কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পটি নবম শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এটি মূলত কবির বিখ্যাত ‘আগুন’ উপন্যাসের প্রারম্ভিক অংশ। এই কাহিনীতে এক অদম্য জেদি, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এবং মেধাবী কিশোর চন্দ্রনাথের জীবনের একটি বিশেষ সন্ধিক্ষণ বর্ণিত হয়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| পাঠের নাম | চন্দ্রনাথ |
| লেখক | তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় |
| উৎস | আগুন (উপন্যাস) |
চন্দ্রনাথ – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (নবম শ্রেণী বাংলা গল্প)
আজকের এই পোস্টে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পের উৎস, সারাংশ, নামকরণের সার্থকতা এবং প্রশ্ন উত্তর খুব সহজ ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে।
চন্দ্রনাথ – লেখক পরিচিতি
বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল হলেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১)। বিভূতিভূষণ ও মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমকালীন হয়েও তিনি তাঁর স্বতন্ত্র লিখনশৈলীর মাধ্যমে পাঠকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। বিশেষত বীরভূম জেলার রুক্ষ মাটি ও মানুষের জীবন সংগ্রাম তাঁর লেখায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে উপন্যাস— ‘গণদেবতা’, ‘পঞ্চগ্রাম’, ‘আরোগ্য নিকেতন’, ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’; এবং গল্পগ্রন্থ— ‘জলসাঘর’, ‘বেদেনী’। তিনি জ্ঞানপীঠ, রবীন্দ্র পুরস্কার ও সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
চন্দ্রনাথ গল্পের সারাংশ (Summary)
গল্পের কথক নরেশ এবং তার দুই সহপাঠী চন্দ্রনাথ ও হিরু একটি ক্ষুদ্র গ্রামের বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত। চন্দ্রনাথ ছিল অসাধারণ মেধাবী কিন্তু প্রখর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। তার কপালে অদ্ভূত এক ত্রিশূল-চিহ্ন ছিল, যা রাগের সময় ফুটে উঠত। চন্দ্রনাথ নিজেকে ‘কালপুরুষ’ নক্ষত্রের সঙ্গে তুলনা করত এবং বিশ্বাস করত তার জীবনের কক্ষপথ নক্ষত্রের মতোই নির্দিষ্ট।
স্কুলের প্রাইজ ডিস্ট্রিবিউশন অনুষ্ঠানে চন্দ্রনাথকে সেকেন্ড প্রাইজ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে সে তা প্রত্যাখ্যান করে। কারণ স্কুলে ফার্স্ট হয়েছিল সেক্রেটারির ভাইপো হিরু, যাকে চন্দ্রনাথ নিজে পরীক্ষার সময় উত্তর বলে দিয়ে সাহায্য করেছিল। চন্দ্রনাথের মতে, অন্যকে সাহায্য করে নিজে সেকেন্ড প্রাইজ নেওয়া তার আত্মমর্যাদার পরিপন্থী। এই নিয়ে চন্দ্রনাথের সাথে তার বড় দাদা নিশান নাথবাবুর বিবাদ হয় এবং অভিমানী চন্দ্রনাথ নিজের হকের সম্পত্তি ত্যাগ করে গৃহত্যাগ করে।
বছর কয়েক পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় চন্দ্রনাথের অনুমানই সত্য হয়েছে। হিরু স্কলারশিপ পেলেও চন্দ্রনাথের শ্রেষ্ঠত্ব বিচারে নরেশের মনে কোনো সন্দেহ ছিল না। হিরুর বাড়ির উৎসবের জৌলুসের আড়ালে নরেশ খুঁজে ফেরে চন্দ্রনাথকে। অবশেষে এক সংক্ষিপ্ত চিঠির মাধ্যমে চন্দ্রনাথের বিদায় বার্তা পাওয়া যায়। রিক্ত হস্তে, অদম্য জেদ আর আভিজাত্য নিয়ে চন্দ্রনাথ নিজের কক্ষপথে নিরুদ্দেশ যাত্রায় পা বাড়ায়, ঠিক কালপুরুষ নক্ষত্রের মতো।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
চন্দ্রনাথ গল্পের নামকরণের সার্থকতা
সাহিত্যে নামকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো চন্দ্রনাথ। সমগ্র কাহিনীটি তাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে।
চন্দ্রনাথ কোনো সাধারণ কিশোর নয়। লেখক তাকে ‘কালপুরুষ’ নক্ষত্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা নিঃসঙ্গ অথচ দীপ্তিময়। তার আত্মমর্যাদাবোধ এতই প্রবল যে সে অন্যায্যভাবে সেকেন্ড প্রাইজ নিতে অস্বীকার করে এবং এই সততার জন্য নিজের পরিবারও ত্যাগ করে। গল্পের প্রতিটি মোড়ে চন্দ্রনাথের তেজস্বিতা, বুদ্ধিমত্তা এবং অবিচল মানসিকতা ফুটে উঠেছে। নরেশ এবং হিরু পার্শ্বচরিত্র হলেও তাঁরা মূলত চন্দ্রনাথের উজ্জ্বলতাকেই ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করেছে। কালপুরুষের মতো সেও আপন জীবনের কক্ষপথে একা চলে। এই বলিষ্ঠ চরিত্রের নামানুসারেই গল্পের নামকরণ করা হয়েছে, যা সর্বতোভাবে সার্থক ও শিল্পসম্মত।
চন্দ্রনাথ গল্পের বিশেষ শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| সার্কুলার রোড | কলকাতার একটি বিখ্যাত রাস্তা |
| দীপ্তি | আভা বা উজ্জ্বলতা |
| কালপুরুষ | আকাশের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রমণ্ডল (Orion) |
| খড়্গধারী | তলোয়ার ধারণকারী |
| কুক্ষিগত | অধিকারে আনা বা মুঠোর মধ্যে রাখা |
| ত্রিশূল-চিহ্ন | তিন ফলার অস্ত্রের মতো দাগ |
| রিফিউজ | প্রত্যাখ্যান করা |
| ডিগনিটি | মর্যাদা বা সম্মান |
| পারিতোষিক | পুরস্কার |
| অবিচলিত | স্থির বা দৃঢ় |
চন্দ্রনাথ গল্পের বহুবিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন উত্তর (MCQ) | Class 9 Chandranath MCQ Question Answer
১. ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পটি কোন মূল উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে?
(ক) গণদেবতা
(খ) আগুন
(গ) পঞ্চগ্রাম
(ঘ) আরোগ্য নিকেতন
উত্তর: (খ) আগুন
২. চন্দ্রনাথ নিজেকে কোন নক্ষত্রের সঙ্গে তুলনা করত?
(ক) কালপুরুষ
(খ) ধ্রুবতারা
(গ) শুকতারা
(ঘ) সপ্তর্ষি
উত্তর: (ক) কালপুরুষ
৩. চন্দ্রনাথের কপালে কীসের চিহ্ন ছিল?
(ক) চক্র
(খ) তিলক
(গ) ত্রিশূল
(ঘ) চন্দ্র
উত্তর: (গ) ত্রিশূল
৪. চন্দ্রনাথের দাদার নাম কী?
(ক) নরেশ
(খ) নিশান নাথ
(গ) হিরু
(ঘ) হরিশ চন্দ্র
উত্তর: (খ) নিশান নাথ
৫. চন্দ্রনাথ কেন সেকেন্ড প্রাইজ প্রত্যাখ্যান করেছিল?
(ক) রাগের চোটে
(খ) অসুস্থতার জন্য
(গ) ডিগনিটিতে বাধে বলে
(ঘ) হিরুর ভয়ে
উত্তর: (গ) ডিগনিটিতে বাধে বলে
৬. ফার্স্ট প্রাইজ কে পেয়েছিল?
(ক) নরেশ
(খ) হিরু
(গ) শ্যামা
(ঘ) অমিয়
উত্তর: (খ) হিরু
৭. হিরু কার ভাইপো ছিল?
(ক) হেডমাস্টারের
(খ) সেক্রেটারির
(গ) ডি.এস.পি-র
(ঘ) নরেশের
উত্তর: (খ) সেক্রেটারির
৮. চন্দ্রনাথ হিরুকে ক’টি অঙ্ক টুকে নিতে দিয়েছিল?
(ক) দুটি
(খ) তিনটি
(গ) চারটি
(ঘ) সবকটি
উত্তর: (খ) তিনটি
৯. চন্দ্রনাথের দাদা চন্দ্রনাথকে কার কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছিলেন?
(ক) হিরুর
(খ) হেডমাস্টারের
(গ) সেক্রেটারির
(ঘ) নরেশের
উত্তর: (খ) হেডমাস্টার
১০. নরেশ চন্দ্রনাথের ঘরে গিয়ে তাঁকে কী করতে দেখেছিল?
(ক) ঘুমাতে
(খ) রেজাল্ট তৈরি করতে
(গ) খেতে
(ঘ) কাঁদতে
উত্তর: (খ) রেজাল্ট তৈরি করতে
১১. চন্দ্রনাথের গোল্ড মেডেল পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল কোন বিষয়ে?
(ক) বাংলা
(খ) ইতিহাস
(গ) অঙ্ক
(ঘ) ভূগোল
উত্তর: (গ) অঙ্ক
১২. “মর্দ কি বাত হাতি কা দাঁত”— এটি চন্দ্রনাথের চরিত্রের কোন গুণ প্রকাশ করে?
(ক) অস্থিরতা
(খ) একগুঁয়েমি
(গ) দৃঢ়তা
(ঘ) ভীরুতা
উত্তর: (গ) দৃঢ়তা
১৩. কত নম্বর পেলে চন্দ্রনাথের মতে সে ফার্স্ট ডিভিশনে আসবে?
(ক) ৫০০
(খ) ৫২৫
(গ) ৫৫০
(ঘ) ৬০০
উত্তর: (খ) ৫২৫
১৪. হিরুর বাড়িতে কী উপলক্ষে উৎসব ছিল?
(ক) জন্মদিন
(খ) বিবাহ
(গ) স্কলারশিপ প্রাপ্তি
(ঘ) পূজা
উত্তর: (গ) স্কলারশিপ প্রাপ্তি
১৫. চন্দ্রনাথের চিঠিতে প্রিয়বরেষু বদলে কী লেখা ছিল?
(ক) সুহৃদেষু
(খ) প্রীতিভাজনেষু
(গ) শ্রদ্ধাস্পদেষু
(ঘ) স্নেহাস্পদেষু
উত্তর: (খ) প্রীতিভাজনেষু
১৬. চন্দ্রনাথকে কে ‘স্পেশাল প্রাইজ’ দিতে চেয়েছিলেন?
(ক) হেডমাস্টার
(খ) সেক্রেটারি
(গ) নিশান নাথ
(ঘ) হিরু
উত্তর: (খ) সেক্রেটারি
১৭. নরেশ ক’টার ট্রেনে মামার বাড়ি থেকে ফিরল?
(ক) চারটের
(খ) পাঁচটের
(গ) ছ’টার
(ঘ) সাতটার
উত্তর: (খ) পাঁচটের
১৮. হিরু কোন শহরে থাকল পরীক্ষার পর?
(ক) বর্ধমান
(খ) কলকাতা
(গ) সিউড়ি
(ঘ) আসানসোল
উত্তর: (খ) কলকাতা
১৯. চন্দ্রনাথের ঘরটি কেমন ছিল?
(ক) রাজকীয়
(খ) দারিদ্র্য-জীর্ণ
(গ) দ্বিতল
(ঘ) সাজানো
উত্তর: (খ) দারিদ্র্য-জীর্ণ
২০. হেডমাস্টার মহাশয় কোন অভ্যাসে অভ্যস্ত ছিলেন?
(ক) বই পড়া
(খ) তামাক খাওয়া
(গ) ঘুমানো
(ঘ) ভ্রমণ
উত্তর: (খ) তামাক খাওয়া
২১. চন্দ্রনাথ হিরুর কাকার প্রস্তাবকে কী বলেছিল?
(ক) শ্রেষ্ঠ
(খ) অপমানজনক
(গ) মহৎ
(ঘ) অদ্ভুত
উত্তর: (খ) অপমানজনক
২২. “Shame in crowd but solitary pride”— কথাটি কে বলেছেন?
(ক) চন্দ্রনাথ
(খ) হেডমাস্টার
(গ) নরেশ
(ঘ) হিরু
উত্তর: (খ) হেডমাস্টার
২৩. হিরুর বাবা কীসে বিলেত যাওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন?
(ক) ডাক্তারি
(খ) আই. সি. এস
(গ) ইঞ্জিনিয়ারিং
(ঘ) ব্যারিস্টারি
উত্তর: (খ) আই. সি. এস
২৪. নরেশ চন্দ্রনাথের বাড়িতে শেষবার গিয়ে কী দেখেছিল?
(ক) উৎসব
(খ) ঘরটি খাঁ খাঁ করছে
(গ) চন্দ্রনাথ পড়ছে
(ঘ) তাঁর বিয়ে হচ্ছে
উত্তর: (খ) ঘরটি খাঁ খাঁ করছে
২৫. চন্দ্রনাথের চিঠিতে কোন রক্তের তেজের কথা ছিল?
(ক) বাঙালি
(খ) ব্রাহ্মণ
(গ) আর্য
(ঘ) জমিদার
উত্তর: (খ) ব্রাহ্মণ
২৬. কালপুরুষ নক্ষত্র কীসের মতো দীপ্তিতে জ্বলত?
(ক) হীরের
(খ) প্রদীপের
(গ) সূর্যের
(ঘ) চাঁদের
উত্তর: (খ) প্রদীপের
২৭. চন্দ্রনাথের কাছে নরেশের রেজাল্ট কী ছিল?
(ক) ফার্স্ট
(খ) ফেল
(গ) থার্ড ডিভিশন
(ঘ) স্কলারশিপ
উত্তর: (গ) থার্ড ডিভিশন
২৮. চন্দ্রনাথের চিঠিতে হিরু কী খুঁজে পেয়েছিল?
(ক) অর্থ
(খ) স্মৃতিচিহ্ন
(গ) ঘৃণা
(ঘ) উপদেশ
উত্তর: (খ) স্মৃতিচিহ্ন
২৯. চন্দ্রনাথের মতে স্কুলের সঙ্গে তাঁর পাওনা মিটে গেছে কত দিনের মাইনে দিয়ে?
(ক) এক মাস
(খ) দু-তিন মাস
(গ) ছয় মাস
(ঘ) এক বছর
উত্তর: (খ) দু-তিন মাস
৩০. গল্পের শেষে চন্দ্রনাথ কোন দিকে চলে গেছে বলে কল্পনা করা হয়েছে?
(ক) পশ্চিম
(খ) মাঠের শেষ প্রান্তে
(গ) উত্তর
(ঘ) দক্ষিণে
উত্তর: (খ) মাঠের শেষ প্রান্তে
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
চন্দ্রনাথ গল্পের অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ – ১ নম্বর) | Class 9 Chandranath SAQ Question Answer
১. চন্দ্রনাথের সঙ্গে কালপুরুষ নক্ষত্রের কোন বিষয়ে সাদৃশ্য আছে?
উত্তর: কালপুরুষ নক্ষত্রের খড়্গধারী ভীমকায় আকৃতির সঙ্গে চন্দ্রনাথের বলিষ্ঠ চেহারার এবং তার একাকী কক্ষপথে চলার ধরনে সাদৃশ্য আছে।
২. চন্দ্রনাথের শারীরিক গঠন কেমন ছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ দীর্ঘাকৃতি, সবল সুস্থ দেহ এবং বড় বড় চোখের অধিকারী ছিল। তার নাসিকাগ্র সামান্য স্ফীত ছিল।
৩. চন্দ্রনাথের কপালে ত্রিশূল-চিহ্ন কখন ফুটে উঠত?
উত্তর: সামান্য উত্তেজনায় বা রাগের সময় চন্দ্রনাথের কপালে শিরার বিন্যাসে ত্রিশূল-চিহ্ন ফুটে উঠত।
৪. হেডমাস্টার মহাশয় নরেশকে কী খবর জানতে পাঠিয়েছিলেন?
উত্তর: প্রাইজ ডিস্ট্রিবিউশন অনুষ্ঠানে চন্দ্রনাথ কেন সেকেন্ড প্রাইজ নিতে অস্বীকার করেছে, সেই কারণ জানতে পাঠিয়েছিলেন।
৫. নরেশ যখন চন্দ্রনাথের কাছে যায়, তখন চন্দ্রনাথ কী করছিল?
উত্তর: নরেশ যখন চন্দ্রনাথের জীর্ণ ঘরে যায়, তখন চন্দ্রনাথ মনে মনে ইউনিভারসিটি পরীক্ষার রেজাল্ট তৈরি করছিল।
৬. চন্দ্রনাথের মতে হিরু কেন ফার্স্ট হয়েছে?
উত্তর: চন্দ্রনাথের মতে, সেক্রেটারি কাকার ভাইপো হওয়ার সুযোগ এবং প্রাইভেট মাস্টারের প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুবিধায় হিরু ফার্স্ট হয়েছে।
৭. কেন চন্দ্রনাথ সেকেন্ড প্রাইজ রিফিউজ করেছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ মনে করেছিল সেকেন্ড প্রাইজ নেওয়া তার ডিগনিটি বা আত্মমর্যাদার পরিপন্থী।
৮. নিশান নাথবাবু চন্দ্রনাথকে কী হুকুম দিয়েছিলেন?
উত্তর: নিশান নাথবাবু চন্দ্রনাথকে হেডমাস্টারের কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রাইজ গ্রহণ করার চিঠি লিখতে বলেছিলেন।
৯. দাদার নির্দেশের উত্তরে চন্দ্রনাথ কী বলেছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলে দাদার নির্দেশ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিল।
১০. নিশান নাথবাবুর সাথে চন্দ্রনাথের বিবাদের চূড়ান্ত পরিণতি কী হয়েছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ সমস্ত সম্পত্তি ত্যাগ করে পৃথক হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
১১. হিরু চন্দ্রনাথের কে ছিল?
উত্তর: হিরু ছিল চন্দ্রনাথের সহপাঠী এবং স্কুলের সেক্রেটারির ভাইপো।
১২. চন্দ্রনাথের সেক্রেটারি কাকার ‘স্পেশাল প্রাইজ’-এর প্রস্তাবটির কী হয়েছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ একে অপমানজনক আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
১৩. নরেশ চন্দ্রনাথের চিঠি দেখে কেন অবাক হয়েছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ চিঠিতে স্নেহাস্পদ হিরুর বদলে ‘প্রীতিভাজন হিরু’ লিখেছিল এবং তাতে সখ্যতার চেয়ে গাম্ভীর্য বেশি ছিল।
১৪. নটেগাছ মুড়িয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গটি এখানে কেন এসেছে?
উত্তর: রূপকথার গল্পের পরিসমাপ্তিতে নটেগাছ মুড়িয়ে যাওয়ার প্রথা থাকলেও চন্দ্রনাথের অদম্য যাত্রা শেষ হয়নি বলে প্রসঙ্গটি এসেছে।
১৫. চন্দ্রনাথের বিদায়লগ্নে কিসের আলো জ্বলছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথের বিদায়লগ্নে আকাশে কালপুরুষ নক্ষত্রের আভা এবং নির্জন প্রান্তর দিগন্ত বিস্তৃত ছিল।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
চন্দ্রনাথ গল্পের ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Chandranath 2 Marks Question Answer
১. “কালপুরুষ নক্ষত্রের সঙ্গে চন্দ্রনাথের সাদৃশ্য আছে”— কোন কোন দিক থেকে?
উত্তর: আকাশে কালপুরুষ যেমন একাকী এবং দীপ্তিময়, চন্দ্রনাথও তেমনই স্বাধীনচেতা এবং স্বমহিমায় উজ্জ্বল। কালপুরুষের তলোয়ার ধরার ভঙ্গির মতো চন্দ্রনাথের অদম্য চলন লেখকের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।
২. চন্দ্রনাথের ললাটের ত্রিশূল-চিহ্নটির বর্ণনা দাও।
উত্তর: চন্দ্রনাথের চওড়া কপালে ঠিক মধ্যস্থলে তিনটি শিরা মিলে এক ত্রিশূল-চিহ্ন তৈরি করেছিল। সামান্য উত্তেজনা বা ক্রোধের সময় এই শিরাগুলি ফুলে উঠে চিহ্নটিকে প্রকট করে তুলত।
৩. সেকেন্ড প্রাইজ প্রত্যাখ্যান করার পিছনে চন্দ্রনাথের যুক্তি কী ছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ হিরুকে তিনটি শক্ত অঙ্ক পরীক্ষার হলে বলে দিয়েছিল। অর্থাৎ সে মনে করত মেধায় সে হিরুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তাই ফার্স্ট না হয়ে সেকেন্ড হওয়া তার আত্মসম্মানে আঘাত করত।
৪. নিশান নাথবাবু কেন চন্দ্রনাথের ওপর ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন?
উত্তর: বিদ্যালয়ের প্রধান সম্মান নিতে অস্বীকার করা এবং হেডমাস্টারের মতো পরম পূজনীয় ব্যক্তির নির্দেশ অমান্য করার ধৃষ্টতা দেখে নিশান নাথবাবু অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন।
৫. রেজাল্ট সম্পর্কে চন্দ্রনাথের অনুমান কেমন ছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ অত্যন্ত গাণিতিক হিসেবে জানিয়েছিল যে ৫২৫-এর কম পেলে সে থার্ড ডিভিশনে যাবে এবং স্কুলের রেজাল্টও তাঁর কথামতোই পণ্ড হবে। বাস্তবে তার অনুমান নির্ভুল ছিল।
৬. সেক্রেটারি কাকার ‘স্পেশাল প্রাইজ’ প্রত্যাখ্যান করে চন্দ্রনাথ কী বলেছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ জানিয়েছিল যে গুরুদক্ষিণা দেওয়ার সময় উত্তীর্ণ হয়েছে এবং স্কুলের সাথে তাঁর পাওনাগণ্ডা মিটে গেছে। তাই বিনয় নয়, বরং এক ধরণের বিদ্রূপের সাথে সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল।
৭. “Shame in crowd but solitary pride”— উক্তিটির প্রেক্ষাপট কী?
উত্তর: হেডমাস্টারের মতে চন্দ্রনাথ জনসমক্ষে লজ্জিত হলেও মনে মনে অত্যন্ত গর্বিত ও জেদি ছিল। তাঁর চরিত্রের এই নিঃসঙ্গ আভিজাত্যের বর্ণনা দিতেই তিনি এই প্রবাদটি ব্যবহার করেন।
৮. নিশান নাথবাবুর চরিত্রে ‘মুরুব্বিয়ানা’ কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: অভিভাবক হিসেবে তিনি চন্দ্রনাথের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চেয়েছিলেন এবং তাঁকে জোরপূর্বক নিজের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য করতে চেয়েছিলেন।
৯. চন্দ্রনাথ কেন হিরুকে দেওয়া চিঠিতে ‘প্রিয়বরেষু’ কেটে দিয়েছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ বিশ্বাস করত হিরুর সাথে তাঁর সম্পর্ক বন্ধুত্বের চেয়েও প্রতিযোগিতার। হিরু ফার্স্ট হয়েছে চাতুরির মাধ্যমে, তাই সেই কৃত্রিম সখ্যতা সে বজায় রাখতে চায়নি।
১০. হিরুর স্কলারশিপ প্রাপ্তির দিনে চন্দ্রনাথের জীর্ণ গৃহের অবস্থা কেমন ছিল?
উত্তর: হিরুর বাড়িতে যখন উৎসবের জৌলুস, চন্দ্রনাথের বাড়ি তখন নির্জন ও শ্রীহীন। শয়নকক্ষের দেওয়ালে একটি সস্তা দামের তালা ঝুলছিল যা চন্দ্রনাথের দারিদ্র্য ও প্রস্থানকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল।
১১. হেডমাস্টার মহাশয় কেন চন্দ্রনাথকে ‘তুই’ থেকে ‘তুমি’ সম্বোধন শুরু করেন?
উত্তর: হেডমাস্টারের মতে কোনো শিক্ষার্থী যখন তার অধিকারের গন্ডি পেরিয়ে যায় বা তাঁর জ্ঞানের উর্ধ্বে ওঠে, তখন সেই সখ্যতার চেয়ে সম্মানের স্থানটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
১২. কালপুরুষ নক্ষত্রের ‘খড়্গধারী ভীমকায় আকৃতি’ কিসের ইঙ্গিত দেয়?
উত্তর: এটি চন্দ্রনাথের অপরাজেয় মানসিকতা এবং জীবনের পথে লড়াই করে এগিয়ে যাওয়ার জেদকে ইঙ্গিত করে। নক্ষত্রটি যেমন নির্ভীক, চন্দ্রনাথও তেমনই।
১৩. নরেশ চন্দ্রনাথের চিঠিটি হিরুকে ফেরত দিয়েছিল কেন?
উত্তর: নরেশ অনুভব করেছিল এই চিঠির শব্দগুলি চন্দ্রনাথের হৃদয়ের বলিষ্ঠতা প্রকাশ করছে। হিরু যেন সেটিকে স্মারকচিহ্ন হিসেবে রাখে, সেই কারণেই নরেশ তা দিয়েছিল।
১৪. চন্দ্রনাথের সম্পত্তির ভাগ নেওয়ার বিষয়টি নিশান নাথবাবু কীভাবে দেখেছিলেন?
উত্তর: নিশান নাথবাবু বিষয়টি অত্যন্ত কঠোর ও নির্দয়ভাবে দেখেছিলেন। তিনি চন্দ্রনাথকে সমস্ত দাবি ত্যাগ করতে বলেন এবং গৃহ থেকে বিদায় নিতে বাধ্য করেন।
১৫. গল্পের শেষে চন্দ্রনাথের যে যাত্রার বর্ণনা আছ, তা কেমন?
উত্তর: রাতের অন্ধকারে, গভীর আকাশে কালপুরুষ স্বাক্ষী রেখে চন্দ্রনাথ একা দিগন্তের পথে এগিয়ে চলেছে। তার কাঁধে আছে লাঠির প্রান্তে বাঁধা পুঁটলি। এটি এক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানবের যাত্রা।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
চন্দ্রনাথ গল্পের ৩ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Chandranath 3 Marks Question Answer
১. “এই ত্রিশূল-চিহ্ন মোটা হইয়া ফুলিয়া ওঠে”— কখন এবং কেন এমন হয়?
উত্তর: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র চন্দ্রনাথের কপালে সামান্য উত্তেজনার সময় তিনটি শিরা ফুলে উঠে ত্রিশূলের আকার নিত। চন্দ্রনাথ যখন চরম আত্মমর্যাদাবোধে আবিষ্ট হয় বা কারোর আদেশ অমান্য করার জেদ ধরে, তখন তাঁর ললাটে এই চিহ্নটি প্রকট হয়। এটি তাঁর চরিত্রের বিশেষ তেজ ও বিদ্রোহী মানসিকতার দৈহিক প্রকাশ।
২. “সেকেন্ড প্রাইজ নেওয়া আমি বিনিথ মাই ডিগনিটি বলে মনে করি”— উক্তিটির তাৎপর্য লেখো।
উত্তর: চন্দ্রনাথ মেধা ও শক্তিতে নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করত। স্কুলের ফার্স্ট হওয়া হিরুকে সে নিজেই তিনটি অঙ্ক বলে দিয়েছিল। চন্দ্রনাথের যুক্তি অনুযায়ী, যাকে সে সাহায্য করেছে তার নিচে প্রাইজ নেওয়া আত্মম্মানের অপমান। সে পুরস্কারের চেয়ে নিজের মর্যাদা বা ‘ডিগনিটি’ কে বড় করে দেখেছিল।
৩. নিশান নাথবাবুর সাথে চন্দ্রনাথের বিবাদের কারণ কী ছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ স্কুলের প্রাইজ নিতে অস্বীকার করায় হেডমাস্টার মহাশয় অপমানিত বোধ করেন। বড় ভাই হিসেবে নিশান নাথবাবু চেয়েছিলেন চন্দ্রনাথ ক্ষমা চেয়ে প্রাইজটি গ্রহণ করুক। কিন্তু চন্দ্রনাথ নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকায় এবং অগ্রজের আদেশ অমান্য করায় তাদের বিবাদ চরম আকার নেয় এবং চন্দ্রনাথ বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
৪. চন্দ্রনাথের রেজাল্ট সম্পর্কে অনুমানের বর্ণনা দাও।
উত্তর: চন্দ্রনাথ গাণিতিক দক্ষতায় নিজের রেজাল্ট আগাম অনুমান করেছিল। সে বলেছিল ৫০০-৫২৫ এর নিচে পেলে সে থার্ড ডিভিশনে যাবে এবং স্কুলের ফলাফলও তলানিতে নামবে। বাস্তলে পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় তার অনুমান বর্ণে বর্ণে মিলে গেছে। এটি চন্দ্রনাথের অসামান্য আত্মবিশ্বাস ও মেধার পরিচয়।
৫. হিরুর চরিত্রের সাথে চন্দ্রনাথের চরিত্রের পার্থক্য কোথায়?
উত্তর: হিরু হলো বিত্তবান ঘরের সন্তান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠার অনুসারী। সে কাকার প্রভাবে ও অসদুপায়ে ফার্স্ট হতেও দ্বিধা করে না। অন্যদিকে চন্দ্রনাথ অতি দরিদ্র কিন্তু প্রখর আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। সে পুরস্কারের মোহে নয়, আদর্শের মোহে চলে। হিরু যেখানে উৎসবের মধ্যে থাকে, চন্দ্রনাথ সেখানে কালপুরুষের মতো নিঃসঙ্গ দীপ্তিতে পথ চলে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
চন্দ্রনাথ গল্পের ৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Chandranath 5 Marks Question Answer
১. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চন্দ্রনাথ’ গল্প অবলম্বনে চন্দ্রনাথ চরিত্রটির বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
উত্তর: চন্দ্রনাথ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টির এক অনন্য কিশোর চরিত্র। তার চরিত্রের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:
অদম্য আত্মমর্যাদাবোধ: চন্দ্রনাথ গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজের সম্মানের বা ডিগনিটির প্রশ্নে আপসহীন। সে সেকেন্ড প্রাইজ রিফিউজ করে কারণ সে বিশ্বাস করে মেধার লড়াইয়ে সে-ই শ্রেষ্ঠ।
নির্ভীক ও দৃঢ়চেতা: সে তাঁর দাদা নিশান নাথবাবুর মতো কঠোর অভিভাবকের মুখের ওপর ‘না’ বলতে পারে। নিজের আদর্শের জন্য সে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তিও অনায়াসে ত্যাগ করে।
প্রখর মেধা ও আত্মবিশ্বাস: অঙ্কশাস্ত্রে তাঁর দক্ষতা প্রবাদপ্রতিম। হিরুকে সাহায্য করার ক্ষমতা এবং নিজের পরীক্ষার ফলাফল আগাম নির্ভুল বলার শক্তি তার অসাধারণ মেধার প্রমাণ দেয়।
নিঃসঙ্গ আভিজাত্য: চন্দ্রনাথ কারোর কৃপা বা ‘স্পেশাল প্রাইজ’ চায় না। সে কালপুরুষ নক্ষত্রের মতো একাকী নিজের কক্ষপথে চলতে ভালোবাসে। সে উদ্ধত হতে পারে, কিন্তু হীন নয়।
পরিশেষে বলা যায়, চন্দ্রনাথ হলো তেজস্বিতা ও ব্যক্তিত্বের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি, যে প্রতিকূলতার কাছে মাথ নত না করে নিজের মতো করে জীবন গড়তে চায়।
২. “চন্দ্রনাথ যেন গভীর রাত্রির মধ্যগগনচারী কালপুরুষ নক্ষত্রের মতো”— এই উপমাটির সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পের নামকরণের সার্থকতা ও চরিত্র বিশ্লেষণে কালপুরুষ নক্ষত্রের উপমাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লেখক চন্দ্রনাথকে বারবার কালপুরুষের সঙ্গে তুলনা করেছেন:
স্বকীয় দীপ্তি: কালপুরুষ আকাশে যেমন উজ্জ্বল ও স্বতন্ত্র, চন্দ্রনাথও স্কুলের গন্ডিতে তাঁর বুদ্ধিমত্তায় ব্যতিক্রমী। সাধারণের ভিড়ে সে নিজেকে সরিয়ে রাখে।
নিঃসঙ্গ যাত্রা: কালপুরুষ নক্ষত্র যেমন আকাশের বুকে একা পথ চলে, চন্দ্রনাথও নিজের সিদ্ধান্ত ও আদর্শ নিয়ে একাই লড়াই করে। কেউ তাকে না বুঝলেও সে বিচলিত হয় না।
ভীমকায় রূপ: চন্দ্রনাথের বলিষ্ঠ চেহারা এবং উত্তেজনায় কপালে ফুটে ওঠা ত্রিশূল-চিহ্ন তাকে নক্ষত্রের খড়্গধারী আকৃতির মতো এক তপ্ত চেহারা দান করে।
লড়াইয়ের জেদ: গল্পের শেষে যখন চন্দ্রনাথ ঘর ছেড়ে নিরালা পথে পা বাড়ায়, তখন আকাশে কালপুরুষ নক্ষত্র তারই সঙ্গী হয়। মানুষের জীবনের কক্ষপথ যে নক্ষত্রের মতোই অমোঘ, চন্দ্রনাথের মাধ্যমে লেখক তা প্রতিষ্ঠা করেছেন। সুতরাং, উপমাটি তার চারিত্রিক দৃঢ়তা প্রকাশে সম্পূর্ণ সার্থক।
৩. “মর্দ কি বাত হাতি কা দাঁত”— প্রবাদটি গল্পের প্রেক্ষাপটে কীভাবে কার্যকর হয়েছে?
উত্তর: এই প্রবাদটির অর্থ হলো— প্রাতঃস্মরণীয় ও বীরের কথা হাতির দাঁতের মতো একবার বেরিয়ে গেলে আর ফিরে ঢোকে না। চন্দ্রনাথের চরিত্রে এই অটল বিশ্বাস ও দৃঢ়তা বর্তমান ছিল:
সিদ্ধান্তে অবিচল: চন্দ্রনাথ যখন একবার ঠিক করেছিল সে প্রাইজ নেবে না, হাজার অনুরোধ বা শাসানি তাকে টলাতে পারেনি।
দাদার সাথে বিবাদ: নিশান নাথবাবু যখন তাকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করতে চান, চন্দ্রনাথ বারবার ‘না’ বলে নিজের কথার মর্যাদা রক্ষা করে।
গৃহত্যাগ: নিজের সিদ্ধান্তের জন্য সে ঘর ছাড়তে হয় জেনেও পিছপা হয়নি। সম্পত্তির মোহ তাকে তাঁর সংকল্প থেকে সরাতে পারেনি।
এটি কেবল চন্দ্রনাথের একগুঁয়েমি নয়, বরং তাঁর উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের রূপকার। সে যা বলেছে তা-ই করেছে, যা তাঁর আভিজাত্যের পরিচয় বহন করে।
৪. চন্দ্রনাথের দাদা নিশান নাথবাবুর চরিত্রটি গল্পের অগ্রগতিতে কী ভূমিকা পালন করেছে?
উত্তর: নিশান নাথবাবু গল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্র। তিনি রক্ষণশীল ও কঠোর অভিভাবকত্বের প্রতিনিধি:
সামাজিক মর্যাদা: তিনি স্কুলের প্রাইজ প্রত্যাখ্যান করাকে পারিবারিক লজ্জার কালিম হিসেবে দেখেছিলেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও সম্মানের ওপর জোর দিয়েছিলেন।
কঠোর শাসন: নিশান নাথবাবু চন্দ্রনাথকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। তাঁর এই কঠোরতা চন্দ্রনাথের বিদ্রোহী সত্তাকে আরও উসকে দেয়।
নির্দয়তা: ছোট ভাইয়ের আবেগ না বুঝে তিনি তাঁকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত ও বিচ্ছিন্ন করার যে পথ বেছেছিলেন, তা চন্দ্রনাথের নিঃসঙ্গ বিদায়ের পথ প্রশস্ত করে।
নিশান নাথবাবুর এই মুরুব্বিয়ানার কারণেই চন্দ্রনাথের চরিত্রের আত্মমর্যাদা ও জেদ আরও প্রকট হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
৫. চন্দ্রনাথের ঘর ছাড়ার সময়কার পরিবেশ এবং তাঁর সেই নিরুদ্দেশ যাত্রার বর্ণনা দাও।
উত্তর: চন্দ্রনাথ যখন তাঁর ক্ষুদ্র গ্রামের স্কুলের পড়া শেষ করে বিদায় নেয়, তখন কোনো উৎসব ছিল না। নরেশ যখন শেষবার তাঁর বাড়িতে যায়, তখন চন্দ্রনাথ নেই, কেবল দেওয়ালে একটি সস্তা তালা ঝুলছে। কবির বর্ণনায়, সেই রাতে আকাশ ছিল গভীর নীল।
চন্দ্রনাথের যাত্রাপথে সঙ্গী হয়েছিল কালপুরুষ নক্ষত্র। সে পিছে ফিরে তাকায়নি, ক্ষণিক বিশ্রাম নেয়নি। পুঁটলি কাঁধে নিয়ে সে জনহীন পথে মন্থর গতিতে এগিয়ে চলেছে। এই যাত্রা কোনো গৃহহীনের যাত্রা নয়, এটি হলো এক সত্যনিষ্ঠ ও স্বাধীন মানবের নিজস্ব গন্তব্যে পৌঁছানোর যাত্রা। সে এই মাটিকে ভালোবেসেছিল, কিন্তু সম্মান বিসর্জন দিয়ে নয়। নক্ষত্রের মায়াবী আলোয় তাঁর এই নিরুদ্দেশ যাত্রা পাঠককে এক মহাজাগতিক বিষণ্ণতার স্বাদ দেয়।
৬. ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পের শেষে যে ট্র্যাজেডি বা করুণ রস ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো।
উত্তর: গল্পের শেষে দেখা যায় হিরু স্কলারশিপ নিয়ে উৎসবে মগ্ন, আর চন্দ্রনাথ একা পথে পথে ফিরছে। এই যে মেধার সঠিক মূল্যায়ন না হওয়া বা হিরুর মতো ছলনাময় মানুষের জয়লাভ—এটি একধরণের ট্র্যাজেডি:
নিঃসঙ্গতা: চন্দ্রনাথের মতো উজ্জ্বল নক্ষত্র পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রিক্ত হাতে বিদায় নিচ্ছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
দারিদ্র্যের কষ্ট: তাঁর দারিদ্র্য-জীর্ণ ঘর এবং সস্তা দামের তলাটি তাঁর অসহায়তার প্রতীক।
অপ্রাপ্তি: যে মেধাবী কিশোর গোল্ড মেডেলের সম্ভাবনা রাখত, সে আজ লক্ষ্যহীন।
কিন্তু এই ট্র্যাজেডি ছাপিয়ে চন্দ্রনাথের জয়গাথা ফুটে উঠেছে তাঁর নৈতিকতায়। সে সাময়িকভাবে পরাজিত হলেও চরিত্রের আভিজাত্যে সে-ই বিজয়ী।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আজকের পোস্ট এর মধ্যে চন্দ্রনাথ গল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা, গল্পটির বিষয়বস্তু এবং উত্তর সহ প্রশ্নও আলোচনা করা হল, যেগুলি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ ভাবে তোমাদের সহায়ক হয়ে উঠবে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী অন্যান্য সমস্ত বিষয়ের নোট (Class IX All Notes) |
নবম শ্রেণী বাংলা চন্দ্রনাথ প্রশ্ন উত্তর | চন্দ্রনাথ গল্পের সারাংশ | চন্দ্রনাথ mcq প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Bengali Chandranath Notes | চন্দ্রনাথ বড় প্রশ্ন সাজেশন।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম Study গ্রুপে যুক্ত হোন -


