নবম শ্রেণির (Class 9) ভূগোলের প্রথম অধ্যায় ‘গ্রহরূপে পৃথিবী’ (Earth as a Planet)-এর মধ্যে পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি (জিওড), নিরক্ষীয় ও মেরু ব্যাস, পৃথিবীর গোলকত্বের প্রমাণ (যেমন- বেডফোর্ড খালের পরীক্ষা), এবং আধুনিক জিপিএস (GPS) ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই অধ্যায় থেকে বাছাই করা কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথার উত্তর (One Liner) এবং বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচে দেওয়া হলো।
নবম শ্রেণী ভূগোল ‘গ্রহরূপে পৃথিবী’ (প্রথম অধ্যায়) প্রশ্ন উত্তর
আজকের পোস্টে তোমাদের সাথে যেসব বাছাই করা প্রশ্ন উত্তর শেয়ার করা হচ্ছে, যেগুলো তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ ভাবে সহায়ক হবে।
নবম শ্রেণী ভূগোল ‘গ্রহরূপে পৃথিবী’ (প্রথম অধ্যায়) MCQ প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 1 Question Answer
১) পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি—
(ক) উপবৃত্তাকার
(খ) গোলাকার
(গ) অধিবৃত্তাকার
(ঘ) জিয়ড
উত্তর: (ঘ) জিয়ড
২) ১৫১৯ সালে ম্যাগেলানের যাত্রা শুরু হয়—
(ক) ফ্রান্স থেকে
(খ) স্পেন থেকে
(গ) ইটালি থেকে
(ঘ) জার্মানি থেকে
উত্তর: (খ) স্পেন থেকে
৩) পৃথিবীর পরিধি প্রথম পরিমাপ করেন—
(ক) টলেমি
(খ) অ্যারিস্টটল
(গ) কোপারনিকাস
(ঘ) এরাটোসথেনিস
উত্তর: (ঘ) এরাটোসথেনিস
৪) পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস—
(ক) ১২,৭৫৭ কিমি
(খ) ১২,৫১২ কিমি
(গ) ১১,৭৫৭ কিমি
(ঘ) ১২,৭১৪ কিমি
উত্তর: (ক) ১২,৭৫৭ কিমি
৫) পৃথিবীর মেরুদেশীয় ব্যাস—
(ক) ১২,৮০০ কিমি
(খ) ১২,৭১৪ কিমি
(গ) ১২,৭৫৭ কিমি
(ঘ) ৬,৪০০ কিমি
উত্তর: (খ) ১২,৭১৪ কিমি
৬) এরাটোসথেনিসের হিসাবে পৃথিবীর পরিধির পরিমাপ ছিল—
(ক) ৪০,০০০ কিমি
(খ) ৪৬,২৫০ কিমি
(গ) ৪০,০০৯ কিমি
(ঘ) ৪০,০১৩ কিমি
উত্তর: (খ) ৪৬,২৫০ কিমি
৭) সৌরজগতে বামন গ্রহের সংখ্যা—
(ক) ৯টি
(খ) ৫টি
(গ) অসংখ্য
(ঘ) ১৩টি
উত্তর: (খ) ৫টি
৮) বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গলকে বলা হয় সৌরজগতের—
(ক) বহির্ভাগের গ্রহ
(খ) অন্তর্ভাগের গ্রহ
(গ) বামন গ্রহ
(ঘ) গ্রহাণুপুঞ্জ
উত্তর: (খ) অন্তর্ভাগের গ্রহ
৯) ক্ষেত্রমানে সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহটি হল—
(ক) বৃহস্পতি
(খ) পৃথিবী
(গ) শনি
(ঘ) ইউরেনাস
উত্তর: (ক) বৃহস্পতি
১০) সূর্য যে ছায়াপথে অবস্থান করছে, তা হল—
(ক) নাসা
(খ) ইসরো
(গ) আকাশগঙ্গা
(ঘ) মার্স অরবিটার মিশন
উত্তর: (গ) আকাশগঙ্গা
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
১১) সৌরজগতে ‘নীল গ্রহ’ বলা হয়—
(ক) মঙ্গলগ্রহকে
(খ) পৃথিবী গ্রহকে
(গ) ইউরেনাস গ্রহকে
(ঘ) শুক্র গ্রহকে
উত্তর: (খ) পৃথিবী গ্রহকে
১২) পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায়—
(ক) ১৮° সেন্টিগ্রেড
(খ) ১৪° সেন্টিগ্রেড
(গ) ১৫° সেন্টিগ্রেড
(ঘ) ২২° সেন্টিগ্রেড
উত্তর: (গ) ১৫° সেন্টিগ্রেড
১৩) পৃথিবীর গড় ব্যাস প্রায়—
(ক) ৬,৪০০ কিমি
(খ) ১২,৮০০ কিমি
(গ) ১২,৫০০ কিমি
(ঘ) ১২,৭৫০ কিমি
উত্তর: (খ) ১২,৮০০ কিমি
১৪) GPS-এর পুরো নাম—
(ক) গ্লোবাল প্লেসমেন্ট সিস্টেম
(খ) জিওগ্রাফিক্যাল পজিশনিং সিস্টেম
(গ) গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম
(ঘ) জিওগ্রাফিক্যাল প্লেসমেন্ট সিস্টেম
উত্তর: (গ) গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম
১৫) পৃথিবীর গড় পরিধি প্রায়—
(ক) ১২,৮০০ কিমি
(খ) ৪০,০০০ কিমি
(গ) ৪০,২০০ কিমি
(ঘ) ৬,৪০০ কিমি
উত্তর: (খ) ৪০,০০০ কিমি
১৬) GPS-এর সাহায্যে পরিমাপ করা হয়—
(ক) উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, অক্ষাংশ
(খ) উচ্চতা, উষ্মতা, দ্রাঘিমা
(গ) অক্ষাংশ, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে দূরত্ব, দ্রাঘিমা
(ঘ) অক্ষাংশ, দ্রাঘিমা, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা
উত্তর: (ঘ) অক্ষাংশ, দ্রাঘিমা, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা
১৭) GPS-এ কার্যকরী উপগ্রহ সংখ্যা—
(ক) ২১টি
(খ) ২৪টি
(গ) ২০টি
(ঘ) ১৮টি
উত্তর: (খ) ২৪টি
নবম শ্রেণী ভূগোল প্রথম অধ্যায় শুদ্ধ ও অশুদ্ধ প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 1 True False Question Answer
১) চাঁদ পৃথিবীর আলোয় আলোকিত হয়।
উত্তর: [অ] বা অশুদ্ধ [ব্যাখ্যা: চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই, চাঁদ সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়।]
২) পৃথিবীর সর্বত্র একই সাথে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত হয়।
উত্তর: [অ] বা অশুদ্ধ [ব্যাখ্যা: পৃথিবীর আকৃতি গোলাকার হওয়ায় এর সর্বত্র একই সময়ে সূর্যের আলো পড়ে না। পৃথিবীর যে অংশ সূর্যের সামনে আসে সেখানে দিন (সূর্যোদয়) এবং বিপরীত অংশে রাত (সূর্যাস্ত) হয়।]
৩) পৃথিবী একটি বামনগ্রহের উদাহরণ।
উত্তর: [অ] বা অশুদ্ধ [ব্যাখ্যা: পৃথিবী একটি কুলীন গ্রহ বা প্রধান গ্রহ। সৌরজগতের একটি পরিচিত বামন গ্রহের উদাহরণ হল প্লুটো।]
৪) পৃথিবীর মেরুপ্রদেশের অভিকর্ষজ মান বেশি।
উত্তর: [শু] বা শুদ্ধ [ব্যাখ্যা: পৃথিবী সম্পূর্ণ গোলাকার না হয়ে মেরুপ্রদেশে সামান্য চাপা। এর ফলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলের তুলনায় মেরু অঞ্চলের দূরত্ব কম হওয়ায় সেখানে অভিকর্ষজ টান বেশি থাকে।]
৫) ১৭৮১ সালে হার্সেল ইউরেনাস গ্রহটির অস্তিত্বের প্রমাণ দেন।
উত্তর: [শু] বা শুদ্ধ [ব্যাখ্যা: জ্যোতির্বিজ্ঞানী উইলিয়াম হার্শেল ১৭৮১ সালে নিজের তৈরি দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে ইউরেনাস গ্রহটি আবিষ্কার করেছিলেন।]
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী ভূগোল প্রথম অধ্যায় শূন্যস্থানপূরণ প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 1 Fill The Blanks Question Answer
১)_______ ও শুক্রগ্রহের কোনো উপগ্রহ নেই।
উত্তর: বুধ।
২) চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের ওপর _______ ছায়া পড়ে।
উত্তর: পৃথিবীর।
৩) পৃথিবীর অনিয়মিত আকৃতির জন্য দায়ী পৃথিবীর _______ ।
উত্তর: অক্ষাংশ ভেদে আবর্তন গতির তারতম্য।
৪) এরাটোসথেনিস সূর্যরশ্মির ______ পার্থক্য থেকে পৃথিবীর পরিধি নির্ণয় করেছিলেন।
উত্তর: পতনকোণ।
৫) পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ যাতে ______ অস্তিত্ব আছে।
উত্তর: প্রাণের।
নবম শ্রেণী ভূগোল ‘গ্রহরূপে পৃথিবী’ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Geography Chapter 1 SAQ Question Answer
১) উপকূলের দিকে এগিয়ে আসা জাহাজের কোন্ অংশ প্রথম দেখা যায়?
উত্তর: মাস্তুল।
২) পৃথিবীর প্রকৃত আকার কীরূপ?
উত্তর: পৃথিবীর আকার পৃথিবীর মতোই বা জিঅড।
৩) পৃথিবীর পরিধি পরিমাপে এরাটোসথেনিস কোন্ একক ব্যবহার করেন?
উত্তর: স্টেডিয়া।
৪) অতিবেগুনি রশ্মির হাত থেকে বায়ুমণ্ডলের কোন্ স্তর জীবজগৎকে বাঁচায়?
উত্তর: ওজোনস্তর।
৫) সঠিক তথ্য আহরণে মহাকাশে কী প্রেরণ করা হয়?
উত্তর: কৃত্রিম উপগ্রহ।
নবম শ্রেণী ভূগোল প্রথম অধ্যায় সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-২) | Class 9 Chapter 1 Geography Short Question Answer
১) জিয়ড কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীর আকৃতি সম্পূর্ণ গোল নয়, উত্তর ও দক্ষিণ মেরু সামান্য চাপা এবং নিরক্ষীয় অঞ্চল কিছুটা স্ফীত। পৃথিবীর এই নিজস্ব আকৃতিকে অন্য কোনো জ্যামিতিক আকারের সাথে মেলানো যায় না বলে একে ‘জিয়ড’ (Geoid) বলা হয়, যার অর্থ হল ‘পৃথিবীর মতো আকারবিশিষ্ট’।
২) সৌরজগতের অন্তর্ভাগ ও বহির্ভাগের গ্রহগুলির নাম কী কী?
উত্তর: অন্তর্ভাগের গ্রহ: বুধ, শুক্র, পৃথিবী ও মঙ্গল। বহির্ভাগের গ্রহ: বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন।
৩) পৃথিবীর নিরক্ষীয় ও মেরুব্যাসের পার্থক্য কত?
উত্তর: পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস ১২,৭৫৭ কিমি এবং মেরু ব্যাস ১২,৭১৪ কিমি। অতএব, পৃথিবীর নিরক্ষীয় ও মেরুব্যাসের পার্থক্য হল (১২,৭৫৭ – ১২,৭১৪) = ৪৩ কিলোমিটার।
৪) দিগন্তরেখা কী?
উত্তর: ফাঁকা মাঠে বা সমুদ্রের ধারে দাঁড়ালে দূরে মনে হয় আকাশ যেন মাটিতে বা সমুদ্রের জলতলে মিশে গেছে। এই বৃত্তাকার কাল্পনিক মিলনরেখাকে দিগন্তরেখা বা হরাইজন বলে।
৫) পৃথিবীর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন স্থান দুটি কী কী?
উত্তর: পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থান হল হিমালয় পর্বতের মাউন্ট এভারেস্ট (উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার) এবং সর্বনিম্ন স্থান হল প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাত (গভীরতা প্রায় ১০,৯৯৪ মিটার)।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী ভূগোল প্রথম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-৩) | Class 9 Geography Chapter 1 Question Answer
১) এরাটোসথেনিস কীভাবে পৃথিবীর পরিধি পরিমাপ করেছিলেন?
উত্তর: গ্রিক পণ্ডিত এরাটোসথেনিস খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে আলেকজান্দ্রিয়া ও সিয়েন শহরের মধ্যে সূর্যরশ্মির পতনকোণের পার্থক্য (৭ ডিগ্রি ১২ মিনিট) এবং শহর দুটির দূরত্ব (৫০০০ স্টেডিয়া বা ৯২৫ কিমি) পরিমাপ করে পৃথিবীর পরিধি নির্ণয় করেন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী পৃথিবীর পরিধি ছিল প্রায় ৪৬,২৫০ কিলোমিটার।
২) দিগন্তরেখাকে সবসময় গোলাকার মনে হয় কেন?
উত্তর: পৃথিবীর আকৃতি গোলাকার হওয়ায় ভূপৃষ্ঠের কোনো স্থান থেকে চারদিকে তাকালে দৃষ্টিসীমা একটি বৃত্তাকার রেখায় আবদ্ধ হয়। ভূপৃষ্ঠ থেকে যত ওপরে ওঠা যায়, দিগন্তরেখার পরিধি তত বৃদ্ধি পায় কিন্তু তার আকৃতি সবসময় গোলাকারই থাকে। এটি পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির অন্যতম প্রমাণ।
৩) সৌরজগতের অন্তর্ভাগের গ্রহ এবং বহির্ভাগের গ্রহগুলির পার্থক্য করো।
| বিষয় | অন্তর্ভাগের গ্রহ | বহির্ভাগের গ্রহ |
| ১. অবস্থান | সূর্যের কাছাকাছি অবস্থিত। | সূর্য থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। |
| ২. আকার ও ভর | আকারে ছোট এবং ভর কম। | আকারে বিশাল এবং ভর অনেক বেশি। |
| ৩. উপাদান | মূলত ভারী শিলা ও ধাতু দ্বারা গঠিত। | প্রধানত হালকা গ্যাস (হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম) দ্বারা গঠিত। |
৪) কুলীন ও বামন গ্রহের পার্থক্য করো।
| বিষয় | কুলীন গ্রহ | বামন গ্রহ |
| ১. কক্ষপথ | কুলীন গ্রহের নিজস্ব পরিষ্কার কক্ষপথ থাকে এবং এর কাছাকাছি কোনো মহাজাগতিক বস্তু এলে তাকে সরিয়ে দেয়। | বামন গ্রহ তার কক্ষপথের আশেপাশের মহাজাগতিক বস্তুকে সরাতে পারে না। |
| ২. আকার | কুলীন গ্রহ আকারে যথেষ্ট বড়। | বামন গ্রহ আকারে বেশ ছোট। |
| ৩. উদাহরণ | পৃথিবী, মঙ্গল। | প্লুটো, সেরেস। |
৫) ‘পৃথিবীর আকৃতি অভিগত গোলকের ন্যায়’—প্রমাণ করো।
উত্তর: পৃথিবীর আবর্তন বেগ নিরক্ষীয় অঞ্চলে সর্বাধিক হওয়ার কারণে কেন্দ্রাতিগ বল সবচেয়ে বেশি। ফলে নিরক্ষীয় অঞ্চলটি সামান্য স্ফীত এবং মেরু অঞ্চল সামান্য চাপা। এর প্রমাণ পাওয়া যায় পৃথিবীর ব্যাস থেকে। পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস ১২,৭৫৭ কিমি কিন্তু মেরু ব্যাস ১২,৭১৪ কিমি। নিরক্ষীয় ব্যাস মেরু ব্যাসের থেকে ৪৩ কিমি বড় হওয়ায় প্রমাণিত হয় পৃথিবী সম্পূর্ণ গোল নয়, বরং একটি অভিগত গোলক।
৬) ‘পৃথিবীতে প্রাণী বসবাসের উপযোগী পরিবেশ আছে’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সৌরজগতের একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রধান কারণগুলি হল:
১. সূর্য থেকে অনুকূল দূরত্ব: সঠিক দূরত্বের জন্য পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা প্রাণধারণের জন্য উপযুক্ত।
২. জলের উপস্থিতি: পৃথিবীতে জলভাগ থাকার কারণে প্রাণের সৃষ্টি ও বিকাশ সম্ভব হয়েছে।
৩. বায়ুমণ্ডল: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং জীবনরক্ষাকারী ওজোন স্তর রয়েছে।
৭) GPS-এর উল্লেখযোগ্য তিনটি ব্যবহার লেখো।
উত্তর: ১. অবস্থান নির্ণয়: ভূপৃষ্ঠের যেকোনো স্থানের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যায়। ২. পরিবহণ ও নেভিগেশন: বিমান, জাহাজ এবং সড়কপথে যান চলাচলে সঠিক পথ ও দিক নির্দেশ করতে এটি ব্যবহৃত হয়। ৩. মানচিত্র তৈরি ও সমীক্ষা: আধুনিক মানচিত্র তৈরি এবং ভূমিরূপ সমীক্ষার কাজে GPS অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নবম শ্রেণী ভূগোল প্রথম অধ্যায় দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর (প্রশ্নমান-৫) | Class 9 Geography Chapter 1 Long Question Answer
১) পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির স্বপক্ষে প্রমাণগুলি লেখো।
উত্তর: পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির স্বপক্ষে প্রধান প্রমাণগুলি হল:
১. মহাকাশ থেকে তোলা ছবি: কৃত্রিম উপগ্রহ এবং মহাকাশচারীদের তোলা ছবি থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যায় যে পৃথিবীর আকৃতি গোলাকার।
২. চন্দ্রগ্রহণ: চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের ওপর পৃথিবীর যে ছায়া পড়ে, তা সর্বদা গোলাকার বা বৃত্তচাপের মতো হয়। গোলাকার বস্তুর ছায়াই কেবল গোলাকার হতে পারে।
৩. জাহাজের মাস্তুল পর্যবেক্ষণ: সমুদ্রের দিকে আসা কোনো জাহাজকে দূর থেকে দেখলে প্রথমে তার মাস্তুল, তারপর ডেকের ওপরের অংশ এবং সবশেষে সম্পূর্ণ জাহাজটি দেখা যায়। পৃথিবী সমতল হলে পুরো জাহাজটি একসঙ্গে দেখা যেত।
৪. সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: পৃথিবীর আকৃতি গোলাকার হওয়ার কারণে পৃথিবীর সব জায়গায় একই সময়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হয় না। পূর্ব দিকের স্থানগুলিতে আগে এবং পশ্চিম দিকের স্থানগুলিতে পরে সূর্যোদয় হয়।
২) বেডফোর্ড লেভেল পরীক্ষা এবং দিগন্তরেখার বিস্তৃতি থেকে পৃথিবীর গোলীয় আকৃতির প্রমাণগুলি লেখো।
উত্তর: ১৮৭০ সালে এ. আর. ওয়ালেস ইংল্যান্ডের বেডফোর্ড খালে সমান দৈর্ঘ্যের তিনটি খুঁটি এক মাইল অন্তর জলের ওপর ভাসিয়ে দেন। দূরবীন দিয়ে দেখলে দেখা যায়, মাঝের খুঁটিটি অন্য দুটি খুঁটির চেয়ে সামান্য উঁচুতে রয়েছে। পৃথিবী গোলাকার বলেই মাঝের অংশটি উঁচু দেখায়, সমতল হলে তিনটি খুঁটির মাথা একই সরলরেখায় থাকত।
দিগন্তরেখার বিস্তৃতি: ফাঁকা মাঠে দাঁড়ালে মনে হয় আকাশ চারদিকে মাটিতে মিশেছে, একে দিগন্তরেখা বলে। ভূপৃষ্ঠ থেকে যত ওপরে ওঠা যায়, দিগন্তরেখার পরিধি তত বৃদ্ধি পায় কিন্তু তার আকৃতি সর্বদা বৃত্তাকার থাকে। এটি পৃথিবীর গোলীয় আকৃতির অন্যতম প্রমাণ।
৩) এরাটোসথেনিস কীভাবে পৃথিবীর পরিধি নির্ণয় করেন—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: গ্রিক পণ্ডিত এরাটোসথেনিস খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে প্রথম পৃথিবীর পরিধি নির্ণয় করেন।
পদ্ধতি: তিনি লক্ষ করেন, ২১ জুন দুপুর ১২টায় সিয়েন শহরে সূর্যরশ্মি খাড়াভাবে পড়ে এবং কোনো বস্তুর ছায়া পড়ে না। কিন্তু একই সময়ে সেখান থেকে উত্তরে অবস্থিত আলেকজান্দ্রিয়া শহরে সূর্যরশ্মি ৭ ডিগ্রি ১২ মিনিট কোণে হেলে পড়ে।
হিসাব: তিনি এই দুই শহরের মধ্যবর্তী দূরত্ব মাপেন ৫০০০ স্টেডিয়া (প্রায় ৯২৫ কিমি)। পৃথিবীর কেন্দ্রে উৎপন্ন মোট কোণ ৩৬০ ডিগ্রি। সুতরাং, ৭ ডিগ্রি ১২ মিনিট কোণ তৈরি করে ৯২৫ কিমি দূরত্ব। তাহলে ৩৬০ ডিগ্রি কোণের জন্য দূরত্ব হবে = (৯২৫ × ৩৬০) / ৭ ডিগ্রি ১২ মিনিট = প্রায় ৪৬,২৫০ কিলোমিটার। আধুনিক হিসাবে পৃথিবীর পরিধি ৪০,০৭৫ কিমি হলেও তাঁর হিসাবটি ছিল সে যুগের সাপেক্ষে যুগান্তকারী।
৪) মানুষের আবাসস্থল রূপে পৃথিবীর গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর: সৌরজগতের একমাত্র পৃথিবীতেই জীবের আবাসস্থল বা বায়োস্ফিয়ার গড়ে উঠেছে। এর কারণগুলি হল:
১. অনুকূল তাপমাত্রা: সূর্য থেকে সঠিক দূরত্বে থাকায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা জীবের বেঁচে থাকার জন্য আদর্শ।
২. জলের উপস্থিতি: পৃথিবীতে তিনভাগ জল। জলচক্রের মাধ্যমে পৃথিবীতে জলের জোগান অব্যাহত থাকে যা প্রাণধারণের মূল ভিত্তি।
৩. বায়ুমণ্ডল: পৃথিবীর চারদিকে বায়ুমণ্ডলের আবরণ রয়েছে। এতে জীবের শ্বাসকার্যের জন্য অক্সিজেন এবং উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষের জন্য কার্বন ডাইঅক্সাইড পর্যাপ্ত মাত্রায় রয়েছে।
৪. শিলামণ্ডল: পৃথিবীর উপরিভাগের কঠিন আবরণ উদ্ভিদকে জন্ম নিতে সাহায্য করে এবং প্রাণীদের আবাসস্থল জোগায়। মাটিতে অবস্থিত বিভিন্ন খনিজ উপাদান পুষ্টি জোগায়।
৫) GPS-এর বিভিন্ন ব্যবহারগুলি উল্লেখ করো।
উত্তর: গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা GPS-এর ব্যবহার বর্তমানে অত্যন্ত ব্যাপক:
১. অবস্থান ও উচ্চতা নির্ণয়: পৃথিবীর যেকোনো স্থানের অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা অত্যন্ত দ্রুত ও নির্ভুলভাবে জানা যায়।
২. যান চলাচল ও নেভিগেশন: বিমান, জাহাজ, ট্রেন এবং গাড়িতে পথ নির্দেশক হিসেবে GPS ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
৩. মানচিত্র তৈরি: দুর্গম এলাকার জরিপ কাজ এবং আধুনিক মানচিত্র তৈরির কাজে এর ব্যবহার অপরিহার্য।
৪. প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: সেনাবাহিনীতে শত্রুর অবস্থান নির্ণয়, মিসাইল উৎক্ষেপণ এবং উদ্ধারকার্যে GPS ব্যবহার করা হয়।
৫. বিপর্যয় মোকাবিলা: বন্যা, ভূমিকম্প বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত উদ্ধারে GPS-এর সাহায্য নেওয়া হয়।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আজকের এই পোস্টে তোমাদের সাথে নবম শ্রেণির ভূগোলের প্রথম অধ্যায় ‘গ্রহরূপে পৃথিবী’ থেকে বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর শেয়ার করা হল। তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতি এর ক্ষেত্রে এগুলি সহায়তা করবে, প্রয়োজনে সংগ্রহ করে রাখবে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী অন্যান্য সমস্ত বিষয়ের নোট (Class IX All Notes) |
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম Study গ্রুপে যুক্ত হোন -


