Content Creator Lab: রাজ্যের সরকারি স্কুলে ‘ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব’শেখানো হবে এনিমেশন, ভিডিওগ্রাফি

Anjan Mahata

Updated on:

West Bengal School Digital Content Lab

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে কেবল তথাকথিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই যথেষ্ট নয়, বরং সময়ের দাবি মেনে নিজেদের প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করে তোলা অত্যন্ত জরুরি। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের এই ডিজিটাল যুগের উপযোগী এবং আগামী দিনের পেশাদার হিসেবে প্রস্তুত করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্কুল শিক্ষায় এক যুগান্তকারী ও অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রাজ্যের সরকারি ও সরকার-পোষিত বিদ্যালয়গুলিতে এবার চালু হতে চলেছে অত্যাধুনিক ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব

— Advertisement —

WB School Digital Content Creator Lab: ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব

রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো এবং ভবিষ্যতের ডিজিটাল অর্থনীতির কথা মাথায় রেখে স্কুল স্তর থেকেই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা। এই সুদূরপ্রসারী উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী ৫ বছরে প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার ছাত্র-ছাত্রীকে উন্নতমানের ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় জীবন শেষ করার আগেই পেশাদার দুনিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক দক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হবে।

প্রকল্পের বিবরণগুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সময়সীমা
প্রকল্পের নামডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব (Digital Content Creator Lab)
টার্গেট শিক্ষার্থীনবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা
প্রশিক্ষণের লক্ষ্যপ্রতি বছর প্রায় ১০,০০০ ছাত্র-ছাত্রী (আগামী ৫ বছরে মোট ৫০,০০০)
স্কুল পরিকাঠামোর রিপোর্ট জমার শেষ তারিখ২২ জুলাই
নোডাল বিভাগপশ্চিমবঙ্গ স্কুল শিক্ষা দপ্তর (School Education Department)

প্রশিক্ষণের আধুনিক প্রযুক্তিগত বিষয়সমূহ

আজকের দিনে ডিজিটাল বিনোদন, শিক্ষা ও পেশাদার জগতের সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে ভিজ্যুয়াল মিডিয়া। সেই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই ল্যাবগুলোতে অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিগত বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হবে। স্কুল শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রশিক্ষণ তালিকায় থাকছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও যুগোপযোগী কিছু কোর্স:

  • অ্যানিমেশন (Animation): দ্বিমাত্রিক (2D) ও ত্রিমাত্রিক (3D) অ্যানিমেশন তৈরির মূল কৌশল শেখানো হবে, যা শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তিকে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করবে।
  • ভিজ্যুয়াল এফেক্টস (VFX): চলচ্চিত্র, নাটক বা বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত বিশেষ ভিজ্যুয়াল এফেক্টস বা ভিএফএক্স তৈরির প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হবে।
  • গেমিং (Gaming): তরুণ প্রজন্মের অত্যন্ত জনপ্রিয় গেম ডিজাইনিং ও গেম ডেভেলপমেন্টের প্রাথমিক কলাকৌশল থাকবে পাঠ্যসূচিতে।
  • কমিকস (Comics): গ্রাফিক্স নোভেল বা ডিজিটাল কমিকস তৈরির মাধ্যমে ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং-এর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
  • এক্সটেন্ডেড রিয়্যালিটি (XR): অগমেন্টেড রিয়্যালিটি (AR) এবং ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি (VR)-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা।

মিস করবেন না! PMRBP: প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কার! বিজ্ঞপ্তি মধ্যশিক্ষা পর্ষদের, দেখে নিন

অবকাঠামো সমীক্ষা ও বাস্তবায়নের রূপরেখা

— Advertisement —

প্রকল্পটি মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়নের আগে রাজ্য সরকার প্রতিটি স্কুলের বর্তমান পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্কুল শিক্ষা কমিশনার ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রতিটি জেলার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের (DI) এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্কুলের তথ্যপ্রযুক্তি (ICT) এবং কম্পিউটার ল্যাবের বর্তমান পরিস্থিতি কেমন, সেখানে পর্যাপ্ত কম্পিউটার, ইন্টারনেট সংযোগ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি উপলব্ধ রয়েছে কিনা, সেই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হবে। রাজ্যের সমস্ত সংশ্লিষ্ট স্কুলকে আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের আইসিটি ও কম্পিউটার ল্যাব সংক্রান্ত খুঁটিনাটি তথ্য শিক্ষা দপ্তরে জমা দিতে হবে। এরপরই পরিকাঠামো উন্নয়নের চূড়ান্ত কাজ শুরু হবে।

পড়ুয়াদের সার্বিক উন্নয়নে রাজ্যের অন্যান্য পদক্ষেপ

ডিজিটাল দক্ষতার পাশাপাশি স্কুল স্তরে শিক্ষার্থীদের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে ও সুরক্ষাকে আরও জোরদার করতে বদ্ধপরিকর রাজ্য সরকার। এরই অঙ্গ হিসেবে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকার-পোষিত ও সরকার-সহায়তাপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলিতে ছাত্রীদের জন্য পৃথক ও সচল শৌচাগার নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে

অবশ্যই দেখুন: Vidyanjali: সরকারি স্কুলের উন্নয়নে ‘বিদ্যাঞ্জলি’ প্রকল্প! শিক্ষা দপ্তরের নতুন নির্দেশ দেখে নিন

রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তর থেকে প্রতিটি জেলার জেলাশাসকদের (DM) চিঠি দিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, যে সমস্ত বিদ্যালয়ে এখনও ছাত্রীদের জন্য পৃথক শৌচাগার নেই, সেগুলি দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে। প্রতিটি স্কুলের পরিকাঠামোগত সমীক্ষা শেষ করে অবিলম্বে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। অনুমোদিত টেন্ডারের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অর্থ দ্রুত বরাদ্দ করা হবে যাতে অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা যায়।

Join Group

Telegram

Share