নবম শ্রেণির (Class 9) ভূগোলের তৃতীয় অধ্যায় ‘পৃথিবীপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়’ (Determination of Location of a Place on the Earth’s Surface) থেকে ভূগোলের অন্যতম মৌলিক ধারণা— অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ, নিরক্ষরেখা, মূলমধ্যরেখা এবং আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এই অধ্যায় থেকে বাছাই করা কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথার উত্তর (One Liner) এবং বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচে দেওয়া হলো।
নবম শ্রেণী ভূগোল ‘পৃথিবীপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়’ (তৃতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন উত্তর
আজকের পোস্টে তোমাদের সাথে যেসব বাছাই করা প্রশ্ন উত্তর শেয়ার করা হচ্ছে, যেগুলো তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ ভাবে সহায়ক হবে।
নবম শ্রেণী ভূগোল ‘পৃথিবীপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়’ (তৃতীয় অধ্যায়) MCQ প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 3 Question Answer
১) গ্রিনিচের সময় নির্ণায়ক ঘড়ি হল—
(ক) ব্যারোমিটার
(খ) অ্যানিমোমিটার
(গ) হাইগ্রোমিটার
(ঘ) ক্রোনোমিটার
উত্তর: (ঘ) ক্রোনোমিটার
২) অক্ষরেখাগুলি —
(ক) রৈখিক
(খ) অর্ধবৃত্তাকার
(গ) পূর্ণবৃত্তাকার
(ঘ) উপবৃত্তাকার
উত্তর: (গ) পূর্ণবৃত্তাকার
৩) আন্তর্জাতিক তারিখরেখার দু-পাশে সময়ের পার্থক্য—
(ক) ১২ ঘণ্টার
(খ) ০ ঘণ্টার
(গ) ২৪ ঘণ্টার
(ঘ) ১০ ঘণ্টার
উত্তর: (গ) ২৪ ঘণ্টার
৪) মহাবৃত্ত বলা হয়—
(ক) মূলমধ্যরেখাকে
(খ) কর্কটক্রান্তি রেখাকে
(গ) মকরক্রান্তি রেখাকে
(ঘ) নিরক্ষরেখাকে
উত্তর: (ঘ) নিরক্ষরেখাকে
৫) কলকাতার প্রতিপাদ স্থানের দ্রাঘিমাংশ—
(ক) ৯১°৩০’ পশ্চিম
(খ) ৯১°৩০’ পূর্ব
(গ) ৮৮°৩৯’ পশ্চিম
(ঘ) ২২°৩৪’ দক্ষিণ
উত্তর: (ক) ৯১°৩০‘ পশ্চিম
৬) গ্রিনিচের সাথে ভারতের সময়ের পার্থক্য—
(ক) ৫ ঘণ্টা ২৪ মিনিট
(খ) ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
(গ) ৭ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
(ঘ) ৫ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট
উত্তর: (খ) ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
৭) নিরক্ষরেখার অপর নাম—
(ক) মূলমধ্যরেখা
(খ) দেশান্তর রেখা
(গ) বিষুবরেখা
(ঘ) কর্কটক্রান্তি রেখা
উত্তর: (গ) বিষুবরেখা
৮) নিরক্ষরেখায় ১° অন্তর দুটি দ্রাঘিমার মধ্যে দূরত্ব প্রায়—
(ক) ১১১ কিমি
(খ) ১১৫ কিমি
(গ) ৯৫ কিমি
(ঘ) ১১৭ কিমি
উত্তর: (ক) ১১১ কিমি
৯) মূলমধ্যরেখার পূর্ব বা পশ্চিমে অবস্থিত স্থানের কৌণিক দূরত্ব হল—
(ক) প্রতিপাদ স্থান
(খ) দ্রাঘিমা
(গ) অক্ষাংশ
(ঘ) আন্তর্জাতিক তারিখরেখা
উত্তর: (খ) দ্রাঘিমা
১০) পৃথিবীর প্রমাণ সময় ধরা হয়—
(ক) ০° দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়কে
(খ) ৮২°৩০’ দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়কে
(গ) ১৮০° দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়কে
(ঘ) ৯০° দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়কে
উত্তর: (ক) ০° দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়কে
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
১১) একই অক্ষাংশযুক্ত স্থানগুলির সংযোজক রেখা—
(ক) দেশান্তর রেখা
(খ) সমাক্ষরেখা
(গ) মূলমধ্যরেখা
(ঘ) দ্রাঘিমারেখা
উত্তর: (খ) সমাক্ষরেখা
১২) পরস্পর দুটি প্রতিপাদ স্থানের দ্রাঘিমার ব্যবধান—
(ক) ১৮০°
(খ) ১০০°
(গ) ৯০°
(ঘ) ০°উত্তর: (ক) ১৮০°
১৩) ধ্রুবতারাকে একেবারে মাথার উপর দেখা যায়—
(ক) ৯০° দক্ষিণে
(খ) ২৩°৩০’ উত্তরে
(গ) ৬৬°৩০’ উত্তরে
(ঘ) ৯০° উত্তরে
উত্তর: (ঘ) ৯০° উত্তরে
১৪) PM-এর অন্তর্ভুক্ত—
(ক) সকাল ৭টা
(খ) সকাল ৯টা
(গ) সকাল ১১টা
(ঘ) দুপুর ১ টা
উত্তর: (ঘ) দুপুর ১ টা
নবম শ্রেণী ভূগোল তৃতীয় অধ্যায় শুদ্ধ ও অশুদ্ধ প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 3 True False Question Answer
১) সম্পদ আহরণের জন্য সম্পদের সঠিক ‘অবস্থান‘ জানা প্রয়োজন।
উত্তর: শু (শুদ্ধ) [ ব্যাখ্যা: সম্পদের সুষ্ঠু উত্তোলন ও ব্যবহারের পরিকল্পনা করার জন্য সেই স্থানটির নিখুঁত ভৌগোলিক অবস্থান জানা অপরিহার্য। ]
২) নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে অক্ষাংশের মান কমতে থাকে।
উত্তর: অ (অশুদ্ধ) [ ব্যাখ্যা: নিরক্ষরেখার অক্ষাংশ ০° এবং নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর বা দক্ষিণে অগ্রসর হলে অক্ষাংশের মান ক্রমশ বৃদ্ধি পায় এবং মেরুবিন্দুতে তা সর্বোচ্চ ৯০° হয়। ]
৩) অক্ষরেখাগুলি পূর্ণবৃত্ত।
উত্তর: শু (শুদ্ধ) [ ব্যাখ্যা: নিরক্ষরেখার সমান্তরালে পূর্ব-পশ্চিমে পৃথিবীকে বেষ্টন করে থাকা কাল্পনিক অক্ষরেখাগুলি প্রতিটিই এক একটি পূর্ণবৃত্তাকার রেখা। ]
৪) ২৩°৩০‘ – ৬৬°৩০‘ উত্তর ও দক্ষিণ পৃথিবীপৃষ্ঠ উষ্ণমণ্ডলের অন্তর্গত।
উত্তর: অ (অশুদ্ধ) [ ব্যাখ্যা: ২৩°৩০’ থেকে ৬৬°৩০’ উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চলটি নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলের অন্তর্গত। উষ্ণমণ্ডল নিরক্ষরেখার উভয় দিকে ২৩°৩০’ অক্ষাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। ]
৫) গ্রিনউইচ শহরের মান মন্দিরের ওপর দিয়ে ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাটি বিস্তৃত।
উত্তর: অ (অশুদ্ধ) [ ব্যাখ্যা: লন্ডনের গ্রিনউইচ শহরের রয়্যাল মানমন্দিরের ওপর দিয়ে মূলমধ্যরেখা বা ০° দ্রাঘিমারেখা বিস্তৃত হয়েছে, ১৮০° দ্রাঘিমারেখা নয়। ]
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী ভূগোল তৃতীয় অধ্যায় শূন্যস্থানপূরণ প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 3 Fill The Blanks Question Answer
১) পৃথিবীর কোনো স্থানের মেরু ও আয়ত স্থানাঙ্কের সাহায্যে ওই বিন্দুর ______ জানা যায়।
উত্তর: অবস্থান
২) দক্ষিণ গোলার্ধে ________ হল মেরু নক্ষত্র।
উত্তর: হ্যাডলির অকট্যান্ট
৩) কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায্যে ভূপৃষ্ঠের কোনো স্থানের অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ ও উচ্চতা নির্ণয়ের পদ্ধতিকে ______ বলে।
উত্তর: GPS
৪) ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমা রেখার মান ______ ।
উত্তর: ৮২°৩০‘ পূর্ব
৫) পরস্পর বিপরীত দ্রাঘিমারেখা দুটি যোগ করলে ______ পাওয়া যায়।
উত্তর: মহাবৃত্ত
নবম শ্রেণী ভূগোল ‘পৃথিবীপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়’ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 3 SAQ Question Answer
১) ‘সেক্সট্যান্ট‘ শব্দটির অর্থ কী?
উত্তর: বৃত্তের ষষ্ঠাংশ বা ছয় ভাগের এক ভাগ।
২) সেক্সট্যান্ট ছাড়া সূর্যের উন্নতি পরিমাপের অপর একটি যন্ত্রের নাম করো।
উত্তর: ট্রানজিট থিয়োডোলাইট।
৩) পৃথিবী পৃষ্ঠের ওপর মোট অক্ষরেখার সংখ্যা কয়টি?
উত্তর: ১৭৯টি (মেরুবিন্দু দুটিকে বিন্দু ধরলে রেখার সংখ্যা ১৭৯টি, অন্যথায় ১৮১টি)।
৪) স্থানীয় সময় কীসের সাহায্যে নির্ধারিত হয়?
উত্তর: আকাশে সূর্যের অবস্থানের সাহায্যে।
৫) অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার জালিকাকে কী বলে?
উত্তর: ভূ-জালক বা গ্রিড।
নবম শ্রেণী ভূগোল তৃতীয় অধ্যায় সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-২) | Class 9 Chapter 3 Geography Short Question Answer
১) নিরক্ষরেখা মহাবৃত্ত কেন?
উত্তর: নিরক্ষরেখা পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুটি সমান গোলার্ধে ভাগ করেছে। গোলকের ওপর অঙ্কিত বৃত্তগুলির মধ্যে নিরক্ষরেখার পরিধি সবচেয়ে বড়ো এবং এর কেন্দ্র পৃথিবীর কেন্দ্রের সাথে একই বিন্দুতে অবস্থান করে। তাই নিরক্ষরেখাকে মহাবৃত্ত বা Great Circle বলা হয়।
২) সময় অঞ্চল কী?
উত্তর: পৃথিবীর বিভিন্ন দ্রাঘিমায় অবস্থিত স্থানগুলির স্থানীয় সময়ের পার্থক্য দূর করে প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে কোনো দেশকে কয়েকটি নির্দিষ্ট দ্রাঘিমার ভিত্তিতে প্রমাণ সময়ের অঞ্চলে ভাগ করা হয়। সাধারণত ১৫° দ্রাঘিমার অন্তর পৃথিবীকে যে ২৪টি প্রমাণ সময়ের অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে, তার প্রত্যেকটিকে এক-একটি সময় অঞ্চল (Time Zone) বলে।
৩) স্থানীয় সময় কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীর আবর্তনের কারণে কোনো নির্দিষ্ট দ্রাঘিমারেখায় সূর্য যখন ঠিক মাথার ওপর বা সর্বোচ্চ উন্নতিতে আসে, তখন সেখানে দুপুর ১২টা ধরা হয়। এই মধ্যাহ্ন সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে ওই দ্রাঘিমায় অবস্থিত সব স্থানের যে সময় স্থির করা হয়, তাকে ওই স্থানের স্থানীয় সময় (Local Time) বলে।
৪) প্রতিপাদ স্থান কাকে বলে?
উত্তর: ভূপৃষ্ঠের কোনো একটি বিন্দু থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র ভেদ করে একটি কাল্পনিক সরলরেখা টানলে তা বিপরীত দিকে ভূপৃষ্ঠের যে বিন্দুতে ছেদ করে, সেই বিন্দুটিকে প্রথম বিন্দুটির প্রতিপাদ স্থান (Antipode) বলা হয়।
৫) ক্রোনোমিটার কী?
উত্তর: ক্রোনোমিটার (Chronometer) হল একটি বিশেষ ধরনের অতি নিখুঁত স্প্রিং-চালিত ঘড়ি। সমুদ্রে দিকনির্ণয় এবং জাহাজের সঠিক দ্রাঘিমাংশ নির্ধারণের জন্য গ্রিনউইচের সময় জানতে নাবিকরা এই ঘড়ি ব্যবহার করে থাকেন। জন হ্যারিসন এই ঘড়ি আবিষ্কার করেন।
৬) অক্ষরেখার সাহায্যে পৃথিবীকে কী কী তাপমণ্ডলে ভাগ করা যায়?
উত্তর: অক্ষরেখার ভিত্তিতে পৃথিবীকে প্রধান তিনটি তাপমণ্ডলে ভাগ করা যায়:
১. উষ্ণমণ্ডল (নিরক্ষরেখা থেকে উভয় গোলার্ধে ২৩.৫° অক্ষরেখার মধ্যবর্তী অঞ্চল)।
২. নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল (উভয় গোলার্ধে ২৩.৫° থেকে ৬৬.৫° অক্ষরেখার মধ্যবর্তী অঞ্চল)।
৩. হিমমণ্ডল (উভয় গোলার্ধে ৬৬.৫° থেকে ৯০° অক্ষরেখার মধ্যবর্তী অঞ্চল)।
৭) আন্তর্জাতিক তারিখরেখা কাকে বলে?
উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের জলভাগের ওপর দিয়ে মোটামুটি ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে অনুসরণ করে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত যে কাল্পনিক রেখাটি টানা হয়েছে এবং যে রেখা অতিক্রম করলে দিন বা তারিখের পরিবর্তন ঘটে, তাকে আন্তর্জাতিক তারিখরেখা বলে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী ভূগোল তৃতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-৩) | Class 9 Geography Chapter 3 Question Answer
১) অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার পার্থক্য করো।
| বিষয় | অক্ষরেখা | দ্রাঘিমারেখা |
|---|---|---|
| ১. আকৃতি | প্রতিটি অক্ষরেখাই এক-একটি পূর্ণবৃত্ত। | প্রতিটি দ্রাঘিমারেখা অর্ধবৃত্তাকার। |
| ২. বিস্তার | পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত এবং পরস্পরের সমান্তরাল। | উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত এবং সমান্তরাল নয়; মেরুবিন্দুতে গিয়ে মিলিত হয়। |
| ৩. পরিধি | নিরক্ষরেখা ছাড়া অন্যান্য অক্ষরেখার পরিধি মেরুর দিকে ক্রমশ ছোটো হতে থাকে। | সমস্ত দ্রাঘিমারেখার পরিধি বা দৈর্ঘ্য সমান। |
২) পৃথিবীপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়ের প্রয়োজনীয়তা গুলি কী কী?
উত্তর: পৃথিবীপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়ের প্রয়োজনীয়তা গুলি হল –
১. সীমানা নির্ধারণ: দেশ বা রাজ্যের সঠিক রাজনৈতিক সীমানা নির্ধারণ করার জন্য অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ জানা জরুরি।
২. যান চলাচল: সমুদ্রপথে জাহাজ এবং আকাশপথে বিমান চলাচলের সময় সঠিক পথ নির্দেশ করতে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় অপরিহার্য।
৩. মানচিত্র প্রস্তুত: কোনো অঞ্চলের নির্ভুল মানচিত্র তৈরি করতে সেই স্থানের ভৌগোলিক অবস্থান জানা প্রয়োজন।
৪. জলবায়ু ও সময় নির্ণয়: অক্ষাংশের সাহায্যে কোনো স্থানের জলবায়ু প্রকৃতি এবং দ্রাঘিমাংশের সাহায্যে স্থানীয় ও প্রমাণ সময় জানা যায়।
৩) রাশিয়া বা কানাডায় অনেকগুলি সময় অঞ্চল ধরা হয়েছে কেন?
উত্তর: রাশিয়া বা কানাডার মতো বিশাল দেশগুলির পূর্ব-পশ্চিমে দ্রাঘিমাগত বিস্তার অত্যন্ত বেশি। বিস্তীর্ণ দ্রাঘিমার কারণে দেশের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মধ্যে স্থানীয় সময়ের পার্থক্য কয়েক ঘণ্টার হয়ে যায়। ফলে একটিমাত্র প্রমাণ সময় ধরে সমগ্র দেশের রেল, ডাক বা প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। এই অসুবিধা দূর করার জন্যই এই দেশগুলিকে একাধিক সময় অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে (যেমন রাশিয়ায় ১১টি)।
৪) স্থানীয় সময় ও প্রমাণ সময়ের পার্থক্য করো।
| বিষয় | স্থানীয় সময় | প্রমাণ সময় |
|---|---|---|
| ১. নির্ধারণের ভিত্তি | আকাশে মধ্যাহ্ন সূর্যের সর্বোচ্চ অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে স্থানীয় সময় স্থির করা হয়। | কোনো দেশের মধ্যবর্তী একটি নির্দিষ্ট প্রমাণ দ্রাঘিমারেখার স্থানীয় সময়কে সমগ্র দেশের প্রমাণ সময় হিসেবে ধরা হয়। |
| ২. সময়ের অভিন্নতা | একই দেশে একাধিক দ্রাঘিমারেখা থাকায় স্থানভেদে স্থানীয় সময় আলাদা হয়। | প্রমাণ সময় সমগ্র দেশে (বা একটি সময় অঞ্চলে) একই থাকে। |
| ৩. ব্যবহারিক গুরুত্ব | স্থানীয় সময় ধরে দেশের কাজ পরিচালনা করলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। | রেল, বিমান, বেতার প্রভৃতি সমস্ত কাজে প্রমাণ সময় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। |
নবম শ্রেণী ভূগোল তৃতীয় অধ্যায় দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-৫) | Class 9 Geography Chapter 3 Long Question Answer
১) ‘আন্তর্জাতিক তারিখরেখা একটি সম্পূর্ণ দ্রাঘিমারেখা নয়’ কেন? একে জলভাগের মধ্যে দিয়ে কল্পনা করা হয়েছে কীভাবে?
আন্তর্জাতিক তারিখরেখা সম্পূর্ণ দ্রাঘিমারেখা নয়: আন্তর্জাতিক তারিখরেখা মূলত ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে অনুসরণ করে টানা হলেও এটি সম্পূর্ণ দ্রাঘিমারেখা নয়। কারণ, এই রেখাটি যদি কোনো দ্বীপ বা মহাদেশের ওপর দিয়ে যেত, তবে একই স্থলভাগের দুই প্রান্তে দুটি আলাদা তারিখ সূচিত হত। এতে স্থানীয় মানুষদের দিন ও তারিখের হিসেবে চরম বিভ্রান্তি দেখা দিত। এই বিভ্রান্তি এড়াতেই একে স্থলভাগ এড়িয়ে জলভাগের ওপর দিয়ে বাঁকিয়ে কল্পনা করা হয়েছে।
জলভাগের মধ্যে দিয়ে কীভাবে কল্পনা করা হয়েছে:
১. সাইবেরিয়া ও আলাস্কার কাছে চুকচি সাগরে স্থলভাগ এড়ানোর জন্য একে পূর্ব দিকে ১১° বাঁকানো হয়েছে।
২. অ্যালুশিয়ান দ্বীপপুঞ্জের কাছে বিভ্রান্তি এড়াতে একে পশ্চিম দিকে প্রায় ৭° বাঁকানো হয়েছে।
৩. ফিজি, টোঙ্গা প্রভৃতি দ্বীপপুঞ্জের প্রশাসনিক অসুবিধা দূর করতে একে পূর্ব দিকে প্রায় ১১° বাঁকিয়ে সম্পূর্ণ জলভাগের ওপর দিয়ে কল্পনা করা হয়েছে।
২) স্থানীয় সময় ও প্রমাণ সময় বলতে কী বোঝ? ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমারেখা কোনটি? পৃথিবীর প্রমাণ দ্রাঘিমার সময় অপেক্ষা এই দ্রাঘিমার সময় কেন এগিয়ে?
স্থানীয় সময়: আকাশে মধ্যাহ্ন সূর্যের সর্বোচ্চ অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে কোনো স্থানে দুপুর ১২টা ধরে সেই স্থানের যে সময় নির্ধারণ করা হয়, তাকে স্থানীয় সময় বলে।
প্রমাণ সময়: কোনো দেশের মধ্যবর্তী একটি নির্দিষ্ট দ্রাঘিমারেখার স্থানীয় সময়কে যখন সমগ্র দেশের প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার জন্য সাধারণ সময় হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তখন তাকে প্রমাণ সময় বলে।
ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমারেখা: ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমারেখা হলো ৮২°৩০’ পূর্ব দ্রাঘিমা।
সময় এগিয়ে থাকার কারণ: পৃথিবীর প্রমাণ দ্রাঘিমা বা মূলমধ্যরেখার মান ০°। ভারত গ্রিনউইচের পূর্বে অবস্থিত হওয়ায় ভারতের সময় এগিয়ে থাকে। গ্রিনউইচ এবং ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমার মধ্যে দ্রাঘিমার পার্থক্য হলো ৮২°৩০’। এর জন্য সময়ের পার্থক্য হয় (৮২.৫ × ৪) মিনিট = ৩৩০ মিনিট বা ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। তাই পৃথিবীর প্রমাণ সময় অপেক্ষা ভারতের প্রমাণ সময় ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট এগিয়ে থাকে।
৩) ভূ-জালক কীভাবে পৃথিবীপৃষ্ঠের অবস্থান নির্ণয়ে সাহায্য করে? মহাবৃত্তের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
ভূ-জালকের সাহায্যে অবস্থান নির্ণয়: পৃথিবীপৃষ্ঠের ওপর পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত অক্ষরেখাগুলি এবং উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত দ্রাঘিমারেখাগুলি পরস্পরকে লম্বভাবে ছেদ করে জালের মতো যে কাল্পনিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, তাকে ভূ-জালক বলে। ভূপৃষ্ঠের কোনো স্থান ভূ-জালকের ঠিক কোন অক্ষরেখা এবং কোন দ্রাঘিমারেখার ছেদবিন্দুতে অবস্থিত, তা নির্ণয় করে অতি সহজেই ওই স্থানটির অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশের নিখুঁত অবস্থান জানা যায়।
মহাবৃত্তের দুটি বৈশিষ্ট্য:
১. মহাবৃত্ত হলো গোলকের পৃষ্ঠে অঙ্কিত সবচেয়ে বড়ো বৃত্ত, যার পরিধি গোলকের পরিধির সমান হয়।
২. মহাবৃত্তের কেন্দ্র এবং পৃথিবীর কেন্দ্র একই বিন্দুতে অবস্থান করে এবং এটি পৃথিবীকে দুটি সমান অংশে ভাগ করে।
৪) আন্তর্জাতিক তারিখরেখা এরূপ নামকরণ পেয়েছে কেন? পৃথিবীবাসীর কাছে রেখাটির গুরুত্ব কী?
উত্তর: মূলমধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে অগ্রসর হলে প্রতি ১° দ্রাঘিমার জন্য ৪ মিনিট সময়ের পার্থক্য হয়। ১৮০° দ্রাঘিমারেখায় পৌঁছালে পূর্ব দিকে ১২ ঘণ্টা এগিয়ে যায় এবং পশ্চিম দিকে ১২ ঘণ্টা পিছিয়ে যায়। ফলে ১৮০° দ্রাঘিমায় দুই দিকের মধ্যে মোট ২৪ ঘণ্টা বা ১ দিনের পার্থক্য সৃষ্টি হয়। এই রেখাটি অতিক্রম করলে দিন বা তারিখের হিসাব পরিবর্তন করতে হয় বলে একে আন্তর্জাতিক তারিখরেখা নামকরণ করা হয়েছে।
পৃথিবীবাসীর কাছে রেখাটির গুরুত্ব:
তারিখ সংক্রান্ত বিভ্রান্তি দূরীকরণ: পৃথিবী অবিরাম নিজ অক্ষে আবর্তন করছে। ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন সময়ে দিন ও রাত হয়। যদি এই নির্দিষ্ট রেখা না থাকত, তবে পৃথিবীর পূর্ব প্রান্ত ও পশ্চিম প্রান্তের মানুষের মধ্যে তারিখ ও বার নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতো।
পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ: বর্তমান যুগে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল, সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে এই তারিখরেখার ওপর নির্ভরশীল। পাইলট ও ক্যাপ্টেনরা এই রেখা পার হওয়ার সময় ঘড়ি ও তারিখ সমন্বয় করে নেন।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতি: বিশ্বায়নের এই যুগে বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য, চুক্তি এবং কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য একটি অভিন্ন তারিখের মানদণ্ড অত্যন্ত জরুরি। আন্তর্জাতিক তারিখরেখা সেই সুনির্দিষ্ট ভিত্তি প্রদান করে।
পঞ্জিকা ও সময় গণনার নির্ভুলতা: ক্যালেন্ডার বা পঞ্জিকা অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে একই সময়ে সঠিক বার ও তারিখ বজায় রাখতে এই রেখাটি ভৌগোলিক ঘড়ির মতো কাজ করে।
আন্তর্জাতিক তারিখরেখা পৃথিবীকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে বেঁধে রেখেছে, যার ফলে বৈশ্বিক যোগাযোগ এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম অত্যন্ত সুচারুভাবে পরিচালিত হয়।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আজকের এই পোস্টে তোমাদের সাথে নবম শ্রেণির ভূগোলের তৃতীয় অধ্যায় ‘পৃথিবীপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়’ থেকে বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর শেয়ার করা হল। তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতি এর ক্ষেত্রে এগুলি সহায়তা করবে, প্রয়োজনে সংগ্রহ করে রাখবে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী অন্যান্য সমস্ত বিষয়ের নোট (Class IX All Notes) |
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম Study গ্রুপে যুক্ত হোন -


