নবম শ্রেণির (Class 9) ভূগোলের অষ্টম অধ্যায় ‘পশ্চিমবঙ্গ’ (West Bengal)-এর মধ্যে আমাদের রাজ্যের অবস্থান, প্রশাসনিক বিভাগ, ভূপ্রকৃতি, নদনদী, জলবায়ু, স্বাভাবিক উদ্ভিদ, মৃত্তিকা, কৃষিকাজ এবং শিল্প সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এই অধ্যায় থেকে বাছাই করা কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথার উত্তর (One Liner) এবং বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচে দেওয়া হলো।
নবম শ্রেণী ভূগোল ‘পশ্চিমবঙ্গ’ (অষ্টম অধ্যায়) প্রশ্ন উত্তর
আজকের পোস্টে তোমাদের সাথে যেসব বাছাই করা প্রশ্ন উত্তর শেয়ার করা হচ্ছে, যেগুলো তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ ভাবে সহায়ক হবে।
নবম শ্রেণী ভূগোল ‘পশ্চিমবঙ্গ’ (অষ্টম অধ্যায়) MCQ প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 8 Question Answer
১) পশ্চিমবঙ্গের জন্ম হয়—
(ক) ১৯৫১ সালে
(খ) ১৯৭১ সালে
(গ) ১৯৪৭ সালে
(ঘ) ১৯৭২ সালে
উত্তর: (গ) ১৯৪৭ সালে
২) উত্তরবঙ্গের ত্রাসের নদী হল—
(ক) জলঢাকা
(খ) মহানন্দা
(গ) তিস্তা
(ঘ) তোর্সা
উত্তর: (গ) তিস্তা
৩) পশ্চিমবঙ্গের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে অগ্রণী শহর—
(ক) আসানসোল
(খ) কলকাতা
(গ) শিলিগুড়ি
(ঘ) হলদিয়া
উত্তর: (খ) কলকাতা
৪) ‘তরাই’ কথার অর্থ—
(ক) দুয়ার
(খ) অনুচ্চ টিলা
(গ) স্যাঁতস্যাঁতে ভূমি
(ঘ) কাঁকরময় স্থান
উত্তর: (গ) স্যাঁতস্যাঁতে ভূমি
৫) ২০১১ জনগণনায় পশ্চিমবঙ্গের জনঘনত্ব প্রতি বর্গ কিমিতে—
(ক) ১১০২ জন
(খ) ১০৭৮ জন
(গ) ১০২৯ জন
(ঘ) ১৩৪ জন
উত্তর: (গ) ১০২৯ জন
৬) পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রধান কুটির শিল্প—
(ক) বিড়ি
(খ) মাদুর
(গ) তাঁত
(ঘ) গুড়
উত্তর: (খ) মাদুর
৭) তরাই ও ডুয়ার্স পৃথক হয়েছে—
(ক) মহানন্দা নদীর মাধ্যমে
(খ) তোর্সা নদীর মাধ্যমে
(গ) জলঢাকা নদীর মাধ্যমে
(ঘ) তিস্তা নদীর মাধ্যমে
উত্তর: (ঘ) তিস্তা নদীর মাধ্যমে
৮) উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার—
(ক) জলপাইগুড়ি
(খ) বালুরঘাট
(গ) মালদহ
(ঘ) শিলিগুড়ি
উত্তর: (ঘ) শিলিগুড়ি
৯) পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি অঞ্চলের উচ্চতম স্থান—
(ক) গুরুশিখর
(খ) গোর্গাবুরু
(গ) সান্দাকফু
(ঘ) বক্সাদুয়ার
উত্তর: (খ) গোর্গাবুরু
১০) পশ্চিমবঙ্গের সাথে সবচেয়ে বেশি দৈর্ঘ্যের আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে—
(ক) নেপালের
(খ) ভুটানের
(গ) পাকিস্তানের
(ঘ) বাংলাদেশের
উত্তর: (ঘ) বাংলাদেশের
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
১১) ‘পশ্চিমবঙ্গের দুঃখ’ বলা হত—
(ক) অজয় নদীকে
(খ) গঙ্গা নদীকে
(গ) রূপনারায়ণ নদীকে
(ঘ) দামোদর নদকে
উত্তর: (ঘ) দামোদর নদকে
১২) রক গার্ডেন, বাতাসিয়া লুপ উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্র—
(ক) জলপাইগুড়ি জেলার
(খ) দার্জিলিং জেলার
(গ) আলিপুরদুয়ার জেলার
(ঘ) উত্তর দিনাজপুর জেলার
উত্তর: (খ) দার্জিলিং জেলার
১৩) পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম প্রতিবেশী দেশ—
(ক) নেপাল
(খ) ভুটান
(গ) বাংলাদেশ
(ঘ) শ্রীলঙ্কা
উত্তর: (গ) বাংলাদেশ
১৪) পশ্চিমবঙ্গের সক্রিয় ‘বদ্বীপ’ দেখা যায়—
(ক) কলকাতা জেলায়
(খ) হুগলি জেলায়
(গ) দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়
(ঘ) উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়
উত্তর: (গ) দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়
১৫) পাট গবেষণাকেন্দ্র আছে পশ্চিমবঙ্গের—
(ক) ব্যারাকপুরে
(খ) খড়গপুরে
(গ) রিষড়ায়
(ঘ) চুঁচুড়ায়
উত্তর: (ক) ব্যারাকপুরে
১৬) পশ্চিমবঙ্গের নবীনতম জেলা—
(ক) পশ্চিম বর্ধমান
(খ) উত্তর দিনাজপুর
(গ) আলিপুরদুয়ার
(ঘ) দক্ষিণ ২৪ পরগনা
উত্তর: (ক) পশ্চিম বর্ধমান
১৭) উত্তরবঙ্গের প্রধান নদী—
(ক) জলঢাকা
(খ) সংকোষ
(গ) তিস্তা
(ঘ) রায়ডাক
উত্তর: (গ) তিস্তা
১৮) আউটসোর্সিং শব্দটি যুক্ত—
(ক) পর্যটন শিল্পের সঙ্গে
(খ) বস্ত্র শিল্পের সঙ্গে
(গ) খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের সঙ্গে
(ঘ) তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সঙ্গে
উত্তর: (ঘ) তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সঙ্গে
১৯) পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ—
(ক) সবরগ্রাম
(খ) সান্দাকফু
(গ) গোর্গাবুরু
(ঘ) ফালুট
উত্তর: (খ) সান্দাকফু
২০) পশ্চিমবঙ্গের আর্দ্রতম স্থান—
(ক) ময়ূরেশ্বর
(খ) গঙ্গাজলঘাটি
(গ) আসানসোল
(ঘ) বক্সাদুয়ার
উত্তর: (ঘ) বক্সাদুয়ার (বক্সা ডুয়ার্স)
২১) ডানকুনি বিখ্যাত—
(ক) বস্ত্রশিল্পের জন্য
(খ) দুগ্ধজাত শিল্পের জন্য
(গ) পাট শিল্পের জন্য
(ঘ) ইস্পাত শিল্পের জন্য
উত্তর: (খ) দুগ্ধজাত শিল্পের জন্য
নবম শ্রেণী ভূগোল অষ্টম অধ্যায় শুদ্ধ ও অশুদ্ধ প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 8 True False Question Answer
১) হলদিয়া কলকাতার পরিপূরক বন্দর।
উত্তর: [শু] শুদ্ধ। [ ব্যাখ্যা: কলকাতা বন্দরের নাব্যতা হ্রাস ও অতিরিক্ত চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে এর পরিপূরক হিসেবেই হলদিয়া বন্দর গড়ে তোলা হয়েছে।]
২) পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্য দেখা যায়।
উত্তর: [অ] অশুদ্ধ। [ ব্যাখ্যা: দার্জিলিং জেলায় উচ্চতার কারণে মূলত নাতিশীতোষ্ণ এবং পার্বত্য সরলবর্গীয় অরণ্য দেখা যায়। ]
৩) পশ্চিমবঙ্গে মৃত বা মৃতপ্রায় বদ্বীপ অঞ্চলকে ‘বাগরি’ বলে।
উত্তর: [অ] অশুদ্ধ। [ ব্যাখ্যা: মৃতপ্রায় বদ্বীপ অঞ্চল মূলত নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলার অংশ, একে বাগরি বলে না। মৃতপ্রায় বদ্বীপ মধ্য বদ্বীপের অংশ। ]
৪) বিহারীনাথ পাহাড় পুরুলিয়া জেলায় অবস্থিত।
উত্তর: [অ] অশুদ্ধ। [ ব্যাখ্যা: বিহারীনাথ পাহাড় পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় অবস্থিত। ]
৫) বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কুলাকাংড়ি।
উত্তর: [অ] অশুদ্ধ। [ ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো কেওক্রাডং (বা তাজিংডং)। কুলাকাংড়ি ভুটানের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। ]
৬) পশ্চিমবঙ্গে জলসম্পদের প্রধান উৎস বৃষ্টিপাত।
উত্তর: [শু] শুদ্ধ। [ ব্যাখ্যা: পশ্চিমবঙ্গের নদনদী এবং ভূগর্ভস্থ জল মূলত মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে হওয়া বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। ]
৭) তিস্তানদী জেমু হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
উত্তর: [শু] শুদ্ধ। [ ব্যাখ্যা: সিকিম হিমালয়ের জেমু হিমবাহ থেকেই তিস্তা নদীর উৎপত্তি ঘটেছে। ]
৮) ২০১১ সালের জনগণনায় পশ্চিমবঙ্গ ভারতের সবচেয়ে জনঘনত্বপূর্ণ রাজ্য।
উত্তর: [অ] অশুদ্ধ। [ ব্যাখ্যা: ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী ভারতের সবচেয়ে জনঘনত্বপূর্ণ রাজ্য হলো বিহার। পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ]
৯) মালদহ ফল প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের জন্য বিখ্যাত।
উত্তর: [শু] শুদ্ধ। [ ব্যাখ্যা: মালদহ জেলা আম উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত এবং এখানে আমের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ফল প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে উঠেছে। ]
১০) গোসাবা পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি অঞ্চলের একটি নদী।
উত্তর: [অ] অশুদ্ধ। [ ব্যাখ্যা: গোসাবা হলো সুন্দরবন বা সক্রিয় বদ্বীপ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। ]
১১) সিঙ্গলিল শৈলশিরা পশ্চিমবঙ্গকে নেপাল থেকে পৃথক করেছে।
উত্তর: [শু] শুদ্ধ। [ ব্যাখ্যা: সিঙ্গালিলা শৈলশিরা দার্জিলিং জেলার পশ্চিমে অবস্থান করে পশ্চিমবঙ্গ ও নেপালের মধ্যে প্রাকৃতিক সীমানা তৈরি করেছে। ]
১২) TISCO কারখানাটি দুর্গাপুরে অবস্থিত।
উত্তর: [অ] অশুদ্ধ। [ ব্যাখ্যা: TISCO (Tata Iron and Steel Company) ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরে অবস্থিত। দুর্গাপুরে রয়েছে DSP (Durgapur Steel Plant)। ]
১৩) সুন্দরবনে লবণাক্ত মৃত্তিকা দেখা যায়।
উত্তর: [শু] শুদ্ধ। [ ব্যাখ্যা: সমুদ্রের কাছাকাছি হওয়ায় এবং প্রতিনিয়ত জোয়ারের জল প্রবেশ করায় সুন্দরবন অঞ্চলের মৃত্তিকা লবণাক্ত প্রকৃতির হয়। ]
১৪) পশ্চিমবঙ্গের ক্ষুদ্রতম প্রশাসনিক একক গ্রাম পঞ্চায়েত।
উত্তর: [শু] শুদ্ধ। [ ব্যাখ্যা: পশ্চিমবঙ্গের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সর্বনিম্ন ও ক্ষুদ্রতম প্রশাসনিক স্তর হলো গ্রাম পঞ্চায়েত। ]
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী ভূগোল অষ্টম অধ্যায় শূন্যস্থানপূরণ প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 8 Fill The Blanks Question Answer
১) আলিপুরদুয়ার জেলাটি ________ জেলা ভেঙে গঠিত হয়েছে।
উত্তর: জলপাইগুড়ি
২) সুন্দরবন নামকরণ হয়েছে ______ গাছের জন্য।
উত্তর: সুন্দরী
৩) মাটির প্রতিমা নির্মাণে কলকাতার _______ জগৎ বিখ্যাত।
উত্তর: কুমারটুলি
৪) চন্দননগর হুগলি জেলার মহকুমা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয় ______ সালে।
উত্তর: ১৯৫৪
৫) পশ্চিমবঙ্গের ‘যমজ শহর’ বলা হয় কলকাতা ও ________ -কে।
উত্তর: হাওড়া
৬) ভারতের প্রধান বন্দরগুলির মধ্যে একমাত্র ______ নদী বন্দর।
উত্তর: কলকাতা
৭) পশ্চিমবঙ্গে গ্রীষ্মকালে _______ ঝড় প্রবাহিত হয়।
উত্তর: কালবৈশাখী
৮) পশ্চিমবঙ্গে মালভূমি অঞ্চলের জলবায়ু ______ প্রকৃতির।
উত্তর: চরমভাবাপন্ন
৯) মার্চ থেকে ______ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে গ্রীষ্মকাল।
উত্তর: মে
১০) পশ্চিমবঙ্গের ______ জেলার সবটাই মালভূমির অন্তর্গত।
উত্তর: পুরুলিয়া
১১)_______ পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত উপকূলের পর্যটনকেন্দ্র।
উত্তর: দিঘা
১২) পশ্চিমবঙ্গ ______ শহর পোড়ামাটির শিল্পের জন্য বিখ্যাত।
উত্তর: বিষ্ণুপুর
নবম শ্রেণী ভূগোল ‘পশ্চিমবঙ্গ’ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 8 SAQ Question Answer
১) বিহারিনাথ পাহাড় কোন্ জেলায় অবস্থিত?
উত্তর: বাঁকুড়া।
২) চা-চাষের জন্য কোন্ প্রকার মাটি উপযোগী?
উত্তর: অম্লধর্মী পডজল মাটি বা লৌহযুক্ত দোআঁশ মাটি।
৩) UNESCO দ্বারা পশ্চিমবঙ্গের কোন্ বিষয় বিশ্ব হেরিটেজ সাইটের মর্যাদা পেয়েছে?
উত্তর: সুন্দরবন (ম্যানগ্রোভ অরণ্য) এবং দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (টয় ট্রেন)।
৪) পশ্চিমবঙ্গে পৌষমেলা কোন্ শহরে অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: শান্তিনিকেতন (বোলপুর)।
৫) পশ্চিমবঙ্গের রাঢ় সমভূমি কোন্ মৃত্তিকায় গঠিত?
উত্তর: ল্যাটেরাইট ও লাল মাটি।
৬) পশ্চিমবঙ্গবাসীর মতো একই ভাষায় কথা বলে কোন্ প্রতিবেশী দেশের মানুষ?
উত্তর: বাংলাদেশ।
৭) হাজারদুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের কোন্ জেলায় অবস্থিত?
উত্তর: মুর্শিদাবাদ।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী ভূগোল অষ্টম অধ্যায় সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-২) | Class 9 Chapter 8 Geography Short Question Answer
১) পশ্চিমবঙ্গের দুটি অভয়ারণ্য নির্ভর পর্যটন কেন্দ্রের নাম লেখো।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের দুটি অভয়ারণ্য নির্ভর পর্যটন কেন্দ্র হলো জলদাপাড়া এবং গোরুমারা (ডুয়ার্স অঞ্চল)।
২) সুন্দরবন অঞ্চলের নদনদীর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: ১. নদীগুলি জোয়ারের জলে পুষ্ট, তাই সারাবছর জল থাকে এবং জল লবণাক্ত হয়।
২. নদীগুলিতে প্রচুর পলি থাকে এবং মোহনায় অসংখ্য ছোটোবড়ো বদ্বীপ সৃষ্টি করেছে।
৩) পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি অঞ্চলের দুটি পাহাড়ের নাম লেখো।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি অঞ্চলের দুটি পাহাড় হলো পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় এবং বাঁকুড়ার বিহারীনাথ পাহাড়।
৪) ম্যানগ্রোভ অরণ্যের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: ১. জোয়ারের জলে ডোবা লবণাক্ত মাটিতে শ্বাসকার্য চালানোর জন্য গাছে অসংখ্য শ্বাসমূল থাকে।
২. নরম কাদামাটিতে গাছকে শক্তভাবে আটকে রাখার জন্য কাণ্ডের নীচের দিকে ঠেসমূল থাকে।
৫) পশ্চিমবঙ্গের মালভূমি অঞ্চলের নদনদীর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: ১. এই নদীগুলি বৃষ্টির জলে পুষ্ট হওয়ায় বর্ষাকাল ছাড়া বছরের অন্য সময়ে জল প্রায় থাকে না।
২. নদীগুলি খরাপ্রবণ ও বন্যাপ্রবণ। বর্ষায় হঠাৎ জল বাড়লে হড়পা বান বা বন্যা দেখা দেয়।
৬) ভৌমজলের অতি ব্যবহারে দুটি উল্লেখযোগ্য কুফল উল্লেখ করো।
উত্তর: ১. পানীয় জলের সংকট: ভৌমজলের স্তর ক্রমশ নীচে নেমে যায়, ফলে নলকূপে জল ওঠে না এবং তীব্র পানীয় জলের সংকট দেখা দেয়।
২. বিষাক্ত দূষণ: ভূগর্ভের জলস্তর নেমে গেলে জলে আর্সেনিক ও ফ্লুওরাইডের মতো বিষাক্ত রাসায়নিকের মাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়।
৭) অপ্রচলিত শক্তি বলতে কী বোঝো?
উত্তর: যেসব শক্তির উৎস প্রকৃতিতে অফুরন্ত, বারবার ব্যবহার করলেও ফুরিয়ে যায় না এবং যাদের ব্যবহারে পরিবেশ দূষণ হয় না বললেই চলে, তাদের অপ্রচলিত বা অচিরাচরিত শক্তি বলে। যেমন— সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি।
৮) আশ্বিনের ঝড় কাকে বলে?
উত্তর: শরৎকালে (আশ্বিন-কার্তিক মাসে) প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলি পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন উপকূলে যে প্রবল ঝড়বৃষ্টির সৃষ্টি করে, তাকে ‘আশ্বিনের ঝড়’ বলে।
৯) পশ্চিমবঙ্গের দুটি বাগিচা ফসলের নাম বলো।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের দুটি প্রধান বাগিচা ফসল হলো চা এবং সিঙ্কোনা (বা কফি)।
১০) কালবৈশাখী কী?
উত্তর: গ্রীষ্মকালে (এপ্রিল-মে মাসে) অত্যাধিক উষ্ণতার কারণে পশ্চিমবঙ্গে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ যে প্রবল ও ধ্বংসাত্মক ঝড়বৃষ্টি হয়, তাকে কালবৈশাখী বলে।
১১) পশ্চিমবঙ্গের দুটি উল্লেখযোগ্য খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পকেন্দ্রের নাম লেখো।
উত্তর: মালদহ (আম প্রক্রিয়াকরণ) এবং ডানকুনি (দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ ও বেকারি)।
১২) পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি প্রধান কুটির শিল্পের নাম লেখো।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি প্রধান কুটির শিল্প হলো তাঁত শিল্প, মৃৎশিল্প (মাটির কাজ), মাদুর শিল্প, বাঁশ-বেতের কাজ এবং শাঁখাশিল্প।
১৩) পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলের অধীনস্থ জেলাগুলি কী কী?
উত্তর: সম্পূর্ণ দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলা এবং জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলার উত্তরাংশ উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলের অধীনস্থ।
১৪) ল্যাটেরাইট মাটি পশ্চিমবঙ্গের কোথায় দেখতে পাওয়া যায়?
উত্তর: পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পশ্চিম অংশে (রাঢ় ও মালভূমি অঞ্চলে) ল্যাটেরাইট মাটি দেখা যায়।
নবম শ্রেণী ভূগোল অষ্টম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-৩) | Class 9 Geography Chapter 8 Question Answer
১) পশ্চিমবঙ্গের পার্বত্য এবং সুন্দরবনের উদ্ভিদের পার্থক্য করো।
| বিষয় | পার্বত্য উদ্ভিদ | সুন্দরবনের উদ্ভিদ |
|---|---|---|
| ১. জলবায়ুর প্রভাব | শীতল নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতে জন্মায়। | উষ্ণ ও আর্দ্র লবণাক্ত জলবায়ুতে জন্মায়। |
| ২. উদ্ভিদের প্রকারভেদ | প্রধানত ওক, পাইন, ফার প্রভৃতি সরলবর্গীয় গাছ দেখা যায়। | সুন্দরী, গরাণ, গেঁওয়া প্রভৃতি ম্যানগ্রোভ গাছ দেখা যায়। |
| ৩. অভিযোজন | পাতা বরফ এড়ানোর জন্য সরু বা মোমযুক্ত হয়। | শ্বাসমূল ও ঠেসমূল থাকে। |
২) পশ্চিমবঙ্গের পডজল মাটি এবং ল্যাটেরাইট মাটির পার্থক্য করো।
| বিষয় | পডজল মাটি | ল্যাটেরাইট মাটি |
|---|---|---|
| ১. অবস্থান | উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলে দেখা যায়। | পশ্চিমাংশের মালভূমি অঞ্চলে দেখা যায়। |
| ২. প্রকৃতি ও রং | অম্লধর্মী এবং এর রং ধূসর বা কালচে। | লোহার ভাগ বেশি থাকায় এর রং ইটের মতো লাল। |
| ৩. উর্বরতা | তুলনামূলক উর্বর হওয়ায় চা চাষ ভালো হয়। | অত্যন্ত অনুর্বর ও কাঁকড়যুক্ত। |
৩) পশ্চিমবঙ্গের বরফগলা জলে পুষ্ট নদীর সাথে বৃষ্টির জলে পুষ্ট নদীগুলির পার্থক্য করো।
| বিষয় | উত্তরের নদী | মালভূমির নদী |
|---|---|---|
| ১. জলের উৎস | তিস্তা, তোর্সা প্রভৃতি নদী হিমালয়ের বরফগলা জলে পুষ্ট, তাই সারাবছর জল থাকে। | দামোদর, কংসাবতী প্রভৃতি নদী বৃষ্টির জলে পুষ্ট, তাই বর্ষাকাল বাদে প্রায় শুষ্ক থাকে। |
| ২. স্রোত ও প্রকৃতি | বরফগলা নদীগুলি অত্যন্ত খরস্রোতা এবং গভীর। | বর্ষায় বন্যা ঘটালেও অন্য সময়ে শান্ত থাকে। |
| ৩. মোহনা | সাধারণত গঙ্গা বা ব্রহ্মপুত্রে মেশে। | মূলত ভাগীরথী-হুগলি নদীতে মিলিত হয়। |
৪) পশ্চিমবঙ্গে জলসম্পদের সমস্যাগুলি কী কী?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গে জলসম্পদের সমস্যাগুলি হল –
১. ভৌমজলের অতিরিক্ত ব্যবহার: কৃষিকাজ ও শিল্পের জন্য যথেচ্ছভাবে মাটির নীচের জল তোলায় জলস্তর বিপজ্জনকভাবে নেমে যাচ্ছে।
২. দূষণ: কৃষিজমির কীটনাশক এবং কলকারখানার বর্জ্য নদী ও ভূগর্ভস্থ জলে মিশে পানীয় জলকে দূষিত (বিশেষত আর্সেনিক দূষণ) করছে।
৩. ঋতুভিত্তিক বণ্টন: বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বন্যা হয়, আবার গ্রীষ্মকালে নদী-পুকুর শুকিয়ে গিয়ে তীব্র পানীয় জলের সংকট দেখা দেয়।
৫) পশ্চিমবঙ্গে বদ্বীপ সমভূমি এবং তরাই ডুয়ার্স সমভূমির মধ্যে পার্থক্য করো।
| বিষয় | বদ্বীপ সমভূমি | তরাই-ডুয়ার্স সমভূমি |
|---|---|---|
| ১. গঠন | গঙ্গা ও তার উপনদী দ্বারা বাহিত পলি সঞ্চিত হয়ে গঠিত। | হিমালয়ের পাদদেশে নুড়ি, বালি ও পলি দ্বারা গঠিত। |
| ২. ভূপ্রকৃতি ও উর্বরতা | অত্যন্ত সমতল ও উর্বর; কৃষিকাজের জন্য আদর্শ। | ঈষৎ ঢালু, স্যাঁতস্যাঁতে এবং বনভূমিতে ঢাকা। |
| ৩. অবস্থান | দক্ষিণবঙ্গে, যেমন—নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনায় অবস্থিত। | উত্তরবঙ্গে অবস্থিত। |
৬) পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন শিল্পের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আলোচনা করা হল –
ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও বিপুল সম্ভাবনা: দার্জিলিঙের পাহাড় থেকে দীঘার সমুদ্র এবং সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ থেকে ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদ বা বিষ্ণুপুর—এই অপরিসীম বৈচিত্র্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদের প্রবলভাবে আকর্ষণ করে, যা ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক।
কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ: বর্তমানে পর্যটনকে কেন্দ্র করে হোমস্টে (Homestay), ইকো-ট্যুরিজম (Eco-tourism) এবং স্থানীয় হস্তশিল্পের দ্রুত প্রসার ঘটছে। এর ফলে আগামী দিনে স্থানীয় মানুষের ব্যাপক কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নতি সুনিশ্চিত হবে।
সরকারি উদ্যোগ ও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন: রাজ্য সরকারের নতুন পর্যটন নীতি, হেরিটেজ ট্যুরিজমের প্রসার, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আধুনিক পরিকাঠামো তৈরির ফলে পশ্চিমবঙ্গ আগামী দিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রাখে।
৭) দুর্গাপুরকে ‘ভারতের রূঢ়’ বলার কারণ লেখো।
উত্তর: জার্মানির রাইন নদীর উপনদী রূঢ় নদীর উপত্যকায় কয়লা ও লোহার ওপর ভিত্তি করে বিশাল শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছে। জার্মানির বিখ্যাত শিল্পাঞ্চল রূঢ় (Ruhr)-এর সঙ্গে ব্যাপক সাদৃশ্য থাকার কারণে পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরকে ‘ভারতের রূঢ়’ বলা হয়।
১. কয়লা সম্পদের প্রাচুর্য: জার্মানির রাইন নদীর উপনদী রূঢ় উপত্যকায় যেমন প্রচুর উৎকৃষ্ট মানের কয়লা পাওয়া যায়, ঠিক একইভাবে ভারতের দামোদর উপত্যকায় অবস্থিত দুর্গাপুর এবং এর পার্শ্ববর্তী রানিগঞ্জ-ঝরিয়া অঞ্চলে প্রচুর উন্নত মানের কয়লা উত্তোলিত হয়।
২. ভারী শিল্পের বিকাশ: রূঢ় উপত্যকার কয়লার ওপর ভিত্তি করে সেখানে যেমন লৌহ-ইস্পাত শিল্পের অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটেছে, তেমনি দামোদর উপত্যকার কয়লা ও জলের ওপর নির্ভর করে দুর্গাপুরেও বিশাল লৌহ-ইস্পাত কেন্দ্র (Durgapur Steel Plant), অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট এবং অন্যান্য ভারী ইঞ্জিনিয়ারিং ও রাসায়নিক শিল্প গড়ে উঠেছে।
৩. পরিবহন ও শিল্পের ঘনত্ব: জার্মানির রূঢ় অঞ্চলের মতোই দুর্গাপুর অঞ্চলটিও রেলপথ ও সড়কপথে (যেমন: ২নং জাতীয় সড়ক) অত্যন্ত উন্নত। শিল্পের এই অনুকূল পরিবেশের জন্য রূঢ়-এর মতোই দুর্গাপুর একটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ ও উন্নত শিল্পাঞ্চলে পরিণত হয়েছে।
উপসংহার: জার্মানির রূঢ় উপত্যকার সঙ্গে সম্পদ, ভৌগোলিক অবস্থান এবং শিল্পোন্নয়নের এই কাঠামোগত বিপুল মিল থাকার জন্যই বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও ভূগোলবিদরা দুর্গাপুরকে ‘ভারতের রূঢ়’ আখ্যা দিয়েছেন।
৮) পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের উন্নতির কারণ লেখো।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের উন্নতির কারণ নিনমরূপ আলোচনা করা হল –
১. কৃষিজ কাঁচামালের সহজলভ্যতা: পশ্চিমবঙ্গ একটি কৃষিপ্রধান রাজ্য। এখানে প্রচুর পরিমাণে ধান, আলু, শাকসবজি এবং ফল (যেমন- আম, লিচু, আনারস) উৎপাদিত হয়। পাশাপাশি মৎস্য চাষ ও পশুপালনেও রাজ্যটি এগিয়ে। এই বিপুল পরিমাণ কৃষিজ ও প্রাণিজ সম্পদ খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে কাজ করে।
২. উন্নত পরিকাঠামো ও সরকারি উদ্যোগ: এই শিল্পের বিকাশের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রাজ্যে একাধিক ‘ফুড পার্ক’ (যেমন- হাওড়ার সাঁকরাইল, হুগলির ডানকুনি) এবং প্রচুর হিমঘর (Cold storage) গড়ে উঠেছে। এছাড়া সরকার এই শিল্পে লগ্নিকারীদের জন্য বিশেষ ভর্তুকি ও সহায়তা প্রদান করছে।
৩. বিশাল বাজার ও সস্তা শ্রমিক: অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ রাজ্য হওয়ায় এবং কলকাতা-সহ বহু শহরাঞ্চল থাকায় এখানে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের (যেমন- জ্যাম, জেলি, সস, প্যাকেটজাত খাবার) বিশাল স্থানীয় চাহিদা বা বাজার রয়েছে। এছাড়া, এই শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ ও সস্তা শ্রমিকও রাজ্যে সহজেই পাওয়া যায়।
৯) পশ্চিমবঙ্গের পার্বত্য এবং সুন্দরবন অঞ্চলের নদনদীর পার্থক্য করো।
| বিষয় | পার্বত্য নদী | সুন্দরবনের নদী |
|---|---|---|
| ১. জলের প্রকৃতি | তিস্তার মতো নদীগুলি বরফগলা মিষ্টি জলের নদী। | মাতলা, বিদ্যাধরীর মতো নদীগুলি জোয়ারের লবণাক্ত জলের নদী। |
| ২. স্রোত | অত্যন্ত খরস্রোতা এবং উপত্যকা ‘V’ আকৃতির হয়। | ধীরগতিসম্পন্ন এবং অত্যন্ত চওড়া হয়। |
| ৩. কার্য | প্রধানত ক্ষয়কাজ করে। | মূলত সঞ্চয়কাজ করে বদ্বীপ গঠন করে। |
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী ভূগোল অষ্টম অধ্যায় দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-৫) | Class 9 Geography Chapter 8 Long Question Answer
১) পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলের ভূপ্রকৃতির একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের একেবারে উত্তরভাগে হিমালয় পর্বতের অংশবিশেষ নিয়ে উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল গঠিত। দার্জিলিং (শিলিগুড়ি মহকুমা বাদে), কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলার উত্তর প্রান্তের সামান্য অংশ এই অঞ্চলের অন্তর্গত। এটি মূলত পূর্ব হিমালয়ের অংশ।
ভূপ্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও শ্রেণিবিভাগ: এই অঞ্চলের মাঝখান দিয়ে দক্ষিণমুখে প্রবাহিত খরস্রোতা তিস্তা নদী উত্তরের এই পার্বত্য অঞ্চলকে দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেছে। যথা—
১. তিস্তা নদীর পশ্চিমভাগের ভূপ্রকৃতি: এই অংশটি পূর্বভাগের তুলনায় অনেক বেশি উঁচু এবং দুর্গম। এখানে দুটি উল্লেখযোগ্য শৈলশিরা দেখা যায়:
- সিঙ্গালিলা শৈলশিরা: এটি দার্জিলিং ও নেপাল সীমান্তে অবস্থিত। এই শৈলশিরার উল্লেখযোগ্য শৃঙ্গগুলি হলো— সান্দাকফু (৩৬৩৬ মিটার, এটি পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ), ফালুট (৩৫৯৫ মি.), সবরগ্রাম (৩৫৪৩ মি.) এবং টংলু (৩০৩৬ মি.)।
- দার্জিলিং-কার্শিয়াং শৈলশিরা: এই শৈলশিরাটি দক্ষিণ থেকে উত্তরে বিস্তৃত। এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো টাইগার হিল (২৫৯০ মি.)। অন্যান্য শৃঙ্গগুলির মধ্যে সিঞ্চল ও মহালদিরাম উল্লেখযোগ্য।
২. তিস্তা নদীর পূর্বভাগের ভূপ্রকৃতি: তিস্তার পূর্বদিকের অংশটি পশ্চিমদিকের তুলনায় কম উচ্চতা সম্পন্ন। এই অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
- এখানে দুরপীন দারা এবং চোলা নামক দুটি শৈলশিরা দেখা যায়।
- এই অংশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো ঋষিলা (৩১২১ মিটার), যা কালিম্পং শহরে অবস্থিত।
- জলঢাকা নদীর পূর্বদিকে রেনিগঙ্গো শৃঙ্গ (১৮৮৫ মি.) এবং বক্সা-জয়ন্তী পাহাড় অবস্থিত। এখানকার উল্লেখযোগ্য গিরিপথ হলো বক্সা দুয়ার।
ভূপ্রকৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্য:
১. ভূমিধস: ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত খাড়া ও শিলাস্তর দুর্বল হওয়ায় বর্ষাকালে এখানে প্রায়শই প্রবল ভূমিধস দেখা যায়।
২. ভূ-গাঠনিক প্রকৃতি: এই অঞ্চলটি পাললিক ও রূপান্তরিত শিলা দ্বারা গঠিত এবং ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত নবীন ও অস্থিতিশীল।
৩. খাড়া ঢাল ও গভীর গিরিখাত: এখানকার পাহাড়ের ঢাল অত্যন্ত খাড়া এবং নদীগুলি প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়ে গভীর ‘V’ আকৃতির উপত্যকা বা গিরিখাত সৃষ্টি করেছে।
২) পশ্চিমবঙ্গে চা শিল্পের উন্নতির কারণ এবং এই শিল্পের দুটি উল্লেখযোগ্য সমস্যার কথা উল্লেখ করো।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় চা শিল্পের অভূতপূর্ব উন্নতির পিছনে প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক উভয় কারণই দায়ী:
১. অনুকূল জলবায়ু: চা চাষের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু এবং বার্ষিক ১৫০-২৫০ সেন্টিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন হয়। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চলে এবং তরাই-ডুয়ার্সে এই আদর্শ আবহাওয়া বিরাজ করে। দার্জিলিং-এর শীতল আবহাওয়া এখানকার চায়ের স্বাদ ও সুগন্ধকে বিশ্ববিখ্যাত করেছে।
২. ঢালু ভূপ্রকৃতি: চা গাছের গোড়ায় জল দাঁড়ালে গাছের শিকড় পচে যায়। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ঢাল এবং পাদদেশীয় তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলের জমি স্বাভাবিকভাবেই ঢালু হওয়ায় জল সহজেই গড়িয়ে নেমে যায়, যা চা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
৩. উপযুক্ত মৃত্তিকা: চা চাষের জন্য লৌহ ও হিউমাস সমৃদ্ধ, নাইট্রোজেনযুক্ত অম্লধর্মী মৃত্তিকা প্রয়োজন। দার্জিলিং-এর পডসল মৃত্তিকা এবং ডুয়ার্স অঞ্চলের দোআঁশ মাটি এই গুণাগুণ সম্পন্ন।
৪. সুলভ শ্রমিক ও মূলধন: চা বাগানের পরিচর্যা এবং দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি তোলার জন্য প্রচুর দক্ষ ও সুলভ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। স্থানীয় আদিবাসী এবং পার্শ্ববর্তী নেপাল, বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে এই শ্রমিক সহজে পাওয়া যায়। এছাড়া ব্রিটিশ আমল থেকেই দেশি-বিদেশি মূলধনের বিনিয়োগ এবং কলকাতা বন্দরের নৈকট্য (রপ্তানির সুবিধার জন্য) এই শিল্পকে ত্বরান্বিত করেছে।
পশ্চিমবঙ্গে চা শিল্পের দুটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা: বর্তমানে এই লাভজনক শিল্পটি বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে, যার মধ্যে প্রধান দুটি হলো:
১. পুরোনো গাছ ও উৎপাদন হ্রাস: পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ চা বাগানের গাছগুলি বহু পুরোনো (অনেক ক্ষেত্রে ৫০-১০০ বছরের বেশি)। গাছ পুরোনো হয়ে যাওয়ার কারণে হেক্টর প্রতি চা পাতার ফলন এবং গুণগত মান ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। নতুন চারাগাছ রোপণের হারও বেশ কম।
২. তীব্র প্রতিযোগিতা ও শ্রমিক সমস্যা: আন্তর্জাতিক বাজারে শ্রীলঙ্কা, কেনিয়া এবং চীনের চায়ের সাথে পশ্চিমবঙ্গের চা-কে কঠিন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে অসন্তোষ, উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাব এবং মাঝেমধ্যেই ধর্মঘটের ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এই শিল্পের অন্যতম বড় সমস্যা।
৩) পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবগুলি লেখো।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু মূলত ক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির। এই রাজ্যের ঋতু বৈচিত্র্য, বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রার উপর মৌসুমি বায়ুর (বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর) প্রভাব অপরিসীম। ৫টি প্রধান প্রভাব নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ঋতু বৈচিত্র্য সৃষ্টি মৌসুমি বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমনের চক্রের উপর ভিত্তি করেই পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুকে প্রধান চারটি ঋতুতে ভাগ করা যায়। এই বায়ু যখন রাজ্যে প্রবেশ করে তখন বর্ষাকাল এবং যখন ফিরে যায় তখন শরৎ ও শীতকালের সৃষ্টি হয়। মৌসুমি বায়ু না থাকলে এই রাজ্যে এমন সুস্পষ্ট ঋতুবৈচিত্র্য দেখা যেত না।
২. বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও বন্টন পশ্চিমবঙ্গের মোট বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৯০% ঘটে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বঙ্গোপসাগরীয় শাখার প্রভাবে (জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে)। তবে সর্বত্র বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সমান নয়। উত্তরের পার্বত্য জেলাগুলিতে বৃষ্টিপাত সবচেয়ে বেশি হয় (২০০-৩০০ সেমি), আবার পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চলে (যেমন পুরুলিয়া, বাঁকুড়া) এর প্রভাবে বৃষ্টিপাত তুলনামূলক অনেক কম (১০০-১২০ সেমি) হয়।
৩. উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাস মে মাসের শেষের দিকে প্রবল গ্রীষ্মের দাবদাহে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন জুন মাসের শুরুতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু রাজ্যে প্রবেশ করে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয় এবং বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এর ফলে রাজ্যের গড় তাপমাত্রা একধাক্কায় ৫°C থেকে ১০°C পর্যন্ত হ্রাস পায় এবং আবহাওয়া আরামদায়ক হয়।
৪. ‘আশ্বিনের ঝড়’ বা সাইক্লোন সৃষ্টি শরৎকালে (অক্টোবর-নভেম্বর মাসে) যখন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু রাজ্য থেকে বিদায় নিতে শুরু করে (উত্তর-পূর্ব প্রত্যাগমনকারী মৌসুমি বায়ু), তখন বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত হয়, যা পশ্চিমবঙ্গে ‘আশ্বিনের ঝড়’ নামে পরিচিত।
৫. কৃষি ও অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক পশ্চিমবঙ্গের কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভরশীল। সময়মতো এবং পরিমিত বৃষ্টিপাত হলে প্রধান ফসল আমন ধান ও পাটের ফলন খুব ভালো হয়। কিন্তু মৌসুমি বায়ু অত্যন্ত খামখেয়ালি—কখনও এর প্রভাবে অতিবৃষ্টির ফলে উত্তরবঙ্গ বা নিম্নবঙ্গে বন্যা দেখা দেয়, আবার কখনও অনাবৃষ্টির কারণে পশ্চিমাংশের জেলাগুলিতে খরা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
উপসংহার: পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃতি থেকে শুরু করে মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষিকাজ এবং অর্থনীতি—সর্বক্ষেত্রেই মৌসুমি বায়ু প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে। তাই পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুকে মৌসুমি বায়ুর চারণভূমি বলা চলে।
৪) পশ্চিমবঙ্গের পাট শিল্পের সমস্যা এবং সমাধানের উপায়গুলি সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী এবং অন্যতম প্রধান শিল্প হলো পাট শিল্প। একসময় এই শিল্পকে ‘সোনালী তন্তু’ (Golden Fibre)-র শিল্প বলা হতো। তবে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের পাট শিল্প একাধিক তীব্র সংকটের সম্মুখীন।
পশ্চিমবঙ্গের পাট শিল্পের সমস্যা
১. কাঁচা পাটের অভাব ও নিম্নমান: দেশভাগের ফলে উৎকৃষ্ট পাট উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলি বাংলাদেশে চলে যায়। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে যে পরিমাণ পাট উৎপন্ন হয়, তা অনেক ক্ষেত্রেই নিম্নমানের এবং চাহিদার তুলনায় এর জোগানও অনিয়মিত।
২. পুরোনো যন্ত্রপাতি ও অনুন্নত প্রযুক্তি: পশ্চিমবঙ্গের বেশিরভাগ পাটকল বা চটকলগুলি বহু দশকের পুরোনো। আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে উৎপাদন খরচ বেশি হচ্ছে এবং দ্রব্যের মানও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।
৩. কৃত্রিম দ্রব্যের সাথে প্রতিযোগিতা: বর্তমানে বাজারে সস্তা, টেকসই ও আকর্ষণীয় প্লাস্টিক, পলিথিন এবং নাইলনের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে পাটের তৈরি বস্তা বা ব্যাগের চাহিদা মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
৪. বাংলাদেশের সাথে তীব্র প্রতিযোগিতা: বাংলাদেশ উন্নত মানের কাঁচা পাট এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বিশ্ববাজারে অপেক্ষাকৃত কম দামে পাটজাত দ্রব্য রপ্তানি করছে, যার ফলে পশ্চিমবঙ্গের পাট শিল্প কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।
৫. শ্রমিক অসন্তোষ ও মূলধনের অভাব: কাঁচামালের অভাব এবং কারখানার আর্থিক ক্ষতির কারণে অনেক কারখানায় প্রায়ই শ্রমিক ধর্মঘট বা ‘লক আউট’ দেখা যায়। এছাড়া শিল্পমালিকদের আধুনিকীকরণে মূলধন বিনিয়োগের অনীহাও একটি বড় সমস্যা।
সমাধানের উপায়
১. যন্ত্রপাতির আধুনিকীকরণ: পুরোনো যন্ত্রপাতির বদলে অবিলম্বে আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি কারখানায় বসাতে হবে, যাতে দ্রুত উৎপাদন সম্ভব হয় এবং উৎপাদন খরচ কমে।
২. বহুমুখী পাটজাত দ্রব্য উৎপাদন: শুধুমাত্র বস্তা বা দড়ি তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, পাটের তৈরি কার্পেট, জুট-ব্যাগ, পোশাক, ঘর সাজানোর সৌখিন জিনিসপত্র (Jute Diversified Products) ইত্যাদি তৈরি করতে হবে, বর্তমান বাজারে যার প্রচুর চাহিদা ও দাম রয়েছে।
৩. উন্নত বীজের ব্যবহার ও গবেষণা: কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল পাটের বীজ এবং আধুনিক চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পাটের তন্তুর মান বাড়াতে কৃষি-গবেষণায় আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন।
৪. সরকারি সাহায্য ও আইনের প্রয়োগ: সরকারের ‘Jute Packaging Materials Act’ (বাধ্যতামূলক পাট মোড়কীকরণ আইন)-কে আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে, যাতে চিনি, সার বা খাদ্যশস্য প্যাক করার ক্ষেত্রে পাটের বস্তার ব্যবহার সুনিশ্চিত হয়।
৫. শ্রমিক কল্যাণ ও আর্থিক অনুদান: শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও কাজের সুস্থ পরিবেশ সুনিশ্চিত করে শ্রমিক অসন্তোষ মেটাতে হবে। রুগ্ন পাটকলগুলিকে বাঁচাতে সরকারকে উপযুক্ত আর্থিক প্যাকেজ বা ভর্তুকি প্রদান করতে হবে।
৫) পশ্চিমবঙ্গের কুটির শিল্পগুলির এক সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও ঐতিহ্যের সাথে কুটির শিল্পের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। স্থানীয় কাঁচামাল, পারিবারিক শ্রম ও স্বল্প মূলধনের ওপর ভিত্তি করে এই রাজ্যে বৈচিত্র্যময় কুটির শিল্পের বিকাশ ঘটেছে।
পশ্চিমবঙ্গের প্রধান কুটির শিল্পগুলি হলো:
১. তাঁত শিল্প: পশ্চিমবঙ্গের কুটির শিল্পের মধ্যে তাঁত শিল্প সবচেয়ে প্রাচীন ও বিখ্যাত। নদীয়ার শান্তিপুর ও ফুলিয়া, হুগলির ধনেখালি ও বেগমপুর এবং বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের তাঁতের শাড়ির বিশ্বজোড়া খ্যাতি রয়েছে। বিষ্ণুপুরের ‘বালুচরী’ শাড়ি এই রাজ্যের এক অনন্য সম্পদ।
২. রেশম বা সিল্ক শিল্প: রেশম উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অন্যতম প্রধান রাজ্য। মালদহ, মুর্শিদাবাদ (বিশেষত মুর্শিদাবাদি সিল্ক) এবং বাঁকুড়া জেলায় রেশম শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে।
৩. মৃৎশিল্প ও টেরাকোটা: নদীয়ার কৃষ্ণনগরের নিখুঁত মাটির পুতুল দেশ-বিদেশে সমাদৃত। এছাড়া বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর ও পাঁচমুড়ার পোড়ামাটির (টেরাকোটা) কাজ এবং ‘বাঁকুড়ার ঘোড়া’ পশ্চিমবঙ্গের হস্তশিল্পের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
৪. পাট ও শোলার কাজ: পশ্চিমবঙ্গ পাট উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় হওয়ায় এখানে পাটের ব্যাগ, কার্পেট, গালিচা ও নানা ঘর সাজানোর সামগ্রী তৈরির কদর রয়েছে। পাশাপাশি, বীরভূম, বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদে শোলার তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী ও মুকুট তৈরির শিল্পও বেশ বিখ্যাত।
৫. ডোকরা এবং কাঁসা-পিতল শিল্প: প্রাচীন পদ্ধতিতে ধাতু গলিয়ে মূর্তি ও গহনা তৈরির ‘ডোকরা’ শিল্প বর্ধমানের দরিয়াপুর এবং বাঁকুড়ার বিকনায় দেখা যায়। এছাড়া মুর্শিদাবাদের খাগড়া কাঁসা-পিতলের বাসনের জন্য বিখ্যাত।
৬. বাঁশ, বেত ও কাঠের কাজ: দার্জিলিং, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলায় বাঁশ ও বেতের তৈরি আসবাবপত্র এবং বর্ধমানের নতুনগ্রামে কাঠের প্যাঁচা ও পুতুল তৈরির শিল্প উল্লেখযোগ্য।
উপসংহার: কুটির শিল্পগুলি লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস হলেও, বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রতিযোগিতা, কাঁচামালের অভাব এবং মূলধনের অভাবে এই শিল্পগুলি নানা সংকটের সম্মুখীন। তবে সরকারি উদ্যোগ ও ‘বিশ্ব বাংলা’র মতো বিপণন ব্যবস্থার মাধ্যমে এই শিল্পগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে।
৬) পশ্চিমবঙ্গের মাটির শ্রেণিবিভাগ করো এবং দু-প্রকার মাটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ুর ওপর নির্ভর করে এই রাজ্যের মাটিকে প্রধানত ৬টি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা –
১. পার্বত্য অঞ্চলের মাটি (Mountain Soil)
২. তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের মাটি (Terai and Dooars Soil)
৩. পলি মাটি (Alluvial Soil)
৪. লাল মাটি (Red Soil)
৫. ল্যাটেরাইট মাটি (Laterite Soil)
৬. উপকূলীয় লবণাক্ত মাটি (Coastal Saline Soil)
১. পলি মাটি (Alluvial Soil): পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বেশি অঞ্চল জুড়ে পলি মাটি দেখা যায়। এটি কৃষিকাজের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। ধান, পাট, গম, তৈলবীজ, আলু এবং প্রচুর শাকসবজি এই মাটিতে খুব ভালো চাষ হয়। গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চল, যেমন— নদীয়া, হুগলী, হাওড়া, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদ জেলা।
বৈশিষ্ট্য:
- নদীর বাহিত পলি সঞ্চিত হয়ে এই মাটির সৃষ্টি হয়।
- এই মাটিতে নাইট্রোজেন ও ফসফরাস কিছুটা কম থাকলেও পটাশিয়াম প্রচুর পরিমাণে থাকে।
- প্রাচীন পলিমাটিকে বলা হয় ‘ভাঙ্গর’ (অপেক্ষাকৃত কম উর্বর) এবং নদীর তীরবর্তী নবীন পলিমাটিকে বলা হয় ‘খাদার’ (অত্যন্ত উর্বর)।
২. ল্যাটেরাইট মাটি (Laterite Soil): ল্যাটিন শব্দ ‘Later’ (যার অর্থ ইট) থেকে এই মাটির নামকরণ হয়েছে, কারণ এই মাটি শুকিয়ে গেলে ইটের মতো শক্ত হয়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাংশের মালভূমি অঞ্চল, যেমন— পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বীরভূম জেলার কিছু অংশে এই মাটি দেখা যায়। এই মাটিতে চাষাবাদ কঠিন হলেও, বর্তমানে আধুনিক জলসেচ ও সার প্রয়োগের মাধ্যমে খরা-সহনশীল ফসল যেমন— ভুট্টা, জোয়ার, বাজরা, চীনাবাদাম এবং কাজুবাদাম চাষ করা হচ্ছে।
বৈশিষ্ট্য:
- মাটিতে লোহা (Iron) এবং অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ খুব বেশি থাকে বলে এর রং গাঢ় লাল বা ইটের মতো হয়।
- এই মাটির জল ধারণ ক্ষমতা খুব কম এবং এটি অম্ল প্রকৃতির (Acidic)।
- জৈব পদার্থের পরিমাণ কম থাকায় এটি স্বাভাবিকভাবে অনুর্বর।
৭) পশ্চিমবঙ্গে লৌহ-ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠার কারণগুলি কী কী?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গে লৌহ-ইস্পাত শিল্প মূলত দুর্গাপুর এবং বার্নপুর-কুলটি অঞ্চলে গড়ে উঠেছে। এই শিল্প গড়ে ওঠার প্রধান কারণগুলি নিচে গুছিয়ে আলোচনা করা হলো:
পশ্চিমবঙ্গে লৌহ-ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠার অনুকূল কারণসমূহ:
লৌহ-ইস্পাত একটি বিশুদ্ধ কাঁচামাল-নির্ভর এবং ভারী শিল্প। পশ্চিমবঙ্গে এই শিল্পের কেন্দ্রীভবনের পেছনে নিম্নলিখিত ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলি দায়ী:
১. কাঁচামালের সহজলভ্যতা: লৌহ-ইস্পাত শিল্পের জন্য প্রচুর পরিমাণে ভারী কাঁচামালের প্রয়োজন হয়, যা এই অঞ্চলের খুব কাছেই পাওয়া যায়।
- কয়লা: নিকটবর্তী রানিগঞ্জ, আসানসোল এবং ঝাড়খণ্ডের ঝরিয়া ও বোকারো খনি থেকে উন্নত মানের কোক কয়লা পাওয়া যায়।
- আকরিক লোহা: ঝাড়খণ্ডের সিংভূম এবং ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ ও কেওনঝড় খনি থেকে প্রচুর পরিমাণে উৎকৃষ্ট মানের আকরিক লোহা আসে।
- চুনাপাথর ও ডলোমাইট: ওড়িশার গাংপুর এবং বীরমিত্রপুর থেকে প্রয়োজনীয় চুনাপাথর ও ডলোমাইট সরবরাহ করা হয়।
- ম্যাঙ্গানিজ: ওড়িশার কেওনঝড় ও গাংপুর থেকে ম্যাঙ্গানিজ আনা হয়।
২. পর্যাপ্ত জলের জোগান: ইস্পাত কারখানাগুলি শীতল রাখতে এবং অন্যান্য কাজের জন্য প্রচুর জলের প্রয়োজন হয়। দামোদর ও বরাকর নদী এবং দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের (DVC) বিভিন্ন খাল ও জলাধার থেকে সারা বছর পর্যাপ্ত জলের সরবরাহ পাওয়া যায়।
৩. নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ: ভারী যন্ত্রপাতি চালানোর জন্য বিপুল বিদ্যুতের প্রয়োজন। DVC-এর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (যেমন— দুর্গাপুর, মেজিয়া, চন্দ্রপুরা) ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র (যেমন— মাইথন, পাঞ্চেত) এবং রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের (WBSEB) কেন্দ্রগুলি থেকে সস্তায় ও নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রচুর বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।
৪. উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা: কাঁচামাল কারখানায় আনতে এবং উৎপন্ন ইস্পাত বাজারে পাঠাতে উন্নত পরিবহনের প্রয়োজন। এই অঞ্চলটি পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ের প্রধান লাইনের সাথে যুক্ত। এছাড়া ২ নম্বর জাতীয় সড়ক (বর্তমান NH-19) এবং দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে দ্বারা এই অঞ্চল কলকাতা ও ভারতের অন্যান্য অংশের সাথে ভালোভাবে যুক্ত।
৫. সুলভ ও দক্ষ শ্রমিক: পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড এবং বিহার অত্যন্ত জনবহুল রাজ্য হওয়ায় এখান থেকে অতি সহজেই সস্তায় প্রচুর অদক্ষ এবং দক্ষ শ্রমিক পাওয়া যায়। এছাড়া দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চলে বহু কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় দক্ষ শ্রমিকের অভাব হয় না।
৬. বন্দরের সুবিধা ও উন্নত বাজার:
- বন্দর: কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরের নৈকট্যের কারণে বিদেশ থেকে ভারী যন্ত্রপাতি আমদানি করা এবং বিদেশে ইস্পাত রপ্তানি করা অত্যন্ত সুবিধাজনক।
- বাজার: হুগলি শিল্পাঞ্চলসহ সমগ্র পূর্ব ভারতে ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প, রেল ওয়াগন ও মোটরগাড়ি নির্মাণের কারখানা থাকায় এখানে উৎপন্ন লোহা ও ইস্পাতের বিপুল চাহিদা বা বাজার রয়েছে।
উপসংহার: উপযুক্ত কাঁচামালের সহজলভ্যতা এবং কলকাতা বন্দরের নৈকট্য ও উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করেই প্রধানত দামোদর উপত্যকাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে লৌহ-ইস্পাত শিল্পের এই অভাবনীয় বিকাশ ঘটেছে।
৮) পশ্চিমবঙ্গের বদ্বীপ সমভূমির ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের পূর্বাংশ ও দক্ষিণাংশ জুড়ে গঙ্গা ও তার অসংখ্য শাখা-প্রশাখার পলি সঞ্চয়ের ফলে যে বিস্তীর্ণ সমভূমি গঠিত হয়েছে, তাকে পশ্চিমবঙ্গের বদ্বীপ সমভূমি বলে। মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর ও পূর্ব বর্ধমানের কিছু অংশ নিয়ে এই বদ্বীপ সমভূমি গঠিত। এটি পৃথিবীর বৃহত্তম গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এই অঞ্চলের প্রধান ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
১. মৃদু ঢাল ও সমতল ভূপ্রকৃতি: এই অঞ্চলের ভূমিরূপ অত্যন্ত সমতল এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর গড় উচ্চতা খুব কম (১০-১৫ মিটার)। সমগ্র বদ্বীপ সমভূমির সাধারণ ঢাল উত্তর থেকে ক্রমশ দক্ষিণ দিকে অর্থাৎ বঙ্গোপসাগরের দিকে নেমে গেছে।
২. বদ্বীপের গঠনগত শ্রেণিবিভাগ: ভূপ্রকৃতি ও গঠনের পর্যায় অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের বদ্বীপ সমভূমিকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:
- মৃতপ্রায় বদ্বীপ (Moribund Delta):
- পরিণত বদ্বীপ (Mature Delta):
- সক্রিয় বদ্বীপ (Active Delta):
৩. অসংখ্য নদ-নদী ও খাঁড়ির উপস্থিতি: এই সমভূমির ওপর দিয়ে ভাগীরথী-হুগলি, জলঙ্গী, চূর্ণী, মাথাভাঙা, বিদ্যাধরী, ইছামতী, মাতলা প্রভৃতি অসংখ্য নদী জালের মতো ছড়িয়ে আছে। বদ্বীপের দক্ষিণাংশে সমুদ্রের জোয়ারের জলে পুষ্ট অসংখ্য লবণাক্ত জলের খাঁড়ি বা নদী দেখা যায়।
৪. অস্থায়ী দ্বীপ ও কর্দমাক্ত নিম্নভূমি: সক্রিয় বদ্বীপ বা সুন্দরবন অঞ্চলে নদীর মোহনায় প্রচুর পলি সঞ্চিত হয়ে অসংখ্য ছোট-বড় দ্বীপ গঠিত হয়েছে (যেমন— সাগর দ্বীপ, পূর্বাশা বা নিউ মুর, লোহাচড়া, ঘোড়ামারা ইত্যাদি)। সমুদ্রের ঢেউ ও জোয়ার-ভাটার কারণে এখানকার ভূপ্রকৃতি ক্রমাগত ভাঙা-গড়ার মধ্যে থাকে। এখানকার নিম্নভূমিগুলি কাদাময় ও লবণাক্ত।
৫. উর্বর পলল মৃত্তিকা: নদীর বাহিত পলি জমে তৈরি হওয়ার কারণে পরিণত ও মৃতপ্রায় বদ্বীপ সমভূমির মাটি অত্যন্ত উর্বর, যা ধান, পাট সহ বিভিন্ন কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তবে দক্ষিণের সক্রিয় বদ্বীপের মাটি অতিরিক্ত লবণাক্ত হওয়ার কারণে তা কৃষিকাজের জন্য ততটা আদর্শ নয়, সেখানে মূলত ম্যানগ্রোভ অরণ্য দেখা যায়।
উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, পশ্চিমবঙ্গের বদ্বীপ সমভূমি কেবল রাজ্যের বৃহত্তম ভূপ্রাকৃতিক অংশই নয়, উর্বর পলল মৃত্তিকা ও উন্নত নদীপথের কারণে এটি রাজ্যের সবচেয়ে জনবহুল এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ অঞ্চল।
৯) পশ্চিমবঙ্গে ধান উৎপাদনের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশের বর্ণনা দাও।
উত্তর: ভারতবর্ষের মধ্যে ধান উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ প্রথম স্থান অধিকার করে। পশ্চিমবঙ্গে ধান চাষের এই ব্যাপক সাফল্যের পেছনে এখানকার অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ (প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক) প্রধান ভূমিকা পালন করে।
ক) প্রাকৃতিক পরিবেশ (Physical Environment): ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের প্রাকৃতিক পরিবেশ অত্যন্ত অনুকূল। এর প্রধান কারণগুলি হলো:
১. উষ্ণতা (Temperature): ধান চাষের জন্য গড়ে ২২° থেকে ৩২° সেলসিয়াস উষ্ণতার প্রয়োজন হয়। পশ্চিমবঙ্গের ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ুর কারণে ধান চাষের সময় (বিশেষত খরিফ বা আমন ধানের ক্ষেত্রে) এই আদর্শ তাপমাত্রা সহজেই পাওয়া যায়।
২. বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতা (Rainfall & Humidity): ধান মূলত জলজ উদ্ভিদ, তাই এর গোড়ায় জল দাঁড়িয়ে থাকা প্রয়োজন। ধান চাষের জন্য গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ সেন্টিমিটার বার্ষিক বৃষ্টিপাত আদর্শ। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, যা আমন ও আউশ ধান চাষের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। এছাড়া বাতাসে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ধানের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
৩. মৃত্তিকা (Soil): উর্বর পলিমাটি, দোআঁশ ও এঁটেল মাটি ধান চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এঁটেল মাটি জল ধরে রাখতে পারে বলে ধান চাষের পক্ষে তা শ্রেষ্ঠ। পশ্চিমবঙ্গের গাঙ্গেয় সমভূমি, বদ্বীপ অঞ্চল এবং নদী অববাহিকাগুলি উর্বর পলিমাটিতে গঠিত হওয়ায় এখানে ধানের ফলন খুব ভালো হয়।
৪. ভূপ্রকৃতি (Topography): ধানের জমিতে জল দাঁড়িয়ে থাকার সুবিধার জন্য বিস্তীর্ণ ও প্রায়-সমতল জমির প্রয়োজন। পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ স্থান, বিশেষ করে মধ্য ও দক্ষিণাংশ (যেমন- বর্ধমান, হুগলি, মেদিনীপুর) বিস্তীর্ণ সমতলভূমি, যা ধান চাষের জন্য পুরোপুরি উপযুক্ত।
খ) অর্থনৈতিক পরিবেশ (Economic Environment): প্রাকৃতিক সুবিধার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগত পরিবেশও ধান চাষে সাহায্য করে:
১. সুলভ শ্রমিক (Cheap Labor): ধানের বীজতলা তৈরি, চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার এবং ফসল কাটার জন্য প্রচুর কায়িক শ্রমের প্রয়োজন হয়। পশ্চিমবঙ্গ একটি জনবহুল রাজ্য হওয়ায় এখানে খুব সহজেই সুলভ ও দক্ষ শ্রমিক পাওয়া যায়।
২. জলসেচ ব্যবস্থা (Irrigation): বর্ষাকাল ছাড়াও বোরো ধান চাষের জন্য বা বৃষ্টির অভাবে সেচের প্রয়োজন হয়। ডিভিসি (DVC), কংসাবতী, ময়ূরাক্ষী প্রভৃতি সেচপ্রকল্প এবং গভীর ও অগভীর নলকূপের সাহায্যে পশ্চিমবঙ্গে জলসেচের উন্নত ব্যবস্থা রয়েছে।
৩. উন্নত প্রযুক্তি ও মূলধন (Technology & Capital): উচ্চফলনশীল বীজ (যেমন- রত্না, জয়া, আই.আর-৮), রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সরকারি সহায়তায় কৃষকদের সুলভে ঋণ প্রদান রাজ্যের ধান উৎপাদনকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
উপসংহার: উপরিউক্ত অনুকূল প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশের সমন্বয়েই পশ্চিমবঙ্গ ভারতের “ধানের গোলা” হয়ে উঠেছে এবং সামগ্রিক উৎপাদনে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। (পূর্ব বর্ধমান জেলাকে পশ্চিমবঙ্গের ধানের গোলা বলা হয়)।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আজকের এই পোস্টে তোমাদের সাথে নবম শ্রেণির ভূগোলের অষ্টম অধ্যায় ‘পশ্চিমবঙ্গ’ থেকে বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর শেয়ার করা হল। তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতি এর ক্ষেত্রে এগুলি সহায়তা করবে, প্রয়োজনে সংগ্রহ করে রাখবে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী অন্যান্য সমস্ত বিষয়ের নোট (Class IX All Notes) |
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম Study গ্রুপে যুক্ত হোন -


