নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত ‘হিমালয় দর্শন’ নবম শ্রেণীর পাঠ্যসূচীতে অন্তর্ভুক্ত। লেখিকা এই প্রবন্ধে তাঁর হিমালয় (বিশেষত কার্শিয়াং) ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, সেখানকার অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য এবং পাহাড়ি অঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের সহজ-সরল জীবনযাত্রার কথা তুলে ধরেছেন।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| পাঠের নাম | হিমালয় দর্শন |
| লেখিকা | বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন |
| বিষয়বস্তু | হিমালয় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ণনা |
হিমালয় দর্শন – বেগম রোকেয়া (নবম শ্রেণী বাংলা প্রবন্ধ)
আজকের এই পোস্টে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধটির উৎস, সারাংশ, নামকরণের সার্থকতা এবং অধ্যায়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর খুব সহজ ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে।
হিমালয় দর্শন – লেখিকা পরিচিতি
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২) ছিলেন অবিভক্ত বাংলার একজন খ্যাতিমান মুসলিম সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ এবং সমাজসংস্কারক। তাঁকে ‘মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত’ বলা হয়। প্রতিকূল সামাজিক পরিবেশের মধ্যেও তিনি নারীশিক্ষা ও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরণ লড়াই করে গেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে ‘মতিচুর’, ‘পদ্মরাগ’, ‘সুলতানার স্বপ্ন’ ইত্যাদি। ‘হিমালয় দর্শন’ তাঁর ‘মতিচুর’ (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থের অন্তর্গত একটি ভ্রমণমূলক প্রবন্ধ।
হিমালয় দর্শন প্রবন্ধের সারাংশ (Summary)
লেখিকা বেগম রোকেয়া শিলিগুড়ি থেকে হিমালয়ান রেলগাড়িতে চেপে কারসিয়াং যাত্রা করেন। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে ছোট খেলনা গাড়ির মতো ট্রেনের যাত্রাকে তিনি চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছেন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ক্রমশ উপরে ওঠার সময় দেখা মেঘের লুকোচুরি, পাহাড়ের ধাপে ধাপে চায়ের বাগান এবং অসংখ্য জলপ্রপাত লেখিকাকে মুগ্ধ করে।
কারসিয়াং-এ পৌঁছে তিনি তাঁর বাসস্থানে ওঠেন। সেখানকার জলবায়ু মনোরম হলেও পরিষ্কার পানীয় জলের অভাব তিনি অনুভব করেন। পাহাড়ের এই নির্জন প্রকৃতির মাঝে লেখিকা সৃষ্টিকর্তার মহিমা উপলব্ধি করেন। প্রবন্ধের শেষ অংশে তিনি কারসিয়াং-এর স্থানীয় ভুটিয়ানি নারীদের কঠোর পরিশ্রমী ও স্বাধীনচেতা জীবনের ছবি তুলে ধরেছেন। অবলা জাতি হিসেবে পরিচিত নারীদের তুলনায় এই ভুটিয়ানিরা যে অনেক বেশি সাহসী এবং শক্তিশালী, লেখিকা তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। প্রকৃতির অসীম সৌন্দর্যের কাছে মানুষের ক্ষুদ্রতা এবং ঈশ্বরের প্রতি অকৃত্রিম ভক্তি এই রচনার মূল সুর।
হিমালয় দর্শন প্রবন্ধের নামকরণের সার্থকতা
সাহিত্যে নামকরণ বিষয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। বেগম রোকেয়া এই প্রবন্ধে তাঁর হিমালয় ভ্রমণের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন।
নামকরণটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে ‘হিমালয়’ হলো ভ্রমণের স্থান এবং ‘দর্শন’ শব্দের অর্থ হলো দেখা বা প্রত্যক্ষ করা। লেখিকা শিলিগুড়ি থেকে কারসিয়াং পর্যন্ত যাত্রাপথে হিমালয়ের যে রূপ দেখেছেন—তা সে ট্রেনের জানালা দিয়ে দেখা দৃশ্য হোক কিংবা ছোট ছোট নির্ঝরিণী বা জলপ্রপাত—সবই এই নামকরণের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া হিমালয়ের পাদদেশে থাকা বৃক্ষলতা, বিশেষত বিশালাকার ঢেঁকীতরু এবং ভুটিয়ানিদের জীবনযাপন হিমালয় দর্শনেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। হিমালয়ের এই বিশালত্বের কাছে দাঁড়িয়ে লেখিকা যে আধ্যাত্মিক চেতনার পরিচয় দিয়েছেন, তাও ‘দর্শন’ শব্দের গভীরতা বৃদ্ধি করে। তাই বিষয়বস্তুর সঙ্গে সংগতি রেখে এই নামকরণ সার্থক ও যথাযথ হয়েছে।
হিমালয় দর্শন প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| দর্শন | বিচক্ষণ দৃষ্টিতে দেখা বা ভ্রমণ |
| মনোহর | সুন্দর বা চিত্তাকর্ষক |
| অরণ্য | বন বা জঙ্গল |
| কুজ্ঝটিকা | কুয়াশা |
| ভ্রম | ভুল ধারণা |
| নিবিড় | ঘন |
| নিঝর | ঝরনা বা নির্ঝর |
| তৃপ্তি | সন্তোষ বা আনন্দ |
| পারিতোষিক | পুরস্কার (এখানে তৃপ্তিকর অভিজ্ঞতা) |
| বিহ্বল | অভিভূত হওয়া |
| অবলা | যাদের বল নেই (সাধারণত নারীদের বোঝাতে ব্যবহৃত) |
| অপ্রতুল | সহজাত নয় এমন বা অভাব |
| ভুটিয়ানি | ভুটানের অধিবাসী তিব্বতি নারী |
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
হিমালয় দর্শন প্রবন্ধের প্রশ্ন উত্তর (বহুবিকল্প প্রশ্ন উত্তর) | Class 9 Himalay Darshan MCQ Question Answer
১. ‘হিমালয় দর্শন’ পাঠ্যাংশটি কার লেখা?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(খ) বেগম রোকেয়া
(গ) মহাদেবী বর্মা
(ঘ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর: (খ) বেগম রোকেয়া
২. লেখিকা কোথায় যাওয়ার পথে হিমালয় রেল রোড আরম্ভ হয়েছে দেখেছেন?
(ক) দার্জিলিং
(খ) কালিম্পং
(গ) শিলিগুড়ি
(ঘ) কারসিয়াং
উত্তর: (গ) শিলিগুড়ি
৩. হিমালয়ান রেলগাড়িগুলিকে লেখিকা কিসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
(ক) বড় বাসের সঙ্গে
(খ) খেলনা গাড়ির মতো
(গ) বাতাসের মতো গতিশীল
(ঘ) দানবের মতো
উত্তর: (খ) খেলনা গাড়ির মতো
৪. সমুদ্র সমতল থেকে কারসিয়াং স্টেশনের উচ্চতা কত?
(ক) ৩০০০ ফিট
(খ) ৪০০০ ফিট
(গ) ৪৮৬৪ ফিট
(ঘ) ৫০০০ ফিট
উত্তর: (গ) ৪৮৬৪ ফিট
৫. লেখিকা কত উচ্চতায় উঠে প্রথম মেঘের ভেতর দিয়ে চলেছেন?
(ক) ২০০০ ফিট
(খ) ৩০০০ ফিট
(গ) ৪০০০ ফিট
(ঘ) ১৫০০ ফিট
উত্তর: (খ) ৩০০০ ফিট
৬. দূরে সারে সারে চারাগাছগুলিকে দেখে কী মনে হয়?
(ক) মানুষের ভিড়
(খ) ধরণীর সীমন্তের সিঁথি
(গ) নিবিড় অরণ্য
(ঘ) ছোট বন
উত্তর: (খ) ধরণীর সীমন্তের সিঁথি
৭. কোন গাছের পাতা লেখিকা পূর্বে কখনও দেখেননি?
(ক) শাল গাছ
(খ) পাইন গাছ
(গ) চা গাছ
(ঘ) অতি বড় বড় ঘাস
উত্তর: (ঘ) অতি বড় বড় ঘাস
৮. জল পরিবর্তনের জন্য ট্রেন কোথায় থেমেছিল?
(ক) শিলিগুড়িতে
(খ) কারসিয়াং-এ
(গ) পাহাড়ের কোনো স্টেশনে
(ঘ) জলপ্রপাতের নিকট
উত্তর: (ঘ) জলপ্রপাতের নিকট
৯. লেখিকা পানীয় জল কী দিয়ে ছেঁকে ব্যবহার করতেন?
(ক) তুলা দিয়ে
(খ) ফিল্টারে
(গ) কাপড় দিয়ে
(ঘ) বালু দিয়ে
উত্তর: (খ) ফিল্টারে
১০. কারসিয়াং-এর জল হাওয়া লেখিকার মতে কেমন?
(ক) অপরিষ্কার
(খ) খুব গরম
(গ) স্বাস্থ্যকর
(ঘ) অতিশয় শীতল
উত্তর: (গ) স্বাস্থ্যকর
১১. লেখিকা কত ফিট উঁচু ঢেঁকীতরু দেখেছিলেন?
(ক) ১০-১৫ ফিট
(খ) ২০-২৫ ফিট
(গ) ৫০ ফিট
(ঘ) ১০০ ফিট
উত্তর: (খ) ২০-২৫ ফিট
১২. ‘মহিলা’ পত্রিকায় লেখিকা কোন শাকের কথা পাঠ করেছিলেন?
(ক) পালং শাক
(খ) ঢেঁকী শাক
(গ) কলমি শাক
(ঘ) সুষনি শাক
উত্তর: (খ) ঢেঁকী শাক
১৩. কার্বনফেরাস যুগে কী বড় ছিল বলে লেখিকা ভূতত্ত্ব গ্রন্থে পড়েছেন?
(ক) পাথর
(খ) মানুষ
(গ) ঢেঁকীতরু
(ঘ) জলপ্রপাত
উত্তর: (গ) ঢেঁকীতরু
১৪. পাহাড়ের নির্জন পথে লেখিকার কার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি?
(ক) বাঘ
(খ) ভুটিয়ানি
(গ) সর্প
(ঘ) মেঘ
উত্তর: (গ) সর্প
১৫. ভুটিয়ানিরা জোককে কী বলে ডাকে?
(ক) পোকা
(খ) আলু
(গ) ভালু
(ঘ) লালু
উত্তর: (গ) ভালু
১৬. ভুটিয়ানিরা কত গজ লম্বা কাপড় ঘাগরার মতো করে পরে?
(ক) পাঁচ গজ
(খ) সাত গজ
(গ) দশ গজ
(ঘ) বারো গজ
উত্তর: (খ) সাত গজ
১৭. ভুটিয়ানিরা তাদের পিঠে কী বহন করে অনায়াসে নিয়ে যায়?
(ক) চালের বস্তা
(খ) বড় পাথর ও বোঝা
(গ) পাহাড়ি ফল
(ঘ) নিজেদের বাচ্চা
উত্তর: (খ) বড় পাথর ও বোঝা
১৮. ভুটিয়ানিরা সমতলের মানুষদের কী বলে সম্বোধন করে?
(ক) শহরের মানুষ
(খ) নিচকা আদমি
(গ) বড় আদমি
(ঘ) বাবু
উত্তর: (খ) নিচকা আদমি
১৯. লেখিকার মতে ভুটিয়ানিরা কেমন স্বভাবের?
(ক) অলস ও ভীতু
(খ) কার্যপ্রিয়া ও সাহসী
(গ) কুটিল ও মিথ্যাবাদী
(ঘ) অস্থির ও চঞ্চল
উত্তর: (খ) কার্যপ্রিয়া ও সাহসী
২০. ভুটিয়ানি নারীরা উপার্জনের জন্য কার প্রত্যাশী নয়?
(ক) সরকারের
(খ) পুরুষদের
(গ) সমতলের মানুষের
(ঘ) প্রজাদের
উত্তর: (খ) পুরুষদের
২১. লেখিকার মতে প্রকৃত উপাসনা হলো—
(ক) টিয়াপাখির মতো শব্দ উচ্চারণ
(খ) কেবল মন্ত্র পাঠ
(গ) প্রাণের আবেগ থাকা
(ঘ) মূর্তিপূজা
উত্তর: (গ) প্রাণের আবেগ থাকা
২২. “পথের দুই ধারে মনোরম দৃশ্য” – দৃশ্যটি কেমন ছিল?
(ক) কেবল জঙ্গল
(খ) কোথাও স্তূপ চূড়া, কোথাও নিবিড় অরণ্য
(গ) ধূ ধূ প্রান্তর
(ঘ) বড় বড় অট্টালিকা
উত্তর: (খ) কোথাও স্তূপ চূড়া, কোথাও নিবিড় অরণ্য
২৩. কারসিয়াং-এ লেখিকাদের ট্রাঙ্ক কিসের ঠিকানায় বুক করা হয়েছিল?
(ক) শিলিগুড়ির
(খ) কলকাতার
(গ) কারসিয়াং-এর
(ঘ) দার্জিলিং-এর
উত্তর: (ঘ) দার্জিলিং-এর
২৪. লেখিকার মতে ভুটিয়ানি নারীরা কোন জাতির অন্তর্গত নয়?
(ক) বীর জাতি
(খ) অবলা জাতি
(গ) কর্মঠ জাতি
(ঘ) পাহাড়ি জাতি
উত্তর: (খ) অবলা জাতি
২৫. পাহাড়ের পশ্চিম গগনে সন্ধ্যায় কী মাখানো মেঘ দেখা যায়?
(ক) রুপা
(খ) তামা
(গ) সুবর্ণ (সোনা)
(ঘ) সিঁদুর
উত্তর: (গ) সুবর্ণ (সোনা)
২৬. মেঘের লুকোচুরি খেলা কোথায় চমৎকার দেখায়?
(ক) সমতলে
(খ) কারসিয়াং-এ
(গ) সমুদ্রে
(ঘ) আকাশে
উত্তর: (খ) কারসিয়াং-এ
২৭. “নিচেকা আদমি”-র সঙ্গে মেশার পর ভুটিয়ানিরা কী শিখছে?
(ক) পড়ালেখা
(খ) চুরি করা ও মিথ্যা বলা
(গ) চাষবাস
(ঘ) গান বাজনা
উত্তর: (খ) চুরি করা ও মিথ্যা বলা
২৮. একটি ঝরনার নিকট ট্রেন থামার প্রকৃত কারণ কী ছিল?
(ক) যাত্রীদের দৃশ্য দেখানোর জন্য
(খ) জল পরিবর্তন করার জন্য
(গ) পাহাড়ে ধস নামার জন্য
(ঘ) সিগন্যাল না পাওয়ার জন্য
উত্তর: (খ) জল পরিবর্তন করার জন্য
২৯. লেখিকা কোন দৃশ্য দেখে আত্মহারা হয়ে পড়েন?
(ক) ভুটিয়ানিদের কাজ
(খ) মেঘের ও বাতাসের তামাশা
(গ) ট্রেনের গতি
(ঘ) বাজারের ভিড়
উত্তর: (খ) মেঘের ও বাতাসের তামাশা
৩০. হিমালয় কার সামনে ক্ষুদ্র বলে লেখিকার মনে হয়েছে?
(ক) মানুষের সামনে
(খ) আকাশের সামনে
(গ) মহাশিল্পীর সৃষ্ট জগতের সামনে
(ঘ) সমুদ্রের সামনে
উত্তর: (গ) মহাশিল্পীর সৃষ্ট জগতের সামনে
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
হিমালয় দর্শন প্রবন্ধের অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ) | Class 9 Himalay Darshan 1 Mark Questions
১. লেখিকা শিলিগুড়ি থেকে কারসিয়াং গিয়েছিলেন কোন রেলে চেপে?
উত্তর: লেখিকা শিলিগুড়ি থেকে কারসিয়াং গিয়েছিলেন হিমালয়ান রেলগাড়িতে চেপে।
২. হিমালয়ান রেল রোড কোথা থেকে আরম্ভ হয়েছে?
উত্তর: হিমালয়ান রেল রোড শিলিগুড়ি স্টেশন থেকে আরম্ভ হয়েছে।
৩. ট্রেনের লাইনগুলি আঁকাবাঁকা হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: পাহাড়ের উচ্চতা অতিক্রম করার জন্য ট্রেনটি কখনও দক্ষিণে কখনও উত্তরে বক্রপথে বা আঁকাবাঁকা পথে চলে।
৪. “নিম্ন উপত্যকায় নির্মল শ্বেত কুজ্ঝটিকা দেখিয়া…” – লেখিকার কী ভ্রম হয়েছিল?
উত্তর: নিচে উপত্যকায় সাদা কুয়াশা দেখে লেখিকার নদীবলে ভ্রম হয়েছিল।
৫. পাহাড়ি অরণ্যে বৃক্ষলতার বর্ণনা লেখিকা কীভাবে দিয়েছেন?
উত্তর: লেখিকার মতে পাহাড়ি অরণ্যে বৃক্ষ, লতা, ঘাস, পাতা—সবই মনোহর এবং বড় বড় ঘাস সেখানে প্রচুর দেখা যায়।
৬. জলপ্রপাত দেখে লেখিকার মনে কী আধ্যাত্মিক ভাবের উদয় হয়েছিল?
উত্তর: ঝরনার সৌন্দর্য দেখে লেখিকার মনে হয়েছিল যে এগুলি বিশালকায় জাহ্নবীর উৎস এবং ঈশ্বরের প্রতি এক গভীর ভক্তি জাগ্রত হয়েছিল।
৭. লেখিকাদের আসবাবপত্র না আসায় কী অসুবিধা হয়েছিল?
উত্তর: আসবাবপত্র না আসায় লেখিকা বাসায় এসেও ‘গৃহসুখ’ অনুভব করতে পারেননি এবং ট্রাঙ্কগুলির জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
৮. কারসিয়াং-এর বায়ু ও মেঘের সম্পর্কে লেখিকা কী লিখেছেন?
উত্তর: কারসিয়াং-এর বায়ু পরিষ্কার ও হালকা এবং সেখানে মেঘ ও বাতাসের লুকোচুরি চমৎকার দেখায়।
৯. কার্বনফেরাস যুগ সম্পর্কে লেখিকা কী তথ্য দিয়েছেন?
উত্তর: কার্বনফেরাস যুগে বড় বড় ঢেঁকীতরু ছিল যা বর্তমানে সাধারণত ক্ষুদ্র গুল্ম হিসেবে দেখা যায়।
১০. ভুটিয়ানিরা কীভাবে তাদের সাহস প্রদর্শন করে?
উত্তর: ভুটিয়ানিরা অতি খাড়া পাহাড়ের পথে ভারী বোঝা নিয়ে অনায়াসেই ওঠানামা করে নিজেদের সাহস প্রদর্শন করে।
১১. “রমণীজাতি দুর্বল বলিয়া তাঁহাদের নাম অবলা” – লেখিকা এর বিপরীতে কাদের উদাহরণ দিয়েছেন?
উত্তর: লেখিকা এর বিপরীতে সাহসী ও কর্মঠ ভুটিয়ানি নারীদের উদাহরণ দিয়েছেন।
১২. ভুটিয়ানিরা সমতলের মানুষদের কেন ‘নিচেকা আদমি’ বলে?
উত্তর: ভুটিয়ানিরা পাহাড়ে উঁচুতে বাস করে এবং সমতলের মানুষেরা নিচুতে থাকে বলে তাদের ‘নিচেকা আদমি’ বলে।
১৩. ভুটিয়ানিরা সমতলের মানুষের সংস্পর্শে এসে কী কী দোষ শিখছে?
উত্তর: ভুটিয়ানিরা সমতলের মানুষের সংস্পর্শে এসে দুধে জল মেশানো এবং পয়সা চুরি করার মতো দোষ শিখছে।
১৪. লেখিকা অকৃত্রিম উপাসনা বলতে কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: লেখিকার মতে কেবল টিয়াপাখির মতো শব্দ উচ্চারণ নয়, প্রাণের আবেগ দিয়ে স্রষ্টার মহিমা অনুভব করাই হলো প্রকৃত উপাসনা।
১৫. “এই সৌন্দর্য বর্ণনাতীত” – কোন সৌন্দর্যের কথা এখানে বলা হয়েছে?
উত্তর: হিমালয় রেলপথে যাওয়ার সময় পথে যে অসংখ্য জলপ্রপাত বা নির্ঝর দেখা গিয়েছিল, তার সৌন্দর্যের কথাই এখানে বলা হয়েছে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
হিমালয় দর্শন প্রবন্ধের ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Himalay Darshan 2 Marks Questions
১. ট্রেন যাত্রায় লেখিকার কেন বিরক্তি লাগেনি?
উত্তর: ট্রেনের জানালা দিয়ে পথের দুই ধারে মনোরম দৃশ্য, বিশালাকার গাছ, লতাপাতা এবং কোথাও মেঘের আনাগোনা থাকায় দীর্ঘ পথ যাত্রায় লেখিকার বিরক্তি লাগেনি।
২. “জল কিন্তু দেখিতে খুব পরিষ্কার স্বচ্ছ” – কারসিয়াং-এর পানীয় জলের পরিচ্ছন্নতার অভাবের কারণ কী?
উত্তর: কারসিয়াং-এ জল দেখতে পরিষ্কার হলেও সেখানে কূপ বা পুকুর নেই। ঝরনার জল ব্যবহার করা হয়, তাই লেখিকা সেই জল ফিল্টারে ছেঁকে নিতেন।
৩. পশ্চিম গগনে সান্ধ্য মেঘের শোভা লেখিকা কীভাবে বর্ণনা করেছেন?
উত্তর: সূর্যাস্তের সময় মেঘগুলি সুকোমল অঙ্গে সুবর্ণ বা সোনা মাখিয়ে বায়ুভরে ইতঃস্তত ছোটাছুটি করে, যা লেখিকার চোখে কোনো মনোহর সৌন্দর্যরাজ্যের সৃষ্টির মতো মনে হয়।
৪. কারসিয়াং-এ লেখিকা কেন ‘গৃহসুখ’ অনুভব করতে পারেননি?
উত্তর: কারসিয়াং পৌঁছে লেখিকা দেখলেন তাঁদের ট্রাঙ্কগুলি দার্জিলিং-এর ঠিকানায় বুক করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আসবাব ও পোশাকের অভাবে তিনি বাসায় এসেও শান্তিতে থাকতে পারেননি।
৫. পাহাড়ের রাস্তায় লেখিকা কেন নির্ভয়ে বেড়াতে পারতেন?
উত্তর: পাহাড়ের নির্জন পথগুলি খুব সুন্দর এবং সেখানে সর্পের উপদ্রব নেই বললেই চলে। লেখিকা সর্পের দেখা পাননি বলেই নির্ভয়ে সেখানে ভ্রমণ করতেন।
৬. ভুটিয়ানিদের পোশাকের বর্ণনা দাও।
উত্তর: ভুটিয়ানিরা সাত গজ লম্বা কাপড় ঘাগরার মতো করে পরে এবং কোমরে একখণ্ড কাপড় জড়ানো থাকে। গায়ে জ্যাকেট এবং মাথায় বিলাতি শাল দিয়ে ঢাকা থাকে।
৭. ভুটিয়ানিদের ভক্তি ও পরিশ্রম সম্পর্কে লেখিকার ধারণা কী?
উত্তর: ভুটিয়ানিরা পুরুষদের ওপর নির্ভর না করে নিজেরাই বড় বড় প্রস্তর বা পাথরের বোঝা বহন করে। তারা অসামান্য সাহসের সঙ্গে খাড়া পাহাড়ে ওঠানামা করে।
৮. “রমণীজাতি দুর্বল বলিয়া তাঁদের নাম অবলা” – এই প্রথাগত ধারণাকে লেখিকা কীভাবে নস্যাৎ করেছেন?
উত্তর: ভুটিয়ানি নারীদের শারীরিক শক্তি এবং কাজের ধরন দেখে লেখিকা প্রশ্ন তুলেছেন যে, তাদের কি ‘অবলা’ বলা যায়? তাদের জীবনশক্তি পুরুষদের থেকে কোনো অংশে কম নয়।
৯. হিমালয়ের ঝরনা বা নির্ঝর দেখে লেখিকার মনে কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?
উত্তর: অসংখ্য জলপ্রপাত দেখে লেখিকা অভিভূত হয়ে স্রষ্টার মহিমা নিয়ে ভেবেছেন। ঝরনার কল্লোল গীতি শুনে তাঁর প্রাণ ঈশ্বরের চরণে লুটিয়ে পড়তে চেয়েছিল।
১০. “টিয়াপাখির মতো কণ্ঠস্থ কতকগুলি শব্দ উচ্চারণ করিলে উপাসনা হয় না” – এই উক্তির তাৎপর্য কী?
উত্তর: লেখিকা মনে করেন, ধার্মিক হওয়ার ভান করে না বুঝে মন্ত্র পাঠ করা উপাসনা নয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে অন্তঃস্থল থেকে ভক্তি প্রকাশ করাই প্রকৃত উপাসনা।
১১. পাহাড়ের ধাপে ধাপে চায়ের বাগান দেখে লেখিকা কেমন অনুভব করেছিলেন?
উত্তর: লেখিকা হরিদ্বর্ণ চায়ের ক্ষেত্রগুলি দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। সারি সারি চারাগাছগুলি দূর থেকে ধরণীর সিঁথির মতো সুন্দর মনে হয়েছিল।
১২. “কুয়াশা প্রাণ জুড়ায়” – এর মাধ্যমে লেখিকা কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: ঘন কুয়াশা যখন শরীর স্পর্শ করে শরীর জুড়িয়ে দেয়, তখন পাহাড়ি শীতল আবহাওয়ায় লেখিকা এক অনন্য প্রশান্তি লাভ করেন।
১৩. ভুটিয়ানিদের নামকরণ বা পরিচয় সম্পর্কে লেখিকার বক্তব্য কী?
উত্তর: ভুটিয়ানিরা নিজেদের ‘পাহাড়ুনি’ বলে পরিচয় দেয়। তারা সরল, সাহসী ও সত্যবাদী। তবে নিচুকা আদমিদের সংস্পর্শে তাদের সরলতায় কালিমার আঁচ লাগছে।
১৪. লেখিকা কেন নিজেকে ‘অত্যন্ত সুখী’ বলে মনে করেছেন?
উত্তর: সমুদ্রের সামান্য নমুনা যেমন বঙ্গোপসাগর তিনি দেখেছেন, তেমনি পর্বতের মহিমা হিমালয় দেখে তাঁর বহুদিনের সাধ পূর্ণ হয়েছে। এই পরম অভিজ্ঞতা লাভের কারণেই তিনি সুখী।
১৫. “অবলারা প্রস্তর বহিয়া লইয়া যায়” – এখানে ‘অবলা’ শব্দটির ব্যবহার কেন বিদ্রূপাত্মক?
উত্তর: সমাজ নারীদের ‘অবলা’ বা শক্তিহীন বলে চিহ্নিত করে। কিন্তু ভুটিয়ানিরা দুর্গম পাহাড়ে পাথর বয়ে নিয়ে যায়। এই বৈপরীত্য বোঝাতেই লেখিকা শব্দটিকে ব্যবহৃত করেছেন।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
হিমালয় দর্শন প্রবন্ধের ৩ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Himalay Darshan 3 Marks Questions
১. পাহাড় রেলপথে ছোট ছোট ট্রেনের যাতায়াত সম্পর্কে লেখিকার বর্ণনা দাও।
উত্তর: শিলিগুড়ি স্টেশন থেকে হিমালয়ান রেলগাড়িতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অতুলনীয়। ক্ষুদ্র খেলনা গাড়ির মতো এই ট্রেনগুলি আঁকাবাঁকা পথে ধীরে ধীরে ওপরে ওঠে। ট্রেনগুলি খুব নিচু এবং যাত্রীরা ইচ্ছা করলে চলন্ত অবস্থাতেও সহজে ওঠানামা করতে পারেন। ‘কটর কটর’ শব্দ করে গাড়িগুলি কখনও দক্ষিণে আবার কখনও উত্তরে বেঁকে ধাপে ধাপে ওপরে ওঠার দৃশ্যটি লেখিকার কাছে পরম আনন্দের ছিল।
২. “নিম্ন উপত্যকায় নির্মল শ্বেত কুজঝটিকা দেখিয়া সহসা নদী বলিয়া ভ্রম জন্মে” – কুয়াশা ও উপত্যকার এই সৌন্দর্য লেখিকার কলমে কীভাবে রূপ পেয়েছে?
উত্তর: পাহাড়ের উচ্চতা থেকে নিচে তাকালে সাদা ঘন কুয়াশার যে আস্তরণ দেখা যায়, তা অনেকটা মেঘহীন আকাশের নিচের শুভ্র নদীর মতো দেখায়। একেই লেখিকা কুজঝটিকা বলেছেন। এই কুয়াশার স্পর্শ লেখিকার চোখে-মুখে এক অপূর্ব শীতলতা এনে দেয় এবং তিনি উপলব্ধি করেন যে হিমালয়ের প্রতিটি রূপই মনোহর।
৩. “গৃহসুখ অনুভব করিতে পারি নাই” – লেখিকার এই আক্ষেপের কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কারসিয়াং-এ নতুন বাসায় আসার পর মানুষ স্বভাবতই একটু প্রশান্তি চায়। কিন্তু লেখিকা ও তাঁর সংগীতের আসবাবপত্র এবং ট্রাঙ্কগুলি ভুল ঠিকানায় বুক হওয়ায় কারসিয়াং সময়ে পৌঁছায়নি। প্রয়োজনীয় ব্যবহারের জিনিসের অভাবে তাঁরা বাসায় থেকেও স্বচ্ছন্দ থাকতে পারেননি। লেখিকার মতে, কেবল সুন্দর আশ্রয় পেলেই হয় না, সুস্থ আশ্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সাজসরঞ্জামও দরকার।
৪. ঢেঁকীতরু সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা দাও এবং লেখিকা এটি নিয়ে কী ঐতিহাসিক তথ্য দিয়েছেন?
উত্তর: কারসিয়াং-এ লেখিকা ২০-২৫ ফিট উচ্চতার ঢেঁকীতরু দেখেন। সাধারণত সমতলে ঢেঁকী শাক ছোট গুল্ম হিসেবে দেখা যায়। কিন্তু লেখিকা ভূতত্ত্ব গ্রন্থে পড়েছিলেন যে প্রাচীন কার্বনফেরাস যুগে পৃথিবীতে বিশাল আকার ঢেঁকীতরু ছিল। বর্তমানে হিমালয়ে সেই প্রাচীন আমলের স্মৃতি বহনকারী বড় বড় ঢেঁকীতরু দেখে লেখক বিস্মিত ও আনন্দিত হন।
৫. বিচিত্র মেঘ-বাতাসের লুকোচুরি খেলা লেখিকার সময়কে কীভাবে অতিবাহিত করত?
উত্তর: কারসিয়াং-এ লেখিকা প্রায়শই মেঘ ও বাতাসের তামাশা দেখে সময় কাটাতেন। মেঘপুঞ্জ বাতাসের তোড়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করত। বিশেষ করে সন্ধ্যায় মেঘের সোনা মাখানো রূপ লেখিকাকে এতটাই আত্মহারা করত যে তিনি অন্য কোনো কাজে মন দিতে পারতেন না। প্রকৃতির এই অকৃত্রিম খেলা তাঁকে জগৎ থেকে বিছিন্ন করে এক রহস্যময় আনন্দদান করত।
হিমালয় দর্শন প্রবন্ধের বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (৫ নম্বর) | Class 9 Himalay Darshan 5 Marks Questions
১. ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধে লেখিকা হিমালয়ের যে প্রাকৃতিক রূপ বর্ণনা করেছেন তার পরিচয় দাও।
উত্তর: ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া হিমালয়ের অপূর্ব ও বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক রূপের বর্ণনা দিয়েছেন। শিলিগুড়ি থেকে তাঁর যাত্রা শুরুর পর থেকেই প্রকৃতির এক মনোহারী সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। পাহাড়ের গায়ে আঁকাবাঁকা রেলপথে খেলনা ট্রেনের মতো যাত্রা তাঁর বর্ণনায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে। কোথাও উঁচু পাহাড়ের চূড়া, কোথাও ঘন নিবিড় অরণ্য—এই সবই পাঠকদের মুগ্ধ করে।
লেখিকার বর্ণনায় নিম্ন উপত্যকার সাদা কুয়াশা (কুজঝটিকা) যেন স্বচ্ছ নদী। পাহাড়ের ধাপে ধাপে তৈরি সবুজ চায়ের বাগানগুলি দূর থেকে ধরণীর সিঁথির মতো সুন্দর মনে হয়। যাত্রাপথে অসংখ্য জলপ্রপাত বা নির্ঝরের দেখা মেলে, যার স্রোত সরাসরি হিমাদ্রি বা হিমালয়ের হৃদয় বিদীর্ণ করে নেমে আসছে বলে মনে হয়। জলপ্রপাতের শব্দকে লেখিকা ‘কল্লোল গীতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পাহাড়ের বিশালাকার বৃক্ষলতা এবং সুউচ্চ ঢেঁকীতরু হিমালয়ের গাম্ভীর্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়। সবশেষে কারসিয়াং-এর মেঘের ও বাতাসের অমলিন লুকোচুরি খেলা এবং সন্ধ্যার সুবর্ণ মেঘের শোভা হিমালয়ের রূপকে মহিমান্বিত করে তোলে। হিমালয়ের এই বিশালতার মাঝে লেখিকা স্রষ্টার মহাশিল্পীসত্তার পরিচয় খুঁজে পেয়েছেন।
২. “রমণীজাতি দুর্বল বলিয়া তাঁদের নাম অবলা” – উক্তিটির প্রেক্ষিতে ভুটিয়ানি নারীদের জীবনসংগ্রাম ও চরিত্রের যে পরিচয় পাওয়া যায় তা আলোচনা করো।
উত্তর: বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধে ভুটিয়ানি নারীদের কঠোর পরিশ্রমী ও সাহসী রূপটি ‘অবলা’ শব্দের প্রচলিত ধারণাকে সপাটে আঘাত করে। সমতলের সমাজে নারীদের শারীরিকভাবে দুর্বল ও নির্ভরশীল মনে করে ‘অবলা’ বলা হয়। কিন্তু পাহাড়ি জীবনের ভুটিয়ানিরা এর সম্পূর্ণ বিপরীত।
ভুটিয়ানি নারীরা কঠোর পরিশ্রমে অভ্যস্ত। তারা খাদ্যের জন্য পুরুষদের ওপর নির্ভরশীল নয়। তারা ভারী প্রস্তরখণ্ড বা পাহাড়ের বড় বড় বোঝা নিজেদের পিঠে তুলে নিয়ে খাড়া পাহাড়ি পথ দিয়ে অনায়াসেই যাতায়াত করে। যেখানে সমতলের পুরুষদের হাঁটতেও কষ্ট হয়, সেখানে ভুটিয়ানি নারীরা অনায়াসে পাথরের বোঝা বইছে। এছাড়া তারা সরল, সাহসী ও সর্বদা সত্যবাদী। লেখিকা পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, তারা স্বভাবে কার্যপ্রিয়া। তাদের চরিত্রের এই বলিষ্ঠতা দেখে লেখিকা ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেছেন যে তাদের ‘অবলা’ বলা চরম মূর্খতা। ভুটিয়ানিদের নির্ভীক ও স্বাধীন জীবনযাত্রা মূলত নারী শক্তির এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে এই প্রবন্ধে উপস্থাপিত হয়েছে।
৩. হিমালয়ের প্রাকৃতিক নির্ঝর বা জলপ্রপাত দেখে লেখিকার মনে যে আধ্যাত্মিক ভাবান্তর ঘটেছিল তার বর্ণনা দাও।
উত্তর: হিমালয় রেলপথে যাওয়ার সময় লেখিকা অসংখ্য জলপ্রপাত বা নির্ঝর দেখেছিলেন। সাদা ও স্বচ্ছ জলের সেই বিপুল স্রোতধারা লেখিকার মনে গভীর রেখাপাত করে। তিনি অনুভব করেছিলেন যে এই জলধারা হিমাদ্রি পর্বতের হৃদয় বিদীর্ণ করে বেরিয়ে আসছে। নির্ঝরগুলির সৌন্দর্যে অভিভূত হয়ে লেখিকা সেগুলিকে ‘বিশালাকায় জাহ্নবীর উৎস’ বলে কল্পনা করেছেন।
জলপ্রপাতের জল পরিবর্তনের জন্য যখন ট্রেন থেমেছিল, তখন লেখিকা সেই সৌন্দর্য সম্পূর্ণ প্রাণভরে উপভোগ করেন। তাঁর মনে হয়েছিল, ঝরনার এই অবিরাম কল্লোল গীতি যেন ঈশ্বরের প্রতি অকৃত্রিম ভক্তির গান। প্রকৃতির এই বিশালত্বের কাছে মানুষের ক্ষুদ্রতা তিনি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেন। তাঁর প্রাণ এই দৃশ্য দেখে পরমেশ্বরের চরণপ্রান্তে লুটিয়ে পড়তে চাইল। মহাবিশ্বের স্রষ্টা বা মহাশিল্পীর শিল্পনৈপুণ্য দেখে লেখিকার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে। তিনি মনে করেন যে এই অসীম সৌন্দর্য দর্শনই হলো স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ উপাসনা।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আজকের পোস্ট এর মধ্যে হিমালয় দর্শন প্রবন্ধ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা, প্রবন্ধটির বিষয়বস্তু এবং উত্তর সহ প্রশ্নও আলোচনা করা হল, যেগুলি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ ভাবে তোমাদের সহায়ক হয়ে উঠবে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী অন্যান্য সমস্ত বিষয়ের নোট (Class IX All Notes) |
ক্লাস নাইন বাংলা হিমালয় দর্শন | হিমালয় দর্শন বেগম রোকেয়া প্রশ্ন উত্তর | নবম শ্রেণী বাংলা সাজেশন হিমালয় দর্শন | হিমালয় দর্শন ৩ ও ৫ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম Study গ্রুপে যুক্ত হোন -


