বিংশ শতাব্দীর সমাজসংস্কারক স্বামী বিবেকানন্দ রচিত ‘চিঠি’ নামক প্রবন্ধটি নবম শ্রেণির পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এটি মূলত স্বামীজির লেখা একটি ব্যক্তিগত পত্র, যা তিনি ১৮৯৭ সালের ২৯ শে জুলাই আলমোড়া থেকে তাঁর বিদেশিনী শিষ্যা কুমারী মার্গারেট এলিজাবেথ নোবলকে (যিনি পরবর্তীকালে ভগিনী নিবেদিতা নামে পরিচিত হন) লিখেছিলেন।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| পাঠের নাম | চিঠি |
| লেখক | স্বামী বিবেকানন্দ |
| পত্র প্রাপক | কুমারী মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল (নিবেদিতা) |
| রচনার স্থান ও তারিখ | আলমোড়া, ২৯শে জুলাই, ১৮৯৭ |
চিঠি – স্বামী বিবেকানন্দ (নবম শ্রেণী বাংলা প্রবন্ধ)
আজকের এই পোস্টে স্বামী বিবেকানন্দ রচিত ‘চিঠি’ প্রবন্ধটির উৎস, প্রবন্ধের সারাংশ, নামকরণের সার্থকতা এবং অধ্যায়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর খুব সহজ ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে।
চিঠি প্রবন্ধের লেখক পরিচিতি
স্বামী বিবেকানন্দ (১৮৬৩-১৯০২) ছিলেন আধুনিক ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিন্তানায়ক এবং আধ্যাত্মিক গুরু। তাঁর শৈশব নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত। ১৮৯৩ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরে বিশ্বধর্ম সম্মেলনে তিনি হিন্দুধর্ম তথা ভারতীয় বেদান্ত দর্শনের বিজয় কেতন উড়িয়েছিলেন। তিনি ছিলেন মানবধর্মের প্রবক্তা এবং রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রতিষ্ঠাতা।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে ‘পরিব্রাজক’, ‘প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য’, ‘ভাববার কথা’, ‘বর্তমান ভারত’ ইত্যাদি। তাঁর বলিষ্ঠ গদ্যশৈলী এবং স্বদেশপ্রেম বাঙালি তরুণ সমাজকে এক নতুন পথের দিশা দেখিয়েছে। এই ‘চিঠি’ প্রবব্ধটি তাঁর অসাধারণ চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং ভারতের নারীসমাজের প্রতি মমত্ববোধের পরিচয়বাহী।
চিঠি প্রবন্ধের সারাংশ (Summary)
স্বামী বিবেকানন্দ আলমোড়া থেকে মিস নোবলকে লেখা এই চিঠিতে ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সেখানে নারীর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, ভারতের নারীসমাজকে জাগানোর জন্য এমন এক আধুনিক নারীর প্রয়োজন, যার চরিত্রে একই সঙ্গে শিক্ষা, পবিত্রতা, অসীম ভালোবাসা এবং দৃঢ়তা বিদ্যমান। তিনি মিস নোবলকে ভারতের সেবক হিসেবে মনোনীত করেন।
তবে স্বামীজি একই সঙ্গে এই কাজের কঠিন দিকগুলি সম্পর্কেও তাঁকে সাবধান করে দিয়েছেন। ভারতের দুঃসহ গরম, কুসংস্কার, দারিদ্র্য এবং বিদেশিদের প্রতি এদেশীয়দের জাতিবিদ্বেষ সম্পর্কে তিনি বাস্তবসম্মত চিত্র তুলে ধরেছেন। আবার ইংরেজরা যে তাঁকে (মিস নোবল) সন্দেহের চোখে দেখবে, সে কথাও তিনি নিঃসংকোচে জানিয়েছেন।
স্বামীজি মিস নোবলকে আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি ভারতের কাজে নামুন বা না নামুন, স্বামীজি আমরণ তাঁর পাশে থাকবেন। চিঠির শেষ দিকে তিনি মিস মুলার ও সেভিয়ার দম্পতি সম্পর্কে নিজের অভিমত প্রকাশ করেছেন এবং স্টার্ডির কাছ থেকে পাওয়া চিঠির হতাশার কথা উল্লেখ করে মিস নোবলকে সব বিচার করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
চিঠি প্রবন্ধের নামকরণের সার্থকতা
সাহিত্যে নামকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বামী বিবেকানন্দের এই পাঠ্যাংশটি মূলত একটি পত্রসাহিত্যের অংশ। পত্রসাহিত্যের ক্ষেত্রে সচরাচর বিষয়বস্তু বা আঙ্গিক অনুযায়ী নামকরণ করা হয়ে থাকে।
এখানে ‘চিঠি’ শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমেই এটি পরিষ্কার হয় যে এটি কোনো প্রথাগত প্রবন্ধ নয়, বরং লেখকের ব্যক্তিগত অনুভূতির একটি বহিঃপ্রকাশ। আলমোড়া থেকে মিস নোবলকে লেখা এই চিঠিতে ভারতের সেবা করার জন্য স্বামীজির আহ্বান এবং সেই পথের কণ্টকাকীর্ণ বাস্তব বর্ণনা করা হয়েছে। লেখকের হৃদয়ের আকুলতা, ব্যক্তিগত পরামর্শ এবং ভারতের উন্নয়নের সঙ্কল্প—সবই এই চিঠির ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছে। এটি কেবল একটি সাধারণ পত্র নয়, বরং ভারতের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক জাগরণের একটি ঐতিহাসিক দলিল। তাই রচনার আঙ্গিক এবং বিষয়বস্তু অনুযায়ী ‘চিঠি’ নামকরণটি যথাযোগ্য ও সার্থক হয়েছে।
চিঠি প্রবন্ধের বিশেষ শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| দৃঢ়সংকল্প | স্থির প্রতিজ্ঞা |
| চাক্ষুষ | চোখে দেখা |
| ঐকান্তিকতা | গভীর নিষ্ঠা |
| কুসংস্কার | অন্ধবিশ্বাস |
| শ্বেতাঙ্গ | সাদা চামড়ার মানুষ (এখানে ইউরোপীয়রা) |
| খামখেয়ালি | অসংলগ্ন আচরণ |
| প্রবৃত্ত | কাজে লিপ্ত হওয়া |
| আমরণ | মৃত্যু পর্যন্ত |
| নড়চড় | নড়নচড়ন বা পরিবর্তন |
| অস্থিরচিত্ততা | মনের চঞ্চলতা বা অস্থিরতা |
| মুরুব্বিয়ানা | মাতব্বরি বা আধিপত্য দেখানো |
| একঘেয়েমি | কোনো বৈচিত্র্য না থাকা |
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
চিঠি পাঠ্যাংশের প্রশ্ন উত্তর (MCQ) | Class 9 Chithi MCQ Question Answer
১. ‘চিঠি’ পত্রটি স্বামী বিবেকানন্দ কোথা থেকে লিখেছিলেন?
(ক) কলকাতা
(খ) শিকাগো
(গ) আলমোড়া
(ঘ) দার্জিলিং
উত্তর: (গ) আলমোড়া
২. পত্রটি কত তারিখে লেখা হয়েছিল?
(ক) ২৯শে জুলাই, ১৮৯৭
(খ) ১লা মে, ১৮৯৯
(গ) ১৫ই আগস্ট, ১৮৯৭
(ঘ) ৩০শে জুন, ১৮৯৭
উত্তর: (ক) ২৯শে জুলাই, ১৮৯৭
৩. ‘কল্যাণীয়া মিস নোবল’—মিস নোবল কে ছিলেন?
(ক) মিস মুলার
(খ) মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল
(গ) মিস ম্যাকলাউড
(ঘ) জোসেফাইন ম্যাকলাউড
উত্তর: (খ) মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল
৪. ভারতের নারি সমাজের জন্য কার মতো এক শিংহীর প্রয়োজন বলে স্বামীজি মনে করেছেন?
(ক) ভিক্টোরিয়ার মতো
(খ) মিস নোবলের মতো
(গ) মিস মুলারের মতো
(ঘ) মিসেস বুলের মতো
উত্তর: (খ) মিস নোবলের মতো
৫. ভারতে আসতে গেলে মিস নোবলকে কাদের পরিবেষ্টিত হতে হবে?
(ক) পশু-পাখির
(খ) দেব-দেবীর
(গ) অর্ধ-উলঙ্গ অসংখ্য নরনারীর
(ঘ) রাজপরিবারের
উত্তর: (গ) অর্ধ-উলঙ্গ অসংখ্য নরনারীর
৬. স্বামীজির মতে ভারতের জলবায়ু কেমন?
(ক) নাতিশীতোষ্ণ
(খ) অত্যন্ত নাতিশীতোষ্ণ
(গ) অত্যন্ত গ্রীষ্মপ্রধান
(ঘ) অতিশয় শীতল
উত্তর: (গ) অত্যন্ত গ্রীষ্মপ্রধান
৭. ভারতের কোন অঞ্চলে সর্বদা আগুনের হলকা চলছে?
(ক) পূর্বাঞ্চলে
(খ) উত্তরাঞ্চলে
(গ) দক্ষিণাঞ্চলে
(ঘ) পশ্চিমাঞ্চলে
উত্তর: (গ) দক্ষিণাঞ্চলে
৮. ‘মর্দ কি বাত হাতি কা দাঁত’—এই কথাটির অর্থ কী?
(ক) হাতির দাঁত খুব দামি
(খ) মরদ বীর হয়
(গ) খাঁটি লোকের কথার নড়চড় নেই
(ঘ) হাতির দাঁত বাইরে বেরোয় না
উত্তর: (গ) খাঁটি লোকের কথার নড়চড় নেই
৯. মিস নোবলকে কার পক্ষপুটে আশ্রয় নিতে স্বামীজি নিষেধ করেছেন?
(ক) স্টার্ডির
(খ) মিস মুলারের
(গ) সেভিয়ার দম্পতির
(ঘ) মিসেস বুলের
উত্তর: (খ) মিস মুলারের
১০. ইউরোপীয়দের মধ্যে কারা এদেশীয়দের ঘৃণা করেন না?
(ক) স্টার্ডি
(খ) মিস মুলার
(গ) সেভিয়ার দম্পতি
(ঘ) ম্যাকলাউড
উত্তর: (গ) সেভিয়ার দম্পতি
১১. মিসেস সেভিয়ারকে স্বামীজি কী বলে অভিহিত করেছেন?
(ক) বীর কন্যা
(খ) মহানুভব নারী
(গ) নারীকুলের রত্নবিশেষ
(ঘ) দয়ার সাগর
উত্তর: (গ) নারীকুলের রত্নবিশেষ
১২. ‘মিঃ স্টার্ডি’ পেশায় কী ছিলেন বলে জানা যায়?
(ক) ডাক্তার
(খ) কবি
(গ) স্বামীজির ইংরেজ ভক্ত
(ঘ) ব্যবসায়ী
উত্তর: (গ) স্বামীজির ইংরেজ ভক্ত
১৩. মিস ম্যাকলাউড ও মিসেস বুল ভারতে কখন আসছিলেন?
(ক) গ্রীষ্মকালে
(খ) শীতকালে
(গ) শরৎকালে
(ঘ) বর্ষাকালে
উত্তর: (গ) শরৎকালে
১৪. মিসেস বুলের বয়স কত ছিল?
(ক) চল্লিশ বছর
(খ) প্রায় পঞ্চাশ বছর
(গ) ষাট বছর
(ঘ) নিরানব্বই বছর
উত্তর: (খ) প্রায় পঞ্চাশ বছর
১৫. কার চিঠি স্বামীজির কাছে ‘শুষ্ক ও প্রাণহীন’ বলে মনে হয়েছে?
(ক) মিস নোবলের
(খ) স্টার্ডির
(গ) মিস মুলারের
(ঘ) রামকৃষ্ণের
উত্তর: (খ) স্টার্ডির
১৬. স্বামীজির প্রিয় বন্ধু কে ছিলেন?
(ক) মিঃ স্টার্ডি
(খ) মিস ম্যাকলাউড
(গ) ক্যাপ্টেন সেভিয়ার
(ঘ) বিবেকানন্দ নিজে
উত্তর: (খ) মিস ম্যাকলাউড
১৭. লণ্ডনের কাজ পণ্ড হওয়ায় স্টার্ডি কেমন হয়েছেন বলে মনে হয়?
(ক) আনন্দিত
(খ) ক্রুদ্ধ
(গ) হতাস
(ঘ) বিচলিত
উত্তর: (গ) হতাস
১৮. মার্গারেট নোবল স্বামীজির অনুপ্রেরণায় কোন আদর্শ প্রচার করেছিলেন?
(ক) গ্রীক ভাবধারা
(খ) ভারতীয় আদর্শে স্ত্রীশিক্ষা
(গ) পাশ্চাত্য বিলাসিতা
(ঘ) শিল্প বিপ্লব
উত্তর: (খ) ভারতীয় আদর্শে স্ত্রীশিক্ষা
১৯. ‘নিবেদিতা বালিকা বিদ্যালয়’ কোথায় অবস্থিত?
(ক) বেলুর
(খ) হাওড়া
(গ) বাগবাজার
(ঘ) শ্রীরামপুর
উত্তর: (গ) বাগবাজার
২০. স্টার্ডি কোন দেশে বিবেকানন্দের বেদান্ত প্রচারে সাহায্য করেছিলেন?
(ক) আমেরিকা
(খ) জার্মানি
(গ) ইংল্যান্ড
(ঘ) ফ্রান্স
উত্তর: (গ) ইংল্যান্ড
২১. মিস নোবলের ধমনিতে কোন রক্তের কথা স্বামীজি বলেছেন?
(ক) ভারতীয় রক্ত
(খ) জার্মান রক্ত
(গ) কেল্টিক রক্ত
(ঘ) আর্য রক্ত
উত্তর: (গ) কেল্টিক রক্ত
২২. স্বামীজির মতে কাজ না করলেও নিবেদিতার পাশে কে থাকবেন?
(ক) স্টার্ডি
(খ) সমাজ
(গ) বিবেকানন্দ নিজে
(ঘ) ব্রিটিশ সরকার
উত্তর: (গ) বিবেকানন্দ নিজে
২৩. মিস মুলারের মাথায় কোন ধারণা ঢুকেছে বলে স্বামীজি জানিয়েছেন?
(ক) তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমতী
(খ) তিনি খুব দরিদ্র
(গ) তিনি আজন্ম নেত্রী
(ঘ) তিনি সন্ন্যাসিনী
উত্তর: (গ) তিনি আজন্ম নেত্রী
২৪. সেভিয়ার দম্পতি কোথায় আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
(ক) রামেশ্বরমে
(খ) মায়াবতী
(গ) হৃষীকেশ
(ঘ) বারাণসী
উত্তর: (খ) মায়াবতী (অদ্বৈত আশ্রম)
২৫. মিস ম্যাকলাউডকে স্বামীজি কী ডাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন?
(ক) মেরি
(খ) মা
(গ) জো
(ঘ) দিদি
উত্তর: (গ) জো
২৬. মিসেস বুল কোন দেশের বাসিন্দা ছিলেন?
(ক) ইংল্যান্ড
(খ) আয়ারল্যান্ড
(গ) আমেরিকা
(ঘ) নরওয়ে (বাসিন্দা হিসেবে আমেরিকা প্রবাসী)
উত্তর: (গ) আমেরিকা (উৎস নরওয়ে)
২৭. “তোমাকে সরাসরি লেখা ভালো”—লেখকের এ কথা মনে হওয়ার কারণ?
(ক) স্টার্ডির চিঠি পেয়ে
(খ) মিস মুলারের চিঠি পেয়ে
(গ) মিস ম্যাকলাউডের চিঠিতে তাঁর কর্মপ্রণালী জেনে
(ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: (গ) মিস ম্যাকলাউডের চিঠিতে তাঁর কর্মপ্রণালী জেনে
২৮. মার্গারেট নোবেলের লেখা একটি বইয়ের নাম?
(ক) জাগো ভারত
(খ) Web of Indian Life
(গ) ধর্মতত্ত্ব
(ঘ) গীতা রহস্য
উত্তর: (খ) Web of Indian Life
২৯. স্বামীজি নিবেদিতাকে কার মতো দৃঢ়চেতা হতে বলেছেন?
(ক) হাতির দাঁতের মতো
(খ) পাথরের মতো
(গ) ইস্পাতের মতো
(ঘ) পর্বতের মতো
উত্তর: (ক) হাতির দাঁতের মতো (উপমা অর্থে খাঁটি লোক)
৩০. মিস নোবলকে স্বামীজি কী করার জন্য শতবার স্বাগত জানাচ্ছেন?
(ক) বিয়ে করার জন্য
(খ) কর্মে প্রবৃত্ত হতে
(গ) ইউরোপে শিক্ষকতা করতে
(ঘ) গান শিখতে
উত্তর: (খ) কর্মে প্রবৃত্ত হতে
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী বাংলা চিঠি প্রবন্ধের অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ)
১. স্বামীজি কেন মিস নোবলকে সরাসরি চিঠি লেখা প্রয়োজন মনে করেছিলেন?
উত্তর: মিস ম্যাকলাউডের কাছে মিস নোবলের কর্মপ্রণালী জানতে পেরে স্বামীজি তাঁকে সরাসরি চিঠি লেখা আবশ্যক মনে করেছিলেন।
২. ভারতের নারীসমাজের জন্য মিস নোবলের প্রয়োজনীয়তা স্বামীজি কেন অনুভব করেছেন?
উত্তর: ভারতের নারীসমাজকে উপযুক্ত করে তোলার জন্য মিস নোবলের শিক্ষা, পবিত্রতা ও চারিত্রিক দৃঢ়তা একান্ত প্রয়োজন ছিল।
৩. ভারতে পৌঁছালে মিস নোবলের সামনে প্রধান সামাজিক অসুবিধা কী হতে পারে?
উত্তর: অগণিত দরিদ্র, কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের জাতি ও স্পর্শ নিয়ে বিকট ধারণা মিস নোবলের সামনে প্রধান সামাজিক বাধা হতে পারে।
৪. ইউরোপীয়দের সম্পর্কে এদেশীয়দের অর্থাৎ ভারতীয়দের ধারণা কেমন?
উত্তর: ভয়ে বা ঘৃণায় ভারতীয়রা শ্বেতাঙ্গদের এড়িয়ে চলত এবং তাদের সন্দেহের চোখে দেখত।
৫. “মরদ কি বাত হাতি কা দাঁত”—স্বামীজি কোন প্রসঙ্গে উক্তিটি করেছেন?
উত্তর: মিস নোবল যদি ভারতের কাজে নেমে কখনও বিফল হন, তবুও স্বামীজি তাঁর পাশে আমরণ থাকবেন—এই প্রতিজ্ঞা রক্ষার প্রসঙ্গে তিনি উক্তিটি করেছেন।
৬. মিস মুলারের কোন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য স্বামীজির পছন্দ ছিল না?
উত্তর: মিস মুলারের রুক্ষ মেজাজ, অস্থিরচিত্ততা এবং নিজেকে ‘আজন্ম নেত্রী’ ভাবার মানসিকতা স্বামীজির অপছন্দ ছিল।
৭. মিস মুলার ও মিস নোবলের একত্রে বসবাস সম্ভব নয় কেন?
উত্তর: মিস মুলারের অদ্ভুত অস্থিরতা এবং আধিপত্যকামী স্বভাবের কারণে তাঁর সঙ্গে মিস নোবলের বনিয়ে চলা অসম্ভব বলে স্বামীজি মনে করেছেন।
৮. সেভিয়ার দম্পতিকে স্বামীজি ‘মুরুব্বিয়ানা’ করতে দেখেননি কেন?
উত্তর: তাঁরা ভারতীয় বা হিন্দুদের ঘৃণা করতেন না এবং অত্যন্ত অমায়িক হওয়ার কারণে তাঁদের মধ্যে কোনো মুরুব্বিয়ানা ভাব ছিল না।
৯. মিস ম্যাকলাউডের পোশাক-পরিচ্ছদ কেমন ছিল?
উত্তর: মিস ম্যাকলাউডের পোশাক ছিল ফ্যাশনেবল তথা ‘পারি-ফ্যাশনের’।
১০. স্টার্ডির চিঠিটিকে স্বামীজি ‘শুষ্ক ও প্রাণহীন’ বলেছেন কেন?
উত্তর: লণ্ডনের কাজ পণ্ড হওয়ায় স্টার্ডি সম্ভবত হতোদ্যম হয়ে পড়েছিলেন, যার প্রতিফলন তাঁর চিঠিতে দেখা গিয়েছিল।
১১. মিসেস বুলের সম্পর্কে স্বামীজি কী তথ্য দিয়েছেন?
উত্তর: মিসেস বুলের বয়স ছিল প্রায় পঞ্চাশ এবং তিনি আমেরিকায় স্বামীজির খুব উপকারী বন্ধু ছিলেন।
১২. মিস নোবলকে কিসের ওপর ভরসা করে চলতে বলা হয়েছে?
উত্তর: স্বামীজি মিস নোবলকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
১৩. মিস নোবলের ধমনিতে ‘কেল্টিক রক্ত’ থাকার তাৎপর্য কী?
উত্তর: কেল্টিক জাতি অত্যন্ত সাহসী ও তেজস্বী হয়, তাই মিস নোবলও তেমন দৃঢ়প্রত্যয়ী হবেন বলে স্বামীজির বিশ্বাস ছিল।
১৪. স্বামীজি আলমোড়া থেকে মিস নোবলকে কী আশ্বাস দিয়েছিলেন?
উত্তর: স্বামীজি আশ্বাস দিয়েছিলেন যে ভারতের কাজ করুন বা না করুন, তিনি নিবেদিতার পাশে সদাসর্বদা থাকবেন।
১৫. চিঠিতে উল্লিখিত ‘মিঃ স্টার্ডি’ কে ছিলেন?
উত্তর: মিঃ স্টার্ডি ছিলেন স্বামীজির একজন একনিষ্ঠ ইংরেজ ভক্ত ও শিষ্য, যিনি ইংল্যান্ডে বেদান্ত প্রচারে সাহায্য করেছিলেন।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী বাংলা চিঠি প্রবন্ধের ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Chithi 2 Marks Question Answer
১. “ভারতের কাজে তোমার এক বিরাট ভবিষ্যৎ রয়েছে”—কেন স্বামীজি এমন মনে করেছেন?
উত্তর: ভারতের নারীসমাজকে জাগানোর জন্য একজন প্রকৃত সিংহীর প্রয়োজন। মিস নোবলের শিক্ষা, ঐকান্তিকতা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তা তাঁকে সেই উপযুক্ত নেত্রী হিসেবে স্বামীজির কাছে প্রতিপন্ন করেছিল।
২. ভারতে আসার পথে জলবায়ুগত কোন বাধার কথা স্বামীজি উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: ভারতে অত্যন্ত তপ্ত জলবায়ু বিদ্যমান। দক্ষিণাঞ্চলে আগুনের হলকার মতো গরম এবং এখানকার শীত ইউরোপীয়দের গ্রীষ্মকালের মতো, যা মিস নোবলের জন্য কষ্টকর হতে পারে।
৩. “শ্বেতাঙ্গেরা তোমাকে খামখেয়ালি মনে করবে”—কেন এই আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে?
উত্তর: ভারতে শ্বেতাঙ্গরা নিজেদের শাসক ও শ্রেষ্ঠ মনে করত। মিস নোবল যদি শ্বেতাঙ্গী হয়েও ভারতীয়দের কল্যাণে হাত ছোঁয়ান, তবে তাঁর সজাতীয়রা তাঁকে অস্বাভাবিক বা খামখেয়ালি মনে করবে।
৪. মিস মুলারের সাথে থাকার ব্যাপারে স্বামীজি মিস নোবলকে কেন সাবধান করেছেন?
উত্তর: মিস মুলারের রুক্ষ মেজাজ এবং নিজেকে অদ্বিতীয় নেত্রী ভাবার বাতিক রয়েছে। তাঁর সঙ্গে একত্রে থাকা মিস নোবলের কাজের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং মানসিক যাতনা দিতে পারে।
৫. “মরদ কি বাত হাতি কা দাঁত”—এই প্রবাদটির তাৎপর্য কী?
উত্তর: হাতির দাঁত যেমন একবার বের হলে ভেতরে ঢোকে না, তেমনি সত্যিকারের মানুষের কথাও কখনও পরিবর্তন হয় না। স্বামীজি নিজের প্রতিজ্ঞায় অটল থাকবেন বোঝাতে এই প্রবাদ ব্যবহার করেছেন।
৬. মিস নোবলকে কার সাথে ভারতে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং কেন?
উত্তর: মিসেস বুল ও মিস ম্যাকলাউডের সঙ্গে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ একা দীর্ঘ পথ আসতে একঘেয়েমি লাগতে পারে, যা বন্ধুদের সঙ্গে আসলে হবে না।
৭. “সরাসরি তোমাকে লেখা ভালো”—বক্তার এমন মনোভাবের কারণ কী?
উত্তর: মিস ম্যাকলাউড়ের বর্ণনার মাধ্যমে স্বামীজি চিঠিতে মিস নোবলের ভারতের কাজের পরিধি ও পরিকল্পনার কথা জেনেছিলেন, সেই অনুযায়ী তাঁকে সরাসরি নির্দেশনা দেওয়াই স্বামীজি উপযুক্ত মনে করেছিলেন।
৮. স্টার্ডির চিঠির ধরন সম্পর্কে স্বামীজির মনোভাব কেমন ছিল?
উত্তর: স্বামীজি অনুভব করেছিলেন স্টার্ডির চিঠিটি ছিল শুষ্ক ও প্রাণহীন। লণ্ডনের কাজের বিফলতা তাঁকে হতোদ্যম করে তুলেছিল বলে স্বামীজি সন্দেহ করেন।
৯. মিস ম্যাকলাউড ও মিসেস বুলের সম্পর্কে স্বামীজির ব্যক্তিগত ধারণা কেমন?
উত্তর: স্বামীজির মতে মিস ম্যাকলাউড ও মিসেস বুল দুজনেই খুব দয়ালু এবং অমায়িক। তাঁরা ভারতীয়দের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন।
১০. ভারতের কাজের পথে ‘জাতি বা স্পর্শ’ নিয়ে সমস্যার স্বরূপ কী?
উত্তর: ভারতীয়রা তখন প্রবল কুসংস্কারে আচ্ছন্ন ছিল। ইউরোপীয়দের সংস্পর্শ তারা ভয়ে বা ঘৃণায় এড়িয়ে চলত। এই মানসিকতা মিস নোবলের কাজকে কঠিন করে তুলতে পারত।
১১. মিসেস সেভিয়ারকে কেন ‘নারীকুলের রত্নবিশেষ’ বলা হয়েছে?
উত্তর: তিনি ছিলেন অমায়িক, স্নেহময়ী এবং ভারতীয় সংস্কৃতি ও মানুষের প্রতি দরদী। বিদেশিনী হয়েও তাঁর এই উদারতা তাঁকে শ্রেষ্ঠ করে তুলেছিল।
১২. “নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে”—এই উক্তির মাধ্যমে স্বামীজি কী শিক্ষা দিয়েছেন?
উত্তর: স্বামীজি বুঝিয়েছেন যে পরনির্ভরশীলতা কাজে বিঘ্ন ঘটায়। কাজের সাফল্য ও মানসিক শান্তির জন্য নিজের স্বাধীন সত্তা ও আত্মনির্ভরশীলতা জরুরি।
১৩. মিঃ স্টার্ডি কেন হতোদ্যম হয়ে পড়েছিলেন বলে স্বামীজির মনে হয়েছে?
উত্তর: লণ্ডনের কাজে আশানুরূপ ফল না পাওয়ায় মিঃ স্টার্ডি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, যার প্রভাবে তাঁর চিঠিপত্র প্রাণহীন হয়ে গিয়েছিল।
১৪. কেল্টিক রক্তের তেজ মিস নোবলকে কীভাবে সাহায্য করতে পারে?
উত্তর: কেল্টিক জাতি লড়াকু ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়। ভারতের প্রতিকূল পরিবেশে লড়াই করে জয়ী হওয়ার জন্য সেই অদম্য মানসিক শক্তি মিস নোবলের প্রয়োজন ছিল।
১৫. ইউরোপীয় সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য সম্পর্কে ভারতে কী চিত্র স্বামীজি তুলে ধরেছেন?
উত্তর: শহর এলাকা ছাড়া ভারতের অধিকাংশ গ্রাম ও প্রান্তিক স্থানে ইউরোপের মতো কোনো নাগরিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বা আভিজাত্য পাওয়া অসম্ভব।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী বাংলা চিঠি প্রবন্ধের ৩ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Chithi 3 Marks Question Answer
১. “তোমাকে সরাসরি লেখা ভালো”—উক্তিটি কার? কেন তিনি এরূপ মনে করেছেন?
উত্তর: আলোচ্য উক্তিটি স্বামী বিবেকানন্দের। তিনি মিস ম্যাকলাউড মারফত মিস নোবলের ভারতের সেবা করার দৃঢ়বদ্ধ সংকল্পের কথা জানতে পেরেছিলেন। স্বামীজি চাননি মিস নোবল কোনো অস্পষ্ট ধারণা নিয়ে ভারতে আসুন। ভারতের জলবায়ু, সামাজিক কুসংস্কার এবং কাজের বাধাগুলি সম্পর্কে মিস নোবলকে একদম স্পষ্টভাবে অবগত করার জন্যই স্বামীজি মধ্যস্থতাকারী না রেখে সরাসরি চিঠি লেখা প্রয়োজন মনে করেছিলেন।
২. “তোমার ধমনিতে প্রবাহিত কেল্টিক রক্তের জন্য তুমি ঠিক সেইরূপ নারী”—উক্তিটির অর্থ পরিস্ফুট করো।
উত্তর: স্বামীজি মনে করতেন ভারতের নারীসমাজের মুক্তিদাত্রী হিসেবে একজন সাহসী ‘সিংহী’র প্রয়োজন। কেল্টিক জাতি ঐতিহাসিকভাবে সাহসী, ত্যাগী এবং তেজস্বী হিসেবে পরিচিত। মিস নোবল যেহেতু কেল্টিক বংশোদ্ভূত, তাই তাঁর চরিত্রের মধ্যে সেই জন্মজাত তেজ ও পবিত্রতা বিদ্যমান। ভারতের প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে গেলে যে মানসিক কাঠিন্যের প্রয়োজন, তা মিস নোবলের ধমনিতে প্রবহমান কেল্টিক রক্তের মাধ্যমেই সম্ভব—এটাই স্বামীজি বোঝাতে চেয়েছেন।
৩. ভারতের সামাজিক ও প্রাকৃতিক বাধাগুলি সম্পর্কে স্বামীজি মিস নোবলকে কী কী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন?
উত্তর: স্বামীজি মিস নোবলকে ভারতের দুইটি প্রধান বাধার কথা বলেছেন। প্রথমত, এখানকার জলবায়ু অত্যন্ত গ্রীষ্মপ্রধান, বিশেষ করে দক্ষিণে আগুনের হলকা চলে। দ্বিতীয়ত, এখানকার সামাজিক পরিবেশ। মানুষ কুসংস্কারাচ্ছন্ন এবং বিদেশিদের ঘৃণার চোখে দেখে। এখানকার শহরতলীর বাইরে ইউরোপীয় সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য একটুও নেই। এই দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতার মধ্যে তাঁকে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।
৪. “মরদ কি বাত হাতি কা দাঁত”—প্রবাদটি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বামীজির চরিত্রের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?
উত্তর: এই প্রবাদটির মাধ্যমে স্বামী বিবেকানন্দের অটল ধৈর্য ও সত্যনিষ্ঠার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি মিস নোবলকে কঠিন পথের ভয় দেখিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু একই সাথে আশ্বাস দিয়েছেন যে একবার যখন তিনি নিবেদিতাকে ভারতের কাজে আহ্বান করেছেন, তখন কাজের ফলাফল যাই হোক না কেন—জীবনভর তিনি নিবেদিতার পাশে থাকবেন। তিনি নিজের দেওয়া কথা কখনও ফিরিয়ে নেবেন না। এটি স্বামীজির নির্ভীকতা ও শিষ্যবাৎসল্যের পরিচায়ক।
৫. মিস মুলার সম্পর্কে স্বামীজির ধারণার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর: স্বামীজির মতে মিস মুলার হৃদয়ের দিক থেকে হয়তো মন্দ নন, কিন্তু তাঁর চরিত্রে বেশ কিছু নেতিবাচক দিক আছে। তাঁর মেজাজ রুক্ষ, তিনি অদ্ভুত অস্থিরচিত্ত এবং নিজেকে জন্মগত নেত্রী মনে করেন। তিনি ভাবেন টাকা ছাড়া দুনিয়ায় আর কিছুর প্রয়োজন নেই। স্বামীজি মনে করেছেন মিস মুলার ও মিস নোবলের স্বভাব আলাদা হওয়ায় তাঁদের একত্রে থাকা বা কাজ করা অসম্ভব। তাই মিস নোবলকে তাঁর কাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী বাংলা চিঠি প্রবন্ধের বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Chithi 5 Marks Question Answer
১. ‘চিঠি’ প্রবন্ধে স্বামী বিবেকানন্দ মিস নোবলকে ভারতের কাজের ক্ষেত্রে যে সমস্ত বাধার কথা জানিয়েছেন, তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ আলমোড়া থেকে কুমারী মার্গারেট নোবলকে লেখা চিঠিতে ভারতের সেবাকার্যে যোগদানের পূর্বে বেশ কিছু বাস্তব ও কঠোর প্রতিকূলতা সম্পর্কে তাঁকে সতর্ক করেছেন। সেই বাধাগুলি নিম্নরূপ:
জলবায়ুগত বাধা: ভারত অত্যন্ত উষ্ণ দেশ। এখানকার গ্রীষ্মকাল ইউরোপীয়দের কাছে অসহ্য। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে আগুনের হলকার মতো গরম চলে যা ইউরোপীয় জীবনযাত্রার পরিপন্থী।
সামাজিক কুসংস্কার: ভারত তখন দারিদ্র্য এবং জাতিভেদ প্রথায় ডুবে ছিল। এখানকার অগণিত নরনারী অর্ধ-উলঙ্গ এবং কুসংস্কারে বিশ্বাসী। তারা বিদেশিদের সম্পর্কে ‘বিকট ধারণা’ পোষণ করে এবং ছোঁয়াছুঁয়ি নিয়ে ভয়ে বা ঘৃণায় দূরে সরে থাকে।
সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের অভাব: ভারতের গ্রামগুলিতে বা শহর থেকে দূরে ইউরোপীয় মানের কোনো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বা বিলাসিতা খুঁজে পাওয়া একপ্রকার অসম্ভব।
শ্বেতাঙ্গদের মনোভাব: মিস নোবল ভারতীয়দের জন্য কাজ করতে চাইলে তাঁর নিজের জাতি অর্থাৎ ইংরেজরা তাঁকে সন্দেহের চোখে দেখবে এবং তাঁকে ‘খামখেয়ালি’ বলে উপহাস করবে। তাঁর প্রতিটি গতিবিধির ওপর নজর রাখা হতে পারে।
স্বামীজি এই সমস্ত বাধা বর্ণনার মাধ্যমে মিস নোবলকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে চেয়েছিলেন।
২. “ভারতের কাজে তোমার এক বিরাট ভবিষ্যৎ রয়েছে”—লেখকের এই উক্তির সার্থকতা ‘চিঠি’ প্রবন্ধ অবলম্বনে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ দূরদর্শী চিন্তার মানুষ ছিলেন। তিনি ভারতের উন্নতির জন্য নারীশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বারোপ করেছিলেন। মিস নোবলের চরিত্রের মধ্যে তিনি সেই গুণাবলি দেখতে পেয়েছিলেন যা ভারতের নারীসমাজের আমূল পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
স্বামীজির মতে, ভারতের বর্তমান দুরবস্থা থেকে মুক্তির জন্য এমন একজন নারীর প্রয়োজন, যিনি শিক্ষিত, চরিত্রবান, ত্যাগী এবং বীরের মতো দৃঢ়চেতা। মিস নোবলের ঐকান্তিকতা এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসা তাঁকে ভারতের কাজে যোগ দেওয়ার যোগ্য করে তুলেছিল। তাঁর ধমনিতে থাকা কেল্টিক রক্ত তাঁকে যে তেজ দিয়েছিল, তা ভারতের প্রতিকূল কৃষ্টির মোকাবিলা করতে সক্ষম ছিল।
স্বামীজি বিশ্বাস করতেন ভারতীয়দের জন্য একজন বিদেশিনী কাজ করলে তা দ্রুত সাড়া ফেলবে। নিবেদিতা পরবর্তীকালে সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রেখেছিলেন। তিনি বাগবাজারে বিদ্যালয় স্থাপন করেন এবং আমৃত্যু ভারতের মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেন। স্বামীজির এই ভবিষ্যৎবাণী নিবেদিতার কাজের মাধ্যমেই ইতিহাসে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছিল।
৩. ‘চিঠি’ প্রবন্ধে উল্লিখিত বিভিন্ন ব্যক্তিদের সম্পর্কে স্বামীজির যে দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে তা আলোচনা করো।
উত্তর: ‘চিঠি’ প্রবন্ধে স্বামীজি তাঁর শিষ্য ও পরিচিত বেশ কয়েকজন ইংরেজ ভক্তের সম্পর্কে খোলাখুলি মন্তব্য করেছেন:
মিস মুলার: তঁকে স্বামীজি রুক্ষ মেজাজের এবং অস্থিরচিত্ত বলে মনে করেছেন। তাঁর নিজেকে নেত্রী ভাবার বাতিক ও আর্থিক দুনিয়ার ওপর অতিরিক্ত গুরুত্বারোপ স্বামীজির অপছন্দ ছিল। তঁকে নিয়ে স্বামীজি যথেষ্ট সন্দিহান ছিলেন।
সেভিয়ার দম্পতি: স্বামীজির মতে এঁরা ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু ও অমায়িক। তাঁরা ভারতীয়দের ঘৃণা করতেন না এবং ভারতীয় সমাজ ও বেদান্ত প্রচারের কাজে নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন। মিসেস সেভিয়ারকে তিনি ‘নারীকুলের রত্নবিশেষ’ বলেছেন।
মিস ম্যাকলাউড ও মিসেস বুল: এঁরা দুজনেই দয়ালু এবং স্বামীজির প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তাঁরা কোনো ‘মুরুব্বিয়ানা’ না করেই ভারতীয়দের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার ক্ষমতা রাখতেন।
মিঃ স্টার্ডি: তঁকে স্বামীজি একজন একনিষ্ঠ বেদান্ত অনুরাগী মনে করলেও তাঁর বর্তমান হতাশাজনক মানসিকতা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। স্টার্ডির চিঠির শুষ্কতার কথা চিঠিতে উল্লেখ পাই।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আজকের পোস্ট এর মধ্যে চিঠি প্রবন্ধ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা, প্রবন্ধেটির বিষয়বস্তু এবং উত্তর সহ প্রশ্নও আলোচনা করা হল, যেগুলি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ ভাবে তোমাদের সহায়ক হয়ে উঠবে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী অন্যান্য সমস্ত বিষয়ের নোট (Class IX All Notes) |
নবম শ্রেণী বাংলা চিঠি | স্বামী বিবেকানন্দ চিঠি প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস ৯ চিঠি প্রবন্ধের সারাংশ | Class 9 Bengali Chithi Notes | চিঠি গুরুত্বপূর্ণ MCQ ও SAQ।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম Study গ্রুপে যুক্ত হোন -


