নবম শ্রেণীর (Class 9) ভূগোলের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘পৃথিবীর গতিসমূহ’ (Movements of the Earth)-এর মধ্যে পৃথিবীর আবর্তন ও পরিক্রমণ গতি, দিন-রাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি, ঋতু পরিবর্তন, অপসূর ও অনুসূর অবস্থান, এবং বিষুব ও সংক্রান্তির মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই অধ্যায় থেকে বাছাই করা কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথার উত্তর (One Liner) এবং বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচে দেওয়া হলো।
নবম শ্রেণী ভূগোল ‘পৃথিবীর গতিসমূহ’ (দ্বিতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন উত্তর
আজকের পোস্টে তোমাদের সাথে যেসব বাছাই করা প্রশ্ন উত্তর শেয়ার করা হচ্ছে, যেগুলো তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ ভাবে সহায়ক হবে।
নবম শ্রেণী ভূগোল ‘পৃথিবীর গতিসমূহ’ (দ্বিতীয় অধ্যায়) MCQ প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 2 Question Answer
১) পৃথিবীর আবর্তনগতি প্রমাণের পরীক্ষাটি—
(ক) ভিদাল-দ্য-লা-ব্লাশের
(খ) ফেরের
(গ) জিন ব্রুনের
(ঘ) ফুকোর
উত্তর: (ঘ) ফুকোর
২) পরিক্রমণের সময় পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে সবচেয়ে কম দূরত্ব হয়—
(ক) ৩ জানুয়ারি
(খ) ৪ জুলাই
(গ) ২১ মার্চ
(ঘ) ২১ জুন
উত্তর: (ক) ৩ জানুয়ারি
৩) পৃথিবী আবর্তন করছে—
(ক) পূর্ব থেকে পশ্চিমে
(খ) পশ্চিম থেকে পূর্বে
(গ) উত্তর থেকে দক্ষিণে
(ঘ) দক্ষিণ থেকে উত্তরে
উত্তর: (খ) পশ্চিম থেকে পূর্বে
৪) মহাবিষুব হয়—
(ক) ২১ মার্চ
(খ) ২৩ সেপ্টেম্বর
(গ) ২১ জুন
(ঘ) ২২ ডিসেম্বর
উত্তর: (ক) ২১ মার্চ
৫) একবছরের চেয়ে একদিন বড়ো—
(ক) বুধ গ্রহের
(খ) মঙ্গল গ্রহের
(গ) বৃহস্পতি গ্রহের
(ঘ) শুক্র গ্রহের
উত্তর: (ঘ) শুক্র গ্রহের
৬) উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড়ো হয়—
(ক) ২২ ডিসেম্বর
(খ) ২১ মার্চ
(গ) ২১ জুন
(ঘ) ২৩ সেপ্টেম্বর
উত্তর: (গ) ২১ জুন
৭) পূর্ব থেকে পশ্চিমে আবর্তিত হয়—
(ক) বুধ গ্রহ
(খ) শুক্র গ্রহ
(গ) নেপচুন গ্রহ
(ঘ) ইউরেনাস গ্রহ
উত্তর: (খ) শুক্র গ্রহ
৮) পৃথিবীর পরিক্রমণ বেগ বেশি হয়—
(ক) জলবিষুবের দিনে
(খ) মহাবিষুবের দিনে
(গ) অনুসুর অবস্থানে
(ঘ) অপসুর অবস্থানে
উত্তর: (গ) অনুসুর অবস্থানে
৯) বায়ুপ্রবাহের দিক্ বিক্ষেপে প্রভাব বিস্তারকারী বল হল—
(ক) নিউটন বল
(খ) বায়ুচাপের বল
(গ) কোরিওলিস বল
(ঘ) উষ্ণতার তারতম্যে সৃষ্ট বল
উত্তর: (গ) কোরিওলিস বল
১০) ২১ জুন থেকে ২২ ডিসেম্বর সূর্যের আপাতগতি হল—
(ক) উত্তরায়ণ
(খ) দক্ষিণায়ন
(গ) কর্কটসংক্রান্তি
(ঘ) মকরসংক্রান্তি
উত্তর: (খ) দক্ষিণায়ন
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
১১) প্রথম সূর্যোদয় হয় ভারতের—
(ক) রাজস্থানে
(খ) তামিলনাড়ুতে
(গ) পশ্চিমবঙ্গে
(ঘ) অরুণাচল প্রদেশে
উত্তর: (ঘ) অরুণাচল প্রদেশে
১২ পৃথিবীর পরিক্রমণ বেগ প্রতি সেকেন্ডে প্রায়—
(ক) ১০০ কিমি
(খ) ১২০ কিমি
(গ) ৩০ কিমি
(ঘ) ৫০ কিমি
উত্তর: (গ) ৩০ কিমি
১৩) আবর্তনের সময় প্রায় পৃথিবীর মতোই—
(ক) বুধ গ্রহের
(খ) শুক্র গ্রহের
(গ) মঙ্গল গ্রহের
(ঘ) বৃহস্পতি গ্রহের
উত্তর: (গ) মঙ্গল গ্রহের
১৪) পৃথিবীর আবর্তন গতিবেগ সর্বাধিক—
(ক) নিরক্ষরেখায়
(খ) কর্কট ও মকরক্রান্তি রেখায়
(গ) মেরুবৃত্তে
(ঘ) দুই মেরু বিন্দুতে
উত্তর: (ক) নিরক্ষরেখায়
নবম শ্রেণী ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় শুদ্ধ ও অশুদ্ধ প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 2 True False Question Answer
১) আবর্তন গতির প্রভাবে ঋতু পরিবর্তন হয়।
উত্তর: অশুদ্ধ [ ব্যাখ্যা: পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রভাবে দিন ও রাত হয়। ঋতু পরিবর্তন মূলত পৃথিবীর পরিক্রমণ গতির ফলে ঘটে। ]
২) ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড়ো।
উত্তর: শুদ্ধ [ ব্যাখ্যা: ২২ ডিসেম্বর সূর্য মকরক্রান্তি রেখার (২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশ) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়, তাই এই দিন দক্ষিণ গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড়ো এবং রাত সবচেয়ে ছোট হয়। ]
৩) কলকাতার আবর্তন বেগ লন্ডনের থেকে বেশি।
উত্তর: শুদ্ধ [ ব্যাখ্যা: কলকাতা নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় এখানকার আবর্তন বেগ বেশি। লন্ডন উচ্চ অক্ষাংশে অবস্থিত, তাই সেখানে পৃথিবীর আবর্তন বেগ তুলনামূলকভাবে কম। ]
৪) পৃথিবী পূর্ব থেকে পশ্চিমে ঘোরে।
উত্তর: অশুদ্ধ [ ব্যাখ্যা: পৃথিবী তার নিজের অক্ষের ওপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘোরে। ]
৫) বিষুব শব্দের অর্থ সমান দিন ও রাত্রি।
উত্তর: শুদ্ধ [ ব্যাখ্যা: ‘বিষুব’ কথাটির অর্থ হল সমান। ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখার ওপর লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় এই দু-দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত সমান (১২ ঘণ্টা দিন ও ১২ ঘণ্টা রাত) হয়। ]
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় শূন্যস্থানপূরণ প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 2 Fill The Blanks Question Answer
১) সূর্যের আপাত বার্ষিক গতিকে _________ বলা হয়।
উত্তর: রবিমার্গ
২) মেরুজ্যোতিকে দক্ষিণ গোলার্ধে _________ বলা হয়।
উত্তর: অরোরা অস্ট্রালিস
৩) ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখটিকে _________ বলে।
উত্তর: জলবিষুব
৪) পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব সবচেয়ে বেশি হয় ________ অবস্থানে।
উত্তর: অপসুর
৫) উষাকালের বিপরীত অবস্থা _______।
উত্তর: গোধূলি
নবম শ্রেণী ভূগোল ‘পৃথিবীর গতিসমূহ’ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 2 SAQ Question Answer
১) কোন্ গতির জন্য পৃথিবীর মধ্যভাগ স্ফীত হয়েছে?
উত্তর: আবর্তন গতি।
২) পৃথিবীর পরিধি পরিমাপে এরাটোসথেনিস কোন্ একক ব্যবহার করেন?
উত্তর: স্টেডিয়া।
৩) পৃথিবীরপৃষ্ঠের কোথায় ঋতু পরিবর্তন হয় না?
উত্তর: নিরক্ষরেখায় বা নিরক্ষীয় অঞ্চলে।
৪) নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর আবর্তন গতিবেগ কত?
উত্তর: প্রায় ১৬৭০ কিমি/ঘণ্টা।
৫) ‘নিশীথ সূর্যের দেশ’ কাকে বলে?
উত্তর: নরওয়েকে।
নবম শ্রেণী ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-২) | Class 9 Chapter 2 Geography Short Question Answer
১) অনুসুর অবস্থান কাকে বলে?
উত্তর: উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যকে পরিক্রমণ করার সময় ৩ জানুয়ারি সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্ব সবচেয়ে কম (প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি) হয়। পৃথিবীর এই অবস্থানকে অনুসুর (Perihelion) অবস্থান বলে।
২) কোরিওলিস বল কী?
উত্তর: পৃথিবীর আবর্তন গতির কারণে যে কেন্দ্রাতিগ বলের সৃষ্টি হয়, তার প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু ও সমুদ্রস্রোতের দিক বিক্ষেপ ঘটে। ফরাসি বিজ্ঞানী কোরিওলিসের নামানুসারে এই দিকবিক্ষেপকারী বলকে কোরিওলিস বল বলে।
৩) পৃথিবীতে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হওয়ার মূল কারণ কী?
উত্তর: পৃথিবীর আকৃতি গোলাকার এবং এটি নিজের অক্ষের ওপর পশ্চিম থেকে পূর্বে অবিরাম আবর্তন করছে। আবর্তনের সময় পৃথিবীর যে অংশ সূর্যের সামনে আসে সেখানে সূর্যোদয় এবং যে অংশ আড়ালে চলে যায় সেখানে সূর্যাস্ত হয়। এটিই সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মূল কারণ।
৪) ঊষা ও গোধূলি কী?
উত্তর: সূর্যোদয়ের ঠিক আগের সময়কাল, যখন সূর্য দিগন্তরেখার নীচে থাকলেও তার আলোয় চারদিক মৃদু আলোকিত থাকে, তাকে ঊষা বলে। একইভাবে সূর্যাস্তের ঠিক পরের মৃদু আলোকিত সময়কালকে গোধূলি বলে।
৫) পৃথিবীর আবর্তনের দুটি ফলাফল উল্লেখ করো।
উত্তর: পৃথিবীর আবর্তনের দুটি প্রধান ফলাফল হল:
১. পৃথিবীতে দিন ও রাত্রির পর্যায়ক্রমিক সংঘটন।
২. বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের দিকবিক্ষেপ।
৬) লিপইয়ার কী?
উত্তর: পৃথিবীর সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড। হিসাবের সুবিধার জন্য ৩৬৫ দিনে এক বছর ধরা হয় এবং বাকি প্রায় ৬ ঘণ্টা সময় প্রতি ৪ বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাসের সাথে ১ দিন যোগ করে ৩৬৬ দিনে বছর ধরা হয়। এই বছরটিকে লিপইয়ার বা অধিবর্ষ বলে।
৭) ছায়াবৃত্ত বলতে কী বোঝো?
উত্তর: আবর্তন গতির ফলে পৃথিবীর যে অংশ সূর্যের সামনে থাকে সেখানে দিন এবং বিপরীত অন্ধকার অংশে রাত হয়। ভূপৃষ্ঠের ওপর দিন ও রাতের এই বিভাজক সীমারেখাকে ছায়াবৃত্ত (Circle of Illumination) বলে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-৩) | Class 9 Geography Chapter 2 Question Answer
১) আমরা পৃথিবীর আবর্তনগতি অনুভব করি না কেন ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আমরা পৃথিবীর আবর্তন গতি বুঝতে পারি না, কারণ:
১. পৃথিবীর বিশাল আকারের তুলনায় মানুষের আকার অতি নগণ্য।
২. পৃথিবীর আবর্তনের সাথে সাথে পৃথিবীর ওপরের সমস্ত বস্তু এবং চারপাশের বায়ুমণ্ডলও একই গতিতে আবর্তিত হচ্ছে।
৩. আমাদের সামনে স্থির বা স্থিতিশীল এমন কোনো বস্তু নেই, যার সাপেক্ষে আমরা পৃথিবীর এই আবর্তন গতি বুঝতে পারি।
২) অপসুর ও অনুসুর অবস্থানের পার্থক্য করো।
উত্তর: ১. সময়কাল: ৪ জুলাই অপসুর অবস্থান হয় এবং ৩ জানুয়ারি অনুসুর অবস্থান হয়।
২. দূরত্ব: অপসুর অবস্থানে সূর্য ও পৃথিবীর দূরত্ব সর্বাধিক (১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিমি) থাকে। অনুসুর অবস্থানে এই দূরত্ব সর্বনিম্ন (১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিমি) থাকে।
৩. পৃথিবীর পরিক্রমণ বেগ: অপসুর অবস্থানে পৃথিবীর পরিক্রমণ বেগ কিছুটা কমে যায়, কিন্তু অনুসুর অবস্থানে পৃথিবীর পরিক্রমণ বেগ বৃদ্ধি পায়।
৩) সমুদ্রস্রোতের দিক্ বিক্ষেপের কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পৃথিবীর আবর্তন গতির কারণে সৃষ্ট কোরিওলিস বলের প্রভাবে বায়ু ও সমুদ্রস্রোত সোজাপথে প্রবাহিত হতে পারে না। ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী, এই বলের প্রভাবে সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে তার ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে তার বাঁদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। এটাই সমুদ্রস্রোতের দিক বিক্ষেপের মূল কারণ।
৪) নিরক্ষরেখায় ঋতুপরিবর্তন হয় না কেন—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্যরশ্মি সারাবছর প্রায় লম্বভাবে কিরণ দেয়। এর ফলে সেখানে সারাবছর দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান (১২ ঘণ্টা দিন ও ১২ ঘণ্টা রাত) থাকে এবং তাপমাত্রার বিশেষ কোনো পরিবর্তন বা হেরফের হয় না। সারাবছরই উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল বিরাজ করায় এই অঞ্চলে কোনো ঋতু পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় না।
৫) পৃথিবীর আবর্তনগতি বিষুবরেখা থেকে মেরুর দিকে কমতে থাকে কেন ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পৃথিবীর আকৃতি সম্পূর্ণ গোল নয়, এটি একটি অভিগত গোলক। নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখায় পৃথিবীর পরিধি সবচেয়ে বেশি। কিন্তু নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে ক্রমশ পরিধি কমতে থাকে এবং মেরুবিন্দুতে তা শূন্য হয়ে যায়। পৃথিবী তার অক্ষে একবার পূর্ণ আবর্তন করতে সর্বত্র ২৪ ঘণ্টা সময় নেয়। তাই, বেশি পরিধিযুক্ত নিরক্ষীয় অঞ্চলে আবর্তন বেগ সবচেয়ে বেশি (প্রায় ১৬৭০ কিমি/ঘণ্টা) হয় এবং মেরুর দিকে পরিধি কমার সাথে সাথে আবর্তন বেগও কমতে থাকে।
নবম শ্রেণী ভূগোল দ্বিতীয় অধ্যায় দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-৫) | Class 9 Geography Chapter 2 Long Question Answer
১) পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর: পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রধান ফলাফলগুলি হল:
১. দিন ও রাত্রি সংঘটন: আবর্তন গতির ফলে পৃথিবীর যে দিকটি সূর্যের সামনে আসে সেখানে দিন এবং বিপরীত দিকে রাত হয়।
২. জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি: পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ বল এবং চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণে পৃথিবীতে জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি হয়।
৩. বায়ু ও সমুদ্রস্রোতের দিকবিক্ষেপ: আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কোরিওলিস বলের প্রভাবে বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাঁদিকে বেঁকে যায় (ফেরেলের সূত্র)।
৪. সময় নির্ধারণ: আবর্তনের ফলে সূর্যোদয়, মধ্যাহ্ন ও সূর্যাস্ত হয়, যার ভিত্তিতে স্থানীয় সময় ও প্রমাণ সময় নির্ধারণ করা হয়।
৫. উদ্ভিদ ও প্রাণিজগতের সৃষ্টি: দিন-রাত্রির পর্যায়ক্রমিক আবর্তনের ফলে পৃথিবীতে তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় থাকে, যা জীবজগতের সৃষ্টি ও বিকাশে সাহায্য করেছে।
২) পৃথিবীর আবর্তন গতির সপক্ষে চিত্রসহ যে-কোনো দুটি প্রমাণ লেখো।
১. ফুঁকোর দোলক পরীক্ষা (Foucault’s Pendulum Experiment): পৃথিবীর আবর্তন গতির সবচেয়ে বড় এবং অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হলো ফরাসি পদার্থবিদ্যাবিদ জাঁ লিও ফুঁকোর (Jean Bernard Léon Foucault) দোলক পরীক্ষা।
পরীক্ষার বর্ণনা: ১৮৫১ সালে ফুঁকো প্যারিসের প্যান্থিয়ন (Pantheon) গির্জার চূড়া থেকে ৬১ মিটার দীর্ঘ একটি সরু ইস্পাতের তারের সাহায্যে ২৮ কেজি ওজনের একটি লোহার বল ঝুলিয়ে দেন। বলটির একেবারে নীচের দিকে একটি আলপিন আটকানো ছিল। এরপর মেঝেতে একটি বৃত্তাকার বেদি তৈরি করে তার ওপর কিছুটা বালি ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে দুলন্ত বলের পিনটি বালিতে দাগ কাটতে পারে। এরপর দোলকটিকে উত্তর-দক্ষিণ দিক বরাবর দুলিয়ে দেওয়া হয়।

পর্যবেক্ষণ: দেখা যায় যে, দোলকটি ক্রমশ তার দিক পরিবর্তন করছে এবং পিনটি বালির ওপর যে দাগ কাটছে তা ক্রমশ পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে সরে যাচ্ছে।
সিদ্ধান্ত: বিজ্ঞানের সূত্র অনুযায়ী, স্বাধীনভাবে দোদুল্যমান কোনো দোলকের নিজস্ব দিক পরিবর্তন করার ক্ষমতা নেই। যেহেতু দোলকটির দিক পরিবর্তন করার ক্ষমতা নেই, অথচ পিনের দাগগুলি পূর্ব থেকে পশ্চিমে সরে যাচ্ছে, এর অর্থ হলো— দোলকের নীচের মেঝে অর্থাৎ পৃথিবী নিজেই পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে।
২. উঁচু স্থান থেকে পতনশীল বস্তুর পরীক্ষা: কোনো স্থির উঁচু স্থান থেকে একটি ভারী পাথর নীচে ফেললে সেটি সোজা নীচে না পড়ে কিছুটা পূর্ব দিকে ঘেঁষে মাটিতে পড়ে। পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলেই এটি ঘটে, কারণ ওপরের অংশের আবর্তন বেগ নীচের অংশের চেয়ে সামান্য বেশি।
৩) চিত্রসহ কোরিওলিস বল ও বায়ুর দিক্ বিক্ষেপের সম্পর্ক নির্ণয় করো।
উত্তর: পৃথিবীর আবর্তনের কারণে সৃষ্ট যে শক্তির প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে সচল বস্তুর (যেমন- বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত) সোজা পথে না গিয়ে কিছুটা বেঁকে যায় বা দিকবিক্ষেপ ঘটে, তাকে কোরিওলিস বল বলে। ১৮৩৫ সালে ফরাসি গণিতবিদ ও পদার্থবিদ গুস্তাভ গ্যাসপার্ড কোরিওলিস (G.G. Coriolis) সর্বপ্রথম এই বলের কথা উল্লেখ করেন।
বায়ুর দিক্ বিক্ষেপের সাথে কোরিওলিস বলের সম্পর্ক: কোরিওলিস বল বায়ুপ্রবাহের নিজস্ব গতিবেগের কোনো পরিবর্তন করতে পারে না, এটি কেবল বায়ুর প্রবাহের দিক পরিবর্তন করে। বায়ুর দিক্ বিক্ষেপের সাথে এই বলের মূল সম্পর্কগুলি নীচে আলোচনা করা হলো:
১. দিক্ বিক্ষেপের নিয়ম (ফেরেলের সূত্র): কোরিওলিস বলের প্রভাবে পৃথিবীর উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু উচ্চচাপ বলয় থেকে নিম্নচাপ বলয়ের দিকে সোজা পথে প্রবাহিত হতে পারে না। এই বলের প্রভাবে বায়ু উত্তর গোলার্ধে তার ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে তার বাঁদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়। মার্কিন আবহবিদ উইলিয়াম ফেরেল এই সূত্রটি আবিষ্কার করেন বলে একে ‘ফেরেলের সূত্র’ (Ferrel’s Law) বলা হয়।

২. অক্ষাংশের প্রভাব: কোরিওলিস বলের মান অক্ষাংশের মানের উপর নির্ভরশীল। নিরক্ষরেখায় (০° অক্ষাংশ) পৃথিবীর আবর্তন বেগ সর্বাধিক হলেও কোরিওলিস বলের মান শূন্য (০) হয়। তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে বায়ুর কোনো দিক্ বিক্ষেপ ঘটে না। কিন্তু নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে কোরিওলিস বলের প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং দুই মেরু অঞ্চলে (৯০° অক্ষাংশে) এই বল সর্বাধিক হওয়ায় বায়ুর দিক্ বিক্ষেপও সেখানে সবচেয়ে বেশি হয়।
৩. বায়ুর গতির সাথে সমানুপাতিক সম্পর্ক: কোরিওলিস বল বায়ুর গতিবেগের সাথে সমানুপাতিকভাবে কাজ করে। অর্থাৎ, সমচাপ রেখার ঢাল বেশি হলে বায়ুর গতিবেগ যেমন বাড়ে, তার সাথে পাল্লা দিয়ে কোরিওলিস বলের প্রভাবও বাড়ে এবং বায়ুর দিক্ বিক্ষেপও তত বেশি মাত্রায় ঘটে।
৪. সমকোণে ক্রিয়া: কোরিওলিস বল সর্বদা বায়ুপ্রবাহের দিকের সাথে সমকোণে (৯০° কোণে) কাজ করে। যেহেতু এটি সমকোণে কাজ করে, তাই এটি বায়ুর মূল গতিবেগকে বাড়াতে বা কমাতে পারে না, এটি কেবল সচল বায়ুর দিককে বিক্ষিপ্ত করে।
উপসংহার: ভূপৃষ্ঠে নিয়ত বায়ুপ্রবাহ (যেমন- আয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু) থেকে শুরু করে আকস্মিক বায়ুপ্রবাহ (ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাত) সবকিছুর দিক নির্ধারণের প্রধান নিয়ন্ত্রক হলো পৃথিবীর আবর্তন গতির ফলে উদ্ভূত এই কোরিওলিস বল।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
৪) চিত্রসহ পৃথিবীর অপসুর ও অনুসুর অবস্থান বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: পৃথিবী সূর্যকে একটি উপবৃত্তাকার (Elliptical) কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে এবং সূর্য এই উপবৃত্তের কেন্দ্র বা ফোকাসে (Focus) অবস্থান করে। এই উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কারণে, বছরভর সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব সর্বদা সমান থাকে না। দূরত্বের এই হ্রসবৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে পৃথিবীর দুটি বিশেষ অবস্থান চিহ্নিত করা যায়: অপসুর এবং অনুসুর।
১. অনুসুর অবস্থান (Perihelion): উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনে সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্ব সবচেয়ে কম হয়। পৃথিবীর এই অবস্থানকে অনুসুর অবস্থান বলা হয়।
- তারিখ: প্রতি বছর ৩রা জানুয়ারি পৃথিবী অনুসুর অবস্থানে থাকে।
- দূরত্ব: এই সময় সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্ব কমে দাঁড়ায় প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ কিলোমিটার।
- প্রভাব: কেপলারের সূত্র অনুযায়ী, সূর্যের কাছাকাছি আসার কারণে মহাকর্ষীয় টান বৃদ্ধি পায়। ফলে এই সময় পৃথিবীর পরিক্রমণ বেগ বা কক্ষীয় বেগ (Orbital velocity) সবচেয়ে বেশি থাকে।

২. অপসুর অবস্থান (Aphelion): উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় বছরের অন্য একটি নির্দিষ্ট দিনে সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্ব সর্বাধিক হয়। পৃথিবীর এই অবস্থানকে অপসুর অবস্থান বলা হয়।
- তারিখ: প্রতি বছর ৪ঠা জুলাই পৃথিবী অপসুর অবস্থানে থাকে।
- দূরত্ব: এই সময় সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্ব বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৫ কোটি ২০ লক্ষ কিলোমিটার।
- প্রভাব: সূর্য থেকে দূরত্ব সর্বাধিক হওয়ায় মহাকর্ষীয় টান কিছুটা কমে যায়। ফলে এই সময় পৃথিবীর পরিক্রমণ বেগ বা কক্ষীয় বেগ সবচেয়ে কম থাকে।
৫) চিত্রসহ সূর্যের বার্ষিক আপাতগতি বা রবিমার্গ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পৃথিবী নিজের মেরুরেখার ওপর পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করতে করতে একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। কিন্তু পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয়, সূর্যই যেন সারা বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট পথে উত্তর থেকে দক্ষিণে এবং দক্ষিণ থেকে উত্তরে যাতায়াত করছে। আকাশের গায়ে সূর্যের এই আপাত বার্ষিক গতিপথকে রবিমার্গ (Ecliptic) বা সূর্যের বার্ষিক আপাতগতি বলা হয়। (‘রবি’ অর্থ সূর্য এবং ‘মার্গ’ অর্থ পথ)।
মূল কারণ: পৃথিবীর মেরুরেখা তার কক্ষতলের সঙ্গে সর্বদা ৬৬.৫° (৬৬ ১/২°) কোণে হেলে থেকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। এই হেলানো অবস্থায় পরিক্রমণ করার ফলেই সারা বছর ধরে পৃথিবীর নিরক্ষরেখা, কর্কটক্রান্তি রেখা এবং মকরক্রান্তি রেখার ওপর সূর্যের লম্বরশ্মি পড়ার স্থান পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত হতে থাকে।
রবিমার্গের প্রধান পর্যায়সমূহ: সূর্যের এই বার্ষিক আপাতগতিকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা যায় এবং এর চারটি প্রধান পর্যায় রয়েছে:
উত্তরায়ণ (Northward Movement): ২২ ডিসেম্বরের পর থেকে ২১ জুন পর্যন্ত দীর্ঘ ৬ মাস ধরে সূর্য ক্রমশ উত্তর গোলার্ধের দিকে সরে গিয়ে লম্বভাবে কিরণ দিতে থাকে। সূর্যের এই উত্তরমূখী আপাতগতিকে উত্তরায়ণ বলে।
কর্কটসংক্রান্তি: ২১ জুন সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার (২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা) ওপর একেবারে লম্বভাবে কিরণ দেয়। এটিই সূর্যের উত্তরায়ণের শেষ সীমা।

দক্ষিণায়ণ (Southward Movement): ২১ জুনের পর থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সূর্য ক্রমশ দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে সরে গিয়ে কিরণ দিতে শুরু করে। সূর্যের এই দক্ষিণমূখী আপাতগতিকে দক্ষিণায়ণ বলে।
মকরসংক্রান্তি: ২২ ডিসেম্বর সূর্য মকরক্রান্তি রেখার (২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। এটি সূর্যের দক্ষিণায়ণের শেষ সীমা।
বিষুব (Equinox): সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়ণ চলাকালে বছরে দুটি দিন—২১ মার্চ (মহাবিষুব) এবং ২৩ সেপ্টেম্বর (জলবিষুব) সূর্য ঠিক নিরক্ষরেখার (০°) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। এই দুই দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান হয়।
উপসংহার: পৃথিবী থেকে দেখলে সূর্যের এই আপাতগতি উত্তরে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩.৫° উত্তর) থেকে দক্ষিণে মকরক্রান্তি রেখা (২৩.৫° দক্ষিণ) পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে। এই সীমানার বাইরে সূর্যকে কখনো সরাসরি মাথার ওপর দেখা যায় না।
৬) পৃথিবীতে কীভাবে ঋতু পরিবর্তন হয় তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তনের প্রধান কারণগুলি হল পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি এবং পৃথিবীর অক্ষের ৬৬.৫° কোণে হেলানো অবস্থান।
পরিক্রমণের সময় পৃথিবীর অক্ষ সর্বদা একই দিকে হেলে থাকায়, বছরের বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে। যে অংশ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে, সেখানে সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে এবং দিন বড়ো হয়। ফলে সেখানে তাপ বেশি হওয়ায় গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে। বিপরীত গোলার্ধে তখন সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে পড়ে এবং দিন ছোট হওয়ায় সেখানে শীতকাল বিরাজ করে।
যেমন, ২১ জুন উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকায় সেখানে গ্রীষ্মকাল এবং দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল হয়। আবার ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকায় সেখানে গ্রীষ্মকাল এবং উত্তর গোলার্ধে শীতকাল হয়। এভাবেই পর্যায়ক্রমে গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত ও বসন্ত ঋতুর পরিবর্তন ঘটে। (শিক্ষার্থীরা এখানে কক্ষপথে পৃথিবীর চারটি প্রধান অবস্থানের চিত্র অঙ্কন করে ঋতুচক্র বোঝাবে)।
৭) কর্কট ও মকরসংক্রান্তিতে পৃথিবীতে দিন ও রাত্রির দৈর্ঘ্যের অবস্থা কীরূপ হয় বোঝাও।
উত্তর: পৃথিবীর মেরুরেখা তার কক্ষতলের সঙ্গে ৬৬.৫° কোণে হেলে থাকার কারণে, বার্ষিক গতির সময় পৃথিবীর বিভিন্ন অক্ষাংশে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। কর্কট ও মকরসংক্রান্তিতে এর প্রভাব নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
কর্কটসংক্রান্তি (২১ জুন): এই দিন সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার (২৩.৫° উঃ) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। এর ফলে উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড়ো (প্রায় ১৪ ঘণ্টা) এবং রাত সবচেয়ে ছোট (প্রায় ১০ ঘণ্টা) হয়। সুমেরুবৃত্ত থেকে সুমেরুবিন্দু পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টাই দিন থাকে। দক্ষিণ গোলার্ধে এর ঠিক বিপরীত অবস্থা, অর্থাৎ দিন সবচেয়ে ছোট ও রাত সবচেয়ে বড়ো হয়।
মকরসংক্রান্তি (২২ ডিসেম্বর): এই দিন সূর্য মকরক্রান্তি রেখার (২৩.৫° দঃ) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। এর ফলে দক্ষিণ গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড়ো এবং রাত সবচেয়ে ছোট হয়। কুমেরুবৃত্ত থেকে কুমেরুবিন্দু পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টাই দিন থাকে। তখন উত্তর গোলার্ধে দিন সবচেয়ে ছোট এবং রাত সবচেয়ে বড়ো হয়। (শিক্ষার্থীরা এখানে ২১ জুন ও ২২ ডিসেম্বরে দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্যের পার্থক্য বোঝাতে পৃথিবীর দুটি চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করবে)।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আজকের এই পোস্টে তোমাদের সাথে নবম শ্রেণির ভূগোলের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘পৃথিবীর গতিসমূহ’ থেকে বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর শেয়ার করা হল। তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতি এর ক্ষেত্রে এগুলি সহায়তা করবে, প্রয়োজনে সংগ্রহ করে রাখবে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী অন্যান্য সমস্ত বিষয়ের নোট (Class IX All Notes) |
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম Study গ্রুপে যুক্ত হোন -


