নবম শ্রেণির (Class 9) ভূগোলের চতুর্থ অধ্যায় ‘ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া ও পৃথিবীর বিভিন্ন ভূমিরূপ’ (Geomorphic Processes and Different Landforms of the Earth)-এর মধ্যে অন্তর্জাত ও বহির্জাত প্রক্রিয়া, পর্বত (ভঙ্গিল, স্তূপ, আগ্নেয়, ক্ষয়জাত), মালভূমি (পর্বতাবেষ্টিত, ব্যবচ্ছিন্ন, লাভা গঠিত), এবং সমভূমি (পলিগঠিত, লোয়েস, বদ্বীপ সমভূমি) সৃষ্টির কারণ ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই অধ্যায় থেকে বাছাই করা কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথার উত্তর (One Liner) এবং বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচে দেওয়া হলো।
নবম শ্রেণী ভূগোল ‘ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া ও পৃথিবীর বিভিন্ন ভূমিরূপ’ (চতুর্থ অধ্যায়) প্রশ্ন উত্তর
আজকের পোস্টে তোমাদের সাথে যেসব বাছাই করা প্রশ্ন উত্তর শেয়ার করা হচ্ছে, যেগুলো তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ ভাবে সহায়ক হবে।
নবম শ্রেণী ভূগোল ‘ভূমিরূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া ও পৃথিবীর বিভিন্ন ভূমিরূপ’ (চতুর্থ অধ্যায়) MCQ প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 4 Question Answer
১) ভূ-আলোড়ন একটি—
(ক) অন্তর্জাত প্রক্রিয়া
(খ) বহির্জাত প্রক্রিয়া
(গ) মহাজাগতিক প্রক্রিয়া
(ঘ) বায়ুমণ্ডলীয় প্রক্রিয়া
উত্তর: (ক) অন্তর্জাত প্রক্রিয়া
২) একটি বহির্জাত প্রক্রিয়া—
(ক) বায়ুপ্রবাহ
(খ) ভূমিকম্প
(গ) আগ্নেয়োচ্ছ্বাস
(ঘ) ভূ-আন্দোলন
উত্তর: (ক) বায়ুপ্রবাহ
৩) মহীভাবক আলোড়নে শিলায়—
(ক) চ্যুতি সৃষ্টি হয়
(খ) ভাঁজ সৃষ্টি হয়
(গ) ক্ষয় হয়
(ঘ) সঞ্চয় হয়
উত্তর: (ক) চ্যুতি সৃষ্টি হয়
৪) পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণি—
(ক) হিমালয়
(খ) রকি
(গ) আন্দিজ
(ঘ) আল্পস
উত্তর: (গ) আন্দিজ
৫) আগ্নেয়গিরির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়—
(ক) প্রশান্ত মহাসাগরীয় বলয়ে
(খ) মধ্য আটলান্টিক বলয়ে
(গ) মধ্য ভারত মহাসাগরীয় বলয়ে
(ঘ) মধ্য মহাদেশীয় বলয়ে
উত্তর: (ক) প্রশান্ত মহাসাগরীয় বলয়ে
৬) ভূপৃষ্ঠে অনুভূমিকভাবে ঘটে—
(ক) গিরিজনি আলোড়ন
(খ) মহীভাবক আলোড়ন
(গ) মহাজাগতিক আলোড়ন
(ঘ) আকস্মিক আলোড়ন
উত্তর: (ক) গিরিজনি আলোড়ন
৭) ভাঁজ খেয়ে সৃষ্টি হয়েছে ভারতের—
(ক) পশ্চিমঘাট পর্বতমালা
(খ) সাতপুরা পর্বত
(গ) বিন্ধ্য পর্বত
(ঘ) হিমালয় পর্বত
উত্তর: (ঘ) হিমালয় পর্বত
৮) পৃথিবীর ছাদ বলা হয়—
(ক) তিব্বত মালভূমিকে
(খ) পামির মালভূমিকে
(গ) ছোটোনাগপুর মালভূমিকে
(ঘ) দাক্ষিণাত্য মালভূমিকে
উত্তর: (খ) পামির মালভূমিকে
৯) সমপ্রায়ভূমির মাঝে শক্ত পাথরের টিলার ন্যায় ভূমিরূপকে বলে—
(ক) ডেল্টা
(খ) মোনাডনক
(গ) লোয়েস
(ঘ) বাজাদা
উত্তর: (খ) মোনাডনক
১০) ভূপৃষ্ঠে সমান্তরাল দুটি ফাটলের মাঝের অংশ উঠে সৃষ্টি হয়—
(ক) ক্ষয়জাত পর্বত
(খ) সঞ্চয়জাত পর্বত
(গ) স্তূপ পর্বত
(ঘ) ভঙ্গিল পর্বত
উত্তর: (গ) স্তূপ পর্বত
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
১১) লোয়েস সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে—
(ক) ভারতে
(খ) আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে
(গ) জাপানে
(ঘ) চিনে
উত্তর: (ঘ) চিনে
১২) গ্রস্ত উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদী—
(ক) সবরমতী
(খ) লুনি
(গ) গঙ্গা
(ঘ) নর্মদা
উত্তর: (ঘ) নর্মদা
১৩) তুরানের নিম্নভূমি একটি—
(ক) উন্নত সমভূমি
(খ) অবনত সমভূমি
(গ) পেডিমেন্ট সমভূমি
(ঘ) সমপ্রায়ভূমি
উত্তর: (খ) অবনত সমভূমি
১৪) গাঙ্গেয় সমভূমি একটি—
(ক) উন্নত সমভূমি
(খ) অবনত সমভূমি
(গ) বদ্বীপ সমভূমি
(ঘ) পলল সমভূমি
উত্তর: (ঘ) পলল সমভূমি
নবম শ্রেণী ভূগোল চতুর্থ অধ্যায় শুদ্ধ ও অশুদ্ধ প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 4 True False Question Answer
১) মহীভাবক আলোড়নে ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হয়।
উত্তর: [অ] বা অশুদ্ধ। [ ব্যাখ্যা: গিরিজনি আলোড়নের প্রভাবে শিলাস্তরে ভাঁজ পড়ে ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হয়। মহীভাবক আলোড়নে মহাদেশের উত্থান বা পতন ঘটে এবং স্তূপ পর্বত ও চ্যুতি সৃষ্টি হয়। ]
২) ক্ষয়জাত পর্বত আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলায় গঠিত।
উত্তর: [শু] বা শুদ্ধ। [ ব্যাখ্যা: প্রাচীন উচ্চভূমি দীর্ঘকাল ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে তার মধ্যেকার কঠিন আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলাগুলি ক্ষয়জাত পর্বতরূপে অবস্থান করে। ]
৩) পর্বতাবেষ্টিত মালভূমি নবীন ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চলে গড়ে ওঠে।
উত্তর: [শু] বা শুদ্ধ। [ ব্যাখ্যা: দুটি সমান্তরাল নবীন ভঙ্গিল পর্বতমালা সৃষ্টির সময় তাদের মধ্যবর্তী অংশটি ভাঁজপ্রাপ্ত না হয়ে সোজাসুজি উঁচু হয়ে পর্বতাবেষ্টিত মালভূমি গঠন করে। ]
৪) বদ্বীপ সমভূমি সাধারণত ত্রিভুজাকার হয়।
উত্তর: [শু] বা শুদ্ধ। [ ব্যাখ্যা: নদীর মোহনায় পলি সঞ্চিত হয়ে মাত্রাহীন বাংলা ‘ব’ (বা গ্রিক অক্ষর ডেল্টা)-এর মতো যে সমভূমি তৈরি হয়, তা দেখতে ত্রিভুজাকারই হয়। ]
৫) জার্মানির ব্ল্যাকফরেস্ট একটি ভঙ্গিল পর্বত।
উত্তর: [অ] বা অশুদ্ধ। [ ব্যাখ্যা: জার্মানির ব্ল্যাকফরেস্ট হলো একটি স্তূপ পর্বতের উদাহরণ। ]
৬) সাধারণত স্তূপ পর্বতের পাশেই গ্রস্ত উপত্যকা দেখা যায়।
উত্তর: [শু] বা শুদ্ধ। [ ব্যাখ্যা: দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মাঝের অংশ বসে গিয়ে গ্রস্ত উপত্যকা এবং তার দুপাশের অংশ খাড়াভাবে দাঁড়িয়ে স্তূপ পর্বত গঠন করে। ]
৭) মোনাডন পাহাড় একটি মোনাডনক।
উত্তর: [শু] বা শুদ্ধ। [ ব্যাখ্যা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের মাউন্ট মোনাডনক পাহাড়ের নামানুসারেই সমপ্রায়ভূমির ওপর অবশিষ্ট কঠিন শিলার পাহাড়গুলিকে মোনাডনক বলা হয়। ]
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী ভূগোল চতুর্থ অধ্যায় শূন্যস্থানপূরণ প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 4 Fill The Blanks Question Answer
১) ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি হয় _______ আলোড়নে।
উত্তর: গিরিজনি
২) _______পর্বতে জীবাশ্ম দেখা যায়।
উত্তর: ভঙ্গিল
৩) ভারতের খনিজ ভাণ্ডার বলা হয় __________ মালভূমিকে।
উত্তর: ছোটোনাগপুর
৪) ________ যুগে হিমালয় পর্বত গঠিত হয়।
উত্তর: টারশিয়ারি
৫) ‘লোয়েস’ কথাটির অর্থ হল _______।
উত্তর: স্থানচ্যুত
৬) পেডিমেন্ট সমভূমির মধ্যে অনুচ্চ টিলাগুলিকে _________ বলে।
উত্তর: ইনসেলবার্জ
৭) গ্রস্ত উপত্যকার অপর নাম ________।
উত্তর: গ্রাবেন
নবম শ্রেণী ভূগোল ‘ভূমিরুপ গঠনকারী প্রক্রিয়া ও পৃথিবীর বিভিন্ন ভূমিরুপ’ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 4 SAQ Question Answer
১) একটি আকস্মিক অন্তর্জাত প্রক্রিয়ার নাম কী?
উত্তর: অগ্ন্যুদ্গম বা ভূমিকম্প।
২) মহাদেশ কোন্ আলোড়নে সৃষ্টি হয়?
উত্তর: মহীভাবক আলোড়নে।
৩) প্রতিসারী পাত-সীমানায় কোন্ শ্রেণির পর্বত দেখা যায়?
উত্তর: আগ্নেয় পর্বত (বা মধ্য সামুদ্রিক শৈলশিরা)।
৪) কোন্ অগ্ন্যুদ্গমের কারণে দাক্ষিণাত্যের মালভূমি সৃষ্টি হয়েছে?
উত্তর: বিদার অগ্ন্যুদ্গম।
৫) কোন্ মহীখাত থেকে হিমালয়ের উত্থান ঘটেছে?
উত্তর: টেথিস মহীখাত।
৬) ‘দ্য গ্রেট রিফ্ট ভ্যালি’ কোন্ মহাদেশে অবস্থিত?
উত্তর: আফ্রিকা মহাদেশে।
৭) ভঙ্গিল পর্বতে দুটি ভাঁজের মাঝের নীচু অংশকে কী বলে?
উত্তর: অধোভঙ্গ।
নবম শ্রেণী ভূগোল চতুর্থ অধ্যায় সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-২) | Class 9 Chapter 4 Geography Short Question Answer
১) মহীভাবক আলোড়ন কাকে বলে?
উত্তর: যে ভূ-আলোড়ন পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বরাবর বা উল্লম্বভাবে (ওপর-নীচে) কাজ করে, তাকে মহীভাবক আলোড়ন বলে। এই আলোড়নের ফলে মহাদেশের বিস্তীর্ণ অংশের উত্থান বা পতন ঘটে এবং স্তূপ পর্বত ও গ্রস্ত উপত্যকা সৃষ্টি হয়।
২) গিরিজনি আলোড়ন কাকে বলে?
উত্তর: যে ভূ-আলোড়ন ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে বা অনুভূমিকভাবে কাজ করে, তাকে গিরিজনি আলোড়ন বলে। এই আলোড়নের প্রভাবে শিলাস্তরে প্রবল পার্শ্বচাপের সৃষ্টি হয় এবং ভাঁজ পড়ে ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হয়।
৩) মহীখাত কী?
উত্তর: প্রাচীনকালে দুটি বিশাল ভূখণ্ডের মধ্যবর্তী দীর্ঘ, সংকীর্ণ ও অগভীর সমুদ্র বা জলভাগকে মহীখাত (Geosyncline) বলা হতো। যুগ যুগ ধরে এই মহীখাতে পলি সঞ্চিত ও ভাঁজপ্রাপ্ত হয়ে ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয় (যেমন—টেথিস মহীখাত)।
৪) অভিসারী পাত-সীমানাকে ধ্বংসাত্মক সীমানা বলে কেন?
উত্তর: অভিসারী পাত-সীমানায় দুটি পাত পরস্পরের দিকে অগ্রসর হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এর ফলে অপেক্ষাকৃত ভারী পাতটি হালকা পাতের নীচে প্রবেশ করে এবং ভূ-অভ্যন্তরের উত্তাপে গলে গিয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। তাই একে ধ্বংসাত্মক পাত-সীমানা বলা হয়।
৫) মহাদেশ কোন্ আলোড়নে সৃষ্টি হয়?
উত্তর: মহাদেশ ‘মহীভাবক আলোড়ন’-এর ফলে সৃষ্টি হয়।
৬) সুপ্ত আগ্নেয়গিরি বলতে কী বোঝ? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যেসব আগ্নেয়গিরি একবার অগ্ন্যুৎপাতের পর দীর্ঘকাল শান্ত থাকে কিন্তু ভবিষ্যতে যেকোনো সময় আবার সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে, তাদের সুপ্ত আগ্নেয়গিরি বলে। উদাহরণ: জাপানের ফুজিয়ামা।
৭) পেডিমেন্ট অথবা পাদদেশীয় সমভূমি কাকে বলে?
উত্তর: শুষ্ক মরু বা মরুপ্রায় অঞ্চলে বায়ু ও জলধারার মিলিত কার্যের ফলে পর্বতের পাদদেশে যে ঈষৎ ঢালু ও প্রস্তরময় সমভূমি গড়ে ওঠে, তাকে পেডিমেন্ট বলে। সাহারা মরুভূমিতে অ্যাটলাস পর্বতের পাদদেশে এরূপ সমভূমি দেখা যায়।
৮) প্লাবন সমভূমি কাকে বলে?
উত্তর: নদীর মধ্য ও নিম্নগতিতে বর্ষাকালে অতিরিক্ত জল চলে এলে দু-কূল ছাপিয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়। বন্যার জল সরে গেলে নদীর দু-পাশে পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে যে উর্বর সমভূমি গঠন করে, তাকে প্লাবন সমভূমি বলে।
৯ হটস্পট কাকে বলে?
উত্তর: ভূ-অভ্যন্তরের ম্যান্টেল বা গুরুমণ্ডলের যে নির্দিষ্ট স্থানগুলি থেকে অত্যন্ত উত্তপ্ত ম্যাগমা প্লিউম বা স্তম্ভ আকারে ভূপৃষ্ঠের দিকে উঠে আসে, সেই তীব্র তাপীয় কেন্দ্রগুলিকে হটস্পট (Hot spot) বলে। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ হটস্পটের ওপর অবস্থিত।
১০) সমপ্রায় ভূমি কাকে বলে?
উত্তর: দীর্ঘকাল ধরে নদী, বায়ু প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে কোনো প্রাচীন উচ্চভূমি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যে তরঙ্গায়িত, বৈচিত্র্যহীন ও অনুচ্চ সমভূমিতে পরিণত হয়, তাকে সমপ্রায় ভূমি (Peneplain) বলে।
১১) ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি কাকে বলে?
উত্তর: কোনো বিস্তীর্ণ মালভূমি অঞ্চল যখন নদী বা হিমবাহের মতো প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নদী উপত্যকা দ্বারা ছোটো ছোটো অংশে বিভক্ত হয়ে পড়ে, তখন তাকে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি বলে। উদাহরণ: ভারতের ছোটোনাগপুর মালভূমি।
১২) প্রাচীন ও নবীন ভঙ্গিল পর্বত কাকে বলে?
উত্তর: টারশিয়ারি যুগের আগে (প্যালিওজোয়িক বা মেসোজোয়িক যুগে) সৃষ্ট ভঙ্গিল পর্বতগুলিকে প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত বলে (যেমন—আরাবল্লী)। অপরদিকে, টারশিয়ারি যুগে বা তুলনামূলক সাম্প্রতিককালে সৃষ্ট ভঙ্গিল পর্বতগুলিকে নবীন ভঙ্গিল পর্বত বলে (যেমন—হিমালয়)।
১৩) শিল্ড মালভূমি কী?
উত্তর: পৃথিবীর প্রাচীনতম কঠিন আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলা দ্বারা গঠিত, দীর্ঘকাল ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে প্রায় সমতল আকার ধারণ করা বিস্তীর্ণ মালভূমিকে শিল্ড মালভূমি বলে। উদাহরণ: কানাডীয় শিল্ড মালভূমি।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী ভূগোল চতুর্থ অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-৩) | Class 9 Geography Chapter 4 Question Answer
১) মহীভাবক ও গিরিজনি আলোড়নের পার্থক্য করো।
| বিষয় | মহীভাবক আলোড়ন | গিরিজনি আলোড়ন |
|---|---|---|
| ১. প্রকৃতি | পৃথিবীর ব্যাসার্ধ বরাবর বা উল্লম্বভাবে কাজ করে। | ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে বা অনুভূমিকভাবে কাজ করে। |
| ২. প্রভাব | মহাদেশের উত্থান বা পতন ঘটে এবং স্তূপ পর্বত ও গ্রস্ত উপত্যকা তৈরি হয়। | শিলাস্তরে ভাঁজ পড়ে ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি হয়। |
| ৩. বিস্তৃতি | বিশাল মহাদেশীয় অঞ্চলজুড়ে কাজ করে। | তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ ও দীর্ঘ অঞ্চলজুড়ে কাজ করে। |
২) আগ্নেয় পর্বত এবং ক্ষয়জাত পর্বতের মধ্যে পার্থক্য করো।
| বিষয় | আগ্নেয় পর্বত | ক্ষয়জাত পর্বত |
|---|---|---|
| ১. উৎপত্তি | ভূ-অভ্যন্তরের ম্যাগমা অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠে এসে সঞ্চিত হয়ে আগ্নেয় পর্বত সৃষ্টি করে। | প্রাচীন পর্বত বা মালভূমি দীর্ঘকাল ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ক্ষয়জাত পর্বত সৃষ্টি করে। |
| ২. আকৃতি | সাধারণত শঙ্কু বা মোচা আকৃতির হয় এবং এর মাথায় জ্বালামুখ থাকে। | সাধারণত গোলাকার বা গম্বুজের মতো হয়। |
| ৩. শিলার প্রকৃতি | লাভা বা ব্যাসল্ট জাতীয় আগ্নেয় শিলা দিয়ে গঠিত। | মূলত কঠিন আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলা দিয়ে গঠিত। |
৩) পৃথিবীতে অধিকাংশ লোক সমভূমিতে বসবাস করে কেন?
উত্তর: পৃথিবীতে মানববসতির প্রায় ৯০% সমভূমিতে অবস্থিত। এর প্রধান কারণগুলি হলো:
১. কৃষিকাজের সুবিধা: সমভূমির মাটি উর্বর এবং ভূভাগ সমতল হওয়ায় কৃষিকাজ খুব ভালো হয়, যা খাদ্যের জোগান সুনিশ্চিত করে।
২. উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা: সমতল ভূপ্রকৃতির কারণে সমভূমিতে খুব সহজেই সড়কপথ ও রেলপথ নির্মাণ করা যায়।
৩. শিল্পের বিকাশ: উন্নত পরিবহণ, জলের সহজলভ্যতা এবং কাঁচামালের প্রাচুর্যের কারণে সমভূমিতে শিল্প-কারখানা বেশি গড়ে ওঠে, যা কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করে।
৪) ‘ছোটোনাগপুর মালভূমিকে ‘ভারতের খনিজ ভাণ্ডার’ বলে কেন?
উত্তর: ভারতের ছোটোনাগপুর মালভূমি অঞ্চলটি প্রাচীন আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলা দিয়ে গঠিত, যা বিভিন্ন খনিজ সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ভারতের সিংহভাগ লোহা, কয়লা, ম্যাঙ্গানিজ, অভ্র, তামা, বক্সাইট প্রভৃতি খনিজ পদার্থ এই অঞ্চল থেকেই উত্তোলিত হয়। প্রচুর পরিমাণে বৈচিত্র্যময় খনিজ সম্পদের মজুত ও উত্তোলনের কারণেই ছোটোনাগপুর মালভূমিকে ‘ভারতের খনিজ ভাণ্ডার’ বলা হয়।
৫) অন্তর্জাত প্রক্রিয়া এবং বহির্জাত প্রক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য করো।
| বিষয় | অন্তর্জাত প্রক্রিয়া | বহির্জাত প্রক্রিয়া |
|---|---|---|
| ১. উৎপত্তির কারণ | ভূ-অভ্যন্তরের তাপ ও চাপের প্রভাবে অন্তর্জাত প্রক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। | সৌরশক্তি, মাধ্যাকর্ষণ এবং বায়ুমণ্ডলীয় উপাদানের প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের ওপর বহির্জাত প্রক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। |
| ২. কাজের ধরন | ধীর বা আকস্মিক—উভয়ভাবেই কাজ করতে পারে (যেমন—ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত)। | সর্বদা ধীরগতিতে কাজ করে (যেমন—নদীর কাজ, বায়ুর কাজ)। |
| ৩. সৃষ্ট ভূমিরূপ | ভূপৃষ্ঠে প্রাথমিক ভূমিরূপ—পর্বত, মালভূমি ও সমভূমি গঠন করে। | সেই ভূমিরূপগুলিকে ক্ষয় ও সঞ্চয় কাজের মাধ্যমে ভাস্কর্য প্রদান করে। |
৬) বদ্বীপ ও উপকূলীয় সমভূমির পার্থক্য করো।
| বিষয় | বদ্বীপ সমভূমি | উপকূলীয় সমভূমি |
|---|---|---|
| ১. অবস্থান | নদীর মোহনায়, অর্থাৎ নদী যেখানে সমুদ্রে মেশে, সেখানে গঠিত হয়। | সমুদ্র উপকূল বরাবর স্থলভাগের প্রান্তে গড়ে ওঠে। |
| ২. গঠন প্রক্রিয়া | নদীর বয়ে আনা পলি মোহনায় সঞ্চিত হয়ে সৃষ্টি হয়। | সমুদ্রতরঙ্গের ক্ষয় ও সঞ্চয় কাজ এবং ভূ-আলোড়নের ফলে সমুদ্রবক্ষ উত্থিত হয়ে সৃষ্টি হয়। |
| ৩. আকৃতি | সাধারণত ত্রিভুজাকার বা মাত্রাহীন ‘ব’ অক্ষরের মতো হয়। | দীর্ঘ, সংকীর্ণ এবং সমুদ্র উপকূলের সমান্তরালে বিস্তৃত হয়। |
৭) মানবজীবনে পর্বতের গুরুত্বগুলি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মানবজীবনে পর্বতের গুরুত্ব অপরিসীম:
১. নদীর উৎস: সুউচ্চ পর্বতের বরফগলা জল থেকে বহু চিরপ্রবাহী নদীর সৃষ্টি হয়েছে, যা পানীয় জল, কৃষিকাজ ও শিল্পের জলের জোগান দেয় (যেমন—হিমালয় থেকে গঙ্গা নদীর উৎপত্তি)।
২. জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ: সুউচ্চ পর্বতমালা শীতল বায়ুকে বাধা দিয়ে দেশের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে এবং জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ুকে বাধা দিয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
৩. বনজ সম্পদ ও জলবিদ্যুৎ: পর্বতের ঢাল অরণ্যে ঢাকা থাকায় প্রচুর কাঠ ও বনজ সম্পদ পাওয়া যায়। এছাড়া পর্বতের খরস্রোতা নদীগুলি থেকে প্রচুর জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
নবম শ্রেণী ভূগোল চতুর্থ অধ্যায় দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-৫) | Class 9 Geography Chapter 4 Long Question Answer
১) পাতসংস্থান তত্ত্বের দ্বারা হিমালয় পর্বতের উৎপত্তি লেখো।
উত্তর: ফরাসি বিজ্ঞানী পিঁচো-র পাতসংস্থান তত্ত্বের সাহায্যে নবীন ভঙ্গিল পর্বত হিমালয়ের উৎপত্তি সবচেয়ে নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করা যায়।
১. পাতের অবস্থান: এই তত্ত্ব অনুযায়ী, বর্তমান হিমালয় পর্বত যেখানে অবস্থিত, সেখানে প্রাচীনকালে ‘টেথিস’ নামক একটি দীর্ঘ ও অগভীর মহীখাত ছিল। এর উত্তরে ছিল ইউরেশীয় পাত এবং দক্ষিণে ছিল ভারতীয় পাত।
২. পলি সঞ্চয়: যুগ যুগ ধরে উত্তরের ও দক্ষিণের ভূখণ্ড থেকে আগত নদীগুলি পলি, বালি, কাদা ইত্যাদি এনে টেথিস মহীখাতে সঞ্চিত করতে থাকে। বিপুল পলির ভারে মহীখাতের তলদেশ ক্রমশ বসে যায়।
৩. পাত সঞ্চারণ ও সংঘর্ষ: ভূ-অভ্যন্তরের পরিচলন স্রোতের প্রভাবে উত্তরের ইউরেশীয় পাত এবং দক্ষিণের ভারতীয় পাত (দুটি অভিসারী পাত) পরস্পরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
৪. হিমালয়ের উত্থান: প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি বছর আগে (টারশিয়ারি যুগে) পাত দুটির প্রবল সংঘর্ষ হয়। ভারী ভারতীয় পাতটি হালকা ইউরেশীয় পাতের নীচে প্রবেশ করে। প্রবল পার্শ্বচাপের ফলে টেথিস মহীখাতে সঞ্চিত পলিস্তরে ভাঁজ পড়ে ক্রমশ উঁচু হয়ে বর্তমান হিমালয় পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে। (পরীক্ষার খাতায় শিক্ষার্থীরা দুটি অভিসারী পাতের সংঘর্ষ ও মহীখাতে ভাঁজ পড়ার রেখাচিত্র অঙ্কন করবে)।
২) বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়জাত সমভূমির উৎপত্তি আলোচনা করো।
উত্তর: নদী, বায়ু, হিমবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তিগুলি ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থসমূহকে পরিবাহিত করে কোনো নিচু স্থানে দীর্ঘকাল ধরে সঞ্চয় করলে সঞ্চয়জাত সমভূমির সৃষ্টি হয়। উৎপত্তি অনুসারে বিভিন্ন প্রকার সঞ্চয়জাত সমভূমি হলো:
১. পলিগঠিত সমভূমি: নদীর বয়ে আনা পলি, বালি, কাদা নদীর দুই তীরে বা মোহনায় সঞ্চিত হয়ে এই সমভূমি গঠিত হয়। যেমন: গাঙ্গেয় সমভূমি। এটি আবার তিনটি ভাগে বিভক্ত—প্লাবন সমভূমি (বন্যার ফলে সৃষ্ট), বদ্বীপ সমভূমি (মোহনায় সৃষ্ট ত্রিভুজাকার সমভূমি) এবং পাদদেশীয় সমভূমি।
২. লোয়েস সমভূমি: মরুভূমির সূক্ষ্ম বালি ও ধূলিকণা (লোয়েস) বায়ুপ্রবাহের দ্বারা বহুদূর পরিবাহিত হয়ে কোনো নিচু স্থানে সঞ্চিত হয়ে লোয়েস সমভূমির সৃষ্টি করে। যেমন: গোবি মরুভূমি থেকে বালি উড়ে চীনের হোয়াংহো অববাহিকায় সৃষ্ট লোয়েস সমভূমি।
৩. হিমবাহ সমভূমি: হিমবাহ গলে গেলে তার সাথে বয়ে আনা কাদা, পাথর, বালি ইত্যাদি সঞ্চিত হয়ে যে অমসৃণ সমভূমি তৈরি করে, তাকে আউটওয়াশ প্লেন বা হিমবাহ সমভূমি বলে। যেমন: উত্তর আমেরিকার প্রেইরি অঞ্চলের সমভূমি।
৪. লাভা সমভূমি: আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত তরল লাভা বহুদূর ছড়িয়ে পড়ে নিচু স্থান ভরাট করে যে সমভূমির সৃষ্টি করে, তাকে লাভা সমভূমি বলে। যেমন: ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমির সংলগ্ন সমভূমি। (শিক্ষার্থীরা প্রয়োজন অনুযায়ী সমভূমির সরল রেখাচিত্র অঙ্কন করবে)।
৩) সঞ্চয়জাত পর্বতের বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর: ভূ-অভ্যন্তরের উত্তপ্ত ম্যাগমা ফাটল বা জ্বালামুখ দিয়ে বেরিয়ে এসে ভূপৃষ্ঠে সঞ্চিত হয়ে যে পর্বতের সৃষ্টি হয়, তাকে সঞ্চয়জাত বা আগ্নেয় পর্বত বলে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
১. আকৃতি ও গঠন: সঞ্চয়জাত পর্বত সাধারণত মোচা বা শঙ্কু আকৃতির হয়। এই পর্বতের একেবারে উপরিভাগে জ্বালামুখ বা ক্রেটার থাকে।
২. ঢাল: তরল ও সান্দ্র লাভা সঞ্চিত হয়ে সৃষ্টি হয় বলে এই পর্বতের ঢাল মাঝারি থেকে বেশ খাড়া প্রকৃতির হয়।
৩. উপাদান: এই পর্বত মূলত আগ্নেয় ছাই, ভস্ম, সিন্ডার, ল্যাপিলি এবং প্রধানত কঠিন আগ্নেয় শিলা (ব্যাসল্ট, অ্যান্ডেসাইট) দ্বারা গঠিত হয়।
৪. স্তরবিন্যাস: বারবার অগ্ন্যুৎপাতের ফলে লাভা ও ছাই স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে এই পর্বতের সৃষ্টি হয়, তাই একে স্তরীভূত পর্বতও বলা হয়।
৫. উচ্চতা: সঞ্চয়জাত পর্বতের উচ্চতা মাঝারি ধরনের হয় এবং সময়ের সাথে সাথে নতুন লাভা সঞ্চয়ের ফলে এর উচ্চতা ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
৪) মালভূমির শ্রেণিবিভাগ করো এবং যেকোনো এক প্রকার মালভূমির ব্যাখ্যা দাও।
উত্তর: উৎপত্তি ও ভূপ্রকৃতির বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে মালভূমিকে প্রধানত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: ১. পর্বতাবেষ্টিত মালভূমি, ২. মহাদেশীয় মালভূমি, ৩. ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি, ৪. লাভা গঠিত মালভূমি, ৫. পাদদেশীয় মালভূমি।
পর্বতাবেষ্টিত মালভূমি: যে মালভূমি চারদিকে সুউচ্চ পর্বতমালা দ্বারা বেষ্টিত থাকে, তাকে পর্বতাবেষ্টিত মালভূমি বলে।
উৎপত্তি: পাতসংস্থান তত্ত্ব অনুযায়ী দুটি অভিসারী পাত পরস্পরের দিকে অগ্রসর হলে মহীখাতের সঞ্চিত পলিতে প্রবল পার্শ্বচাপে ভাঁজ পড়ে সমান্তরাল ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয়। এই পর্বতশ্রেণিগুলির মধ্যবর্তী অপেক্ষাকৃত দৃঢ় ও অনমনীয় অংশটি ভাঁজপ্রাপ্ত না হয়ে সোজা উঁচু হয়ে পর্বতাবেষ্টিত মালভূমির সৃষ্টি করে।
বৈশিষ্ট্য: এটি চারদিক থেকে নবীন ভঙ্গিল পর্বত দ্বারা ঘেরা থাকে এবং এগুলি পৃথিবীর সর্বোচ্চ ও বৃহত্তম মালভূমি হয়ে থাকে।
উদাহরণ: হিমালয় ও কুনলুন পর্বতের মাঝে অবস্থিত তিব্বত মালভূমি। (শিক্ষার্থীরা চারদিকে পর্বত এবং মাঝে মালভূমির একটি সরল রেখাচিত্র অঙ্কন করবে)।
৫) চিত্রসহ স্তূপ পর্বত ও গ্রস্ত উপত্যকার উৎপত্তি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: স্তূপ পর্বত ও গ্রস্ত উপত্যকা মূলত মহীভাবক আলোড়নের ফলে সৃষ্টি হয়।
উৎপত্তি: ভূ-অভ্যন্তরের প্রবল আলোড়নের ফলে ভূপৃষ্ঠে অনেক সময় প্রসারণ ও সংকোচন বলের সৃষ্টি হয়। এই টান ও সংকোচনের প্রভাবে শিলাস্তরে ফাটল বা চ্যুতির সৃষ্টি হয়।
১. স্তূপ পর্বতের উৎপত্তি: দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ ভূ-আলোড়নের ফলে যদি আশেপাশের ভূভাগের তুলনায় ওপরে উঠে যায়, তবে ওই উত্থিত অংশকে স্তূপ পর্বত বলে। আবার অনেক সময় দুটি সমান্তরাল চ্যুতির দুই পাশের অংশ নীচে বসে গিয়ে মাঝের অংশটি পর্বতের মতো দাঁড়িয়ে থেকে স্তূপ পর্বত গঠন করে। যেমন: ভারতের সাতপুরা পর্বত।
২. গ্রস্ত উপত্যকার উৎপত্তি: দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মাঝের অংশ যদি ভূ-আলোড়নের ফলে নীচে বসে যায়, তবে সেই অবনত দীর্ঘ উপত্যকাকে গ্রস্ত উপত্যকা বা রিফ্ট ভ্যালি বলে। যেমন: বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বতের মাঝে নর্মদা নদীর উপত্যকা। (শিক্ষার্থীরা স্তূপ পর্বত এবং গ্রস্ত উপত্যকার উত্থান ও পতন নির্দেশক তীরচিহ্ন যুক্ত চিত্র অঙ্কন করবে)।
৬) মানুষের জীবনে সমভূমির প্রভাবগুলি সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: মানবজীবনে সমভূমির প্রভাব সবচেয়ে বেশি। উন্নত মানব সভ্যতার অধিকাংশই সমভূমিতে বিকশিত হয়েছে। এর প্রধান কারণগুলি হলো:
১. কৃষিকাজের সুবিধা: সমভূমির পলিমাটি অত্যন্ত উর্বর এবং ভূভাগ সমতল হওয়ায় কৃষিকাজ ও সেচব্যবস্থা সহজে করা যায়, যা বিপুল জনসংখ্যার খাদ্যের জোগান দেয়।
২. যাতায়াত ও পরিবহণ: সমতল ভূপ্রকৃতির কারণে সমভূমিতে সড়কপথ, রেলপথ এবং নদীপথে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজে ও কম খরচে গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
৩. শিল্পায়ন ও নগরায়ণ: উন্নত পরিবহণ, কৃষিজ কাঁচামাল এবং জলের সহজলভ্যতার কারণে সমভূমিতে বহু শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠে। শিল্প ও কৃষির উন্নতির ফলে বড়ো বড়ো শহর ও নগরের বিকাশ ঘটে।
৪. জীবনযাত্রা: অধিকাংশ সমভূমি নদী অববাহিকায় অবস্থিত হওয়ায় পানীয় জলের প্রাচুর্য থাকে এবং কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ থাকায় পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ সমভূমিতেই বসবাস করে।
৭) মানবজীবনে মালভূমির গুরুত্ব বর্ণনা করো।
উত্তর: মানবজীবনে মালভূমির বিভিন্ন দিক থেকে অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে:
১. খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার: অধিকাংশ প্রাচীন মালভূমি অঞ্চল প্রচুর খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। লোহা, কয়লা, ম্যাঙ্গানিজ, অভ্র প্রভৃতি খনিজ সম্পদ এখান থেকেই উত্তোলিত হয় (যেমন—ছোটোনাগপুর মালভূমি), যা দেশের শিল্পায়নের মূল ভিত্তি।
২. ভারী শিল্পের বিকাশ: পর্যাপ্ত খনিজ সম্পদ এবং বিদ্যুৎ শক্তির ওপর নির্ভর করে মালভূমি অঞ্চলে লৌহ-ইস্পাত শিল্প, সিমেন্ট শিল্প প্রভৃতি ভারী শিল্পের বিকাশ ঘটে।
৩. জলবিদ্যুৎ উৎপাদন: মালভূমি অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলি খাড়া ঢালের জন্য অত্যন্ত খরস্রোতা হয়। এই খরস্রোতা নদীগুলিতে বাঁধ দিয়ে প্রচুর জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
৪. পশুপালন: বৃষ্টিপাত কম থাকায় অনেক মালভূমি অঞ্চলে বড়ো গাছের পরিবর্তে বিস্তীর্ণ তৃণভূমি সৃষ্টি হয়েছে, যা মেষ ও গবাদি পশুপালনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
৫. পর্যটন শিল্প: মালভূমি অঞ্চলের জলবায়ু মনোরম এবং স্বাস্থ্যকর হয়। সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে, যা পর্যটন শিল্পের উন্নতিতে সহায়ক।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আজকের এই পোস্টে তোমাদের সাথে নবম শ্রেণির ভূগোলের চতুর্থ অধ্যায় ‘ভূমিরুপ গঠনকারী প্রক্রিয়া ও পৃথিবীর বিভিন্ন ভূমিরুপ’ থেকে বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর শেয়ার করা হল। তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতি এর ক্ষেত্রে এগুলি সহায়তা করবে, প্রয়োজনে সংগ্রহ করে রাখবে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী অন্যান্য সমস্ত বিষয়ের নোট (Class IX All Notes) |
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম Study গ্রুপে যুক্ত হোন -


