নবম শ্রেণির (Class 9) ভূগোলের সপ্তম অধ্যায় ‘ভারতের সম্পদ’ (Resources of India)-এর মধ্যে সম্পদের ধারণা, খনিজ সম্পদ (যেমন— আকরিক লোহা, কয়লা, খনিজ তেল, তামা, বক্সাইট) এবং শক্তি সম্পদ (প্রচলিত ও অপ্রচলিত শক্তি) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই অধ্যায় থেকে বাছাই করা কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথার উত্তর (One Liner) এবং বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচে দেওয়া হলো।
নবম শ্রেণী ভূগোল ‘ভারতের সম্পদ’ (সপ্তম অধ্যায়) প্রশ্ন উত্তর
আজকের পোস্টে তোমাদের সাথে যেসব বাছাই করা প্রশ্ন উত্তর শেয়ার করা হচ্ছে, যেগুলো তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ ভাবে সহায়ক হবে।
নবম শ্রেণী ভূগোল ‘ভারতের সম্পদ’ (সপ্তম অধ্যায়) MCQ প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 7 Question Answer
১) ভারতের জাতীয় বিদ্যুৎসংস্থা NTPC স্থাপিত হয়—
(ক) ১৯৭৮ সালে
(খ) ২০০৫ সালে
(গ) ১৯৭২ সালে
(ঘ) ১৯৭৫ সালে
উত্তর: (ঘ) ১৯৭৫ সালে
২) ভারতের বৃহত্তম লিগনাইট খনি—
(ক) উমারিয়া
(খ) নেভেলি
(গ) কোরবা
(ঘ) সিঙ্গারেনি
উত্তর: (খ) নেভেলি
৩) লোহার সবচেয়ে উন্নতমানের আকরিক—
(ক) হেমাটাইট
(খ) সিডেরাইট
(গ) ম্যাগনেটাইট
(ঘ) লিমোনাইট
উত্তর: (গ) ম্যাগনেটাইট
৪) ভারতের প্রাচীনতম তৈলখনি—
(ক) ডিগবয়
(খ) বোম্বে-হাই
(গ) নাহারকাটিয়া
(ঘ) আঙ্কলেশ্বর
উত্তর: (ক) ডিগবয়
৫) ভারতের বৃহত্তম কয়লাখনি—
(ক) রানিগঞ্জ
(খ) ঝরিয়া
(গ) তালচের
(ঘ) কোরবা
উত্তর: (খ) ঝরিয়া
৬) অফুরন্ত সম্পদের অন্তর্গত—
(ক) সূর্যকিরণ
(খ) খনিজ তেল
(গ) প্রাকৃতিক গ্যাস
(ঘ) কয়লা
উত্তর: (ক) সূর্যকিরণ
৭) সম্পদের প্রকৃত জননী—
(ক) প্রকৃতি
(খ) মানুষ
(গ) মানুষের জ্ঞান
(ঘ) পৌনঃপুনিকতা
উত্তর: (গ) মানুষের জ্ঞান
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী ভূগোল সপ্তম অধ্যায় শুদ্ধ ও অশুদ্ধ প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 7 True False Question Answer
১) পশ্চিমবঙ্গের কোলাঘাট একটি ডিজেলভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
উত্তর: অশুদ্ধ [ ব্যাখ্যা: পশ্চিমবঙ্গের কোলাঘাট একটি কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ]
২) কুমেরু মহাদেশ আন্তর্জাতিক সম্পদের উদাহরণ।
উত্তর: শুদ্ধ [ ব্যাখ্যা: কুমেরু বা আন্টার্কটিকা মহাদেশ কোনো নির্দিষ্ট দেশের মালিকানাধীন নয়, এটি সমগ্র বিশ্ববাসীর কল্যাণের জন্য উন্মুক্ত একটি আন্তর্জাতিক সম্পদ। ]
৩) গ্রিনল্যান্ডের ক্রায়োলাইট অদ্বিতীয় সম্পদ।
উত্তর: শুদ্ধ [ ব্যাখ্যা: ক্রায়োলাইট খনিজটি পৃথিবীর শুধুমাত্র গ্রিনল্যান্ডেই পাওয়া যায়, তাই এটি অদ্বিতীয় সম্পদের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ]
৪) বায়ুশক্তি একপ্রকার প্রচলিত শক্তি উৎস।
উত্তর: অশুদ্ধ [ ব্যাখ্যা: বায়ুশক্তি একটি অপ্রচলিত বা অচিরাচরিত শক্তির উৎস। প্রচলিত শক্তির উৎস হলো কয়লা, খনিজ তেল ইত্যাদি। ]
৫) কয়লার গুণগত মান নির্ভর করে কার্বনের পরিমাণের ওপর।
উত্তর: শুদ্ধ [ব্যাখ্যা: কয়লায় কার্বনের পরিমাণ যত বেশি থাকে, কয়লার দহন ক্ষমতা ও গুণগত মান তত উন্নত হয়।]
৬) ONGC ভারতের খনিজ তেল অনুসন্ধানে নিযুক্ত একটি সংস্থা।
উত্তর: শুদ্ধ [ ব্যাখ্যা: Oil and Natural Gas Corporation (ONGC) হলো ভারতে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের প্রধান সরকারি সংস্থা। ]
৭) ইউরেনিয়াম পারমাণবিক বিদ্যুতের প্রধান উপাদান।
উত্তর: শুদ্ধ [ ব্যাখ্যা: পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রধানত তেজস্ক্রিয় খনিজ ইউরেনিয়াম ও থোরিয়াম ব্যবহৃত হয়। ]
নবম শ্রেণী ভূগোল সপ্তম অধ্যায় শূন্যস্থানপূরণ প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 7 Fill The Blanks Question Answer
১) ব্যবহারে ফুরিয়ে যায় এমন সম্পদকে ________ সম্পদ বলে।
উত্তর: ক্ষয়িষ্ণু বা গচ্ছিত
২) _______ একটি জ্বালানি খনিজ।
উত্তর: কয়লা
৩) ভারতে ________ যুগের কয়লার উত্তোলন বেশি।
উত্তর: গন্ডোয়ানা
৪) ভারতের প্রথম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হয় _______ রাজ্যে।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গ
৫) পশ্চিমবঙ্গের একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নাম _______।
উত্তর: কোলাঘাট
৬) ভারতে ________ শ্রেণির আকরিক লোহা বেশি পাওয়া যায়।
উত্তর: হেমাটাইট
৭) ________ সোলার পার্ক ভারত ও এশিয়ার বৃহত্তম সোলার পার্ক।
উত্তর: ভাদলা
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী ভূগোল ‘ভারতের সম্পদ’ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 7 SAQ Question Answer
১) পশ্চিমবঙ্গের কোথায় ভূ-তাপশক্তি উৎপাদন সম্ভাবনা আছে?
উত্তর: বীরভূম জেলার বক্রেশ্বরে।
২) ‘তরল সোনা‘ কোন্ খনিজকে বলা হয়?
উত্তর: খনিজ তেল বা পেট্রোলিয়ামকে।
৩) ওড়িশার বৃহত্তম কয়লাখনি কোন্টি?
উত্তর: তালচের।
৪) ভারতের প্রথম আণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কোথায় গড়ে ওঠে?
উত্তর: মহারাষ্ট্রের তারাপুরে।
৫) কাকে সম্পদের জনক বলা হয়?
উত্তর: প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ই. ডব্লিউ. জিমারম্যানকে।
৬) ভারতের প্রাচীনতম কয়লাখনি কোন্টি?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের রানিগঞ্জ।
৭) একটি সম্ভাব্য সম্পদের উদাহরণ দাও।
উত্তর: গুজরাট ও রাজস্থানের সৌরশক্তি বা হিমালয়ের ভূগর্ভে সঞ্চিত খনিজ সম্পদ।
নবম শ্রেণী ভূগোল সপ্তম অধ্যায় সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-২) | Class 9 Chapter 7 Geography Short Question Answer
১) সম্পদের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: সম্পদের দুটি বৈশিষ্ট্য হল –
১. উপযোগিতা: মানুষের চাহিদা বা অভাব মেটানোর ক্ষমতাকে সম্পদের উপযোগিতা বলে। যেকোনো বস্তুকে সম্পদ হতে হলে তার উপযোগিতা থাকতে হবে।
২. কার্যকারিতা: বস্তুর নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই, বস্তুর কাজ করার ক্ষমতাই হলো সম্পদ। অর্থাৎ, সম্পদকে মানুষের কাজে লাগার মতো কার্যকর হতে হবে।
২) দুটি প্রধান গচ্ছিত জ্বালানি খনিজের নাম লেখো।
উত্তর: দুটি প্রধান গচ্ছিত জ্বালানি খনিজের নাম হলো কয়লা এবং খনিজ তেল বা পেট্রোলিয়াম।
৩) প্রচলিত শক্তির দুটি অসুবিধা উল্লেখ করো।
উত্তর: প্রচলিত শক্তির দুটি অসুবিধা হল –
১. সীমিত মজুত: প্রচলিত শক্তির উৎসগুলি (কয়লা, খনিজ তেল) গচ্ছিত সম্পদ। এগুলি যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করলে অচিরেই ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২. পরিবেশ দূষণ: এই শক্তির উৎপাদনে এবং ব্যবহারে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়, যা ভয়ানক পরিবেশ দূষণ ও বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটায়।
৪) অপ্রচলিত শক্তি বলতে কী বোঝ?
উত্তর: যেসব শক্তির উৎস প্রকৃতিতে অফুরন্ত, বারবার ব্যবহার করলেও ফুরিয়ে যায় না এবং যাদের ব্যবহারে পরিবেশ দূষণ প্রায় হয় না বললেই চলে, তাদের অপ্রচলিত বা অচিরাচরিত শক্তি বলে। যেমন— সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জোয়ারভাটা শক্তি ইত্যাদি।
৫) কয়লার দুটি উপজাত দ্রব্যের নাম করো।
উত্তর: কয়লার দুটি প্রধান উপজাত দ্রব্য হলো কোল গ্যাস এবং আলকাতরা। (অন্যান্য উপজাত দ্রব্য হলো ন্যাপথালিন, অ্যামোনিয়া, বেঞ্জল)।
৬) সাগর সম্রাট কী?
উত্তর: ‘সাগর সম্রাট’ হলো ভারতের বোম্বে হাই তৈলখনি অঞ্চলে সমুদ্রগর্ভ থেকে খনিজ তেল উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত একটি আধুনিক ভাসমান প্ল্যাটফর্ম বা ড্রিলিং জাহাজ। এটি জাপান থেকে আনা হয়েছিল।
৭) উত্তর-পূর্ব ভারতের তিনটি খনিজ তেল উত্তোলন কেন্দ্রের নাম করো।
উত্তর: উত্তর-পূর্ব ভারতের অসম রাজ্যের তিনটি প্রধান খনিজ তেল উত্তোলন কেন্দ্র হলো ডিগবয়, নাহারকাটিয়া এবং মোরান-হুগরিজান।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী ভূগোল সপ্তম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-৩) | Class 9 Geography Chapter 7 Question Answer
১) সম্পদ সৃষ্টির উপাদান তিনটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তর: সম্পদ সৃষ্টির প্রধান তিনটি উপাদান হলো:
১. প্রকৃতি: প্রকৃতি হলো সম্পদের প্রাথমিক ভাণ্ডার। প্রকৃতি আমাদের জমি, জল, আলো, খনিজ পদার্থ, অরণ্য প্রভৃতি নিরপেক্ষ উপাদান প্রদান করে।
২. মানুষ: মানুষ নিজের শ্রম ও বুদ্ধি দিয়ে প্রকৃতির বস্তুগুলিকে সম্পদে পরিণত করে। তাই মানুষ একই সঙ্গে সম্পদের স্রষ্টা এবং ভোক্তা। মানুষের চাহিদা ছাড়া কোনো বস্তু সম্পদে পরিণত হতে পারে না।
৩. সংস্কৃতি: মানুষের জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তিবিদ্যা ও শিক্ষাই হলো সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতির সাহায্যে মানুষ প্রকৃতির পড়ে থাকা নিরপেক্ষ উপাদানগুলিকে কার্যকর সম্পদে রূপান্তরিত করে।
২) পুনর্ভব ও অপুনর্ভব সম্পদের পার্থক্য করো।
| বিষয় | পুনর্ভব সম্পদ | অপুনর্ভব সম্পদ |
|---|---|---|
| ১. স্থায়িত্ব | বারবার ব্যবহার করলেও নিঃশেষ হয়ে যায় না বা প্রকৃতিতে পুনরায় সৃষ্টি হয় (যেমন—সৌরশক্তি, অরণ্য)। | একবার ব্যবহার করলে চিরতরে নিঃশেষ হয়ে যায় (যেমন—কয়লা, খনিজ তেল)। |
| ২. পরিবেশগত প্রভাব | সাধারণত পরিবেশবান্ধব এবং এদের ব্যবহারে দূষণ কম হয়। | দহনের ফলে মারাত্মক বায়ুদূষণ ও পরিবেশের ক্ষতি হয়। |
| ৩. প্রাপ্তিস্থান | পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র এবং অফুরন্ত পরিমাণে পাওয়া যায়। | মজুত সীমিত এবং কেবল নির্দিষ্ট কিছু ভৌগোলিক অঞ্চলে পাওয়া যায়। |
৩) উপাদান অনুসারে সম্পদের শ্রেণিবিভাগ করো এবং এদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর: উপাদান বা সৃষ্টির উপাদান অনুসারে সম্পদকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:
১. প্রাকৃতিক সম্পদ: প্রকৃতি থেকে সরাসরি প্রাপ্ত যেসব উপাদান মানুষের কাজে লাগে, তাকে প্রাকৃতিক সম্পদ বলে। যেমন— সূর্যালোক, মাটি, খনিজ পদার্থ, অরণ্য।
২. মানবিক সম্পদ: মানুষের নিজস্ব শ্রম, বুদ্ধি, কর্মদক্ষতা ও স্বাস্থ্য যখন সম্পদ সৃষ্টিতে এবং দেশের উন্নয়নে কাজে লাগে, তখন তাকে মানবিক সম্পদ বলে। যেমন— সুদক্ষ শ্রমিক, শিক্ষকের জ্ঞান, চিকিৎসকের দক্ষতা।
৩. সাংস্কৃতিক সম্পদ: মানুষের অর্জিত জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যা প্রাকৃতিক বস্তুকে ব্যবহারযোগ্য সম্পদে পরিণত করে, তাকে সাংস্কৃতিক সম্পদ বলে। যেমন— প্রযুক্তিবিদ্যা, উন্নত যন্ত্রপাতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
৪) প্রচলিত ও অপ্রচলিত শক্তির পার্থক্য করো।
| বিষয় | প্রচলিত শক্তি | অপ্রচলিত শক্তি |
|---|---|---|
| ১. উৎস | মূলত গচ্ছিত ও ক্ষয়িষ্ণু সম্পদ—কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস। | মূলত প্রবাহমান ও অক্ষয় সম্পদ—সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তি। |
| ২. দূষণ | শক্তি উৎপাদনে ছাই ও বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে তীব্র পরিবেশ দূষণ ঘটায়। | তুলনামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব এবং দূষণ কম ঘটায়। |
| ৩. উৎপাদন ব্যয় | প্রাথমিক খরচ কম হলেও কাঁচামাল পরিবহন ব্যয়সাপেক্ষ। | প্রাথমিক পরিকাঠামো নির্মাণের খরচ বেশি হলেও কাঁচামাল পরিবহনের ব্যয় নেই। |
৫) গন্ডোয়ানা ও টারশিয়ারি যুগের কয়লার পার্থক্য করো।
| বিষয় | গন্ডোয়ানা যুগের কয়লা | টারশিয়ারি যুগের কয়লা |
|---|---|---|
| ১. ভূ-তাত্ত্বিক বয়স | অত্যন্ত প্রাচীন—প্রায় ২৫–৩০ কোটি বছরের পুরোনো। | অপেক্ষাকৃত নবীন—প্রায় ৬ কোটি বছরের পুরোনো। |
| ২. গুণগত মান | উন্নত মানের, প্রধানত বিটুমিনাস শ্রেণির। এতে কার্বনের পরিমাণ বেশি এবং ছাইয়ের পরিমাণ কম। | তুলনামূলকভাবে নিকৃষ্ট মানের, প্রধানত লিগনাইট বা পিট শ্রেণির। এতে কার্বনের পরিমাণ কম এবং জলীয় বাষ্প বেশি। |
| ৩. বণ্টন | ভারতের মোট কয়লা মজুতের প্রায় ৯৮% গন্ডোয়ানা যুগের। মূলত দামোদর উপত্যকা অঞ্চলে পাওয়া যায়। | ভারতের প্রায় ২% কয়লা টারশিয়ারি যুগের। মূলত উত্তর-পূর্ব ভারত ও তামিলনাড়ুতে পাওয়া যায়। |
৬) লৌহ-আকরিক উত্তোলনে ভারতের প্রথম তিনটি রাজ্যের উত্তোলক অঞ্চলের বিবরণ দাও।
উত্তর: ভারতের প্রথম তিনটি লৌহ-আকরিক উত্তোলক রাজ্য হলো:
১. ওড়িশা: এটি ভারতের বৃহত্তম লৌহ-আকরিক উত্তোলক রাজ্য। এখানকার ময়ূরভঞ্জ জেলার গুরুমহিষানি, বাদামপাহাড় এবং সুন্দরগড় ও কেওনঝড় জেলায় প্রচুর উৎকৃষ্ট মানের হেমাটাইট লোহা পাওয়া যায়।
২. ছত্তিশগড়: এই রাজ্যের বস্তার জেলার বৈলাডিলা (এশিয়ার বৃহত্তম যান্ত্রিক খনি) এবং দুর্গ জেলার দাল্লি-রাজহরায় প্রচুর উচ্চমানের লোহা উত্তোলিত হয়, যা ভিলাই ইস্পাত কারখানায় ব্যবহৃত হয়।
৩. কর্ণাটক: এখানকার বেল্লারি-হোসপেট অঞ্চল, চিকমাগালুর জেলার বাবাবুদান পাহাড় এবং কুদ্রেমুখ লৌহ-আকরিক উত্তোলনের জন্য সারা ভারতে বিখ্যাত।
৭) কয়লা উত্তোলনে প্রথম তিনটি রাজ্যের উত্তোলক অঞ্চলের বিবরণ দাও।
উত্তর: ভারতের প্রথম তিনটি কয়লা উত্তোলক রাজ্য হলো:
১. ঝাড়খণ্ড: এটি ভারতের অন্যতম প্রধান কয়লা উৎপাদক। এখানকার ঝরিয়া (ভারতের বৃহত্তম কয়লাখনি), বোকারো, গিরিডি, করণপুরা এবং ডালটনগঞ্জ ভারতের প্রধান কয়লা উত্তোলক কেন্দ্র।
২. ছত্তিশগড়: উৎপাদনে প্রথম সারিতে থাকা এই রাজ্যের কোরবা, চিরিমিরি, বিসরামপুর এবং ঝিলিমিলি থেকে প্রচুর উন্নতমানের কয়লা উত্তোলিত হয়।
৩. ওড়িশা: ওড়িশার তালচের, ইব নদী উপত্যকা এবং রামপুর-হিমগির ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কয়লা উত্তোলক অঞ্চল। তালচেরের কয়লাস্তর অত্যন্ত পুরু।
৮) আকরিক লোহার শ্রেণিবিভাগগুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তর: লোহার পরিমাণ ও গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে আকরিক লোহাকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. ম্যাগনেটাইট (কালো লোহা): এটি সর্বোৎকৃষ্ট আকরিক। এতে লোহার পরিমাণ প্রায় ৭২%। এর রং কালো এবং এটি অত্যন্ত শক্তিশালী চৌম্বক ধর্মযুক্ত।
২. হেমাটাইট (লাল লোহা): এটি দ্বিতীয় উৎকৃষ্ট মানের আকরিক। এতে লোহার পরিমাণ ৬০-৭০%। এর রং লালচে বাদামি। ভারতে এই আকরিক সবচেয়ে বেশি উত্তোলিত হয়।
৩. লিমোনাইট (বাদামি লোহা): এটি মাঝারি মানের আকরিক, এতে লোহার পরিমাণ ৪০-৬০%। এটি হলুদ বা বাদামি রঙের হয়।
৪. সিডেরাইট (ধূসর লোহা): এটি নিকৃষ্টতম আকরিক। এতে লোহার পরিমাণ ৪০%-এর কম থাকে। এর রং ধূসর বা ছাই রঙের।
৯) শক্তি উত্তোলনের প্রচলিত উৎসের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি লেখো।
উত্তর: শক্তি উত্তোলনের প্রচলিত উৎসের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি নিচে আলোচনা করা হল –
সুবিধা: ১. প্রচলিত শক্তির (কয়লা, খনিজ তেল) সাহায্যে খুব সহজেই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা সম্ভব, যা বড়ো বড়ো শিল্পকারখানা চালাতে অপরিহার্য।
২. এর প্রযুক্তি বহু প্রাচীন এবং সহজলভ্য হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ ও সস্তা।
অসুবিধা: ১. এই শক্তির উৎসগুলি অপুনর্ভব বা গচ্ছিত সম্পদ, যার ভাণ্ডার সীমিত। ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে অদূর ভবিষ্যতে এগুলি চিরতরে নিঃশেষ হয়ে যাবে।
২. এই জ্বালানিগুলির দহনে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাইঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড প্রভৃতি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়ে মারাত্মক মাত্রায় বায়ু দূষণ ও বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটায়।
১০) শক্তি উত্তোলনে অপ্রচলিত উৎসের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি লেখো।
উত্তর: শক্তি উত্তোলনে অপ্রচলিত উৎসের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি হল –
সুবিধা: ১. অপ্রচলিত শক্তির উৎসগুলি (যেমন- সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি) প্রকৃতিতে অফুরন্ত এবং বারবার ব্যবহারযোগ্য। তাই এগুলি ফুরিয়ে যাওয়ার কোনো ভয় নেই।
২. এই শক্তি উৎপাদন সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। এর সাহায্যে কোনো ছাই বা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয় না, ফলে পরিবেশ দূষণ ঘটে না।
অসুবিধা: ১. এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রাথমিক খরচ এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির (যেমন- সোলার প্যানেল) দাম অত্যন্ত বেশি।
২. এটি সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। মেঘলা দিনে সৌরবিদ্যুৎ বা উপযুক্ত গতিবেগে বাতাস না থাকলে বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী ভূগোল সপ্তম অধ্যায় দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-৫) | Class 9 Geography Chapter 7 Long Question Answer
১) উদাহরণসহ উপাদান অনুসারে সম্পদের শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: সৃষ্টি বা উপাদান অনুসারে সম্পদকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. প্রাকৃতিক সম্পদ: প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত যেসব নিরপেক্ষ উপাদান মানুষের অভাব মোচনে কাজে লাগে, তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ বলে। প্রকৃতির এই দান ছাড়া মানুষ পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে পারত না।
উদাহরণ: সূর্যালোক, বাতাস, জল, উর্বর মৃত্তিকা, খনিজ পদার্থ (কয়লা, লোহা), স্বাভাবিক উদ্ভিদ এবং বন্যপ্রাণী হলো প্রাকৃতিক সম্পদের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
২. মানবিক সম্পদ: মানুষের শ্রম, শিক্ষা, কর্মদক্ষতা, স্বাস্থ্য ও উদ্ভাবনী শক্তি যখন সম্পদ সৃষ্টিতে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজে লাগে, তখন তাকে মানবিক সম্পদ বলে। শুধুমাত্র জনসংখ্যা থাকলেই হয় না, সেই জনসংখ্যাকে গুণগত দিক থেকে দক্ষ হতে হয়।
উদাহরণ: একজন সুদক্ষ কারিগরের শ্রম, একজন চিকিৎসকের রোগ নির্ণয়ের ক্ষমতা, একজন শিক্ষকের জ্ঞান বা একজন বিজ্ঞানীর উদ্ভাবনী ক্ষমতা হলো মানবিক সম্পদ।
৩. সাংস্কৃতিক সম্পদ: মানুষের অর্জিত জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ও সংস্কৃতির যে বিকাশ প্রাকৃতিক উপাদানগুলিকে ব্যবহারযোগ্য সম্পদে রূপান্তরিত করে, তাকে সাংস্কৃতিক সম্পদ বলে। জিমারম্যানের মতে, মানুষের জ্ঞানই হলো সকল সম্পদের প্রকৃত জননী।
উদাহরণ: উন্নত প্রযুক্তিবিদ্যা, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্নত রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিকাঠামো হলো সাংস্কৃতিক সম্পদ।
২) কয়লা উৎপাদনে অগ্রণী ২ টি রাজ্যের উত্তোলক অঞ্চলের বিবরণ দাও।
উত্তর: ভারতে কয়লা উৎপাদনে অগ্রণী প্রথম দুটি রাজ্য হলো ঝাড়খণ্ড এবং ছত্তিশগড়।
১. ঝাড়খণ্ড: সঞ্চয় ও উৎপাদনের নিরিখে ঝাড়খণ্ড ভারতের একটি প্রথম সারির কয়লা উৎপাদক রাজ্য। দামোদর উপত্যকায় অবস্থিত এই রাজ্যের অধিকাংশ কয়লাই উন্নত মানের বিটুমিনাস শ্রেণির।
প্রধান উত্তোলক অঞ্চল: এখানকার ঝরিয়া হলো ভারতের বৃহত্তম কয়লাখনি এবং উৎকৃষ্ট কোক কয়লা উৎপাদনে শ্রেষ্ঠ। এছাড়া বোকারো, গিরিডি, উত্তর ও দক্ষিণ করণপুরা, রামগড় এবং ডালটনগঞ্জ এই রাজ্যের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কয়লা উত্তোলক কেন্দ্র। এখানকার কয়লা মূলত দুর্গাপুর, বানপুর ও জামশেদপুরের লৌহ-ইস্পাত শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
২. ছত্তিশগড়: উৎপাদনে বর্তমানে ছত্তিশগড়ও ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে। এখানকার কয়লাস্তরগুলি যথেষ্ট পুরু এবং ভূ-পৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকায় সহজেই উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হয়।
প্রধান উত্তোলক অঞ্চল: এই রাজ্যের কোরবা, চিরিমিরি, বিসরামপুর, ঝিলিমিলি, সোনহাট এবং হাসদো-অরণ্য থেকে প্রচুর কয়লা উত্তোলিত হয়। কোরবার কয়লা স্থানীয় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ভিলাই ইস্পাত কারখানায় প্রধানত সরবরাহ করা হয়।
৩) জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুকূল পরিবেশ সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর: নদীর জলস্রোতকে কাজে লাগিয়ে টারবাইনের সাহায্যে যে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, তাকে জলবিদ্যুৎ বলে। জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নিম্নলিখিত প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশের প্রয়োজন:
প্রাকৃতিক পরিবেশ:
১. খরস্রোতা নদী: জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক শর্ত হলো নদীর প্রবল জলস্রোত। পাহাড়ি অঞ্চলে নদীর ঢাল খুব খাড়া হওয়ায় নদী খরস্রোতা হয়, যা টারবাইনের চাকা ঘোরাতে সাহায্য করে।
২. চিরপ্রবাহী নদী: সারাবছর নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নদীতে সারাবছর প্রচুর জল থাকা প্রয়োজন। তাই বরফগলা জলে পুষ্ট বা প্রচুর বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলের নদী জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পক্ষে সবচেয়ে উপযোগী।
৩. নদীর বিন্যাস: পাহাড়ি নদীর গতিপথে প্রাকৃতিক জলপ্রপাত থাকলে সেখান থেকে সহজেই জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় (যেমন— কাবেরী নদীর শিবসমুদ্রম জলপ্রপাত)।
অর্থনৈতিক পরিবেশ:
১. মূলধন ও প্রযুক্তি: জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, বড়ো বাঁধ নির্মাণ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি বসানোর জন্য প্রচুর মূলধন এবং উন্নত প্রযুক্তিবিদ্যার প্রয়োজন।
২. চাহিদা ও বাজার: উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঞ্চয় করে রাখা যায় না। তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছাকাছি শিল্পাঞ্চল, শহর ও পরিবহন ব্যবস্থা থাকা দরকার, যেখানে বিদ্যুতের বিপুল চাহিদা রয়েছে।
৪) সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তির বিভিন্ন ব্যবহার সম্পর্কে বিবরণ দাও।
উত্তর: বর্তমানে দূষণমুক্ত অপ্রচলিত শক্তি হিসেবে সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তির ব্যবহার সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সৌরশক্তির ব্যবহার: ১. বিদ্যুৎ উৎপাদন: সোলার প্যানেল বা ফটোভোলটাইক কোষের সাহায্যে সূর্যের আলোকে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তরিত করে গৃহস্থালির কাজ, স্ট্রিট লাইট জ্বালানো এবং ছোটো কারখানায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
২. তাপ উৎপাদন: সোলার কুকারের সাহায্যে বিনা খরচে রান্না করা হয়। সোলার ওয়াটার হিটারের সাহায্যে জল গরম করা এবং শীতপ্রধান দেশে ঘর গরম রাখার কাজে সৌরশক্তি ব্যবহৃত হয়।
৩. কৃষিকাজ: সোলার পাম্পের সাহায্যে মাটির নীচ থেকে জল তুলে জমিতে সেচকার্য করা হচ্ছে।
বায়ুশক্তির ব্যবহার:
১. বিদ্যুৎ উৎপাদন: বায়ুকল বা উইন্ডমিলের বিশাল টারবাইন বাতাসের শক্তিতে ঘুরিয়ে যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। গুজরাট ও তামিলনাড়ুতে এর সাহায্যে প্রচুর বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে।
২. জল তোলা: অনেক স্থানে বায়ুকলকে সরাসরি পাম্পের সাথে যুক্ত করে মাটির তলা থেকে পানীয় জল এবং সেচের জল তোলা হয়।
৩. কৃষিজ দ্রব্য মাড়াই: প্রাচীনকাল থেকেই বায়ুকলের সাহায্যে শস্য ভাঙানো এবং কাঠ চেরাই করার কাজ করা হয়ে থাকে।
৫) সম্পদ সৃষ্টিতে প্রকৃতি ও মানুষের ভূমিকা লেখো।
উত্তর: সম্পদ সৃষ্টিতে প্রকৃতি এবং মানুষ— উভয়েরই ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একে অপরের পরিপূরক।
প্রকৃতির ভূমিকা: প্রকৃতি হলো যেকোনো সম্পদের আদি বা প্রাথমিক ভাণ্ডার। প্রকৃতি যদি আমাদের কাঁচামাল প্রদান না করত, তবে মানুষের পক্ষে কোনো সম্পদই সৃষ্টি করা সম্ভব হতো না। মাটি, জল, সূর্যকিরণ, খনিজ পদার্থ, অরণ্য— এই সমস্ত কিছুই প্রকৃতির দান। মানুষ কখনোই খনিজ তেল বা লোহা নিজের হাতে তৈরি করতে পারে না, প্রকৃতিই লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এগুলি নিজের গর্ভে সঞ্চয় করে রেখেছে। তাই প্রকৃতি হলো সম্পদ সৃষ্টির মূল ভিত্তি বা আধার।
মানুষের ভূমিকা: প্রকৃতির বুকে পড়ে থাকা বস্তুগুলির নিজস্ব কোনো কার্যকারিতা নেই। মানুষের জ্ঞান, শ্রম ও চাহিদাই সেই নিরপেক্ষ উপাদানগুলিকে কার্যকর সম্পদে পরিণত করে। খনিজ তেল বা কয়লা মাটির নীচেই পড়ে থাকত, যদি না মানুষ তার প্রযুক্তি দিয়ে তা উত্তোলন করত এবং ব্যবহার করতে শিখত। মানুষের চাহিদা মেটায় বলেই তা সম্পদে পরিণত হয়েছে। তাই মানুষ একদিকে নিজের শ্রম ও বুদ্ধির সাহায্যে সম্পদের ‘স্রষ্টা’ এবং অন্যদিকে নিজের প্রয়োজন মেটানোর জন্য সম্পদের ‘ভোক্তা’। জিমারম্যানের মতে, প্রকৃতি, মানুষ এবং সংস্কৃতির সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই সম্পদের সৃষ্টি হয়।
৬) পারমাণবিক শক্তির সুবিধা ও অসুবিধাগুলির উল্লেখ করো।
উত্তর: ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম প্রভৃতি তেজস্ক্রিয় খনিজ পদার্থকে বিভাজন করে যে বিপুল শক্তি পাওয়া যায়, তাকে পারমাণবিক শক্তি বলে।
সুবিধা:
১. সামান্য পরিমাণ তেজস্ক্রিয় খনিজ থেকে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। ১ কেজি ইউরেনিয়াম থেকে প্রাপ্ত শক্তি প্রায় ৩০ লক্ষ কেজি কয়লা পোড়ানোর সমান।
২. এর কাঁচামালের পরিমাণ ও ওজন অত্যন্ত কম হওয়ায় পরিবহন খরচ প্রায় নেই বললেই চলে। তাই যেকোনো সুবিধাজনক স্থানে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা যায়।
৩. আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে এই বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে কয়লা বা খনিজ তেলের মতো গ্রিনহাউস গ্যাস বা ধোঁয়া নির্গত হয় না।
অসুবিধা:
১. পারমাণবিক চুল্লিতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে (যেমন- চেরনোবিল বা ফুকুশিমা) মারাত্মক তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ঘটে, যা হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ও দীর্ঘস্থায়ী জিনগত ত্রুটি সৃষ্টি করে।
২. পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য পদার্থগুলি অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় হয়। এগুলিকে নিরাপদে নিষ্কাশন করা বা মাটির নীচে পুঁতে রাখা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।
৩. এই কেন্দ্র স্থাপন করতে প্রচুর পুঁজি এবং অতি উন্নত ও সুরক্ষিত প্রযুক্তির প্রয়োজন, যা অনুন্নত দেশগুলির পক্ষে সম্ভব নয়।
৭) প্রচলিত ও অপ্রচলিত শক্তির বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
প্রচলিত শক্তির বৈশিষ্ট্য:
১. গচ্ছিত সম্পদ: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো প্রচলিত শক্তির উৎসগুলি গচ্ছিত প্রকৃতির। এদের মজুত সীমিত এবং দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।
২. দূষণকারী: এই শক্তির উৎসগুলির দহনে প্রচুর ছাই, ধোঁয়া এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত হয়, যা চরম পরিবেশ দূষণ ও বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটায়।
৩. ব্যাপক ব্যবহার: বাণিজ্যিকভাবে এবং শিল্পক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান ভরসা হলো প্রচলিত শক্তি, কারণ এর উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজলভ্য ও নিরবচ্ছিন্ন।
অপ্রচলিত শক্তির বৈশিষ্ট্য:
১. প্রবাহমান সম্পদ: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জোয়ারভাটা শক্তির মতো অপ্রচলিত শক্তির উৎসগুলি প্রকৃতিতে অফুরন্ত এবং বারবার ব্যবহার করলেও ফুরিয়ে যায় না।
২. দূষণমুক্ত: এই শক্তি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। এর উৎপাদনে কোনো ক্ষতিকারক ধোঁয়া বা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয় না, ফলে পরিবেশ সুরক্ষিত থাকে।
৩. প্রকৃতি-নির্ভর: এই শক্তির উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে প্রাকৃতিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল। যেমন— মেঘলা দিনে বা রাতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ থাকে এবং বাতাস না থাকলে বায়ুবিদ্যুৎ তৈরি হয় না।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
৮. স্থায়িত্বের বিচারে সম্পদকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়? এই বিভাগগুলি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: স্থায়িত্ব বা ক্ষয়িষ্ণুতার বিচারে সম্পদকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়: গচ্ছিত সম্পদ এবং প্রবাহমান সম্পদ।
১. গচ্ছিত বা ক্ষয়িষ্ণু সম্পদ (Non-renewable Resources): প্রকৃতিতে যেসব সম্পদের মজুত সীমিত এবং ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে যা একদিন সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যাবে এবং যাদের আর নতুন করে সৃষ্টি করা সম্ভব নয়, তাদের গচ্ছিত সম্পদ বলে।
বৈশিষ্ট্য: এই সম্পদগুলি তৈরি হতে পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ বছর সময় লেগেছে। এদের ব্যবহার যত বাড়বে, ভাণ্ডার তত কমবে।
উদাহরণ: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং লোহা, তামা প্রভৃতি সমস্ত খনিজ পদার্থ গচ্ছিত সম্পদের অন্তর্গত।
২. প্রবাহমান বা অফুরন্ত সম্পদ (Renewable Resources): প্রকৃতিতে যেসব সম্পদের ভাণ্ডার অফুরন্ত এবং বারবার ব্যবহার করলেও যে সম্পদ কখনোই ফুরিয়ে যায় না বা প্রাকৃতিক উপায়ে পুনরায় পূরণ হয়ে যায়, তাদের প্রবাহমান বা পুনর্ভব সম্পদ বলে।
বৈশিষ্ট্য: এই সম্পদগুলি চিরস্থায়ী এবং এদের ব্যবহারের ফলে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় না।
উদাহরণ: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, নদীর জলস্রোত, জোয়ারভাটা শক্তি এবং সমুদ্রের ঢেউ প্রবাহমান সম্পদের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
৯) ‘কেন গচ্ছিত সম্পদগুলি সংরক্ষণ প্রয়োজন’ — যুক্তিসহ বোঝাও।
উত্তর: কয়লা, খনিজ তেল বা আকরিক লোহার মতো গচ্ছিত সম্পদগুলি মানব সভ্যতার মেরুদণ্ড হলেও এদের দ্রুত সংরক্ষণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এর প্রধান যুক্তিগুলি হলো:
১. সীমিত মজুত: গচ্ছিত সম্পদগুলি প্রকৃতিতে তৈরি হতে কোটি কোটি বছর সময় লেগেছে। বর্তমান ব্যবহারের তুলনায় এদের মজুত অত্যন্ত সীমিত। যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই এগুলি চিরতরে নিঃশেষ হয়ে যাবে।
২. ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য: সম্পদ কেবল বর্তমান প্রজন্মের ভোগ করার জন্য নয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে তাদের জীবনযাত্রা ও উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ পায়, তা সুনিশ্চিত করতে বর্তমান অপচয় রোধ ও সংরক্ষণ জরুরি।
৩. পরিবেশ দূষণ হ্রাস: গচ্ছিত জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, পেট্রোলিয়াম) যথেচ্ছভাবে পোড়ানোর ফলে বিশ্বজুড়ে মারাত্মক বায়ু দূষণ এবং বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) ঘটছে। এদের ব্যবহার কমিয়ে সংরক্ষণ করলে পরিবেশ দূষণের মাত্রাও অনেক কমে যাবে।
৪. টেকসই উন্নয়ন (Sustainable Development): বর্তমান অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য সম্পদের পরিমিত ব্যবহার ও সংরক্ষণ ছাড়া কোনো বিকল্প পথ নেই।
১০) আকরিক লোহার গুরুত্ব কী? এর তিনটি উল্লেখযোগ্য ব্যবহার উল্লেখ করো।
আকরিক লোহার গুরুত্ব: আকরিক লোহাকে আধুনিক মানব সভ্যতার মেরুদণ্ড বলা হয়। কৃষিকাজের সামান্য যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে বিশাল শিল্পকারখানা, আকাশচুম্বী অট্টালিকা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি পদে লোহার গুরুত্ব অপরিসীম। লোহা ছাড়া বর্তমান আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতা সম্পূর্ণ অচল। অন্যান্য ধাতুর তুলনায় এটি সস্তা, মজবুত এবং সহজলভ্য হওয়ায় শিল্পবিপ্লবের পর থেকে এর গুরুত্ব সর্বাধিক বৃদ্ধি পেয়েছে।
লৌহ আকরিকের উল্লেখযোগ্য ব্যবহার:
১. যন্ত্রপাতি নির্মাণ: কলকারখানার বিশাল যন্ত্রপাতি, কৃষিকাজের ট্রাক্টর, লাঙল এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারের সমস্ত যন্ত্রপাতি ও হাতিয়ার লোহা ও ইস্পাত দিয়েই তৈরি হয়।
২. পরিবহন ব্যবস্থা: রেলপথ, রেলগাড়ি, জাহাজ, মোটরগাড়ি, বাস এবং বিমানের কাঠামো নির্মাণে লোহা একটি অপরিহার্য উপাদান।
৩. নির্মাণকার্য: আধুনিক বহুতল বাড়ি, বড়ো বড়ো সেতু, বাঁধ এবং রাস্তাঘাট নির্মাণের প্রধান কাঠামোটি রড বা ইস্পাতের মাধ্যমেই তৈরি হয়।
১১) কয়লা কেন গুরুত্বপূর্ণ? কয়লাকে কোন্ ক্ষেত্রে কীভাবে ব্যবহার করা হয়?
কয়লার গুরুত্ব: কয়লাকে ‘কালো হিরে’ (Black Diamond) বলা হয়। কারণ, হিরের মতো কয়লাও কার্বনের একটি রূপভেদ এবং আধুনিক শিল্প সভ্যতায় কয়লার অর্থনৈতিক গুরুত্ব হিরের চেয়েও অনেক বেশি। শিল্পবিপ্লবের সময় থেকে আধুনিক কাল পর্যন্ত তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ভারী শিল্পে প্রধান জ্বালানি হিসেবে কয়লা অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করে চলেছে।
কয়লার ব্যবহার:
১. তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন: কয়লার সবচেয়ে বড়ো ব্যবহার হলো তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। কয়লা পুড়িয়ে যে প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন হয়, তার সাহায্যে জলকে বাষ্পে পরিণত করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
২. লৌহ-ইস্পাত শিল্পে: আকরিক লোহাকে গলানোর জন্য এবং কার্বন যুক্ত করে ইস্পাত তৈরির কাজে ব্লাস্ট ফার্নেসে প্রচুর পরিমাণে কোক কয়লা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৩. রাসায়নিক শিল্পে: কয়লা থেকে প্রাপ্ত উপজাত দ্রব্যগুলি (যেমন— কোল গ্যাস, আলকাতরা, ন্যাপথালিন, অ্যামোনিয়া, বেঞ্জল) থেকে নানা ধরনের সুগন্ধি, ওষুধ, রং, প্লাস্টিক ও সার তৈরি হয়।
১২) খনিজ তেল গুরুত্বপূর্ণ কেন? খনিজ তেলের তিনটি উল্লেখযোগ্য ব্যবহার লেখো।
খনিজ তেলের গুরুত্ব: খনিজ তেল বা পেট্রোলিয়ামকে তার বহুমুখী ব্যবহার এবং বিপুল অর্থনৈতিক মূল্যের জন্য ‘তরল সোনা’ (Liquid Gold) বলা হয়। আধুনিক যুগের পরিবহন ব্যবস্থা এবং পেট্রোরসায়ন শিল্প সম্পূর্ণভাবে খনিজ তেলের ওপর নির্ভরশীল। যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি নির্ধারিত হয় সেই দেশের খনিজ তেলের মজুত ও ব্যবহারের ওপর।
উল্লেখযোগ্য ব্যবহার:
১. পরিবহন জ্বালানি: খনিজ তেল পরিশোধনের মাধ্যমে প্রাপ্ত পেট্রোল, ডিজেল এবং এভিয়েশন ফুয়েল সারা বিশ্বের সমস্ত মোটরগাড়ি, ট্রেন, জাহাজ এবং এরোপ্লেন চালানোর প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
২. পেট্রোরসায়ন শিল্প: খনিজ তেলের উপজাত দ্রব্য (ন্যাপথা) ব্যবহার করে পেট্রোরসায়ন শিল্পে কৃত্রিম রবার, প্লাস্টিক, পলিথিন, কৃত্রিম তন্তু, রাসায়নিক সার, রং ও কীটনাশক তৈরি করা হয়।
৩. পিচ্ছিলকারক পদার্থ: কলকারখানার যন্ত্রপাতি সচল ও মসৃণ রাখার জন্য ব্যবহৃত লুব্রিক্যান্ট অয়েল, গ্রিজ, প্যারাফিন মোম প্রভৃতি খনিজ তেল পরিশোধন করেই পাওয়া যায়।
১৩) কীভাবে জলবিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা হয়? দক্ষিণ ভারতে কোথায় কোথায় এই শক্তি গড়ে উঠেছে?
জলবিদ্যুৎ উৎপাদন পদ্ধতি: পাহাড়ি খরস্রোতা নদীতে আড়াআড়িভাবে বিশাল কংক্রিটের বাঁধ (Dam) দিয়ে নদীর জলকে একটি জলাধারে আটকে রাখা হয়। এরপর সেই আটকে রাখা বিপুল জলরাশিকে প্রবল বেগে পেনস্টক বা বড়ো পাইপের মাধ্যমে নীচে ফেলা হয়। জলের এই প্রবল ধাক্কায় নীচে বসানো টারবাইনের চাকা দ্রুতগতিতে ঘুরতে থাকে। টারবাইনের সাথে যুক্ত জেনারেটর এই ঘূর্ণন বা যান্ত্রিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
দক্ষিণ ভারতে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র: দক্ষিণ ভারতের নদীগুলি খরস্রোতা এবং পাহাড়ি হওয়ায় সেখানে প্রচুর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রগুলি হলো:
১. কর্ণাটক: শিবসমুদ্রম (কাবেরী নদী), শরাবতী এবং যোগ।
২. তামিলনাড়ু: মেট্টুর এবং পাইকারা।
৩. কেরালা: ইদুক্কি এবং শবরীগিরি।
৪. অন্ধ্রপ্রদেশ: নাগার্জুনসাগর এবং শ্রীশৈলম।
১৪) ভারতে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং ভূতাপশক্তির সম্ভাবনা বিষয়ে আলোকপাত করো।
উত্তর: জীবাশ্ম জ্বালানির দ্রুত অবলুপ্তির কারণে ভারতে অপ্রচলিত শক্তির সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল:
১. সৌরশক্তি: ভারত একটি ক্রান্তীয় দেশ হওয়ায় বছরে প্রায় ৩০০ দিন প্রখর সূর্যালোক পায়। বিশেষত রাজস্থান, গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে রাজস্থানের ভাদলা পার্ক এশিয়ার বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
২. বায়ুশক্তি: ভারতের প্রায় ৭,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং রাজস্থানের মরু অঞ্চলে বাধাহীন প্রবল বায়ুপ্রবাহ দেখা যায়। গুজরাটের লাম্বা, ওখা এবং তামিলনাড়ুর মুপপান্ডাল অঞ্চলে বায়ুকল বসিয়ে বিপুল পরিমাণ বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা প্রচুর।
৩. ভূতাপশক্তি: পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগের উত্তাপকে কাজে লাগিয়ে ভূতাপশক্তি উৎপাদন করা যায়। ভারতের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল, হিমাচল প্রদেশের মণিকরণ, লাদাখের পুগা উপত্যকা, পশ্চিমবঙ্গের বক্রেশ্বর এবং মধ্যপ্রদেশের তত্তাপানিতে উষ্ণ প্রস্রবণ থাকায় ভূতাপশক্তি উৎপাদনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আজকের এই পোস্টে তোমাদের সাথে নবম শ্রেণির ভূগোলের সপ্তম অধ্যায় ‘ভারতের সম্পদ’ থেকে বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর শেয়ার করা হল। তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতি এর ক্ষেত্রে এগুলি সহায়তা করবে, প্রয়োজনে সংগ্রহ করে রাখবে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী অন্যান্য সমস্ত বিষয়ের নোট (Class IX All Notes) |
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম Study গ্রুপে যুক্ত হোন -


