NEP WB Education: বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থায় জাতীয় শিক্ষানীতির প্রচলন! গঠিত হলো উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স

Anjan Mahata

Published on:

NEP Implementation in WB Education System

পশ্চিমবঙ্গের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলিতে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি-২০২০’ (NEP 2020) দ্রুত এবং সঠিক উপায়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল শিক্ষা দপ্তর। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে এবং সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে নতুন এই নীতির রূপরেখা কার্যকর করতে গঠিত হলো এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ টাস্ক ফোর্স। যুগোপযোগী শিক্ষা, আধুনিক পাঠ্যক্রম এবং প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত এক নতুন দিশা দেওয়াই এই নতুন উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।

— Advertisement —

NEP in West Bengal: দ্রুত বাংলায় বাস্তবায়িত হবে জাতীয় শিক্ষানীতি

রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ সমন্বয় বজায় রেখে শিক্ষানীতি কার্যকর করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলিতে শিক্ষাক্রম রূপায়ণে তদারকি করবে এই নতুন টাস্ক ফোর্স।

উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠন ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্যবৃন্দ

উচ্চশিক্ষায় গুণগত মান নিশ্চিত করতে কেন্দ্র ও রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষাবিদদের এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:

  • উপদেষ্টা (Advisor): বিশ্ববিদ্যালয মঞ্জুরি কমিশনের (UGC) চেয়ারম্যান এম জগদীশ কুমার এই কমিটির শীর্ষ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অনিল সহশ্র বুদ্ধেকেও কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে।
  • রাজ্যের প্রতিনিধি: রাজ্যের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ এবং ম্যাকাউট (MAKAUT)-এর উপাচার্য তাপস চক্রবর্তী
  • শিল্পজগতের প্রতিনিধি: শিল্পক্ষেত্রের চাহিদা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে শিল্পজগত থেকে প্রতিনিধিত্ব করছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি সজ্জন ভজনকা
  • কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি: কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের প্রবীণ প্রশাসনিক আধিকারিকগণ এই টাস্ক ফোর্সের অন্যতম প্রধান সদস্য হিসেবে কাজ করবেন।

শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও শিল্পজগতের সঙ্গে সমন্বয়

— Advertisement —

রাজ্য ও কেন্দ্রের এই যৌথ প্রয়াসের ফলে সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি আসবে:

  • পাঠ্যক্রমের আধুনিকীকরণ: বর্তমান যুগ ও প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নতুন পাঠ্যসূচি তৈরি।
  • গবেষণায় জোর: বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও উদ্ভাবনীমূলক কাজের সুযোগ বৃদ্ধি।
  • পরিকাঠামোগত উন্নয়ন: উচ্চশিক্ষা কেন্দ্রগুলিতে শিক্ষা সহায়ক পরিকাঠামো মজবুত করা।

অবশ্যই দেখুন: Vidyanjali: সরকারি স্কুলের উন্নয়নে ‘বিদ্যাঞ্জলি’ প্রকল্প! শিক্ষা দপ্তরের নতুন নির্দেশ দেখে নিন

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-র মূল পরিকাঠামো ও লক্ষ্য

৩৪ বছরের পুরোনো ১৯৮৬ সালের শিক্ষা নীতিকে প্রতিস্থাপন করে আনা হয়েছে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০’। এর মূল লক্ষ্যই হলো মুখস্থ বিদ্যার বদলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, বিজ্ঞানমনস্কতা এবং প্রায়োগিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া।

পুরোনো পদ্ধতি বদলে ‘৫+৩+৩+৪’ শিক্ষাকাঠামো

ঐতিহ্যবাহী ১০+২ কাঠামো বদলে নতুন ৫+৩+৩+৪ শিক্ষা ব্যবস্থা আনা হয়েছে:

  • ফাউন্ডেশনাল স্টেজে (৩ থেকে ৮ বছর): প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত খেলার ছলে মৌলিক শিক্ষা।
  • প্রিপারেটরি স্টেজে (৮ থেকে ১১ বছর): তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি, যেখানে পড়ার ও গণিতের ভিত শক্ত করা হয়।
  • মিডল স্টেজে (১১ থেকে ১৪ বছর): ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি, যেখানে বিজ্ঞান, কলা এবং কারিগরি (Vocational) শিক্ষার সূচনা ঘটে।
  • সেকেন্ডারি স্টেজে (১৪ থেকে ১৮ বছর): নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি, যেখানে কোনো নির্দিষ্ট স্ট্রিম (সায়েন্স, আর্টস, কমার্স)-এর কঠোর সীমানা না রেখে নমনীয়ভাবে পছন্দের বিষয় বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকে।

স্কুল পর্যায় থেকেই উদ্যোগপতি ও স্বনির্ভর তৈরির উদ্যোগ

হলদিয়ায় আয়োজিত এক বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হরেকৃষ্ণ বেরা জানান যে, তরুণ প্রজন্মকে কেবল চাকরির মুখাপেক্ষী না রেখে স্কুল স্তর থেকেই উদ্যমী বা “এন্টারপ্রেনিওর” হিসেবে গড়ে তোলাই এই নীতির লক্ষ্য। বিশ্ব উদ্যমিতা দিবসের আবহে অনুষ্ঠিত এই শিবিরে স্কিল ডেভেলপমেন্টের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়

জেনে রাখুন! Syllabus Curriculum: প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক সিলেবাসে পরিবর্তন? কমিটি গঠন করল সরকার

টাস্ক ফোর্সের সঠিক পরিচালনা এবং আধুনিক শিক্ষাকাঠামোর সঠিক বাস্তবায়ন আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষার্থীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতায় বহু ধাপ এগিয়ে দেবে বলে আশা প্রকাশ করছে সমগ্র শিক্ষা মহল।

Join Group

Telegram

Share