্বিবেচনার জন্য সিলেবাস-কাম-কারিকুলাম কমিটি গঠন করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই কমিটি জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020), ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক (NCF 2022 ও NCF 2023) এবং আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞানের আলোকে বর্তমান পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করবে।

— Advertisement —

Syllabus Curriculum: ‘সিলেবাস-কাম-কারিকুলাম কমিটি’ গঠন করল রাজ্য সরকার

সরকার মনে করছে, বর্তমান সময়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা অত্যন্ত জরুরি। সেই কারণে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০, NCF (Foundation Stage) ২০২২ এবং NCF (School Education) ২০২৩-এর আলোকে রাজ্যের বর্তমান সিলেবাস ও কারিকুলাম নতুনভাবে পর্যালোচনা করা হবে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কমিটি প্রথম বৈঠকের দুই মাসের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট এবং পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেবে

বিষয়তথ্য
কমিটির নামসিলেবাস-কাম-কারিকুলাম কমিটি
প্রযোজ্যপ্রথম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত
প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ২ মাস পর
চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ৩ মাস পর
নতুন নীতির বাস্তবায়নপরবর্তী শিক্ষা বর্ষ থেকে।

সিলেবাস-কাম-কারিকুলাম কমিটির প্রধান উদ্দেশ্য

রাজ্য সরকারের গঠিত ‘সিলেবাস-কাম-কারিকুলাম কমিটি’-র প্রধান উদ্দেশ্য হল প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বর্তমান পাঠ্যক্রম, পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষণব্যবস্থাকে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করে তোলা। একই সঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020) ও ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক (NCF)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এমন একটি শিক্ষা কাঠামো তৈরি করা, যা শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে সহায়ক হবে।

  • পাঠ্যক্রম পুনর্বিবেচনা: প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সমগ্র বিদ্যালয়শিক্ষার বর্তমান সিলেবাস ও পাঠ্যপুস্তকের সামগ্রিক পর্যালোচনা করা।
  • জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য আনা: NEP 2020, NCF (Foundation Stage) 2022 এবং NCF (School Education) 2023-এর আলোকে নতুন পাঠ্যক্রমের সুপারিশ করা।
  • ধারণাভিত্তিক শিক্ষার প্রসার: মুখস্থনির্ভর পড়াশোনার পরিবর্তে বিষয়টি গভীরভাবে বোঝার উপর জোর দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণমূলক চিন্তাশক্তি গড়ে তোলা।
  • কৌতূহল ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি: শিক্ষার্থীদের মধ্যে জানার আগ্রহ, অনুসন্ধিৎসা ও সৃজনশীল চিন্তাভাবনা বিকাশের উপযোগী শিক্ষণপদ্ধতি প্রবর্তনের সুপারিশ করা।
  • মানসিক চাপ কমানো: এমন মূল্যায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ কমে এবং সুষ্ঠু মূল্যায়ন নিশ্চিত হয়।
  • বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি: সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের উপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা।
  • গৃহশিক্ষকের উপর নির্ভরতা কমানো: শ্রেণিকক্ষের পাঠদান আরও কার্যকর করে ব্যক্তিগত টিউশনের প্রয়োজনীয়তা কমানোর উপায় খুঁজে বের করা।
  • আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা চালু করা: অডিও-ভিজ্যুয়াল মাধ্যম, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষণপদ্ধতি শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা।
  • শিক্ষক প্রশিক্ষণের উন্নয়ন: বর্তমান শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা ও আধুনিক শিক্ষাদানের কৌশল উন্নয়নের সুপারিশ করা।
  • শিক্ষার্থীর সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করা: একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, জীবনদক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়ক যে কোনও প্রয়োজনীয় সুপারিশ করার ক্ষমতা কমিটিকে প্রদান করা।

নতুন সিলেবাস কবে থেকে চালু হতে পারে?

— Advertisement —

সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কোনও কার্যকর তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। তবে প্রাথমিক ও চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা বিবেচনায় শিক্ষামহলের ধারণা, ২০২৭ সালের নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে সংশোধিত পাঠ্যক্রম ধাপে ধাপে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। নতুন বই প্রস্তুত ও মুদ্রণের কাজও তার আগে সম্পন্ন করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের কী কী সুবিধা হতে পারে?

নতুন পাঠ্যক্রম চালু হলে শিক্ষার্থীরা মুখস্থনির্ভর পড়াশোনার পরিবর্তে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে। এতে তাদের সৃজনশীল চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং শেখার প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষণ, উন্নত মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং মানসিক চাপ কমানোর উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে সহায়ক হতে পারে। শ্রেণিকক্ষের পাঠদান আরও কার্যকর হলে গৃহশিক্ষকের উপর নির্ভরতাও অনেকটাই কমে আসতে পারে।

অবশ্যই দেখুন: Vidyanjali: সরকারি স্কুলের উন্নয়নে ‘বিদ্যাঞ্জলি’ প্রকল্প! শিক্ষা দপ্তরের নতুন নির্দেশ দেখে নিন

কমিটির শীর্ষ নেতৃত্ব ও বিষয়ভিত্তিক মেন্টরবৃন্দ

সিলেবাস-কাম-কারিকুলাম কমিটি এর মধ্য চেয়ারম্যান মেম্বার সেক্রেটারি সহকারী মেম্বার সেক্রেটারি সহ প্রতিটি বিষয় ভিত্তিক মেম্বার রয়েছে নিচে সমস্ত পদ অনুযায়ী এই কমিটির মেম্বারদের তালিকা দেওয়া হলো –

পদনাম
চেয়ারম্যানঅধ্যাপক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় (অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়)
মেম্বার সেক্রেটারিঅরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়
সহকারী মেম্বার সেক্রেটারিঅনিন্দ্যকুমার চট্টোপাধ্যায়

এছাড়াও পদাধিকারবলে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ, পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ এবং SCERT-এর প্রধানরা সদস্য হিসেবে থাকবেন। বিভিন্ন বিষয়ের জন্য পৃথক মেন্টর ও বিশেষজ্ঞ সদস্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিষয়মেন্টরের নামশিক্ষা প্রতিষ্ঠান
গণিতডাঃ দিলীপ চন্দ্র প্রামাণিকউত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়
পদার্থবিজ্ঞানডাঃ ভারত চন্দ্র দলুইকাটোয়া কলেজ
রসায়নডাঃ সৌমিত্ৰ মণ্ডলফকির চাঁদ কলেজ
জীবনবিজ্ঞানডাঃ পরিমল মণ্ডলরায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাডাঃ অমর চন্দ্র কর্মকারগাজোল মহাবিদ্যালয়
ইংরেজিডাঃ জয়দীপ ভট্টাচার্যউত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়
ইতিহাসডাঃ চঞ্চল অধিকারীকার্শিয়াং কলেজ
ভূগোলডাঃ বিশ্বরঞ্জন মিস্ত্রিবর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়
শারীরশিক্ষাশ্রী সুশান্ত সরকাররাজ্য বিশেষজ্ঞ মেন্টর

জেনে রাখুন! Content Creator Lab: রাজ্যের সরকারি স্কুলে ‘ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব’শেখানো হবে এনিমেশন, ভিডিওগ্রাফি

বিষয়লিংক
বাংলার শিক্ষা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটhttps://banglarshiksha.wb.gov.in/
অফিশিয়াল নোটিফিকেশন ডাউনলোডDownload PDF↓

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তটি শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও মুখস্থ নির্ভরতা থেকে মুক্ত করে প্রকৃত জ্ঞানার্জনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে প্রাইভেট টিউশনের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং সার্বিক শিক্ষার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ২০২৭ সালের নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে এই যুগান্তকারী পরিবর্তন কার্যকর হলে তা আধুনিক ও উন্নত পশ্চিমবঙ্গ গড়ায় এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।

Join Group

Telegram

Share