নবম শ্রেণির (Class 9) ভূগোলের ষষ্ঠ অধ্যায় ‘দুর্যোগ ও বিপর্যয়’ (Hazards and Disasters)-এর মধ্যে দুর্যোগ ও বিপর্যয়ের ধারণা, এদের পার্থক্য, প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট বিপর্যয় (যেমন— ভূমিকম্প, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, ধস, পারমাণবিক দুর্ঘটনা) এবং বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা (Disaster Management) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই অধ্যায় থেকে বাছাই করা কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথার উত্তর (One Liner) এবং বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচে দেওয়া হলো।
নবম শ্রেণী ভূগোল ‘দুর্যোগ ও বিপর্যয়’ (ষষ্ঠ অধ্যায়) প্রশ্ন উত্তর
আজকের পোস্টে তোমাদের সাথে যেসব বাছাই করা প্রশ্ন উত্তর শেয়ার করা হচ্ছে, যেগুলো তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ ভাবে সহায়ক হবে।
নবম শ্রেণী ভূগোল ‘দুর্যোগ ও বিপর্যয়’ (ষষ্ঠ অধ্যায়) MCQ প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 6 Question Answer
১) প্রাকৃতিক কারণে প্রচুর জনসংখ্যা ও সম্পদহানিকে বলে—
(ক) বিপন্নতা
(খ) দুর্যোগ
(গ) বিপর্যয়
(ঘ) পারিবেশিক চাপ
উত্তর: (গ) বিপর্যয়
২) অনেক সময় ধরে বন্যার কারণ ও প্রভাব বাড়তে থাকায় বন্যাকে বলে—
(ক) বিপর্যয়
(খ) দুর্যোগ
(গ) ক্রমপুঞ্জিত দুর্যোগ
(ঘ) বিপন্নতা
উত্তর: (গ) ক্রমপুঞ্জিত দুর্যোগ
৩) খরা হল বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায়—
(ক) ৭৫ শতাংশের কম
(খ) ৫০ শতাংশের কম
(গ) ৬০ শতাংশের কম
(ঘ) ৭০ শতাংশের কম
উত্তর: (ক) ৭৫ শতাংশের কম
৪) স্থলভাগের ঘূর্ণিঝড় হল—
(ক) টাইফুন
(খ) উইলি-উইলি
(গ) টর্নেডো
(ঘ) সাইক্লোন
উত্তর: (গ) টর্নেডো
৫) নিম্নচাপের কারণে সৃষ্টি হওয়া দুর্যোগকে বলে—
(ক) খরা
(খ) ঘূর্ণিঝড়
(গ) বন্যা
(ঘ) ভূমিকম্প
উত্তর: (খ) ঘূর্ণিঝড়
৬) ‘ভূমিকম্পের দেশ‘ বলা হয়—
(ক) সুইডেনকে
(খ) জাপানকে
(গ) অস্ট্রেলিয়াকে
(ঘ) ইন্দোনেশিয়াকে
উত্তর: (খ) জাপানকে
৭) ২০২০ সালের মে মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়টির নাম—
(ক) ফাইলিন
(খ) আয়লা
(গ) হুদহুদ
(ঘ) আমফান
উত্তর: (ঘ) আমফান
৮) সুনামি হল—
(ক) সমুদ্রের বিশাল ঢেউ
(খ) জলোচ্ছ্বাস
(গ) ঘূর্ণিঝড়
(ঘ) ভূমিকম্প
উত্তর: (ক) সমুদ্রের বিশাল ঢেউ
৯) পর্বতের ঢাল বরাবর শিলাস্তর হঠাৎ নেমে আসাকে বলে—
(ক) সুনামি
(খ) ধস
(গ) বন্যা
(ঘ) হিমানী সম্প্রপাত
উত্তর: (খ) ধস
১০) পশ্চিম হিমালয়ে অধিক দেখা যায়—
(ক) খরা
(খ) বন্যা
(গ) হিমানী সম্প্রপাত
(ঘ) ঘূর্ণিঝড়
উত্তর: (গ) হিমানী সম্প্রপাত
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
১১) ‘দ্য হোম অফ ব্লিজার্ড‘ বলা হয়—
(ক) আমেরিকাকে
(খ) কানাডাকে
(গ) গ্রিনল্যান্ডকে
(ঘ) আন্টার্কটিকাকে
উত্তর: (ঘ) আন্টার্কটিকাকে
১২) ভূত্বকে নিঃশব্দে বা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ছাই, ভস্ম, গ্যাস ও ম্যাগমার উদগীরণের কারণ—
(ক) ভূমিকম্প
(খ) অগ্ন্যুৎপাত
(গ) ভূমিধস
(ঘ) হিমানী সম্প্রপাত
উত্তর: (খ) অগ্ন্যুৎপাত
১৩) উত্তরাখণ্ডের বিপর্যয়ের কারণ ছিল—
(ক) হড়পা বান
(খ) দাবানল
(গ) ভূমিকম্প
(ঘ) সুনামি
উত্তর: (ক) হড়পা বান
১৪) দাবানল একটি—
(ক) প্রাকৃতিক দুর্যোগ
(খ) আধা-প্রাকৃতিক দুর্যোগ
(গ) মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ
(ঘ) প্রাকৃতিক বিপর্যয়
উত্তর: (ক) প্রাকৃতিক দুর্যোগ
১৫) পশ্চিমবঙ্গের বন্যাপ্রবণ জেলা—
(ক) দার্জিলিং
(খ) বাঁকুড়া
(গ) পুরুলিয়া
(ঘ) পূর্ব মেদিনীপুর
উত্তর: (ঘ) পূর্ব মেদিনীপুর
১৬) পশ্চিমবঙ্গের ঘূর্ণিঝড়প্রবণ জেলা—
(ক) দক্ষিণ ২৪ পরগণা
(খ) বর্ধমান
(গ) মালদহ
(ঘ) উত্তর দিনাজপুর
উত্তর: (ক) দক্ষিণ ২৪ পরগণা
১৭) পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকম্পপ্রবণ জেলা—
(ক) পুরুলিয়া
(খ) বাঁকুড়া
(গ) দার্জিলিং
(ঘ) মুর্শিদাবাদ
উত্তর: (গ) দার্জিলিং
১৮) পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়া জেলায় ঘটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হল—
(ক) বন্যা
(খ) খরা
(গ) ধস
(ঘ) ভূমিকম্প
উত্তর: (খ) খরা
১৯) পশ্চিমবঙ্গের ধসপ্রবণ জেলা—
(ক) দক্ষিণ-দিনাজপুর
(খ) মালদহ
(গ) দার্জিলিং
(ঘ) দক্ষিণ ২৪ পরগনা
উত্তর: (গ) দার্জিলিং
২০) দুর্যোগ বা বিপর্যয়ের পরোক্ষ প্রভাব হিসাবে দেখা হয়—
(ক) মৃত্যুকে
(খ) সম্পদ ধ্বংসকে
(গ) মানসিক রোগকে
(ঘ) যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়াকে
উত্তর: (গ) মানসিক রোগকে
২১) পশ্চিমবঙ্গে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট পাশ হয়—
(ক) ২০১১ সালে
(খ) ২০০৭ সালে
(গ) ২০০২ সালে
(ঘ) ১৯৯৭ সালে
উত্তর: (খ) ২০০৭ সালে
২২) গুজরাটের ভুজ শহরটি ধ্বংস হয়—
(ক) ধসে
(খ) বন্যায়
(গ) খরায়
(ঘ) ভূমিকম্পে
উত্তর: (ঘ) ভূমিকম্পে
২৩) দুর্যোগ বিপর্যয়ে পর্যবসিত না হওয়ার মূল কারণ—
(ক) সঠিক ত্রাণ বিলি
(খ) ঘর বাড়ি কংক্রিটের হওয়া
(গ) সঠিক পূর্বাভাস
(ঘ) সরকারি উদাসীনতা
উত্তর: (গ) সঠিক পূর্বাভাস
২৪) আধা-প্রাকৃতিক দুর্যোগ হল—
(ক) অপ্রাকৃতিক দুর্যোগ
(খ) প্রাকৃতিক ও মানবিক কারণে ঘটা দুর্যোগ
(গ) মানবিক দুর্যোগ
(ঘ) প্রাকৃতিক দুর্যোগ
উত্তর: (খ) প্রাকৃতিক ও মানবিক কারণে ঘটা দুর্যোগ
২৫) পার্বত্য বা মালভূমি অঞ্চলে হঠাৎ সৃষ্ট বন্যাকে বলে—
(ক) জলোচ্ছ্বাস
(খ) বন্যা
(গ) হড়পা বান
(ঘ) উচ্চভূমি বান
উত্তর: (গ) হড়পা বান
নবম শ্রেণী ভূগোল ষষ্ঠ অধ্যায় শুদ্ধ ও অশুদ্ধ প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 6 True False Question Answer
১) সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগের উদাহরণ।
উত্তর: শুদ্ধ [ ব্যাখ্যা: দাঙ্গা সম্পূর্ণভাবে মানুষের দ্বারা সৃষ্ট একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি, তাই এটি মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ। ]
২) পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার খরাপ্রবণ জেলা।
উত্তর: অশুদ্ধ [ ব্যাখ্যা: আলিপুরদুয়ার উত্তরবঙ্গের একটি জেলা যেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, তাই এটি বন্যাপ্রবণ এলাকা, খরাপ্রবণ নয়। খরাপ্রবণ জেলা হলো পুরুলিয়া বা বাঁকুড়া। ]
৩) কৃষিকাজের জন্য উপজাতি গোষ্ঠীর অরণ্য পোড়ানোকে বলে দাবানল।
উত্তর: অশুদ্ধ [ ব্যাখ্যা: কৃষিকাজের (যেমন ঝুম চাষ) জন্য মানুষের দ্বারা জঙ্গল পোড়ানোকে দাবানল বলা যায় না। দাবানল হলো প্রধানত প্রাকৃতিক কারণে (যেমন গাছে গাছে ঘর্ষণ বা বজ্রপাত) বনে লাগা আগুন। ]
৪) পশ্চিমবঙ্গের বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা জেলাগুলি ধসপ্রবণ।
উত্তর: অশুদ্ধ [ ব্যাখ্যা: বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা জেলাগুলি (যেমন দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর) মূলত ঘূর্ণিঝড় ও বন্যাপ্রবণ। ধসপ্রবণ জেলা হলো উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলের দার্জিলিং ও কালিম্পং। ]
৫) বারবার দুর্যোগ ঘটে এমন অঞ্চলগুলিকে দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল বলে।
উত্তর: শুদ্ধ [ ব্যাখ্যা: যে ভৌগোলিক অঞ্চলে প্রাকৃতিক বা মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ নিয়মিতভাবে আঘাত হানে এবং ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি থাকে, তাকে দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল বলা হয়। ]
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী ভূগোল ষষ্ঠ অধ্যায় শূন্যস্থানপূরণ প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 6 Fill The Blanks Question Answer
১) তীব্রতার মাপকাঠিতে _______ এর মাত্রা ব্যাপক।
উত্তর: বিপর্যয়
২) দুর্যোগ বা বিপর্যয়ের কারণে পরিবেশের অসহনীয় অবস্থাকে বলে ________ ।
উত্তর: পরিবেশিক চাপ
৩) কোনো এলাকায় বারবার খরা হলে তাকে ________ অঞ্চল বলে।
উত্তর: খরা প্রবণ
৪) তুষারপুঞ্জের দ্রুতগতিতে নীচে নেমে আসাকে ________ বলে।
উত্তর: হিমানী সম্প্রপাত
৫) বিপর্যয় ব্যবস্থাপনায় _______ যোগাযোগ রক্ষায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়।
উত্তর: রেল
নবম শ্রেণী ভূগোল ‘দুর্যোগ ও বিপর্যয়’ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 6 SAQ Question Answer
১) পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় মানুষের জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটলে তাকে কী বলা হয়?
উত্তর: দুর্যোগ।
২) কোনো অঞ্চলে যখন স্বাভাবিকের ৭৫ শতাংশের কম বৃষ্টি ঘটে তখন অঞ্চলটিকে কী বলে?
উত্তর: খরাপ্রবণ।
৩) শীতপ্রধান অঞ্চলে সৃষ্ট ঝড়কে কী বলে?
উত্তর: তুষারঝড় বা ব্লিজার্ড।
৪) অরণ্যের অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ কী?
উত্তর: দাবানল।
৫) পশ্চিমবঙ্গে কোন্ দুর্যোগের প্রাধান্য বেশি?
উত্তর: বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড়।
নবম শ্রেণী ভূগোল ষষ্ঠ অধ্যায় সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-২) | Class 9 Chapter 6 Geography Short Question Answer
১) বন্যার দুটি কারণ লেখো।
উত্তর: ১. অতিবৃষ্টি: টানা কয়েকদিন ধরে প্রবল বৃষ্টিপাত হলে নদীর জলস্তর স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গিয়ে দু-কূল ছাপিয়ে বন্যার সৃষ্টি করে।
২. নদীর নাব্যতা হ্রাস: নদীর তলদেশে পলি জমে নদীগর্ভ ভরাট হয়ে গেলে নদীর জলধারণ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে অল্প বৃষ্টিতেই বন্যা দেখা দেয়।
২) খরার দুটি ফলাফল লেখো।
উত্তর: ১. কৃষিকাজে ক্ষতি: জলের অভাবে সেচকার্য ব্যাহত হয় এবং ফসল শুকিয়ে মারা যায়, ফলে তীব্র খাদ্যসংকট বা দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।
২. পানীয় জলের অভাব: ভূগর্ভস্থ জলস্তর নীচে নেমে যাওয়ায় এবং নদী-পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় তীব্র পানীয় জলের অভাব দেখা দেয়।
৩) দুর্যোগ বলতে কী বোঝ?
উত্তর: প্রাকৃতিক বা মনুষ্যসৃষ্ট যে আকস্মিক ও চরম ঘটনা বা পরিস্থিতির কারণে পরিবেশের স্বাভাবিক অবস্থা বিঘ্নিত হয় এবং মানুষের জীবনযাত্রা ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়, তাকে দুর্যোগ বা Hazard বলে।
৪) ভারতের কোন্ অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ?
উত্তর: ভারতের সমগ্র হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যসমূহ (অসম, মেঘালয় ইত্যাদি) এবং গুজরাটের কচ্ছ ও কাথিয়াবাড় উপদ্বীপ অঞ্চল অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ।
৫) বিপর্যয়ের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: ১. বিপর্যয় হলো দুর্যোগের চরম পরিণতি, যা প্রচুর মানুষের প্রাণহানি এবং সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।
২. বিপর্যয়ের প্রভাবে সমাজের স্বাভাবিক কাঠামো এমনভাবে ভেঙে পড়ে যে, বাইরের সাহায্য ছাড়া দুর্গতদের পক্ষে তা মোকাবিলা করা সম্ভব হয় না।
৬) হড়পা বান কী?
উত্তর: পার্বত্য অঞ্চলে মেঘভাঙা বৃষ্টি বা হঠাৎ প্রবল বর্ষণের ফলে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে জল দ্রুত নীচে নেমে এসে নদীর জলস্তর আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি করে যে বিধ্বংসী বন্যার সৃষ্টি করে, তাকে হড়পা বান বা Flash Flood বলে।
৭) বিপর্যয় মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের দুটি ভূমিকা লেখো।
উত্তর: ১. সচেতনতা বৃদ্ধি: শিক্ষার্থীরা নিজেরা বিপর্যয় মোকাবিলার প্রাথমিক নিয়মগুলি শিখে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারে।
২. উদ্ধারকাজে সহায়তা: দুর্যোগের পর নিরাপদ স্থানে থেকে বয়স্ক, শিশু ও আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান এবং ত্রাণ বণ্টনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সাহায্য করতে পারে।
৮) দাবানল কী?
উত্তর: দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ায় গাছে গাছে ঘর্ষণ, বজ্রপাত বা মানুষের অসতর্কতার কারণে বিশাল বনভূমিতে যে ভয়াবহ ও অনিয়ন্ত্রিত আগুনের সৃষ্টি হয়, তাকে দাবানল বলে।
৯) মানবীয় বিপর্যয় কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর: মানুষের অবৈজ্ঞানিক কাজকর্ম, অসতর্কতা বা ভুল ত্রুটির কারণে পরিবেশের চরম অবনতি ঘটে যখন বিপুল প্রাণহানি ও সম্পদ ধ্বংস হয়, তখন তাকে মানবীয় বিপর্যয় বলে।
উদাহরণ: ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনা (১৯৮৪) বা চেরনোবিল পারমাণবিক দুর্ঘটনা (১৯৮৬)।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী ভূগোল ষষ্ঠ অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-৩) | Class 9 Geography Chapter 6 Question Answer
১) বন্যাপ্লাবিত অঞ্চলের বিপর্যয় ব্যবস্থাপনায় কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন?
উত্তর: বন্যাপ্লাবিত অঞ্চলে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা প্রয়োজন:
১. নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর: দুর্গত মানুষকে দ্রুত উদ্ধার করে উঁচু নিরাপদ স্থানে বা ফ্লাড সেন্টারে নিয়ে যাওয়া।
২. ত্রাণ ও চিকিৎসা: দুর্গতদের পর্যাপ্ত পানীয় জল, শুকনো খাবার, ত্রিপল এবং জলবাহিত রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করা।
৩. পুনর্বাসন: বন্যার জল নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট মেরামতে সাহায্য করা এবং কৃষকদের ক্ষতিপূরণ ও বীমার ব্যবস্থা করা।
২) বিপর্যয় ব্যবস্থাপনায় সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা লেখো।
উত্তর: বিপর্যয় ব্যবস্থাপনায় রেডিও, টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
১. আগাম সতর্কবার্তা: ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা বন্যার মতো দুর্যোগের আগে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে সতর্ক করা।
২. ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা: বিপর্যয়ের পর কোন এলাকায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কী ধরনের ত্রাণ প্রয়োজন, তা প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা, যাতে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা যায়।
৩. সচেতনতা প্রচার: দুর্যোগের সময় কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয়, সে সম্পর্কে লাগাতার প্রচার চালিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
৩) সুনামি সৃষ্টির কারণগুলি লেখো।
উত্তর: সমুদ্রের তলদেশে সৃষ্ট বিশাল ও ধ্বংসাত্মক ঢেউকে সুনামি বলে। এর প্রধান কারণগুলি হলো:
১. সমুদ্রবক্ষে ভূমিকম্প: সমুদ্রের তলদেশে পাত-সীমানায় রিখটার স্কেলে ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হলে সমুদ্রের জল প্রবলভাবে আলোড়িত হয়ে সুনামির সৃষ্টি করে।
২. অগ্ন্যুৎপাত: সমুদ্রগর্ভে শক্তিশালী আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও বিস্ফোরণের ফলে জলস্তর হঠাৎ ফুলে উঠে সুনামির আকার ধারণ করে।
৩. সামুদ্রিক ধস: সমুদ্রের তলদেশে মহীসোপান বা মহীঢাল অংশে বিশাল আকারের ভূমিধস নামলে বা উল্কাপাতের ফলেও সুনামি সৃষ্টি হতে পারে।
৪) অগ্ন্যুদ্গমের কারণ ও ফলাফল লেখো।
অগ্ন্যুদ্গমের কারণ: ভূ-অভ্যন্তরে গুরুমণ্ডলের বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থের ভাঙ্গনের ফলে প্রচুর তাপের সৃষ্টি হয়। এই তাপে শিলা গলে ম্যাগমাতে পরিণত হয় এবং গ্যাসে পূর্ণ হয়ে ভূপৃষ্ঠের দুর্বল ফাটল বা পাত-সীমানা দিয়ে প্রবল বেগে বাইরে বেরিয়ে আসে।
অগ্ন্যুদ্গমের ফলাফল: ১. অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত উত্তপ্ত লাভা, ছাই ও বিষাক্ত গ্যাসের কারণে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জীবজন্তু ও মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
২. লাভা সঞ্চিত হয়ে নতুন ভূমি, আগ্নেয় পর্বত বা মালভূমি সৃষ্টি হয় এবং প্রাচীন লাভা থেকে উর্বর কালো মাটির সৃষ্টি হয়।
৫) প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগের মধ্যে পার্থক্য করো।
উত্তর:
১. উৎপত্তির কারণ: প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতির নিয়মে (যেমন—ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়) ঘটে। মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ মানুষের অসতর্কতা, লোভ বা ভুল কাজের (যেমন—দাঙ্গা, পারমাণবিক বিস্ফোরণ) ফলে ঘটে।
২. পূর্বাভাস: অধিকাংশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের (যেমন—ঘূর্ণিঝড়, বন্যা) আগাম পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব। কিন্তু মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগের সাধারণত কোনো আগাম পূর্বাভাস দেওয়া যায় না।
৩. নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা: প্রাকৃতিক দুর্যোগকে মানুষের পক্ষে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু সচেতনতা ও উপযুক্ত সাবধানতা অবলম্বন করলে মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
৬) ‘পার্বত্য অঞ্চল প্রায়শই ভূমিধসের কবলে পড়ে’ – ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিধস একটি সাধারণ ঘটনা, এর প্রধান কারণগুলি হলো:
১. খাড়া ঢাল ও মাধ্যাকর্ষণ: পার্বত্য অঞ্চলের ভূমির ঢাল খুব খাড়া হওয়ায় আলগা মাটি ও শিলাখণ্ড সহজেই মাধ্যাকর্ষণের টানে নীচে নেমে আসে।
২. অবৈজ্ঞানিক নির্মাণকাজ: পাহাড়ের ঢাল কেটে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রাস্তা, সুড়ঙ্গ, বাঁধ বা বাড়িঘর তৈরি করার ফলে পাহাড়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে ধস নামে।
৩. প্রবল বৃষ্টিপাত: বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির জল পাহাড়ের ফাটলে প্রবেশ করে শিলাস্তরকে পিচ্ছিল করে দেয়, ফলে সহজেই ভূমিধস ঘটে।
৭) খরা মোকাবিলায় কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত লেখো।
উত্তর: খরা মোকাবিলার জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা উচিত:
১. জল সংরক্ষণ: বৃষ্টির জল ধরে রাখার জন্য পুকুর, খাল বা জলাধার খনন করা এবং রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা।
২. বৃক্ষরোপণ: খরাপ্রবণ এলাকায় ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ করা, কারণ গাছপালা বৃষ্টিপাত ঘটাতে ও মাটির জলধারণ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
৩. খরা-সহনশীল শস্যের চাষ: যে সমস্ত ফসল ফলাতে জলের প্রয়োজন কম হয় (যেমন—বাজরা, জোয়ার, ডালজাতীয় শস্য), সেগুলির চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা।
৮) হিমালয় অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হওয়ার কারণগুলি কী কী?
উত্তর: ভারতের হিমালয় অঞ্চল অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ হওয়ার কারণগুলি হলো:
১. নবীন ভঙ্গিল পর্বত: হিমালয় একটি নবীন ভঙ্গিল পর্বত, যা এখনও গঠনরত অবস্থায় রয়েছে। এর ভূ-গঠন এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।
২. পাতের চলন: পাতসংস্থান তত্ত্ব অনুযায়ী, উত্তরে ইউরেশীয় পাত এবং দক্ষিণে ভারতীয় পাত প্রতিনিয়ত পরস্পরের দিকে অগ্রসর হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। এই পাত দুটির সংঘর্ষের ফলেই হিমালয় অঞ্চলে বারবার শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়।
৯) ভূমিকম্পের সময় কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন?
উত্তর: ভূমিকম্পের সময় নিম্নলিখিত সুরক্ষামূলক পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা প্রয়োজন:
১. আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকা এবং যত দ্রুত সম্ভব ফাঁকা মাঠে বা নিরাপদ স্থানে বেরিয়ে আসা।
২. ঘরের বাইরে বেরোনো সম্ভব না হলে শক্ত টেবিল, খাট বা ডেস্কের নীচে মাথা গুঁজে আশ্রয় নেওয়া (Drop, Cover, Hold on পদ্ধতি)।
৩. লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে নামা এবং কাঁচের জানলা, আয়না, আলমারি বা ঝুলন্ত বস্তু থেকে দূরে থাকা।
১০) হিমানী সম্প্রপাতের কারণ ও ফলাফল লেখো।
উত্তর: সুউচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে বরফের স্তূপ যখন মাধ্যাকর্ষণের টানে হঠাৎ খাড়া ঢাল বেয়ে প্রবল বেগে নীচে নেমে আসে, তখন তাকে হিমানী সম্প্রপাত বলে। ভূমিকম্প, প্রবল তুষারপাত, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে বরফ গলন, বা মানুষের শব্দদূষণের (যেমন- ডিনামাইট বিস্ফোরণ) কারণে এটি ঘটে।
ফলাফল: হিমানী সম্প্রপাতের ফলে পর্বতের ঢালে থাকা ঘরবাড়ি, গাছপালা ও রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ চাপা পড়ে যায়। বহু পর্যটক, পর্বতারোহী এবং স্থানীয় মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
১১) খরার কারণগুলি লেখো।
উত্তর: খরার প্রধান কারণগুলি হলো:
১. বৃষ্টিপাতের অভাব: মৌসুমি বায়ুর খামখেয়ালিপনার কারণে পরপর কয়েক বছর স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম বৃষ্টিপাত হলে খরা দেখা দেয়।
২. বৃক্ষচ্ছেদন: নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাচ্ছে এবং বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা খরা সৃষ্টি করছে।
৩. ভূগর্ভস্থ জলের অতিরিক্ত ব্যবহার: কৃষিকাজ ও শিল্পের প্রয়োজনে মাটির নীচের জল অতিরিক্ত তুলে নেওয়ার ফলে জলস্তর অনেক নীচে নেমে গিয়ে খরা পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।
১২) পশ্চিমবঙ্গের কোন্ জেলাগুলিতে বন্যার প্রকোপ বেশি এবং কেন?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং হাওড়া জেলায় বন্যার প্রকোপ বেশি।
কারণ: ১. এই জেলাগুলি মূলত গঙ্গা, ভাগীরথী, দামোদর প্রভৃতি বড়ো নদীর অববাহিকায় এবং বদ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত। ভূমি সমতল হওয়ায় বৃষ্টির জল সহজে নামতে পারে না।২. নদীর তলদেশে প্রচুর পলি জমে নদীর নাব্যতা কমে গেছে। ফলে বর্ষাকালে অতিরিক্ত জল বা বাঁধ থেকে ছাড়া জল সহজেই নদী উপচে বন্যার সৃষ্টি করে।
১৩) বিপর্যয় ব্যবস্থাপনার পদ্ধতিগুলি সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা বা Disaster Management-এর প্রধান তিনটি পর্যায় রয়েছে:
১. বিপর্যয়-পূর্ব প্রস্তুতি: সম্ভাব্য দুর্যোগের আগাম সতর্কতা জারি করা, দুর্গতদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য নিরাপদ স্থান চিহ্নিত করা, এবং ত্রাণ সামগ্রী মজুত করা।
২. বিপর্যয় চলাকালীন কাজ: দ্রুত দুর্গতদের উদ্ধার করা, নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া এবং জরুরি চিকিৎসা ও ত্রাণের ব্যবস্থা করা।
৩. বিপর্যয়-পরবর্তী কাজ: ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া, ভেঙে যাওয়া বাড়িঘর ও পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণ করা এবং মহামারির হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি গ্রহণ করা।
১৪) দাবানল সৃষ্টির কারণ কী কী? দাবানল প্রতিরোধের পদক্ষেপগুলি কী কী?
দাবানলের কারণ:
১. শুষ্ক ঋতুতে প্রবল বাতাসে শুকনো ডালপালার ঘর্ষণে আগুন লেগে যেতে পারে।২. বজ্রপাত বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকেও বনে আগুন লাগে।৩. মানুষের ফেলে দেওয়া জ্বলন্ত বিড়ি-সিগারেট বা বনভোজনের আগুন না নেভানোর ফলেও দাবানল ঘটে।
প্রতিরোধের পদক্ষেপ:
১. বনভূমির মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর ফায়ার লাইন বা গাছপালাহীন চওড়া রাস্তা তৈরি করা, যাতে আগুন এক অংশ থেকে অন্য অংশে ছড়াতে না পারে।২. স্যাটেলাইট বা ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সর্বক্ষণ বনভূমির ওপর নজরদারি চালানো।৩. বনে প্রবেশকারী পর্যটকদের দাহ্য বস্তু ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মাবলি ও সচেতনতা জারি করা।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী ভূগোল ষষ্ঠ অধ্যায় দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-৫) | Class 9 Geography Chapter 6 Long Question Answer
১) কেন প্রতিটি দুর্যোগ বিপর্যয় নয় তা উদাহরণসহ বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: দুর্যোগ (Hazard) এবং বিপর্যয় (Disaster) শব্দ দুটি একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত হলেও এক নয়। দুর্যোগ হলো এমন একটি ঘটনা বা পরিস্থিতি যা মানুষের জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি করার সম্ভাবনা তৈরি করে। কিন্তু একটি দুর্যোগ তখনই বিপর্যয়ে পরিণত হয় যখন সেটি জনবহুল এলাকায় আঘাত হানে এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থার অভাবের কারণে সমাজ সেই ক্ষয়ক্ষতি সামলে উঠতে পারে না।
উদাহরণস্বরূপ: প্রশান্ত মহাসাগরের একেবারে জনশূন্য কোনো একটি দ্বীপে যদি রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রার একটি ভয়ংকর ভূমিকম্প হয়, তবে সেটি একটি প্রাকৃতিক ‘দুর্যোগ’। যেহেতু সেখানে কোনো মানুষ বাস করে না, তাই কোনো প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হবে না। তাই এটি ‘বি বিপর্যয়’ নয়।
অন্যদিকে, একই মাত্রার ভূমিকম্প যদি জাপানের টোকিও বা ভারতের মতো ঘন জনবসতিপূর্ণ কোনো শহরে ঘটে, তবে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু এবং লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পত্তি নষ্ট হবে। তখন সেই দুর্যোগটি ভয়াবহ ‘বিপর্যয়’-এ পরিণত হবে। অর্থাৎ, প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া কোনো দুর্যোগই বিপর্যয় হতে পারে না।
২) ‘একই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা স্থান ও পরিস্থিতির ভিত্তিতে কখনো দুর্যোগ আবার কখনো বিপর্যয়ের ভূমিকা নেয়’ – কথাটির সত্যতা বিচার করে তার সপক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি দাও।
সপক্ষে যুক্তি: কথাটি সম্পূর্ণ সত্য। দুর্যোগের ভয়াবহতা নির্ভর করে সেই অঞ্চলের জনঘনত্ব এবং মানুষের দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতির ওপর।
উদাহরণস্বরূপ, সমুদ্রবক্ষে সৃষ্ট একটি ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন যখন গভীর সমুদ্রে অবস্থান করে, তখন তা শুধুই একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। কারণ সেখানে কোনো মানুষের বাসস্থান নেই। কিন্তু সেই একই ঘূর্ণিঝড় যখন উপকূলীয় জনবহুল এলাকায় (যেমন—সুন্দরবন বা দিঘা) আছড়ে পড়ে, তখন হাজার হাজার বাড়িঘর ভেঙে যায়, গবাদি পশু ও মানুষের প্রাণহানি ঘটে। তখন সেটি একটি ভয়াবহ বিপর্যয়ের রূপ নেয়। স্থান পরিবর্তনের কারণেই একই ঘটনা দুর্যোগ থেকে বিপর্যয়ে পরিণত হলো।
বিপক্ষে যুক্তি: কিছু চরম প্রাকৃতিক ঘটনা এতটাই শক্তিশালী হয় যে স্থান বা পরিস্থিতি নির্বিশেষে তা বিপর্যয় ঘটাতে পারে। যেমন—পৃথিবীর সাথে একটি বিশাল উল্কাপিণ্ডের সংঘর্ষ বা সুপার ভলক্যানোর অগ্ন্যুৎপাত ঘটলে, তা জনবসতিপূর্ণ বা জনশূন্য যে স্থানেই হোক না কেন, তার পরোক্ষ প্রভাবে সমগ্র পৃথিবীর জলবায়ু ও জীবজগতের ব্যাপক ক্ষতি হবে, যা এককথায় বিশ্বব্যাপী বিপর্যয়।
৩) কী কী ধরনের বিপর্যয় সাধারণত দেখা যায় তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করো।
উত্তর: উৎপত্তির কারণ অনুসারে বিপর্যয়কে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
১. প্রাকৃতিক বিপর্যয়: যে বিপর্যয়গুলির ওপর মানুষের কোনো প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ নেই এবং যা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক নিয়মে ঘটে, তাকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলে। এর প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। যেমন: ভূমিকম্প, সুনামি, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।
২. মনুষ্যসৃষ্ট বিপর্যয়: মানুষের অবিবেচনা, ভুল ত্রুটি, যুদ্ধবিগ্রহ বা প্রযুক্তিগত ব্যর্থতার কারণে যে বিপর্যয় ঘটে, তাকে মনুষ্যসৃষ্ট বিপর্যয় বলে। যেমন: ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনা, পারমাণবিক বিস্ফোরণ (হিরোশিমা, নাগাসাকি), বড়ো ধরনের ট্রেন বা বিমান দুর্ঘটনা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, রাসায়নিক কারখানায় বিস্ফোরণ ইত্যাদি।
৩. আধা-প্রাকৃতিক বিপর্যয়: যখন কোনো প্রাকৃতিক কারণের সাথে মানুষের অবিবেচনামূলক কাজের মেলবন্ধন ঘটে যে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়, তাকে আধা-প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলে। যেমন: নদীর স্বাভাবিক গতিপথে অবৈজ্ঞানিকভাবে বাঁধ দেওয়ার ফলে সৃষ্ট বন্যা, বা পাহাড়ি ঢালে গাছ কেটে রাস্তা বানানোর ফলে সৃষ্ট ভূমিধস।
৪) পশ্চিমবঙ্গে কী কী ধরনের দুর্যোগ সাধারণত দেখা যায় ও তাদের প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর: ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের কারণে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায়:
১. ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন: বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে (দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর) প্রায় প্রতি বছরই গ্রীষ্মের শুরুতে বা বর্ষার শেষে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় (যেমন- আয়লা, আমফান) আঘাত হানে। এর প্রভাবে উপকূলের মাটির বাড়িঘর ভেঙে যায়, গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং সামুদ্রিক নোনা জল ঢুকে কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি করে।
২. বন্যা: মুর্শিদাবাদ, মালদহ, হাওড়া, হুগলি জেলায় বর্ষাকালে বন্যা একটি নিয়মিত দুর্যোগ। অতিবৃষ্টি এবং ডিভিসি-র ছাড়া জলে নদী উপচে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। ফলে মানুষের বাড়িঘর তলিয়ে যায়, প্রচুর গবাদি পশু মারা যায় এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
৩. ভূমিধস: দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলার পাহাড়ি অঞ্চলে বর্ষাকালে প্রবল বৃষ্টির কারণে প্রায়শই ভূমিধস নামে। এর প্রভাবে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ঘরবাড়ি চাপা পড়ে মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
৪. খরা: পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু অংশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হওয়ায় মাঝে মাঝেই খরা দেখা দেয়। এর ফলে কৃষিকাজ সম্পূর্ণ ব্যাহত হয় এবং তীব্র পানীয় জলের সংকট দেখা দেয়।
৫) কীভাবে ভূমিকম্প বিপর্যয় ঘটাতে পারে তা নেপালের উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তর: ভূমিকম্প একটি আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যার কোনো নিখুঁত পূর্বাভাস দেওয়া যায় না। এর ফলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে।
নেপালের উদাহরণ: ২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল নেপালে রিখটার স্কেলে ৭.৮ মাত্রার একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার মূল কেন্দ্র ছিল লামজুং।
বিপর্যয়ের রূপ:
১. প্রাণহানি: এই ভূমিকম্পে প্রায় ৯,০০০ মানুষ নিহত হন এবং ২২,০০০-এর বেশি মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হন।
২. পরিকাঠামো ধ্বংস: কাঠমাণ্ডু শহরের লক্ষ লক্ষ বাড়িঘর, প্রাচীন মন্দির এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্য (যেমন- ধরহরা টাওয়ার) সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে যায়।
৩. ভূমিধস ও হিমানী সম্প্রপাত: ভূমিকম্পের জেরে মাউন্ট এভারেস্ট অঞ্চলে ভয়ংকর হিমানী সম্প্রপাত ঘটে, যেখানে অনেক পর্বতারোহী মারা যান। লাংটাং উপত্যকায় বিশাল ভূমিধসের ফলে একটি গোটা গ্রাম সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
নেপালের মতো অনুন্নত দেশে দুর্বল পরিকাঠামো এবং দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই প্রাকৃতিক ভূমিকম্পটি শতাব্দীর অন্যতম বৃহৎ জাতীয় বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছিল।
৬) পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষদের সর্বক্ষণের সঙ্গী কী? কী কী ধরনের সচেতনতা নিলে এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে বলে তুমি মনে করো?
উত্তর: পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষদের সর্বক্ষণের সঙ্গী হলো ‘ভূমিধস’ এবং ‘ভূমিকম্প’।
রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সচেতনতা:
১. বৃক্ষরোপণ: পাহাড়ের ঢালে নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে এবং ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে, কারণ গাছের শিকড় মাটিকে শক্ত করে ধরে রেখে ধস রোধ করে।
২. বিজ্ঞানসম্মত নির্মাণ: পাহাড়ের ঢাল কেটে অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা, সুড়ঙ্গ বা বহুতল বাড়ি তৈরি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। বিল্ডিং কোড মেনে হালকা কাঠ বা টিনের ভূমিকম্প-সহনশীল বাড়ি তৈরি করতে হবে।
৩. জলনিকাশী ব্যবস্থার উন্নতি: পাহাড়ের ওপরের জল যাতে সহজেই নীচে নেমে যেতে পারে, তার জন্য উপযুক্ত নিকাশী নালা তৈরি করতে হবে, যাতে জল জমে মাটি নরম না হয়।
৪. সতর্কবার্তা মান্য করা: বর্ষাকালে বা অতিবৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি থেকে স্থানীয় মানুষদের আগেভাগেই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য সচেতন করতে হবে।
৭) দুর্যোগ ও বিপর্যয়ের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবগুলি লেখো।
উত্তর: দুর্যোগ ও বিপর্যয়ের প্রভাবকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়:
প্রত্যক্ষ প্রভাব (Direct Impacts):
১. প্রাণহানি ও আহত হওয়া: মানুষ, গবাদি পশু এবং বন্যপ্রাণীর সরাসরি মৃত্যু ঘটে বা গুরুতর জখম হয়।
২. সম্পত্তির ধ্বংস: বাড়িঘর, হাসপাতাল, স্কুল, কৃষিজমি এবং মানুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তি সরাসরি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
৩. পরিকাঠামোগত ক্ষতি: রাস্তাঘাট, রেললাইন, সেতু, বিদ্যুতের খুঁটি এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বা আংশিক ভেঙে পড়ে।
পরোক্ষ প্রভাব (Indirect Impacts):
১. অর্থনৈতিক সংকট: কৃষিকাজ ও শিল্প ধ্বংস হওয়ার কারণে কর্মসংস্থান কমে যায়, জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পায় এবং দেশে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয়।
২. মহামারি ও স্বাস্থ্যসংকট: বন্যার পর জমা জলে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ে এবং পচা মৃতদেহ থেকে জলবাহিত রোগ (কলেরা, টাইফয়েড) মহামারির আকার ধারণ করে।
৩. মানসিক ট্রমা: আপনজনদের হারানো এবং বাড়িঘর ধ্বংস হওয়ার কারণে বেঁচে যাওয়া মানুষদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অবসাদ ও ট্রমা দেখা দেয়।
৮) বিপর্যয় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর কী কী করণীয়? এক্ষেত্রে প্রচারমাধ্যম কী কী পদক্ষেপ নিতে পারে?
উত্তর: শিক্ষার্থীর করণীয়:
১. সচেতনতা প্রচার: শিক্ষার্থীরা নিজেরা বিপর্যয় মোকাবিলা সম্পর্কে জেনে পরিবার, বিদ্যালয় এবং পাড়ার মানুষদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারে।
২. স্বেচ্ছাসেবকের কাজ: এনসিসি বা স্কাউটের প্রশিক্ষণ থাকলে দুর্যোগের সময় উদ্ধারকাজে, প্রাথমিক চিকিৎসায় এবং ত্রাণ শিবিরে খাবার ও পানীয় জল বণ্টনে সাহায্য করতে পারে।
৩. মক ড্রিল (Mock Drill): স্কুলে আয়োজিত বিপর্যয় মোকাবিলার মহড়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে শান্ত থেকে বাইরে বেরোতে হয় তা শিখতে পারে।
প্রচারমাধ্যমের পদক্ষেপ:
১. রেডিও, টিভি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আবহাওয়ার আগাম সতর্কবার্তা দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
২. দুর্যোগের সময় গুজব ও মিথ্যা খবর ছড়ানো রোধ করা এবং সঠিক তথ্য পরিবেশন করা।
৩. বিপর্যয়ের আগে ও পরে সাধারণ মানুষের কী করণীয়, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞের মতামত সহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা।
৯) পশ্চিমবঙ্গে বিপর্যয় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কী কী কৌশল নেওয়া হয়? এগুলি কতখানি সার্থক?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গে বিপর্যয় ব্যবস্থাপনার কৌশল:
১. ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র (Cyclone Shelter) নির্মাণ: উপকূলীয় অঞ্চল যেমন দিঘা, বকখালি বা সুন্দরবনে দুর্যোগের সময় মানুষের আশ্রয়ের জন্য ফ্লাড সেন্টার ও সাইক্লোন শেল্টার তৈরি করা হয়েছে।
২. সতর্কবার্তা প্রদান: আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর রেডিও, মাইকিং এবং মোবাইল এসএমএস-এর মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার আগাম সতর্কবার্তা সাধারণ মানুষকে জানিয়ে দেয়।
৩. ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স: রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF) এবং সিভিল ডিফেন্স গঠন করা হয়েছে, যারা উদ্ধারকাজে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
৪. ম্যানগ্রোভ অরণ্য সৃজন: সুন্দরবন অঞ্চলে নদীবাঁধ রক্ষা এবং ঘূর্ণিঝড়ের বেগ কমাতে প্রচুর পরিমাণে ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানো হচ্ছে।
সার্থকতা: এই কৌশলগুলি অনেকাংশেই সার্থক। উদাহরণস্বরূপ, ‘আমফান’ বা ‘যশ’ ঘূর্ণিঝড়ের সময় আগে থেকেই লক্ষ লক্ষ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা অনেক কম হয়েছে। তবে, ত্রাণ বণ্টনে কখনো কখনো অব্যবস্থা এবং অবৈজ্ঞানিকভাবে তৈরি মাটির নদীবাঁধ বারবার ভেঙে যাওয়ায় পরিকাঠামোগত দুর্বলতা এখনো রয়ে গেছে।
১০) ভূমিকম্প ও সুনামি- এই দুই বিপর্যয় সৃষ্টিতে প্রকৃতির কী ভূমিকা রয়েছে লেখো।
ভূমিকম্প সৃষ্টিতে প্রকৃতির ভূমিকা: ভূমিকম্প সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক কারণে ঘটে। ভূ-অভ্যন্তরে গুরুমণ্ডলে পরিচলন স্রোতের কারণে পৃথিবীর শিলামণ্ডলের পাতগুলি সর্বদা ধীরগতিতে চলাচল করছে। এই পাতগুলি যখন পরস্পরের সাথে ধাক্কা খায় বা ঘষা খায়, তখন শিলাস্তরে বিপুল পীড়ন বা চাপের সৃষ্টি হয়। এই সঞ্চিত শক্তি যখন হঠাৎ শিলাস্তরের ফাটল দিয়ে স্থিতিস্থাপক তরঙ্গের আকারে বেরিয়ে আসে, তখন ভূপৃষ্ঠ প্রবলভাবে কেঁপে ওঠে। এটিই হলো ভূমিকম্প।
সুনামি সৃষ্টিতে প্রকৃতির ভূমিকা: সুনামি মূলত ভূমিকম্পের একটি সামুদ্রিক রূপ। সমুদ্রের তলদেশে পাত-সীমানায় যখন শক্তিশালী ভূমিকম্প (৭ রিখটার স্কেলের বেশি) হয়, তখন সমুদ্রের তলদেশ হঠাৎ করে বসে যায় বা ফুলে ওঠে। এর ফলে সমুদ্রের বিপুল জলরাশি প্রচণ্ডভাবে আলোড়িত হয় এবং বিশাল ও ধ্বংসাত্মক সামুদ্রিক ঢেউয়ের সৃষ্টি করে যা উপকূলের দিকে প্রবল বেগে আছড়ে পড়ে। এছাড়াও সমুদ্রগর্ভে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা ভূমিধসও সুনামি সৃষ্টি করে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আজকের এই পোস্টে তোমাদের সাথে নবম শ্রেণির ভূগোলের ষষ্ঠ অধ্যায় ‘দুর্যোগ ও বিপর্যয়’ থেকে বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর শেয়ার করা হল। তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতি এর ক্ষেত্রে এগুলি সহায়তা করবে, প্রয়োজনে সংগ্রহ করে রাখবে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী অন্যান্য সমস্ত বিষয়ের নোট (Class IX All Notes) |
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম Study গ্রুপে যুক্ত হোন -


