২০২৬ সালের শিক্ষক দিবস (Teachers’ Day 2026) উদযাপনের অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের জন্য একটি বিশেষ এবং প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিল স্কুল শিক্ষা দপ্তর। বিকাশ ভবনের তরফে সম্প্রতি নোটিশ জারি করে রাজ্যব্যাপী প্রবন্ধ লিখন প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছে। প্রবন্ধের বিষয়বস্তু সহ প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত বিস্তারিত জানাবো আজকের এই প্রতিবেদনে।
Teachers’ Day Essay Competition 2026: রাজ্যজুড়ে প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা
প্রতি বছর ৫ই সেপ্টেম্বর ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সারা দেশজুড়ে শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সাথে শিক্ষক দিবস পালিত হয়। তবে কেবল প্রথাগত অনুষ্ঠান বা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্যেই এই উদযাপনকে সীমাবদ্ধ না রেখে পড়ুয়াদের চিন্তাভাবনা, সৃজনশীলতা ও কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটাতে রাজ্যভিত্তিক এই প্রতিযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা দপ্তর।
| বিবরণ | তথ্য |
|---|---|
| উদ্যোক্তা | পশ্চিমবঙ্গ স্কুল শিক্ষা দপ্তর (বিকাশ ভবন) |
| উপলক্ষ | শিক্ষক দিবস ২০২৬ (Teachers’ Day 2026) |
| প্রবন্ধের বিষয়বস্তু | “কেমন হবে আমার বিদ্যালয়?” |
| অংশগ্রহণকারী | প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সকল শিক্ষার্থী |
| প্রতিযোগিতার স্তর | বিদ্যালয় স্তর, ব্লক স্তর এবং জেলা স্তর |
| মূল্যায়ন পদ্ধতি | ভাষার প্রাঞ্জলতা, লেখার গভীরতা, মৌলিকত্ব ও উদ্ভাবনী ধারণা |
| পুরস্কার ও সম্মাননা | জেলাস্তরে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থানাধিকারীদের বিশেষ সংবর্ধনা ও পুরস্কার |
| তদারকির দায়িত্ব | জেলা শিক্ষা পরিদর্শক (DI / SE & PE) ও ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তা |
প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার মূল বিষয়বস্তু ও উদ্দেশ্য
শিক্ষা দপ্তরের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, এবারের প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার মূল বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে: “কেমন হবে আমার বিদ্যালয়?”।
এই প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য হলো—একটি আদর্শ বিদ্যালয় কেমন হওয়া উচিত, সেখানকার পঠনপাঠন, পরিবেশ সুরক্ষা, খেলাধুলার সুযোগ, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও স্মার্ট ক্লাসরুমের ব্যবহার, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক এবং সার্বিক বিদ্যালয় পরিকাঠামো নিয়ে বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও উদ্ভাবনী ভাবনা সরাসরি তুলে ধরা।
অবশ্যই পড়ুন: APAAR Card: স্কুল পড়ুয়াদের জন্য বাধ্যতামূলক ‘আপার আইডি’! সিদ্ধান্ত শিক্ষা দপ্তরের
পুরস্কার ও সংবর্ধনা ব্যবস্থা (Rewards & Recognition)
শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে শিক্ষা দপ্তরের তরফে আকর্ষণীয় পুরস্কার ও সম্মাননার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে:
- জেলাস্তরের সেরা সম্মাননা: জেলাস্তরে এই প্রতিযোগিতায় যারা প্রথম (1st), দ্বিতীয় (2nd) এবং তৃতীয় (3rd) স্থান অধিকার করবে, তাদের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে বিশেষ সংবর্ধনার ব্যবস্থা করা হবে।
- স্তরভিত্তিক স্বীকৃতি: বিদ্যালয় স্তর, ব্লক স্তর এবং জেলা স্তরে সফল সকল প্রতিযোগীদের শিক্ষক দিবসের মূল অনুষ্ঠানে বিশেষ শংসাপত্র ও পুরস্কৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় স্তরে প্রস্তুতি ও কড়া নজরদারি
শিক্ষা দপ্তরের এই নির্দেশিকা পৌঁছানোর পর থেকেই জেলা ও ব্লক স্তরের স্কুল শিক্ষা দপ্তরগুলিতে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে বাংলা ও অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষার অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে নিরপেক্ষ বিচারকমণ্ডলী গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- পূর্ব নির্দেশিকা: গত ১৩ই আগস্ট ২০২৬ এবং ১৪ই আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত প্রাথমিক রূপরেখা জারি করা হয়।
- ডিআইদের (DI) দায়িত্ব: সমস্ত জেলার DI (SE & PE)-দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা অবিলম্বে প্রতিটি ব্লকের স্কুলগুলিতে এই প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন।
- বিকাশ ভবনে রিপোর্ট প্রদান: আগামী ২১ আগস্ট, ২০২৬-এর মধ্যে জেলায় জেলায় কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে বিকাশ ভবনে রিপোর্ট আকারে পাঠাতে বলা হয়েছে।

জেনে রাখুন! Content Creator Lab: রাজ্যের সরকারি স্কুলে ‘ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব’শেখানো হবে এনিমেশন, ভিডিওগ্রাফি
শিক্ষক দিবস উপলক্ষে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের এই প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা কেবল একটি সাধারণ প্রতিযোগিতা নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্নের বিদ্যালয় গড়ার রূপরেখা তুলে ধরার এক অনন্য মঞ্চ। এর মাধ্যমে পড়ুয়ারা যেমন তাদের সুপ্ত সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটাতে পারবে, তেমনই শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন উদ্ভাবনী চিন্তাধারার উন্মেষ ঘটবে। প্রতিবেদনটি অবশ্যই পরিচিত ভাই বোন ও স্কুল পরিবারের মধ্যে শেয়ার করে দাও।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -

