স্কুলের ছাত্রীদের নিরাপত্তা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এক বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির ছাত্রীদের ‘Self-Defence Training’ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিশেষ নির্দেশনা প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন। ‘রানি লক্ষ্মীবাঈ আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের আওতায় রাজ্যজুড়ে মোট ১৫,২১১টি স্কুলকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
Rani Laxmibai Self Defence Training: রানি লক্ষ্মীবাঈ আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ কী?
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর পরিচালিত ‘রানি লক্ষ্মীবাঈ আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ’ হলো সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের জন্য তৈরি একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য হলো বিপদের মুহূর্তে ছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করে তোলা, যাতে তারা নিজেদের সুরক্ষা নিজেরায় সুনিশ্চিত করতে পারে।
প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ও উপকারিতা
রাজ্য সরকারের এই প্রশিক্ষণের একাধিক উদ্দেশ্য রয়েছে-
- আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি: ছাত্রীদের মানসিক দৃঢ়তা এবং আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে তোলা।
- পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ: বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নিজেকে সুরক্ষিত রাখার কৌশল শেখানো।
- শারীরিক ও মানসিক নিয়ন্ত্রণ: কঠিন পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে কৌশলগতভাবে আত্মরক্ষা করার দক্ষতা অর্জন।
- Gender-Positive পরিবেশ: প্রতিটি বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য একটি ইতিবাচক ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা।
অবশ্যই পড়ুন! WB Govt: রাজ্যের ছাত্রীরা পাবে ৫০ হাজার টাকা! কি কি যোগ্যতা লাগবে? দেখে নিন
প্রশাসনিক কাঠামো ও মনিটরিং ব্যবস্থা (District Committee & Nodal Teacher)
কর্মসূসিটি সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য প্রতিটি জেলায় একটি বিশেষ District Committee গঠিত হবে।
- কমিটির সভাপতি: শিক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলাশাসক (ADM-Education)।
- কমিটির প্রতিনিধিগণ: পুলিশ কমিশনার/পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, District Education Officer-SSM, DI Secondary, District Youth Officer, SSK/MSK-এর District Nodal Officer এবং নির্বাচিত SI of Schools। ক্ষেত্রবিশেষে স্থানীয় থানার OC-কেও যুক্ত করা হবে।
- নোডাল শিক্ষক (Nodal Teacher): প্রতিটি স্কুলে একজন করে নোডাল শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। সম্ভব হলে শারীরশিক্ষা (Physical Education)-র শিক্ষককেই এই দায়িত্ব প্রদান করা হবে।
- অংশগ্রহণ ও স্বীকৃতি: প্রশিক্ষণটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক (ইচ্ছুক ছাত্রীদের জন্য)। ছাত্রীদের উৎসাহিত করতে Inter-School এবং Inter-Circle স্তরে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে এবং বিজয়ীদের জেলা কমিটির পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হবে।
ক্লাসের সময়সীমা ও প্রশিক্ষক নির্বাচন
শনিবারের শেষ ক্লাসে ‘আনন্দ পরিসর’-এর জন্য নির্ধারিত সময়সীমায় ৪০ থেকে ৬০ মিনিট ধরে এই প্রশিক্ষণ সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মসূচির জন্য জেলা প্রশাসন উপযুক্ত পেশাদার প্রশিক্ষক বা সংস্থা বাছাই করবে; প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার (SP) এবং Physical Education & Youth Welfare দফতরের সঙ্গে পরামর্শ করে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক নিয়োগ করা হবে।
বাজেট ও জেলাভিত্তিক অর্থ বরাদ্দ (Budget & Fund Allocation)
‘রানি লক্ষ্মীবাঈ আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের জন্য মোট ১৫,২১১টি স্কুলে ৭৬০.৫৫ লক্ষ টাকা (৭ কোটি ৬০ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা) বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রতিটি স্কুল পিছু ৫,০০০ টাকা করে বাজেট রাখা হয়েছে, যা প্রশিক্ষকের সম্মানীয় ও আনুসঙ্গিক খরচে ব্যবহৃত হবে। SNA-SPARSH-এর মাধ্যমে টাকা পাঠানো হবে।
নজরদারি ও রিপোর্ট জমা (Monitoring & Reporting Process)
কর্মসূচি ঠিকমতো বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা তা সুনিশ্চিত করতে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
- সাপ্তাহিক রিপোর্ট: প্রতি সপ্তাহে কাজের অগ্রগতির বিবরণ District Education Office-এ পাঠাতে হবে, যা পরবর্তীতে রাজ্য দফতরে যাবে।
- অভিভাবকদের ফিডব্যাক: সাপ্তাহিক মনিটরিং রিপোর্টে ছাত্রী এবং অভিভাবকদের মতামত (Feedback) যুক্ত করা যাবে।
- ভিডিও ও ছবি: প্রশিক্ষণের গুণমান পর্যবেক্ষণে High-resolution ছবি এবং ৩ থেকে ৫ মিনিটের ছোট ভিডিও তৈরি করে রাজ্য দফতরে পাঠাতে হবে।
- সুপারিশ প্রদান: স্থানীয় স্তরে কর্মসূচির কি কি দুর্বলতা বা সমস্যা রয়েছে এবং কীভাবে আরও উন্নতি করা যায়, সে বিষয়ে জেলা কমিটি রাজ্যকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করবে।
আরো পড়ুন: Kanyaratna Scheme: কন্যাশ্রী এখন ‘কন্যারত্ন’! ছাত্রীরা কীভাবে পাবে ২৫ হাজার টাকা? জেনে নিন
পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষা দফতরের এই সময়োপযোগী ও বৈপ্লবিক পদক্ষেপ ছাত্রীদের স্বাবলম্বী করতে এবং সমাজে তাদের সুরক্ষা জোরদার করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -

