মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান পঞ্চম অধ্যায়—‘পরিবেশ, তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ’ (Class 10 Life Science Chapter 5 Question Answer) এর মধ্যে দূষণ, গ্লোবাল ওয়ার্মিং, জীববৈচিত্র্য রক্ষা বা সুন্দরবনের পরিবেশগত সমস্যার মতো আমাদের চারপাশের একদম বাস্তব ও দরকারি বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়। আজকের পোস্টে এই অধ্যায় থেকে বাছাই করা One Liner প্রশ্ন-উত্তরগুলো (Question Answer) তোমাদের সাথে শেয়ার করা হল।
মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান ‘পরিবেশ, তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ’ (পঞ্চম অধ্যায়) One Liner প্রশ্ন উত্তর
নাইট্রোজেন চক্র ও তার পর্যায়সমূহ:
★ যে সুনির্দিষ্ট আবর্তাকার পথে পরিবেশের নাইট্রোজেন পরিবেশ থেকে জীবদেহে এবং জীবদেহ থেকে পুনরায় পরিবেশে ফিরে আসে, তাকে বলে: নাইট্রোজেন চক্র (Nitrogen Cycle)।
★ বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন মাটিতে সঞ্চিত হয়ে বিভিন্ন নাইট্রোজেনঘটিত যৌগে রূপান্তরিত হওয়ার ঘটনাকে বলে: নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ বা আবদ্ধকরণ (Nitrogen Fixation)।
★ মাটিতে স্বাধীনভাবে বসবাসকারী নাইট্রোজেন সংবদ্ধনকারী ব্যাকটেরিয়া হলো: অ্যাজোটোব্যাকটর ও ক্লসট্রিডিয়াম (Azotobacter, Clostridium)।
★ মাটিতে স্বাধীনভাবে বসবাসকারী নাইট্রোজেন সংবদ্ধনকারী নীলাভ সবুজ শৈবাল হলো: অ্যানাবিনা ও নস্টক (Anabaena, Nostoc)।
★ শিম্বিগোত্রীয় উদ্ভিদের মূলের অর্বুদে বসবাসকারী মিথোজীবী নাইট্রোজেন সংবদ্ধনকারী ব্যাকটেরিয়া হলো: রাইজোবিয়াম (Rhizobium)।
★ মৃত জীবদেহের প্রোটিন বিয়োজক দ্বারা বিয়োজিত হয়ে অ্যামোনিয়ায় পরিণত হওয়ার ঘটনাকে বলে: অ্যামোনিফিকেশন (Ammonification)।
★ অ্যামোনিফিকেশনে সাহায্যকারী ব্যাকটেরিয়ার উদাহরণ হলো: ব্যাসিলাস মাইকয়ডিস, ব্যাসিলাস র্যামোসাস (Bacillus mycoides, Bacillus ramosus)।
★ মাটিতে উপস্থিত অ্যামোনিয়া বিশ্লিষ্ট হয়ে প্রথমে নাইট্রাইট এবং পরে নাইট্রেট যৌগে পরিণত হওয়ার ঘটনাকে বলে: নাইট্রিফিকেশন (Nitrification)।
★ নাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার উদাহরণ হলো: নাইট্রোসোমোনাস, নাইট্রোব্যাকটর (Nitrosomonas, Nitrobacter)।
★ মাটিতে উপস্থিত নাইট্রাইট ও নাইট্রেট যৌগ থেকে নাইট্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়ে বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসার পদ্ধতিকে বলে: ডিনাইট্রিফিকেশন বা নাইট্রোজেন মোচন (Denitrification)।
★ ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়ার উদাহরণ হলো: থায়োব্যাসিলাস ডিনাইট্রিফিক্যানস, সিউডোমোনাস (Thiobacillus denitrificans, Pseudomonas)।
| Details | Link |
|---|---|
| মাধ্যমিক প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ (যারা ইতিমধ্যে জয়েন আছো আর জয়েন হওয়ার দরকার নেই..) |
পরিবেশ দূষণ ও মানবস্বাস্থ্য:
★ জীবমন্ডলের ভৌত, রাসায়নিক এবং জৈব বৈশিষ্ট্যের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন যা পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে, তাকে বলে: দূষণ (Pollution)।
★ বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ার ঘটনাকে বলে: গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming)।
★ বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কঠিন কণাকে বলে: সাসপেন্ডেড পারটিকিউলেট ম্যাটার (SPM – Suspended Particulate Matter)।
★ জলাশয়ে পুষ্টিমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে শৈবালের অত্যধিক বৃদ্ধি ঘটার ঘটনাকে বলে: ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication)।
★ খাদ্যশৃঙ্খলের পুষ্টিস্তরের মাধ্যমে ক্ষতিকারক রাসায়নিকের (যেমন- DDT) মাত্রা সর্বোচ্চ স্তরে চূড়ান্ত বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাকে বলে: জীববিবর্ধন (Biomagnification)।
★ শব্দদূষণ মাপার একক হলো: ডেসিবেল (dB – Decibel)।
★ শব্দ দূষণের স্বাভাবিক মাত্রা হলো: 60-70 dB।
★ অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী পদার্থ, পরাগরেণু, ধুলো ইত্যাদির কারণে শ্বাসনালির পেশির দ্রুত ও অনিয়ন্ত্রিত সংকোচনের ফলে সৃষ্ট রোগটি হলো: অ্যাজমা বা হাঁপানি (Asthma)।
★ ধোঁয়া ও বায়ুদূষক পদার্থের কারণে শ্বসনপথে প্রদাহ সৃষ্টি হলে যে রোগ হয়, তাকে বলে: ব্রংকাইটিস (Bronchitis)।
★ ক্যানসার সৃষ্টিকারী অধিবিষগুলিকে একত্রে বলে: কারসিনোজেন (Carcinogen)।
★ যে জিন থেকে ক্যানসার হয়, তাকে বলে: অঙ্কোজিন (Oncogene)।
ক্লাস 10 জীবনবিজ্ঞান পঞ্চম অধ্যায় ‘পরিবেশ, তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ’ ছোট প্রশ্ন উত্তর (Madhyamik Class 10 Life Science Chapter 5 Short Question)
জীববৈচিত্র্য, সংরক্ষণ ও স্পেশাল টপিকস:
★ উচ্চ রক্তচাপ ও Schizophrenia চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ রেসারপিন পাওয়া যায় যে গাছ থেকে: সর্পগন্ধা (Rauvolfia serpentina)।
★ সংকটাপন্ন ও এন্ডেমিক প্রজাতির প্রাচুর্যযুক্ত জীববৈচিত্র্যপূর্ণ ভৌগোলিক অঞ্চলকে বলে: জীববৈচিত্র্যের হটস্পট (Biodiversity Hotspot)।
★ সারা পৃথিবীতে স্বীকৃত 34টি হটস্পটের মধ্যে ভারতে অবস্থিত হটস্পটের সংখ্যা হলো: 4টি (পূর্ব হিমালয়, ইন্দো-বার্মা, পশ্চিমঘাট ও শ্রীলঙ্কা, সুন্দাল্যান্ড)।
★ সজীব প্রজাতিকে তার নিজস্ব স্বাভাবিক বাসস্থানে রেখে সংরক্ষণ করাকে বলে: ইন-সিটু সংরক্ষণ (In-situ Conservation) [যেমন- জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য]।
★ সজীব প্রজাতিকে তার নিজস্ব বাসস্থানের বাইরে রেখে সংরক্ষণ করাকে বলে: এক্স-সিটু সংরক্ষণ (Ex-situ Conservation) [যেমন- চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন]।
★ অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় (-196°C) তরল নাইট্রোজেনে রেখে নমুনা বস্তুকে সংরক্ষণ করাকে বলে: ক্রায়োসংরক্ষণ (Cryopreservation)।
★ পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুরের আড়াবাড়ি অরণ্যের শাল গাছ পুনরুদ্ধারের জন্য যে প্রকল্প শুরু হয়: জে.এফ.এম (JFM – Joint Forest Management)।
★ স্থানীয় মানুষদের সাহায্যে স্থানীয় এলাকার উদ্ভিদ ও প্রাণীর সম্পর্কে সমস্ত তথ্য লিপিবদ্ধ করা প্রামাণ্য নথিকে বলে: পি.বি.আর (PBR – People’s Biodiversity Register)।
★ একশৃঙ্গ গণ্ডার সংরক্ষণ করা হয় পশ্চিমবঙ্গের যে জাতীয় উদ্যানে: জলদাপাড়া ও গোরুমারা (Jaldapara & Gorumara)।
★ গুজরাটের গির অরণ্যে যে প্রাণী সংরক্ষণ করা হয়: সিংহ (Lion)।
★ পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানে যে প্রাণী সংরক্ষণ করা হয়: রেড পান্ডা (Red Panda)।
★ জলাভূমিতে জৈব পদার্থের অসম্পূর্ণ জারণের ফলে উৎপন্ন মিথেন গ্যাস বাতাসের সংস্পর্শে জ্বলে ওঠার ঘটনাকে বলে: আলেয়া।
★ জলের ভেতর সাঁতার কাটতে সক্ষম জীবকূলকে বলে: নেকটন (Nekton)।
★ জলের একেবারে গভীরে বসবাসকারী জীবকূলকে বলে: বেন্থস (Benthos)।
★ বর্জ্যপদার্থের ব্যবহার সংক্রান্ত পরিবেশদূষণ রোধের নীতিটি হলো: 4R নীতি (Reduce → Reuse → Recycle → Restore)।
★ ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহের ঘাটতি হলে, সেই অবস্থাকে বলে: হাইপক্সিয়া (Hypoxia)।
★ যে পপুলেশনে জন্মহার ও মৃত্যুহার সমান হয়, তাকে বলে: শূন্য পপুলেশন (Zero Population)।
দশম শ্রেণী জীবন বিজ্ঞান পরিবেশ তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ প্রশ্ন উত্তর 2026 | Madhyamik Life Science 5th Chapter Question Answer
১. নাইট্রোজেন চক্রের ধাপসমূহ এবং ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা। ⭐⭐⭐
উত্তর: নাইট্রোজেন চক্রের প্রধান ধাপ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা নিচে দেওয়া হলো:
| ধাপের নাম | প্রক্রিয়া বা সংজ্ঞা | অংশগ্রহণকারী ব্যাকটেরিয়া (উদাহরণ) |
|---|---|---|
| ১. নাইট্রোজেন সংবন্ধন (Nitrogen Fixation) | বায়ুমণ্ডলের মুক্ত গ্যাসীয় নাইট্রোজেন (N2) যৌগে পরিণত হয়ে মাটিতে মেশে। | মিথোজীবী: Rhizobium (শিম্বীগোত্রীয় উদ্ভিদের মূলে থাকে)। স্বাধীনজীবী: Azotobacter, Clostridium। |
| ২. অ্যামোনিফিকেশন (Ammonification) | মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ বা রেচন পদার্থ বিয়োজিত হয়ে অ্যামোনিয়া (NH3) উৎপন্ন করে। | Bacillus mycoides, Micrococcus ureae। |
| ৩. নাইট্রিফিকেশন (Nitrification) | অ্যামোনিয়া থেকে প্রথমে নাইট্রাইট (NO2) ও পরে নাইট্রেট (NO3) তৈরি হওয়ার পদ্ধতি। | ধাপ ১: Nitrosomonas (NH3 → NO2) ধাপ ২: Nitrobacter (NO2 → NO3) |
| ৪. ডিনাইট্রিফিকেশন (Denitrification) | মাটির নাইট্রেট যৌগ পুনরায় মুক্ত নাইট্রোজেন (N2) রূপে বায়ুমণ্ডলে ফিরে যায়। | Pseudomonas, Thiobacillus denitrificans। |
২. নাইট্রোজেন চক্র ব্যাহত হওয়ার কারণ। ⭐⭐
উত্তর: নাইট্রোজেন চক্র ব্যাহত হওয়ার কারণ নিচে দেওয়া হল –
১. রাসায়নিক সার ব্যবহার: জমিতে অতিরিক্ত নাইট্রোজেনঘটিত সার ব্যবহারের ফলে মাটির অম্লত্ব বাড়ে এবং ভৌমজল দূষিত হয়।
২. জীবাশ্ম জ্বালানি দহন: কলকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া থেকে নির্গত নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx) বাতাসে মিশে নাইট্রোজেন চক্রের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং এসিড বৃষ্টি ঘটায়।
৩. এসিড বৃষ্টি ও বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব। ⭐⭐
উত্তর: এসিড বৃষ্টি: বাতাসের SO2 ও NO2 বৃষ্টির জলের সাথে মিশে সালফিউরিক ও নাইট্রিক এসিড তৈরি করে।
ফলাফল: মাটির উর্বরতা কমে, জলাশয়ের মাছ মারা যায় এবং মার্বেল পাথরের স্মৃতিসৌধ (যেমন- তাজমহল) ক্ষতিগ্রস্ত হয় (স্টোন ক্যান্সার)।
বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming): গ্রিনহাউস গ্যাস (CO2, CH4 বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ফলাফল: মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রের জলতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে উপকূলীয় অঞ্চল ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
৪. ইউট্রোফিকেশন ও জৈব বিবর্ধন (Biomagnification)। ⭐⭐
উত্তর: ইউট্রোফিকেশন: জলাশয়ে ফসফেট জাতীয় সার ও সাবান জল মিশলে শৈবালের অতিরিক্ত বৃদ্ধি ঘটে (Algal Bloom)। ফলে জলের অক্সিজেন (DO) কমে যায় এবং মাছ মারা যায়। এই ঘটনাকে ইউট্রোফিকেশন বলে।
জৈব বিবর্ধন: খাদ্যশৃঙ্খলের ধাপে ধাপে অ-বিনাশী দূষক পদার্থ (যেমন- DDT) জমা হয়ে সর্বোচ্চ খাদকের দেহে তার ঘনত্ব বহুগুণ বেড়ে যাওয়াকে জৈব বিবর্ধন বলে।
উদাহরণ: জল → প্ল্যাঙ্কটন → ছোট মাছ → বড় মাছ → মৎস্যভুক পাখি (সর্বাধিক বিষক্রিয়া)।
৫. শব্দ ও বায়ু দূষণের ফলাফল (রোগসমূহ)। ⭐⭐
উত্তর: বায়ু দূষণ: বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা (SPM) ও ধোঁয়ার কারণে হাঁপানি (Asthma), ব্রঙ্কাইটিস এবং ফুসফুসের ক্যান্সার দেখা দেয়।
শব্দ দূষণ: দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ শব্দে শ্রবণশক্তি হ্রাস (বধিরতা), উচ্চ রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি এবং অনিদ্রা বা স্নায়ুবিক সমস্যা দেখা দেয়।
| Details | Link |
|---|---|
| মাধ্যমিক প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ (যারা ইতিমধ্যে জয়েন আছো আর জয়েন হওয়ার দরকার নেই..) |
৬. ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার ফলে সৃষ্ট সমস্যা। ⭐⭐⭐
উত্তর: ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার ফলে সৃষ্ট সমস্যা গুলি নিচে আলোচনা করা হল –
১. জলাশয় ভরাট: বাসস্থানের চাহিদা মেটাতে বেআইনিভাবে জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে, ফলে ভৌমজলের ঘাটতি ও জলনিকাশি সমস্যা হচ্ছে।
২. কৃষিজমি হ্রাস: আবাসন ও শিল্পায়নের জন্য উর্বর কৃষিজমি ধ্বংস করা হচ্ছে, যা খাদ্য সংকটের কারণ হতে পারে।
৩. অরণ্য ধ্বংস: কাঠের চাহিদা ও নগরায়নের ফলে বনভূমি কেটে ফেলা হচ্ছে, যা বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করছে।
৭. জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব। ⭐⭐
উত্তর: জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বগুলি নিচে আলোচনা করা হল –
১. খাদ্য উৎপাদন: মানুষ খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর ওপর নির্ভরশীল।
২. ওষুধ প্রস্তুতি: বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদ থেকে জীবনদায়ী ওষুধ পাওয়া যায়। যেমন- সর্পগন্ধা থেকে রেসারপাইন (উচ্চ রক্তচাপ কমাতে), সিঙ্কোনা থেকে কুইনাইন (ম্যালেরিয়া)।
৩. জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ: বনভূমি বৃষ্টিপাত ঘটাতে এবং CO2 -এর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৮. জীববৈচিত্র্য হ্রাসের কারণ। ⭐⭐
উত্তর: জীববৈচিত্র্য হ্রাসের কারণ গুলি নিচে আলোচনা করা হল –
১. চোরাশিকার: বাঘের চামড়া, গণ্ডারের খড়্গ বা হাতির দাঁতের জন্য বন্যপ্রাণী হত্যা।
২. বহিরাগত প্রজাতি: বিদেশি প্রজাতির অনুপ্রবেশের ফলে দেশি প্রজাতি বিলুপ্ত হচ্ছে। যেমন- পার্থেনিয়াম আগাছা বা তেলাপিয়া মাছের কারণে স্থানীয় প্রজাতির ক্ষতি।
৩. দূষণ: জল ও মাটি দূষণের ফলে অনেক জলজ ও স্থলজ প্রাণী বিলুপ্ত হচ্ছে।
৯. বায়োডাইভারসিটি হটস্পট নির্ধারণের শর্ত ও ভারতের হটস্পট। ⭐⭐⭐
উত্তর: শর্ত:
১. প্রজাতিটি ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে (Endemic species)।
২. ওই অঞ্চলের অন্তত ৭০% প্রাথমিক বনভূমি ধ্বংসপ্রাপ্ত বা বিপন্ন হতে হবে।
ভারতের হটস্পট (৪টি):
১. পূর্ব হিমালয়: (রেড পান্ডা, রডোডেনড্রন)।
২. পশ্চিমঘাট ও শ্রীলঙ্কা: (নীলগিরি তহর, লায়ন টেইল্ড ম্যাকাও)।
৩. ইন্দো-বার্মা: (মায়ানমার সীমান্ত অঞ্চল)।
৪. সুন্দাল্যান্ড: (আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ)।
১০. সুন্দরবনের পরিবেশগত সমস্যা। ⭐⭐⭐
উত্তর: সুন্দরবনের পরিবেশগত সমস্যা গুলি নিচে আলোচনা করা হল –
১. দ্বীপের নিমজ্জন: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জলতল বাড়ায় লোহাচড়া, ঘোড়ামারা প্রভৃতি দ্বীপ ডুবে যাচ্ছে।
২. লবণাক্ততা বৃদ্ধি: বাঁধ ভেঙে সমুদ্রের নোনা জল মিষ্টি জলের পুকুর ও কৃষিজমিতে ঢুকে যাচ্ছে, ফলে সুন্দরী গাছ ও চাষবাস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
৩. মিষ্টি জলের সংকট: নদীতে উজান স্রোত কমে যাওয়ায় মিষ্টি জলের অভাব দেখা দিচ্ছে।
১১. ইন-সিটু ও এক্স-সিটু সংরক্ষণ। ⭐
উত্তর:
| বৈশিষ্ট্য / বিষয় | ইন-সিটু সংরক্ষণ (In-situ Conservation) | এক্স-সিটু সংরক্ষণ (Ex-situ Conservation) |
|---|---|---|
| ১. মূল ধারণা | জীবকে তার নিজস্ব প্রাকৃতিক বাসস্থানে (Natural Habitat) রেখে সংরক্ষণ করা। | জীবকে তার প্রাকৃতিক বাসস্থানের বাইরে কোনো কৃত্রিম পরিবেশে রেখে সংরক্ষণ করা। |
| ২. সংরক্ষণের ধরণ | এখানে পুরো বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশকে রক্ষা করা হয়। | এখানে নির্দিষ্ট কোনো বিরল বা বিপন্ন প্রজাতিকে বিশেষভাবে রক্ষা করা হয়। |
| ৩. সুবিধা | এটি অনেক বেশি প্রাকৃতিক এবং জীবের বিবর্তনীয় প্রক্রিয়া সচল থাকে। | এখানে প্রাণীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও প্রজনন করানো সম্ভব হয়। |
| ৪. উদাহরণ (পশ্চিমবঙ্গ ও ভারত) | জাতীয় উদ্যান (গরুমারা, কাজিরাঙা), অভয়ারণ্য (জলদাপাড়া, সজনেখালি), বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (সুন্দরবন)। | চিড়িয়াখানা (আলিপুর চিড়িয়াখানা), বোটানিক্যাল গার্ডেন (শিবপুর), ক্রায়োপ্রিজারভেশন (তরল নাইট্রোজেনে সংরক্ষণ)। |
১২. JFM ও PBR-এর গুরুত্ব। ⭐⭐⭐
উত্তর: JFM (Joint Forest Management): ভারত সরকার ও স্থানীয় মানুষের যৌথ উদ্যোগে বনসৃজন ও বন সংরক্ষণ প্রকল্প।
উদাহরণ: ১৯৭১ সালে পশ্চিম মেদিনীপুরের আরাবাড়ি অরণ্যে প্রথম এর সূচনা হয়। এর ফলে নষ্ট হয়ে যাওয়া শাল বন পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে।
PBR (People’s Biodiversity Register): এটি হলো স্থানীয় স্তরের জীববৈচিত্র্য এবং তার সম্পর্কে লব্ধ ও ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানের নথিভুক্তকরণ। এটি বায়োপাইরেসি (Biopiracy) রোধ করতে সাহায্য করে।
১৩. বিপন্ন প্রজাতি সংরক্ষণ (প্রজেক্ট ও সমস্যা)। ⭐⭐
উত্তর:
| বন্যপ্রাণীর নাম | সংকটের প্রধান কারণ (Threats) | সংরক্ষণের স্থান (Conservation Sites) |
|---|---|---|
| একশৃঙ্গ গণ্ডার | আন্তর্জাতিক বাজারে খড়্গের (কেরাটিন নির্মিত) উচ্চমূল্যের কারণে চোরাশিকার। | কাজিরাঙা (অসম) ও জলদাপাড়া (পশ্চিমবঙ্গ) জাতীয় উদ্যান। |
| রেড পান্ডা | প্রধান খাদ্য বাঁশ বন ধ্বংস হওয়া এবং সুন্দর লোমশ চামড়ার জন্য শিকার। | সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গালিলা ও নেওড়া ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক। |
| কুমির | চামড়ার জন্য শিকার এবং অনেক সময় মাছ ধরার জালে আটকে মৃত্যু। | ওড়িশার ভিতরকণিকা ও পশ্চিমবঙ্গের ভগবতপুর (সুন্দরবন)। |
আজকের এই পোস্টে তোমাদের সাথে দশম শ্রেণির জীবনবিজ্ঞানের পঞ্চম অধ্যায় ‘পরিবেশ তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ’ থেকে বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ কিছু ওয়ান-লাইনার (One-liner) শেয়ার করা হল। এখানে প্রতিটি পয়েন্ট খুব সহজ ভাষায় দেওয়া হয়েছে, যাতে তোমাদের MCQ এবং SAQ—সব ধরনের শর্ট প্রশ্নের প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হবে।
| Details | Link |
|---|---|
| মাধ্যমিক প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ (যারা ইতিমধ্যে জয়েন আছো আর জয়েন হওয়ার দরকার নেই..) |
মাধ্যমিক (Madhyamik) দশম শ্রেণীর (Class 10) জন্য EduTips-এর সমস্ত বিষয়ের নোটসের লিঙ্ক নিচে দেওয়া হল — অবশ্যই দেখে নাও!
| Subject | Notes |
|---|---|
| বাংলা (Bengali) | Read Now |
| ইংরেজি (English) | Read Now |
| ইতিহাস (History) | Read Now |
| ভূগোল (Geography) | Read Now |
| অংক (Mathematics) | Read Now |
| জীবন বিজ্ঞান (Life Science) | Read Now |
| ভৌতবিজ্ঞান (Physical Science) | Read Now |
ক্লাস 10 জীবন বিজ্ঞান পঞ্চম অধ্যায় | দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান পঞ্চম অধ্যায় MCQ প্রশ্ন-উত্তর | ক্লাস 10 জীবন বিজ্ঞান পঞ্চম অধ্যায় অনুশীলনী
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম Study গ্রুপে যুক্ত হোন -


