সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশটি নবম শ্রেণির পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এটি মূলত বঙ্কিমচন্দ্রের জনপ্রিয় উপন্যাস ‘রাধারাণী’-র প্রথমাংশের একটি নির্বাচিত অংশ। এই কাহিনীতে এক পিতৃহীনা বালিকা রাধারাণী ও তার বিধবা মাতার অসহায় অবস্থা এবং এক সহৃদয় অচেনা ব্যক্তির সহায়তার মাধ্যমে মানবিকতার এক উজ্জ্বল চিত্র ফুটে উঠেছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| পাঠের নাম | রাধারাণী |
| লেখক | বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় |
| উৎস | রাধারাণী (উপন্যাস) |
রাধারাণী – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (নবম শ্রেণী বাংলা গল্প)
আজকের এই পোস্টে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশটির উৎস, গল্পের সারাংশ, নামকরণের সার্থকতা এবং প্রশ্ন উত্তর খুব সহজ ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে।
রাধারাণী – লেখক পরিচিতি
বাংলা উপন্যাসের জনক ও সাহিত্যসম্রাট হলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪)। তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলা গদ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপকার। তাঁর লেখনীতে বাংলা উপন্যাস প্রথম শিল্পসুষম রূপ লাভ করে। পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক উপন্যাস— ‘দুর্গেশনন্দিনী’, ‘কপালকুণ্ডলা’, ‘মৃণালিনী’; সামাজিক উপন্যাস— ‘বিষবৃক্ষ’, ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’; এবং দেশাত্মবোধক উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’। তাঁর রচিত ‘বন্দে মাতরম’ গানটি ভারতের জাতীয় স্তোত্র হিসেবে স্বীকৃত। রাধারাণী তাঁর এক অনন্য সৃষ্টি যেখানে কোমল মানবিক অনুভূতির প্রকাশ পেয়েছে।
রাধারাণী গল্পের সারাংশ (Summary)
রাধারাণী নামে এক বালিকার পিতা মারা যাওয়ার পর তার জননী এক জ্ঞাতির সাথে দীর্ঘ মামলায় সৰ্বস্বান্ত হন। প্রায় দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তি হারিয়ে তারা সহায় সম্বলহীন হয়ে কুটিরে আশ্রয় নেন। রাধারাণীর বিবাহ দেওয়াও আর সম্ভব হয়নি। অভাবের সংসারে তার মা কোনোভাবে কায়িক পরিশ্রম করে দিনপাত করতেন, কিন্তু রথের ঠিক আগে তিনি কমার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের উপবাস শুরু হয়।
অসুস্থ মায়ের পথ্যের সংস্থান করার জন্য রাধারাণী মেলা থেকে বনফুল তুলে মালা গেঁথে মাহেশের রথে বিক্রি করতে যায়। কিন্তু প্রবল বৃষ্টিতে মেলা ভেঙে যাওয়ায় কেউ মালা কেনে না। অন্ধকারে কাঁদতে কাঁদতে ফেরার সময় এক দয়ালু অচেনা ব্যক্তির সাথে তার দেখা হয়। সেই ব্যক্তি রাধারাণীর দুঃখের কথা শুনে তার চার পয়সার দামের মালাটি এক টাকার বিনিময়ে কিনে নেন (যদিও রাধারাণী প্রথমে তা বুঝতে পারেনি)। রাধারাণীকে সসম্মানে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সেই অপরিচিত বাবুটি তাদের জন্য নতুন কাপড় এবং আর্থিক সাহায্যও পাঠান। পরে একটি নোটে সেই দয়ালু ব্যক্তির নাম জানা যায়— রুক্মিণীকুমার রায়। দরিদ্র হলেও রাধারাণী ও তার মা সেই নোটটি ভাঙাননি, সঞ্চয় করে রাখেন; যা তাদের সততা ও নির্ভীক নির্লোভ মানসিকতার পরিচয় দেয়।
রাধারাণী গল্পের নামকরণের সার্থকতা
সাহিত্যে নামকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই রচনার কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো বালিকা রাধারাণী। সমগ্র কাহিনীটি তাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে।
পারিবারিক বিপর্যয়, দারিদ্র্য, অসুস্থ মায়ের জন্য তার আকুলতা এবং মেলায় মালা বিক্রি করতে যাওয়ার প্রচেস্টা—সবই রাধারাণীর চরিত্রের দৃঢ়তা প্রমাণ করে। মেলায় দুর্যোগের মধ্যে পড়া এবং রুক্মিণীকুমারের দেখা পাওয়া, প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাধারাণীই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। বঙ্কিমচন্দ্র এই অনাথ বালিকার অসহায়তা এবং তার জীবনে ঘটে যাওয়া এক নাটকীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এক মানবিক সম্পর্কের রসায়ন তৈরি করেছেন। রচনার আদোপান্ত রাধারাণীর অস্তিত্ব বর্তমান থাকার কারণে ‘রাধারাণী’ নামকরণটি সর্বতোভাবে সার্থক ও শিল্পসম্মত হয়েছে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
রাধারাণী পাঠ্যাংশের প্রশ্ন উত্তর (MCQ) | Class 9 Radharani MCQ Question Answer
১. ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশটি কোন উপন্যাসের অংশ?
(ক) বিষবৃক্ষ
(খ) দুর্গেশনন্দিনী
(গ) রাধারাণী
(ঘ) আনন্দমঠ
উত্তর: (গ) রাধারাণী
২. রাধারাণী মাহেশের রথ দেখতে গিয়েছিল কেন?
(ক) মেলা দেখতে
(খ) মালা বিক্রি করতে
(গ) ঠাকুর দেখতে
(ঘ) খেলা করতে
উত্তর: (খ) মালা বিক্রি করতে
৩. রাধারাণীর বয়স কত ছিল?
(ক) দশ বছর
(খ) এগারো বছরের কিছু কম
(গ) বারো বছর
(ঘ) নয় বছর
উত্তর: (খ) এগারো বছরের কিছু কম
৪. কার সাথে রাধারাণীর মায়ের মামলা হয়েছিল?
(ক) জমিদারের
(খ) পাড়াপ্রতিবেশীর
(গ) এক জ্ঞাতির
(ঘ) সরকারের
উত্তর: (গ) এক জ্ঞাতির
৫. রথের দিন কেন রাধারাণীর মালা বিক্রি হলো না?
(ক) কেউ মালা পরেনি বলে
(খ) প্রবল বৃষ্টির কারণে মেলা ভেঙে যাওয়ায়
(গ) মালার দাম বেশি ছিল বলে
(ঘ) কেউ তাকে পছন্দ করেনি বলে
উত্তর: (খ) প্রবল বৃষ্টির কারণে মেলা ভেঙে যাওয়ায়
৬. রাধারাণী মেলা থেকে কী ফুল তুলে মালা গেঁথেছিল?
(ক) রজনীগন্ধা
(খ) জুই ও টগর
(গ) বনফুল
(ঘ) গাঁদা
উত্তর: (গ) বনফুল
৭. রাধারাণীর বাড়ি কোথায় ছিল?
(ক) কলকাতায়
(খ) মাহেশে
(গ) শ্রীরামপুরে
(ঘ) চুঁচুড়ায়
উত্তর: (গ) শ্রীরামপুরে
৮. মালা সমভিব্যাহারী রাধারাণীকে কত টাকা দিয়েছিলেন?
(ক) দশ টাকা
(খ) চার পয়সা
(গ) এক টাকা
(ঘ) চার আনা
উত্তর: (গ) এক টাকা (রাধারাণী পয়সা ভেবেছিল)
৯. রাধারাণী সেই অপরিচিত ব্যক্তিকে কী বলে চিনতে পেরেছিল?
(ক) তাঁর পোশাকে
(খ) তাঁর গলার স্বরে
(গ) তাঁর উচ্চতায়
(ঘ) তাঁর নামে
উত্তর: (খ) তাঁর গলার স্বরে
১০. অপরিচিত ব্যক্তিটি রাধারাণীর মালার দাম কত দিয়েছিলেন?
(ক) চার পয়সা
(খ) এক টাকা
(গ) দু টাকা
(ঘ) আধুলি
উত্তর: (খ) এক টাকা
১১. রাধারাণীর মা প্রদীপে তেল দেওয়ার টাকা পাননি কেন?
(ক) চোর নিয়ে গেছিল বলে
(খ) মায়ের কাছে টাকা ছিল না বলে
(গ) তেলের দাম বেশি ছিল বলে
(ঘ) অভাবের কারণে
উত্তর: (ঘ) অভাবের কারণে (তৈলাভাব)
১২. অপরিচিত ব্যক্তি রাধারাণীর উপকারের জন্য কী পাঠিয়েছিলেন?
(ক) মিষ্টান্ন
(খ) ফলমূল
(গ) একজোড়া নতুন কাপড়
(ঘ) অলংকার
উত্তর: (গ) একজোড়া নতুন কাপড়
১৩. কাপড়ের দোকানদার পদ্মলোচন সাহা কত টাকা বেশি মুনাফা নিতেন বলে জানা যায়?
(ক) এক আনা
(খ) দু আনা
(গ) চার আনা
(ঘ) পাঁচ আনা
উত্তর: (খ) দু আনা
১৪. সেই দয়ালু ব্যক্তিটির নাম কী ছিল?
(ক) রামানন্দ রায়
(খ) রুক্মিণীকুমার রায়
(গ) পদ্মলোচন সাহা
(ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র
উত্তর: (খ) রুক্মিণীকুমার রায়
১৫. রাধারাণী কুড়িয়ে পাওয়া কাগজে কী লেখা পেয়েছিল?
(ক) ঠিকানা
(খ) রুক্মিণীকুমার রায়ের নাম
(গ) বাজার তালিকা
(ঘ) কোনো উপদেশ
উত্তর: (খ) রুক্মিণীকুমার রায়ের নাম
১৬. রাধারাণী ও তার মা নোটটি কী করেছিলেন?
(ক) খরচ করেছিলেন
(খ) শ্রীরামপুরের বাজারে ভাঙিয়েছিলেন
(গ) তোলা রেখেছিলেন (ভাঙাননি)
(ঘ) খুঁজে পাননি
উত্তর: (গ) তোলা রেখেছিলেন (ভাঙাননি)
১৭. “ডবল পয়সা—দেখতেছ না দুইটা বই নাই?”— কথাটি কে বলেছিল?
(ক) রাধারাণী
(খ) পদ্মলোচন
(গ) রুক্মিণীকুমার রায়
(ঘ) জানুক
উত্তর: (গ) রুক্মিণীকুমার রায়
১৮. অপরিচিত বাবু কাপড়টি কার হাতে দিয়ে পাঠিয়েছিলেন?
(ক) চাকরের হাতে
(খ) পদ্মলোচন সাহার মাধ্যমে
(গ) নিজে এসে
(ঘ) ডাকযোগে
উত্তর: (খ) পদ্মলোচন সাহার মাধ্যমে
১৯. রাধারাণীর কাকার মামলাটি কোন আদালতে হেরেছিল?
(ক) জেলা কোর্টে
(খ) হাইকোর্টে
(গ) সুপ্রিম কোর্টে
(ঘ) মেদিনীপুর আদালতে
উত্তর: (খ) হাইকোর্টে
২০. রাধারাণীর মা শরীরিক অসুস্থতায় কী বন্ধ করেছিলেন?
(ক) রান্না
(খ) কায়িক পরিশ্রম
(গ) পূজা
(ঘ) ভ্রমণ
উত্তর: (খ) কায়িক পরিশ্রম
২১. অন্ধকার পথে ফেরার সময় রাধারাণী কী করছিল?
(ক) হাসছিল
(খ) উচ্চৈঃস্বরে কাঁদছিল
(গ) গান গাইছিল
(ঘ) দৌড়াচ্ছিল
উত্তর: (খ) উচ্চৈঃস্বরে কাঁদছিল
২২. “কে গা তুমি কাঁদো?”— প্রশ্নটি কে করেছিলেন?
(ক) গ্রামের লোক
(খ) প্রথম রক্ষী
(গ) পথিক (রুক্মিণীকুমার রায়)
(ঘ) পদ্মলোচন
উত্তর: (গ) পথিক (রুক্মিণীকুমার রায়)
২৩. অপরিচিত পথিক নিজেকে শ্রীরামপুরের কোন পাড়ার বাসিন্দা বলে পরিচয় না দিলেও কী আশ্বাস দিয়েছিলেন?
(ক) বাড়ি নিয়ে যাবেন
(খ) খেতে দেবেন
(গ) বাড়ি পৌঁছে দেবেন
(ঘ) টাকা দেবেন
উত্তর: (গ) বাড়ি পৌঁছে দেবেন
২৪. রুক্মিণীকুমার রাধারাণীর মালার জন্য কিসের ছলে দাম দিয়েছিলেন?
(ক) ভিক্ষা হিসেবে
(খ) মালার প্রয়োজন ছিল বলে
(গ) দয়া করে
(ঘ) মালার আসল দাম ভেবে
উত্তর: (খ) মালার প্রয়োজন ছিল বলে (ঠাকুরের জন্য)
২৫. পদ্মলোচন সাহার দোকান কোথায় ছিল?
(ক) মেলায়
(খ) বাজারের অনতিদূরে
(গ) মাহেশে
(ঘ) চুঁচুড়ায়
উত্তর: (খ) বাজারের অনতিদূরে
২৬. পদ্মলোচন সাহা কেমন ধরণের দোকানদার ছিলেন?
(ক) খুব সৎ
(খ) পোড়ারমুখো (রাধারাণীর মায়ের মতে) বা হিসেবী
(গ) দয়ালু
(ঘ) বোকা
উত্তর: (খ) পোড়ারমুখো বা হিসেবী
২৭. রাধারাণী কার জন্য মালা গেঁথেছিল?
(ক) তাঁর নিজের জন্য
(খ) রথের মেলায় বিক্রি করে অসুস্থ মায়ের পথ্যের জন্য
(গ) দেবতার জন্য
(ঘ) বন্ধুর জন্য
উত্তর: (খ) রথের মেলায় বিক্রি করে অসুস্থ মায়ের পথ্যের জন্য
২৮. রথের দিন কেন ভিড় কমে গিয়েছিল?
(ক) অন্ধকার হয়ে যাওয়ায়
(খ) মেলা শেষ হয়ে যাওয়ায়
(গ) প্রবল বৃষ্টির কারণে
(ঘ) বাঘের ভয়ে
উত্তর: (গ) প্রবল বৃষ্টির কারণে
২৯. “এ যে বড় বড় ঠেকছে”— রাধারাণী কিসের কথা বলেছিল?
(ক) পাথরের
(খ) পদ্মলোচনের
(গ) টাকার (অপরিচিতের দেওয়া নোট/পয়সার)
(ঘ) গাছের
উত্তর: (গ) টাকার (অপরিচিতের দেওয়া নোট/পয়সার)
৩০. “মরদ কি বাত হাতি কা দাঁত”— প্রবাদটি নয়, এখানে রাধারাণী ও তাঁর মায়ের চরিত্রে কোন গুণটি ফুটে উঠেছে?
(ক) লোভী মানসিকতা
(খ) প্রচণ্ড জেদ
(গ) চরম সততা ও নির্লোভ চিত্ত
(ঘ) অলসতা
উত্তর: (গ) চরম সততা ও নির্লোভ চিত্ত
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী বাংলা রাধারাণী গল্পের অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ) | Class 9 Radharani MCQ Question Answer
১. রাধারাণীর বয়স কত?
উত্তর: রাধারাণীর বয়স একাদশ বর্ষ পরিপূর্ণ হয়নি অর্থাৎ এগারো বছরের কিছু কম।
২. রাধারাণী কেন মাহেশের রথের মেলায় গিয়েছিল?
উত্তর: তার অসুস্থ বিধবা মায়ের পথ্যের অর্থ সংস্থানের জন্য বনফুলের মালা বিক্রি করতে সে মেলায় গিয়েছিল।
৩. রাধারাণীর মা কেন উপবাস করতে বাধ্য হয়েছিলেন?
উত্তর: দীর্ঘ মামলার কারণে সর্বস্বান্ত হওয়ার পর তিনি কায়িক পরিশ্রমে সংসার চালাতেন, কিন্তু প্রবল অসুস্থতায় সেই কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা অভুক্ত ছিলেন।
৪. মেলা থেকে মালা বিক্রি না হয়ে রাধারাণী যখন ফিরছিল, তখন পরিবেশ কেমন ছিল?
উত্তর: তখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, শ্রাবণের অঝোর ধারায় বৃষ্টি পড়ছিল এবং চারদিক অন্ধকার ও কর্দমাক্ত ছিল।
৫. “কে গা তুমি কাঁদো?”— বক্তা কে?
উত্তর: বক্তা হলেন এক দয়ালু অপরিচিত পথিক (রুক্মিণীকুমার রায়)।
৬. রাধারাণী কেন অন্ধকারেও সেই অপরিচিত পথিকের ওপর ভরসা করেছিল?
উত্তর: সেই ব্যক্তির কণ্ঠস্বরে এক ধরণের দয়া ও আভিজাত্য ছিল যা শুনে রাধারাণী ভরসা পেয়েছিল।
৭. রাধারাণীর মালার দাম কত ছিল?
উত্তর: রাধারাণীর মালার দাম ছিল চার পয়সা।
৮. সমভিব্যাহারী ব্যক্তিটি কেন মালাটি কিনতে চেয়েছিলেন?
উত্তর: তিনি বলেছিলেন তাঁর বাড়ির ঠাকুরের জন্য মালার প্রয়োজন আছে।
৯. রাধারাণী কেন অপরিচিতের দেওয়া নোটটি প্রথমে নিতে চায়নি?
উত্তর: সে ভেবেছিল আঁধারে ভুল করে তিনি এক টাকার বড় টাকা দিয়ে ফেলেছেন, যা অন্যায়।
১০. পদ্মলোচন সাহাকে রাধারাণীর মা কী বলে সম্বোধন করেছিলেন?
উত্তর: পদ্মলোচন সাহাকে তিনি ‘পোড়ারমুখো কাপুড়ে মিনসে’ বলে সম্বোধন করেছিলেন।
১১. কাপড় বিক্রেতা পদ্মলোচন সাহা কাপড় দিতে এসে কী বলেছিলেন?
উত্তর: তিনি জানিয়েছিলেন এক বাবু নগদ দাম দিয়ে রাধারাণীর জন্য এই নতুন কাপড় পাঠিয়ে দিয়েছেন।
১২. রাধারাণী ঘরের মেঝেতে হাতড়িয়ে কী পেয়েছিল?
উত্তর: রাধারাণী ঘরের মেঝেতে একটি ছোট কাগজ পেয়েছিল যা আসলে রুক্মিণীকুমার রায়ের ফেলে যাওয়া একটি নোট।
১৩. সেই নোটে কী লেখা ছিল?
উত্তর: নোটে রুক্মিণীকুমার রায়ের নাম খোদাই করা ছিল।
১৪. রাধারাণীর মা কেন নোটটি ভাঙাতে চাননি?
উত্তর: তাঁরা দরিদ্র হলেও লোভী ছিলেন না এবং সেই দান গ্রহণে তাদের মনে কুণ্ঠা ছিল।
১৫. পদ্মলোচন সাহার দোকানে অপরিচিত কেন গিয়েছিলেন?
উত্তর: রাধারাণীকে নতুন কাপড় কিনে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি পদ্মলোচনের দোকানে গিয়েছিলেন।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী বাংলা রাধারাণী গল্পের ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Radharani 2 Marks Question Answer
১. রাধারাণীর পারিবারিক অবস্থা কেন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল?
উত্তর: রাধারাণীর পিতার মৃত্যুর পর এক জ্ঞাতির সাথে দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে মামলা হয়। সেই মামলা রাধারাণীর মা হাইকোর্টে হেরে যান এবং সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়েন।
২. রথের মেলা ভেঙে যাওয়ার কারণ কী ছিল?
উত্তর: রথের টান অর্ধেক হতে না হতেই প্রবল বর্ষণ শুরু হয়েছিল, যার ফলে লোকজন মেলা ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং বাজার ভেঙে যায়।
৩. “তা আমি ভিজি না হয় ভিজলাম”— রাধারাণীর এই মন্তব্যের কারণ কী?
উত্তর: রাধারাণী আশা করেছিল বৃষ্টি থামলে আবার লোক জমবে এবং তার মালাগুলো বিক্রি হবে। তার কাছে নিজের কষ্ট অপেক্ষা অসুস্থ মায়ের পথ্য বেশি জরুরি ছিল।
৪. রুক্মিণীকুমার কেন রাধারাণীকে ‘চেলিম্মানুষ’ বলে সম্বোধন করেছিলেন?
উত্তর: রাধারাণীর গলার স্বর এবং অন্ধকারেও তার একা মেলায় আসার সাহসী অথচ সরল উত্তর শুনে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন সে একজন ছোট বালিকা।
৫. রাধারাণী কেন মালার দাম নিতে কুণ্ঠাবোধ করছিল?
উত্তর: এক অচেনা পথিক অন্ধকারে তাকে রাস্তা দেখিয়ে বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছিলেন, সেই মানবিকতার কাছে মালার দাম নেওয়াটা তার কাছে অসম্মানজনক মনে হয়েছিল।
৬. পদ্মলোচন সাহার চরিত্রের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: পদ্মলোচন ছিলেন বৈষয়িক এবং কিছুটা চতুর। তিনি যে সুযোগ পেলেই দু আনা মুনাফা বেশি নিতেন, তা থেকে বোঝা যায় তিনি বিষয়বুদ্ধি সম্পন্ন ও কিঞ্চিৎ স্বার্থপর ছিলেন।
৭. অপরিচিত ব্যক্তিটি কেন কাপড় পাঠানোর সময় নিজের নাম জানাননি?
উত্তর: তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন, যা তাঁর উচ্চ মানবিকতা ও আভিজাত্যের পরিচয়।
৮. রাধারাণী কেন নোটটি ‘তোলা রাখিল’?
উত্তর: নোটটি দয়ালু রুক্মিণীকুমারের স্মারকস্বরূপ এবং তাদের দারিদ্র্যের মধ্যেও যে সততা ছিল তার নিদর্শন হিসেবে তারা সেটি ব্যবহার করেননি।
৯. রাধারাণী ও তার মায়ের কুটিরে কেন অন্ধকার ছিল?
উত্তর: তৈলাভাব অর্থাৎ প্রদীপে তেল দেওয়ার মতো সামান্য পয়সা তাদের কাছে ছিল না বলেই তাদের বাড়ি অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল।
১০. কাপুড়ে পদ্মলোচন দোকানদার রাধারাণীর কাছে কেন অবিশ্বাস্য ছিল?
উত্তর: পদ্মলোচন কখনও বিনা পয়সায় বা লাভে কাপড় দিতেন না, তাই হঠাৎ নতুন কাপড় নিয়ে হাজির হওয়া তাদের কাছে অলৌকিক মনে হয়েছিল।
১১. রাধারাণীর কান্না কেন অপরিচিতকে আকৃষ্ট করেছিল?
উত্তর: অন্ধকারে কর্দমাক্ত পথে এক বালিকার হৃদয়ের গভীর আর্তনাদ শুনে সহৃদয় পথিকের মনে দয়া উদ্রেক হয়েছিল।
১২. “নূতন কলের পয়সা, তাই চকচক করছে”— বক্তা কেন এ কথা বলেছিলেন?
উত্তর: রুক্মিণীকুমার আসলে রাধারাণীকে সাহায্য করার জন্যই এক টাকার নোট দিয়েছিলেন, কিন্তু বালিকা যাতে তা দান বলে মনে না করে, তাই তিনি মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিলেন।
১৩. রাধারাণী কেন তার মাকে ‘সহায়’ বলত?
উত্তর: পৃথিবীতে মা ছাড়া রাধারাণীর আপন বলতে আর কেউ অবশিষ্ট ছিল না, মা-ই ছিল তার একমাত্র আশ্রয়।
১৪. রুক্মিণীকুমার রায়ের চরিত্রের প্রধান গুণ কী?
উত্তর: মানুষের বিপদে নিঃস্বার্থভাবে পাশে দাঁড়ানো এবং দান করেও তা প্রচার না করা— এটাই তাঁর চরিত্রের মহত্তম গুণ।
১৫. “পোড়ার কপাল! তিনি কেন?”— বক্তা কে? তিনি কেন এ কথা বলেছিলেন?
উত্তর: রাধারাণীর মা এ কথা বলেছিলেন। পদ্মলোচনকে হঠাৎ কাপড় নিয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনি ভ্রান্তিবশত সেই অপরিচিত বাবু ফিরে এসেছেন বলে মনে করেছিলেন।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী বাংলা রাধারাণী গল্পের ৩ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Radharani 3 Marks Question Answer
১. “রাধারাণী কাঁদিতে কাঁদিতে কতগুলি বনফুল তুলিয়া তাহার মালা গাঁথিল।”— রাধারাণী কেন মালা গেঁথেছিল? এই ঘটনার মধ্য দিয়ে তার চরিত্রের কোন দিকটি ফুটে ওঠে?
উত্তর: রাধারাণীর পিতা মারা যাওয়ার পর তারা চরম দারিদ্র্যের সম্মুখীন হয়। তার বিধবা মা কায়িক পরিশ্রম করে সংসার চালাতেন, কিন্তু রথের ঠিক আগে তিনি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। ঘরে খাবারের সংস্থান ছিল না এবং মায়ের জন্য পথ্য কেনা জরুরি ছিল। তাই অর্থ উপার্জনের একক অবলম্বন হিসেবে রাধারাণী বনফুলের মালা গেঁথে মাহেশের রথে বিক্রি করতে চেয়েছিল। এই ঘটনার মাধ্যমে রাধারাণীর মাতৃভক্তি, ধৈর্য এবং অল্প বয়সেই পরিবারের দায়িত্ব বহন করার মানসিকতা প্রকাশ পায়।
২. রথের মেলায় রাধারাণীর অভিজ্ঞতার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
উত্তর: মায়ের পথ্যের খরচ জোগাতে রাধারাণী মাহেশের রথে মালা বিক্রি করতে গিয়েছিল। কিন্তু ভাগ্য বিড়ম্বনায় রথ অর্ধেক টানার পরেই মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। মেলার লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। অন্ধকার মেলায় রাধারাণী ভিজে একাকার হয় এবং তার একটি মালাও বিক্রি হয়নি। শেষ পর্যন্ত কাঁদতে কাঁদতে কর্দমাক্ত পথে সে বাড়ির দিকে রওনা দেয়। এই অভিজ্ঞতা তার অসহায়ত্ব ও দারিদ্র্যের নিষ্ঠুর রূপকে সামনে আনে।
৩. “উপকারকের নাম নোটে লেখা আছে”— রাধারাণীর মা এ কথা কেন বলেছিলেন?
উত্তর: অন্ধকারে যে অপরিচিত ব্যক্তি রাধারাণীকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং গোপনে কাপড় পাঠিয়েছিলেন, তিনি নোটে নিজের নাম রুক্মিণীকুমার রায় হিসেবে লিখে রেখেছিলেন। রাধারাণীর মা অনুভব করেছিলেন যে, উপকার করে যে মানুষ নিজের নাম সামনে আনে না, তার পরিচয় জানার একমাত্র উপায় হলো সেই স্মারক বা নোটখানি। এটি তাঁর দূরদর্শিতার পরিচয়।
৪. অপরিচিত পথিক বা পথিকের চরিত্রে মানবিকতার ছবি কীভাবে অঙ্কিত হয়েছে?
উত্তর: অপরিচিত পথিক রুক্মিণীকুমার রায় কেবল রাধারাণীকে পথ দেখিয়ে বাড়ি পৌঁছেই দেননি, বরং তার দারিদ্র্যের কথা শুনে তাকে সাহায্য করার জন্য সচেষ্ট হয়েছেন। তিনি বালিকার আত্মসম্মানে আঘাত না দিয়ে কৌশলে মালার দাম হিসেবে এক টাকা দিয়েছেন। পরে দোকানদারের মাধ্যমে নতুন কাপড় পাঠিয়েছেন এবং গোপনে টাকা ফেলে গিয়ে তাদের সংস্থান করে দিয়েছেন। তাঁর এই নিঃস্বার্থ পরোপকার ও দয়া উচ্চ মানবিকতার নিদর্শন।
৫. “নোটখানি তাহারা ভাঙাইল না— তুলিয়া রাখিল।”— রাধারাণী ও তার মায়ের এই আচরণের কারণ কী?
উত্তর: রাধারাণী ও তার জননী চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করলেও তাঁরা লোভী ছিলেন না। রুক্মিণীকুমার নামের সেই দয়ালু ব্যক্তি তাঁদের অজান্তেই নোটটি ফেলে গিয়েছিলেন। যদিও সেটি দিয়ে তাঁদের অভাব মিটত, কিন্তু তাঁদের অন্তরের উচ্চমর্যাদা ও কৃতজ্ঞতাবোধ তাঁদের সেই টাকা খরচ করতে দেয়নি। তাঁরা নোটটিকে সেই মহানুভব ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধাস্বরুপ এবং তাঁদের কষ্টের দিনের স্মৃতি হিসেবে সযত্নে রেখে দিয়েছিলেন।
ক্লাস ৯ বাংলা রাধারাণী গল্পের বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Radharani 5 Marks Question Answer
১. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশ অবলম্বনে রাধারাণীর চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পের নামচরিত্র রাধারাণী এক কিশোরী বালিকা হলেও তার চরিত্রে অসাধারণ কিছু গুণ প্রকাশ পেয়েছে। তার চরিত্রের প্রধান দিকগুলি হলো:
মাতৃভক্তি: রাধারাণী তার মমতাময়ী মায়ের জন্য অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিল। অসুস্থ ও অভুক্ত মায়ের পথ্যের খরচ জোগাতে মেলায় মালা বিক্রি করতে যাওয়ার ঝুঁকি নেওয়া তার গভীর মমত্বেরই পরিচয়।
ধৈর্য ও সাহস: রথের মেলার সেই দুর্যোগময় রাতে প্রবল বৃষ্টি ও অন্ধকারে একা ফিরে আসা তার সাহসিকতার পরিচয় দেয়। বিপদে ভেঙে না পড়ে সে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশা ছাড়েনি।
সততা ও নির্লোভ চিত্ত: অপরিচিতের দেওয়া টাকা যখন সে নোট বলে চিনতে পারে, তখনও সে তা ফিরিয়ে দিতে চায়। রুক্মিণীকুমারের দেওয়া নোট অভাবের দিনেও সে ভাঙায়নি। এতে তার সততা ও আত্মমর্যাদাবোধ স্পষ্ট হয়।
সরলতা: বালসুলভ সরলতার কারণে সে অপরিচিত বাবুর সাহায্যকে দয়া হিসেবে নয়, বরং ঠাকুরের মালার দাম হিসেবেই গ্রহণ করেছিল।
পরিশেষে বলা যায়, রাধারাণী হলো দারিদ্র্যপীড়িত জীবনের এক আদর্শ প্রতিচ্ছবি, যে কেবল অভাব নয়, স্বভাবের গুনেও অনন্য।
২. রাধারাণী রথের মেলায় গিয়ে কেন বিপদে পড়েছিল? সেই বিপদ কাটিয়ে উঠতে তাকে কে সাহায্য করেছিলেন এবং কীভাবে?
উত্তর: মাহেশের রথের মেলায় রাধারাণী গিয়েছিল বনফুলের মালা বিক্রি করে মায়ের ওষুধের টাকা জোগাতে। কিন্তু রথ টানা অর্ধেক হওয়ার পর থেকেই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। মানুষজন মেলা ছেড়ে দ্রুত প্রস্থান করায় বাজার ভেঙে যায় এবং রাধারাণী ভিজে সপসপে হয়ে যায়। একটি মালাও বিক্রি না হওয়ায় সে অর্থহীন অবস্থায় অন্ধকার, কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল পথে বিপদের মুখে পড়ে।
এই সংকটে তার দেবদূতের মতো সহায় হয়েছিলেন এক অপরিচিত পথিক, যার নাম রুক্মিণীকুমার রায়। তিনি অন্ধকারে একাকী বালিকার আর্তনাদ শুনে তাকে সাহস দেন এবং নিজের সাথী করে বাড়ি পৌঁছে দেন। রাধারাণীকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে তিনি ঠাকুরের মালার ছলে এক টাকার নোট দেন। পরে পদ্মলোচন সাহার দোকানে গিয়ে নগদ অর্থে নতুন কাপড় কেনেন এবং তা রাধারাণীর কুটিরে পাঠিয়ে দেন। এভাবেই সেই দয়ালু ব্যক্তি রাধারাণীকে এক বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছিলেন।
৩. “তাঁহার নামও নোটে লেখা আছে … তাহারা দরিদ্র, কিন্তু লোভী নহে।”— প্রসঙ্গ উল্লেখ করে উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: আলোচ্য অংশটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ উপন্যাস থেকে সংকলিত পাঠ্যাংশ থেকে নেওয়া হয়েছে। অপরিচিত রুক্মিণীকুমার রায় যখন রাধারাণীকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে অন্ধকারে আড়ালে চলে যান, পরে রাধারাণী ঘরে একটি কাগজ বা নোট খুঁজে পায়। দয়ালু রুক্মিণীকুমার সম্ভবত সেটি কৌশলে সেখানে ফেলে রেখে গিয়েছিলেন যাতে অভাবী পরিবারটি কিছু সুরাহা করতে পারে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছে যে, রাধারাণী ও তার মা অত্যন্ত অর্থকষ্টে থাকলেও সেই নোটটি খরচ করেননি। বঙ্কিমচন্দ্র এখানে উচ্চবিত্ত সমাজকে কটাক্ষ করে দেখিয়েছেন যে, প্রকৃত আভিজাত্য বা মনুষ্যত্ব টাকার হিসেবে নয়, চারিত্রিক দৃঢ়তায় থাকে। তাঁরা অভাবের তাড়নায় নিজেদের বিবেক বিসর্জন দেননি। সেই নোটটিকে তাঁরা দান হিসেবে গ্রহণ করার বদলে এক মহান ব্যক্তির মহানুভবতার প্রতীক হিসেবেই তুলে রেখেছিলেন। উক্তিটি দরিদ্র মানুষের আত্মসম্মান ও সততার জয়গান গায়।
৪. কাপুড়ে পদ্মলোচন সাহার চরিত্রের যে বর্ণনা প্রবন্ধে পাওয়া যায় তা আলোচনা করো।
উত্তর: পদ্মলোচন সাহা হলেন মাহেশ ও শ্রীরামপুর অঞ্চলের এক পরিচিত কাপড়ের ব্যবসায়ী। রাধারাণীর মায়ের মতে তিনি একজন ‘পোড়ারমুখো কাপুড়ে মিনসে’। তাঁর চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তিনি অত্যন্ত বৈষয়িক এবং মুনাফাখোর। গল্পের বর্ণনায় জানা যায়, রাধারাণীর পিতা যখন বিত্তবান ছিলেন, তখন পদ্মলোচন অনেকবার তাঁদের কাছে এসেছেন, কিন্তু দুঃসময়ে তিনি একবারও খবর নেননি।
তবে পদ্মলোচন রাধারাণীকে নতুন কাপড় দিতে গেলে সেখানে এক ধরণের ব্যবসায়িক আনুগত্য দেখা যায়। তিনি সেই অপরিচিত বাবুর কাছ থেকে নগদ মূল্য বুঝে নিয়েছিলেন এবং নিজের ভাগের দু আনা মুনাফা ছাড়েননি। তাঁর চরিত্রের এই দিকটি তৎকালীন মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ী শ্রেণির মানসিকতাকে প্রকাশ করে, যারা মানুষের বিপদের চেয়েও নিজেদের ব্যবসার হিসেব নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকে।
৫. মাহেশে রথের মেলার সেই দুর্যোগময় পরিবেশ রাধারাণী ও অপরিচিতের আলাপে কীভাবে ধরা দিয়েছে?
উত্তর: মাহেশে রথের মেলার পরিবেশটি ছিল অত্যন্ত থমথমে। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ ও শ্রাবণের মুষলধারে বর্ষণে পথঘাট কাদা ও পিচ্ছিল হয়ে গিয়েছিল। মেলা ভেঙে গিয়ে এক অখণ্ড অন্ধকার নেমে এসেছিল। এই পরিবেশে রাধারাণী যখন ভয়ে ও অভাবে উচ্চৈঃস্বরে কাঁদছিল, তখন পথিক রুক্মিণীকুমার রায়ের সাথে তার প্রথম আলাপ হয়।
অপরিচিত পথিকের কণ্ঠস্বর ছিল গম্ভীর অথচ করুণাপূর্ণ। তিনি রাধারাণীকে চোর ভাবেননি, বরং সমব্যথী হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। পিচ্ছিল পথে রাধারাণীর হাত ধরে তাকে সামলে নিয়ে চলা এবং মালার দাম নিয়ে কথোপকথন—সবই সেই দুর্যোগময় বিষণ্ণ পরিবেশের সঙ্গে এক ধরণের উষ্ণ মানবিক আদানপ্রদান তৈরি করেছিল। অন্ধকারের আড়ালে থাকা এক দয়ালু হৃদয়ের পরিচয় আমরা পাই সেই বৃষ্টির শব্দের মাঝে।
৬. রাধারাণী ও তাঁর মায়ের দারিদ্র্যের যে ছবি গল্পে প্রকাশিত হয়েছে তার বর্ণনা দাও।
উত্তর: রাধারাণী ও তার মা এককালে স্বচ্ছল হিকলেও জ্ঞাতির মামলায় তাঁদের ভাগ্যবিপর্যয় ঘটে। প্রায় দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তি হারিয়ে তাঁরা আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন। তাঁদের কুটিরটি ছিল অত্যন্ত দীনদশা সম্পন্ন। রথের মেলায় মালা বিক্রির সামান্য চার পয়সার ওপর তাঁদের দৈনন্দিন আহার নির্ভরশীল ছিল। মায়ের অসুখে পথ্যের অভাব এবং কুটিরে সন্ধ্যা দেওয়ার মতো প্রদীপের তেল কেনার পয়সাটুকুও না থাকা তাঁদের চরম দুর্দশাকে তুলে ধরে। বঙ্কিমচন্দ্র দেখিয়েছেন কীভাবে সমাজ বিত্তবানকে সম্মান দিলেও বিত্তহীনকে ছুড়ে দেয়। অথচ সেই অভাবই রাধারাণীকে অল্প বয়সে ঘর থেকে বাইরে মালা বিক্রি করতে পাঠিয়ে তাঁর লড়াইয়ের রূপকার করে তুলেছে।
৭. “রাধারাণী পাঠ্যাংশে সত্যকার মানবিকতার জয়গান গাওয়া হয়েছে”— উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘রাধারাণী’ গল্পটি নিছক এক দরিদ্র বালিকার জীবনের ঘটনা নয়, এটি মানুষের ওপর মানুষের আস্থার এক অনবদ্য দলিল। যখন স্বার্থপর জ্ঞাতির কারণে রাধারাণীরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল, তখন রুক্মিণীকুমার নামের এক সম্পূর্ণ অচেনা ব্যক্তি এগিয়ে আসেন। তিনি নিজের আভিজাত্য বা নাম জাহির না করে নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য করেন। তাঁর দয়ানুভবতা প্রমাণ করে যে পৃথিবীতে ভালো মানুষের অভাব নেই। অন্যদিকে রাধারাণী ও তাঁর মায়ের সততা প্রমাণ করে যে দারিদ্র্য মানুষের মনকে ছোট করতে পারে না। দান গ্রহণ করার চেয়েও সততা বজায় রাখা তাদের কাছে বড় ছিল। এই আদানপ্রদানের মধ্য দিয়েই সত্যকার মানবিকতা জয়ী হয়েছে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আজকের পোস্ট এর মধ্যে রাধারাণী গল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা, গল্পটির বিষয়বস্তু এবং উত্তর সহ প্রশ্নও আলোচনা করা হল, যেগুলি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ ভাবে তোমাদের সহায়ক হয়ে উঠবে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী অন্যান্য সমস্ত বিষয়ের নোট (Class IX All Notes) |
নবম শ্রেণী রাধারাণী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | রাধারাণী গল্পের সারাংশ ও প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Bengali Radharani Notes | রাধারাণী MCQ ও SAQ ক্লাস ৯।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম Study গ্রুপে যুক্ত হোন -


