মাধ্যমিক (Class 10) ভৌতবিজ্ঞানের ষষ্ঠ অধ্যায় ‘চলতড়িৎ’ (Current Electricity) – এই অধ্যায়ে তড়িৎপ্রবাহ, ওহমের সূত্র, রোধের সমবায়, জুলের সূত্র এবং তড়িৎচুম্বকত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আজকের পোস্টে তোমাদের সুবিধার্থে এই চ্যাপ্টারের বাছাই করা প্রশ্ন-উত্তরগুলো (Question Answer) শেয়ার করা হল।
মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান ‘চলতড়িৎ‘ One Liner প্রশ্ন উত্তর
★ পদার্থের যে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের জন্য পদার্থের মধ্যে তড়িৎবল ক্রিয়াশীল হয়, তাকে বলে: তড়িৎ আধান।
★ কাঁচ, উল, এবোনাইট ইত্যাদি তড়িতের কুপরিবাহী পদার্থে যে তড়িৎ দেখতে পাওয়া যায়, তাকে বলে: স্থির তড়িৎ।
★ সম প্রকৃতির তড়িৎ আধান পরস্পরকে করে: বিকর্ষণ।
★ বিপরীত প্রকৃতির তড়িৎ আধান পরস্পরকে করে: আকর্ষণ।
★ SI পদ্ধতিতে তড়িৎ আধানের একক হল: কুলম্ব।
★ 1 কুলম্ব আধান CGS পদ্ধতিতে যত স্থির তাড়িতিক এককের (esu) সমান, তা হল: 3 x 109 esu।
★ দুটি বিন্দু আধানের মধ্যে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান নির্ণয় করা হয় যে সূত্রের সাহায্যে: কুলম্বের সূত্র।
★ 1 জুল কার্য করে 1 কুলম্ব আধানকে আনতে যে বিভব প্রয়োজন, তাকে বলে: 1 ভোল্ট।
★ যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভবপার্থক্য পরিমাপ করা হয়, তার নাম: ভোল্টমিটার।
★ যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহমাত্রা পরিমাপ করা হয়, তার নাম: অ্যামিটার।
★ পরিবাহীর রোধের অনন্যককে বলে: পরিবাহীতা (Conductance)।
★ পরিবাহীতার একক হল: সিমেন (বা Ohm-1)।
★ যে সমস্ত পরিবাহী ওহমের সূত্র মেনে চলে না (যেমন- ট্রানজিস্টার, ডায়োড), তাদের বলে: অওহমীয় পরিবাহী।
★ SI পদ্ধতিতে রোধাঙ্কের একক হল: ওহম মিটার (Ωm)।
★ রোধাঙ্কের অনন্যককে বলে: পরিবাহীতাঙ্ক।
★ 4.2K উষ্ণতায় পারদ যে বিশেষ ধর্ম প্রদর্শন করে, তা হল: অতিপরিবাহীতা।
★ তড়িৎচালক বল বা EMF-এর একক হল: ভোল্ট।
★ পোটেনসিওমিটার যন্ত্রের সাহায্যে পরিমাপ করা হয়: কোশের তড়িৎচালক বল।
★ কোশের আভ্যন্তরীন রোধের জন্য যে বিভবপতন ঘটে, তার আরেক নাম: নষ্ট ভোল্ট।
★ তড়িৎ কোশের দুটি তড়িৎদ্বারকে প্রায় শূন্য রোধ বিশিষ্ট পরিবাহী দিয়ে যুক্ত করার ফলে গঠিত বর্তনীকে বলে: হ্রস্বপথ (Short Circuit)।
★ বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্ট যে উচ্চ গলনাঙ্ক বিশিষ্ট ধাতু বা সংকর দিয়ে তৈরি হয়, তা হল: টাংস্টেন (বা উলফ্রেমাইট)।
★ ফিউজ তার যে ধাতুগুলির সংকর দিয়ে তৈরি, তা হল: লেড এবং টিন (সীসা ও টিন)।
★ তড়িৎক্ষমতার SI একক হল: ওয়াট (Watt)।
★ তড়িৎশক্তির বাণিজ্যিক একক বা 1 B.O.T (1 Kwh) সমান: 3.6 x 106 জুল (বা 3.6 মেগাজুল)।
★ সাধারণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রের গায়ে ক্ষমতা এবং বিভবপার্থক্যের যে মান লেখা থাকে, তাকে বলে: রেটিং।
★ অতি উচ্চ তাপমাত্রাতেও বায়ুর অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া না করায় হিটারের কুণ্ডলীতে ব্যবহৃত হয়: নাইক্রোম তার।
★ বৈদ্যুতিক মোটরে তড়িৎশক্তি যে শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, তা হল: যান্ত্রিক শক্তি।
★ ফ্লেমিং-এর বামহস্ত নিয়মে মধ্যমা যে অভিমুখ নির্দেশ করে, তা হল: তড়িৎপ্রবাহের অভিমুখ।
★ CFL-এর সম্পূর্ণ নাম হল: Compact Fluorescent Lamp।
★ LED-এর সম্পূর্ণ নাম হল: Light Emitting Diode।
★ বৈদ্যুতিক ইস্ত্রিতে ব্যবহৃত নাইক্রোম তার যে সংকর ধাতু দিয়ে তৈরি, তা হল: নিকেল, ক্রোমিয়াম এবং লোহা।
★ 1 মিলি কুলম্ব (mC) আধান যত কুলম্বের সমান, তা হল: 10-3 কুলম্ব।
★ 1 মাইক্রো কুলম্ব (μC) আধান যত কুলম্বের সমান, তা হল: 10-6 কুলম্ব।
★ একটি বিচ্ছিন্ন বস্তুর মধ্যস্থিত মোট ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক আধানের সমষ্টি সর্বদা ধ্রুবক হওয়াকে বলে: তড়িৎ আধানের সংরক্ষণ সূত্র।
★ শূন্য বা বায়ু মাধ্যমে CGS পদ্ধতিতে কুলম্বের সূত্রের ধ্রুবক (K)-এর মান হল: 1।
★ অসীম দূরত্ব থেকে একটি একক ধনাত্মক আধানকে তড়িৎক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে আনতে যে কার্য করতে হয়, তা হল ঐ বিন্দুর: বিভব।
★ তড়িৎ আধানের প্রবাহ সর্বদা যে দিক থেকে যে দিকে ঘটে, তা হল: উচ্চ বিভব থেকে নিম্ন বিভবের দিকে।
★ ওহমীয় পরিবাহীর ক্ষেত্রে প্রবাহমাত্রা ও বিভব প্রভেদের (I-V) লেখচিত্রের প্রকৃতি হল: মূলবিন্দুগামী সরলরেখা।
★ উষ্ণতা বৃদ্ধি করলে সাধারণ পরিবাহীর রোধ: বৃদ্ধি পায়।
★ উষ্ণতা বৃদ্ধি করলে যে ধরনের পরিবাহীর রোধাঙ্ক হ্রাস পায়, তা হল: অর্ধপরিবাহী (যেমন- সিলিকন, জার্মেনিয়াম)।
★ একই উপাদানের তৈরি ও সমান দৈর্ঘ্যের একটি মোটা ও একটি সরু তারের মধ্যে যেটির রোধ বেশি হবে, তা হল: সরু তারের।
★ একাধিক তড়িৎকোশকে যুক্ত করে প্রবাহমাত্রার চাহিদা পূরণের জন্য যা গঠন করা হয়, তাকে বলে: ব্যাটারি।
★ যে সমবায়ে প্রতিটি রোধের মধ্য দিয়ে একই মাত্রায় তড়িৎ প্রবাহিত হয়, তাকে বলে: শ্রেণি সমবায়।
★ যে সমবায়ে প্রতিটি রোধের দুই প্রান্তের বিভবপার্থক্য সমান হয়, তাকে বলে: সমান্তরাল সমবায়।
★ পরিবাহীতে উৎপন্ন তাপ (H), প্রবাহমাত্রা (I), রোধ (R) এবং সময় (t) এর মধ্যে সম্পর্কযুক্ত জুলের সূত্রটি হল: H = I2 Rt / J।
★ ফিউজ তারকে মূল বর্তনীর লাইভ তারের সাথে যে সমবায়ে যুক্ত করা হয়, তা হল: শ্রেণি সমবায়।
★ ফিউজ তার তৈরিতে তামা ব্যবহার করা হয় না কারণ তামার গলনাঙ্ক: অনেক বেশি (10830C)।
★ 1 মেগাওয়াট (MW) তড়িৎক্ষমতা যত ওয়াটের সমান, তা হল: 106 ওয়াট।
★ বৈদ্যুতিক যন্ত্রের গায়ে রেটিং অনুযায়ী যে তারা (Star) চিহ্ন দেওয়া থাকে, তা নির্দেশ করে যন্ত্রটির: এনার্জি রেটিং (বা শক্তি দক্ষতা)।
★ তড়িৎচুম্বকীয় আবেশের ক্ষেত্রে আবিষ্ট তড়িৎপ্রবাহের অভিমুখ জানা যায় যে সূত্র থেকে, তা হল: লেঞ্জের সূত্র।
★ তড়িৎচুম্বকীয় আবেশের ক্ষেত্রে আবিষ্ট তড়িৎচালক বলের মান জানা যায় যে সূত্র থেকে, তা হল: ফ্যারাডের সূত্র।
★ যে যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়, তাকে বলে: বৈদ্যুতিক জেনারেটর (বা ডায়নামো)।
★ গৃহস্থালির বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলি বর্তনীতে যে সমবায়ে যুক্ত থাকে, তা হল: সমান্তরাল সমবায়।
★ আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী লাইভ তারের রং হল: বাদামী।
★ আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী নিউট্রাল তারের রং হল: হালকা নীল।
★ থ্রি-পিন প্লাগের মধ্যে থাকা সবচেয়ে মোটা পিনটিকে বলা হয়: আর্থ পিন।
| মাধ্যমিক প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ (যারা ইতিমধ্যে জয়েন আছো আর জয়েন হওয়ার দরকার নেই..) |
চলতড়িৎ Class 10 প্রশ্ন উত্তর | চলতড়িৎ সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন উত্তর
১: কুলম্বের সূত্রকে সার্বজনীন বলা যায় না কেন? (মান: ২)
উত্তর: কুলম্বের সূত্রের ধ্রুবক ‘K’ পারিপার্শ্বিক মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। দুটি বিন্দু আধানের মধ্যে ক্রিয়াশীল পারস্পরিক স্থির তাড়িতিক আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিভিন্ন মাধ্যমে এই বলের মানও বিভিন্ন হয়। তাই কুলম্বের সূত্রকে সার্বজনীন বলা যায় না।
২: নষ্ট ভোল্ট কী? এর উৎপত্তির কারণ কী? (মান: ২)
উত্তর: প্রতিটি তড়িদাধানকে অন্তবর্তনী অতিক্রম করার সময় কিছু পরিমাণ কাজ করতে হয়, যা তাপশক্তিরূপে নির্গত হয় এবং এই তাপশক্তিকে আমরা কোনো কাজে লাগাতে পারি না। তড়িৎকোশের মধ্যে এই অপচয়ী শক্তিকেই ‘নষ্ট ভোল্ট’ বলে।
তড়িৎকোশের ভিতরকার তরল বা তড়িৎবিশ্লেষ্য তড়িৎ আধানের প্রবাহকে যে বাধা দেয়, সেই আভ্যন্তরীণ রোধের জন্যই এই নষ্ট ভোল্টের উৎপত্তি হয়।
৩: ওহমীয় পরিবাহী ও অ-ওহমীয় পরিবাহী কাকে বলে? উদাহরণ দাও। (মান: ২)
উত্তর: যে সকল পরিবাহী ওহমের সূত্র মেনে চলে বা যাদের I-V লেখচিত্র মূলবিন্দুগামী সরলরেখা হয়, তাদের ওহমীয় পরিবাহী বলে (যেমন- সমস্ত ধাতব পরিবাহী, তামা, অ্যালুমিনিয়াম)।
অপরদিকে, যে সকল পরিবাহী ওহমের সূত্র মেনে চলে না বা যাদের I-V লেখচিত্র বক্ররেখার ন্যায় হয়, তাদের অওহমীয় পরিবাহী বলে (যেমন- ডায়োড, ট্রানজিস্টার, সৌরকোশ)।
৪: বৈদ্যুতিক বাল্বকে বায়ুশূন্য করে না রেখে ওর মধ্যে স্বল্পচাপে নিষ্ক্রিয় গ্যাস পূর্ণ করে রাখা হয় কেন? (মান: ২)
উত্তর: বৈদ্যুতিক বাল্ব বায়ু দ্বারা পূর্ণ থাকলে অতি উচ্চ তাপমাত্রায় টাংস্টেনের ফিলামেন্টটি বায়ুর অক্সিজেন দ্বারা সহজেই জারিত হয়ে যায় এবং ক্রমাগত বাষ্পীভূত হয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, এর ফলে বাল্বটির আয়ুষ্কাল কমে যায়।
অন্যদিকে, নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার করলে ফিলামেন্টটির ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে বাষ্পীভূত হওয়ার হার হ্রাস পায় এবং বাল্বটির উজ্জ্বলতা বহুদিন ঠিক থাকে।
৫: শর্ট সার্কিট কী? শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লেগে যাবার কারণ কী? (মান: ৩)
উত্তর: কোনো তড়িৎ উৎসের দুটি মেরুকে প্রায় রোধহীন বা স্বল্প রোধযুক্ত পরিবাহী তার দিয়ে যুক্ত করে যে বর্তনী তৈরি করা হয়, তাকে শর্ট সার্কিট বলে। বৈদ্যুতিক বর্তনীতে পজিটিভ ও নেগেটিভ তার বিনা কারণে পরস্পরকে স্পর্শ করলে শর্ট সার্কিট হয় এবং বর্তনীর ঐ স্থানে রোধ প্রায় শূন্য হয়ে যায়।
জুলের সূত্র অনুযায়ী পরিবাহীতে উৎপন্ন তাপ H ∝ I2Rt (বা H ∝ V2/Rt) তাই রোধের (R) মান খুব কম হয়ে গেলে তাপের (H) মান অনেক বেড়ে যায়, যার ফলে প্রচুর পরিমাণে তাপ উৎপন্ন হয়ে আগুন লেগে যেতে পারে।
৬: তড়িৎপ্রবাহের তাপীয় ফল সংক্রান্ত জুলের সূত্রগুলি বিবৃত কর। (মান: ৩)
উত্তর: প্রথম সূত্র (প্রবাহমাত্রার সূত্র): পরিবাহীর রোধ (R) এবং তড়িৎপ্রবাহের সময় (t) অপরিবর্তিত থাকলে পরিবাহীতে উৎপন্ন তাপ (H) তড়িৎপ্রবাহমাত্রার (I) বর্গের সমানুপাতিক হয় (অর্থাৎ, H ∝ I2)।
দ্বিতীয় সূত্র (রোধের সূত্র): তড়িৎপ্রবাহমাত্রা (I) ও তড়িৎপ্রবাহের সময় (t) অপরিবর্তিত থাকলে উৎপন্ন তাপ (H) পরিবাহীর রোধের (R) সমানুপাতিক হয় (অর্থাৎ, H ∝ R)।
তৃতীয় সূত্র (সময়ের সূত্র): পরিবাহীর রোধ (R) এবং প্রবাহমাত্রা (I) স্থির থাকলে পরিবাহীতে উৎপন্ন তাপ (H) তড়িৎপ্রবাহের সময়ের (t) সমানুপাতিক হয় (অর্থাৎ, H ∝ t)।
৭: কোশের তড়িৎচালক বল ও বিভবপ্রভেদের মধ্যে পার্থক্য লেখ। (মান: ৩)
| তড়িৎচালক বল (EMF) | বিভবপ্রভেদ (Potential Difference) |
|---|---|
| তড়িৎচালক বল হল কারণ, আর বিভবপ্রভেদ হল তড়িৎচালক বলের ফল। | বিভবপ্রভেদ হল তড়িৎচালক বলের ফল। |
| অন্য কোনো শক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হলে তড়িৎচালক বলের উদ্ভব হয়। | তড়িৎশক্তি অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হলে বিভবপ্রভেদের সৃষ্টি হয়। |
| মুক্ত বর্তনীতে তড়িৎকোশের তড়িৎদ্বার দুটির মধ্যে বিভবের পার্থক্যকে তড়িৎচালক বল বলে। | বদ্ধ বর্তনীতে তড়িৎকোশের তড়িৎদ্বার দুটির মধ্যে বিভবের পার্থক্যকে বিভবপ্রভেদ বলে। |
| তড়িৎচালক বল পরিমাপ করতে পোটেনসিওমিটার ব্যবহার করা হয়। | বিভবপ্রভেদ পরিমাপ করতে ভোল্টমিটার ব্যবহার করা হয়। |
| প্রতীক: E | প্রতীক: V |
| একক: ভোল্ট (V) | একক: ভোল্ট (V) |
৮: ভাস্বর বাল্বের তুলনায় CFL এবং LED বাতিকে বেশি শক্তি সাশ্রয়কারী বলা হয় কেন? (মান: ৩)
উত্তর: সাধারণ ভাস্বর বাল্বে যে তড়িৎশক্তি দেওয়া হয়, তার প্রায় ৯৮ শতাংশই তাপশক্তি হিসেবে নষ্ট হয় এবং মাত্র ২ শতাংশ দৃশ্যমান আলো তৈরিতে কাজে লাগে।
অপরদিকে, একটি CFL বাতিতে ব্যয়িত শক্তির প্রায় ৭ থেকে ৯ শতাংশ দৃশ্যমান আলো উৎপাদন করে। LED বাতির ক্ষেত্রে এই হার আরও উন্নত; এখানে তড়িৎশক্তির ৪ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত আলো তৈরিতে রূপান্তরিত হয়।
অর্থাৎ, CFL এবং LED-তে শক্তির বেশিরভাগ অংশই আলো হিসেবে পাওয়া যায় এবং তাপ হিসেবে শক্তির অপচয় অনেক কম হয় বলে এগুলো অনেক বেশি শক্তি সাশ্রয়ী।
৯: ফ্লেমিং-এর বামহস্ত নিয়মটি বিবৃত করো। (মান: ২)
উত্তর: বামহাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি, তর্জনী এবং মধ্যমাকে পরস্পরের সাথে সমকোণে রেখে প্রসারিত করতে হবে। এই অবস্থায় তর্জনী যদি চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক এবং মধ্যমা তড়িৎপ্রবাহের দিক নির্দেশ করে, তবে বৃদ্ধাঙ্গুলি পরিবাহীর উপর ক্রিয়াশীল বলের অভিমুখ নির্দেশ করবে।
১০: বৈদ্যুতিক সরঞ্জামে আর্থিং (Earthing) করা হয় কেন? (মান: ২)
উত্তর: ত্রুটিপূর্ণ তড়িৎ সংযোগের কারণে অনেক সময় বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ধাতব আবরণ তড়িৎগ্রস্ত হয়ে পড়ে, যা থেকে মারাত্মক বিপদের আশঙ্কা থাকে। আর্থিং তারের রোধ অত্যন্ত কম হওয়ায় এই বিপদের সময় অতিরিক্ত তড়িতের বেশিরভাগ অংশই তারের মধ্য দিয়ে সহজেই মাটিতে চলে যায়। এর ফলে কোনো ব্যক্তি ঐ বৈদ্যুতিক যন্ত্রটি স্পর্শ করলেও তার শক্ লাগার কোনো সম্ভাবনা থাকে না।
১১: অ্যাম্পিয়ারের সন্তরণ নিয়মটি লেখো। (মান: ২)
উত্তর: কল্পনা করতে হবে, একজন ব্যক্তি তড়িৎবাহী তার বরাবর তড়িৎপ্রবাহের অভিমুখে এমনভাবে সাঁতার কাটছেন যেন তার মুখটি সর্বদা একটি চুম্বক শলাকার দিকে থাকে। এমন অবস্থায়, ওই ব্যক্তির প্রসারিত বাম হাতটি যেদিকে থাকবে, নিচে থাকা চুম্বক শলাকার উত্তর মেরুর বিক্ষেপও ঠিক সেই দিকেই ঘটবে।
১২: কোনো পরিবাহীর রোধ কোন কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে? (মান: ২)
উত্তর: নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট পরিবাহীর রোধ প্রধানত তার দুটি জ্যামিতিক বিষয়ের উপর নির্ভর করে: পরিবাহীর দৈর্ঘ্য এবং পরিবাহীর প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল। এছাড়া পরিবাহীর উপাদান এবং পরিবাহীর তাপমাত্রার পরিবর্তনের সাথেও পরিবাহীর রোধ পরিবর্তিত হয়।
আজকের এই পোস্টে তোমাদের সাথে দশম শ্রেণির ভৌতবিজ্ঞান ষষ্ঠ অধ্যায় ‘চলতড়িৎ’ থেকে বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ কিছু ওয়ান-লাইনার (One-liner) শেয়ার করা হল। এখানে প্রতিটি পয়েন্ট খুব সহজ ভাষায় দেওয়া হয়েছে, যাতে তোমাদের MCQ এবং SAQ—সব ধরনের শর্ট প্রশ্নের প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হবে।
| Details | Link |
|---|---|
| মাধ্যমিক প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ (যারা ইতিমধ্যে জয়েন আছো আর জয়েন হওয়ার দরকার নেই..) | |
| ভৌত বিজ্ঞান অন্যান্য অধ্যায়ের নোটস → | Click Here » |
| মাধ্যমিকের সমস্ত বিষয়ের অধ্যায় ভিত্তিক নোটস → | Click Here » |
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম Study গ্রুপে যুক্ত হোন -


