ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত ‘আমরা’ কবিতাটি নবম শ্রেণির পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বাঙালির শৌর্য, বীর্য, জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং সাংস্কৃতিক ঋদ্ধির এক সার্থক দালিলিক সংকলন এই কবিতাটি। বঙ্গভূমির প্রাকৃতিক অনিন্দ্যসুন্দরী রূপ বর্ণনার পাশাপাশি বাঙালির অতীত গৌরবগাথা এবং ভবিষ্যতের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা কবি এখানে ছন্দোবদ্ধ ভাষায় প্রকাশ করেছেন।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| পাঠের নাম | আমরা |
| কবি | সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত |
| কাব্যগ্রন্থ | কুহু ও কেকা |
| মূল সুর | বাঙালির ঐতিহ্য ও দেশপ্রেম |
আমরা – সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (নবম শ্রেণী বাংলা কবিতা)
আজকের এই পোস্টে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত ‘আমরা’ কবিতাটির উৎস, সারাংশ, নামকরণের সার্থকতা এবং পরীক্ষায় আসার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর খুব সহজ ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে।
আমরা – কবি পরিচিতি
বাংলা সাহিত্যে ‘ছন্দের জাদুকর’ নামে পরিচিত সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৮২-১৯২২)। ছন্দের কারুকার্য এবং বৈচিত্র্যে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁর লেখায় দেশপ্রেম, মানবতাবাদ এবং ঐতিহ্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বহু বিদেশী কবিতাকে সার্থকভাবে বাংলায় অনুবাদ করেছেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে ‘বেণু ও বীণা’, ‘হোম শিখা’, ‘ফুলের ফসল’, ‘কুহু ও কেকা’ ইত্যাদি। শব্দচয়নে নিপুণতা এবং ধ্বনিমাধুর্য তাঁর কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য। ‘আমরা’ কবিতাটিতে তিনি বাঙালির জয়যাত্রার ইতিহাসকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
আমরা কবিতার সারাংশ (Summary)
‘আমরা’ কবিতাটি বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের এক প্রাণবন্ত আলেখ্য। কবি গঙ্গা-বিধৌত পবিত্র বঙ্গভূমির বর্ণনা দিয়ে কবিতাটি শুরু করেছেন। যেখানে মুক্তবেণীর গঙ্গা মুক্তি বিতরণ করে, সেখানে আমরা বাঙালিরা বাস করি। আমাদের এই বাংলা দেশ শস্য-শ্যামলা, মণি-মুক্তায় ভূষিত এবং প্রকৃতির অকৃত্রিম দানে সমৃদ্ধ।
বাঙালির বীরত্বের পরিচয় দিতে গিয়ে কবি স্মরণ করেছেন বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ করা বীরদের, বিজয় সিংহকে যিনি লঙ্কা জয় করে নিজের নাম অনুসারে দ্বীপের নাম রেখেছেন ‘সিংহল’। একহাতে মগ আর অন্য হাতে মুঘলদের রুখে দেওয়ার ক্ষমতা কেবল বাঙালিরই আছে। জ্ঞানের ক্ষেত্রেও বাঙালির অবদান অতুলনীয়। কপিল মুনি, অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান এবং অজাতশত্রু শ্রীজ্ঞানের মতো মনীষীরা তিব্বত থেকে সুদূর বিদেশে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন। শিল্পকলায়ও বাঙালির বিশেষ খ্যাতি ছিল। বরোভুদরের ভাস্কর্য থেকে পাল যুগের চিত্রকলা—সবই বাঙালির প্রতিভা বহন করে।
কবি কেবল অতীত নয়, বর্তমান ও ভবিষ্যতের স্বপ্নও দেখেছেন। বীর সন্ন্যাসী বিবেকানন্দের বিশ্ববিজয়ী বাণী, নিমাই বা শ্রীচৈতন্যদেবের প্রেম—সবই বাঙালির সম্পদ। মহামিলনের গান গেয়ে বাঙালি বিশ্বজনতাকে এক করতে চায়। প্রকৃতির দুর্যোগ বা মড়কের ভয়কে জয় করে বাঙালি আজও টিকে আছে এবং ভবিষ্যতেও বিধাতার আশীর্বাদে শ্রেষ্ঠত্বের আসন লাভ করবে।
আমরা কবিতার নামকরণের সার্থকতা
সাহিত্যে নামকরণ একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের এই কবিতার শিরোনাম ‘আমরা’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং অর্থবহ।
কবিতাটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির কথা বলে না, বরং সমগ্র ‘বাঙালি’ জাতিকে একটি অখণ্ড সত্তায় ধারণ করেছে। এই ‘আমরা’ হলো এক সম্মিলিত অহংকার। ইতিহাসের আদি লগ্ন থেকে শুরু করে বাঙালির যে জয়যাত্রা—যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্ব, দর্শনে গভীরতা, বিজ্ঞানে প্রখরতা এবং শিল্পে সৃজনশীলতা—এই সবের অধিকারী হলো এই ‘আমরা’। বাঙালি কেবল নিজের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, সে বিশ্বকে জ্ঞান দিয়েছে, প্রেম দিয়েছে। কবি নিজেকে যখন এই ‘আমরা’-র অংশ হিসেবে ঘোষণা করেন, তখন তা কেবল আত্মপ্রচার হয় না, বরং এক সুমহান ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী হওয়ার শপথ হয়ে ওঠে। বাঙালির শাশ্বত রূপ ও বীরত্বের মহিমা বর্ণনার ক্ষেত্রে এই সামষ্টিক ‘আমরা’ শব্দটিই সবচেয়ে উপযোগী। তাই বিষয়বস্তুর গভীরতা বিচারে নামকরণটি সার্থক ও যুক্তিযুক্ত হয়েছে।
আমরা কবিতার বিশেষ শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| মুক্তবেণী | তিন নদীর মিলনস্থল (গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতী) |
| বরদ | বর দান করে যে |
| দশানন | রাবণ (দশটি আনন বা মুখ যার) |
| চতুরঙ্গ | পদাতিক, অশ্বারোহী, হস্তী ও রথবিশিষ্ট সেনা |
| পদ্মপাণি | বুদ্ধের এক রূপ (হাতে পদ্ম ধারণকারী) |
| শৌর্যে | বীরত্বে বা বিক্রম |
| ভাস্কর | পাথর খোদাই করে মূর্তি প্রস্তুতকারক |
| মন্বন্তর | প্রচণ্ড আকাল বা দুর্ভিক্ষ |
| অমৃতের টিকা | অমরত্বের অমর বাণী |
| শম-দমে | মনের শান্তিতে ও ইন্দ্রিয় দমনে |
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আমরা পাঠ্যাংশের প্রশ্ন উত্তর (MCQ) | Class 9 Amra MCQ Question Answer
১. ‘আমরা’ কবিতাটি কোন মূল কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
(ক) বেণু ও বীণা
(খ) কুহু ও কেকা
(গ) হোম শিখা
(ঘ) বিদায় আরতি
উত্তর: (খ) কুহু ও কেকা
২. ‘মুক্তবেণীর গঙ্গা’ কোথায় মুক্তি বিতরণ করে?
(ক) হিমালয়ে
(খ) শচীতীর্থে
(গ) বঙ্গে
(ঘ) সাগরে
উত্তর: (গ) বঙ্গে
৩. বাঙালির বাম হাতে কীসের ফুল আছে বলে কবি উল্লেখ করেছেন?
(ক) জবার ফুল
(খ) কমলার ফুল
(গ) অপরাজিতা ফুল
(ঘ) নীলপদ্ম
উত্তর: (খ) কমলার ফুল
৪. কার হুসুমে দিল্লির সুলতানকেও পিছিয়ে যেতে হয়েছিল?
(ক) বিজয় সিংহ
(খ) প্রতাপাদিত্য ও চাঁদরায়ের
(গ) বিবেকানন্দের
(ঘ) কপিল মুনির
উত্তর: (খ) প্রতাপাদিত্য ও চাঁদরায়ের
৫. লঙ্কা জয় করে কে সিংহল নাম রেখেছিলেন?
(ক) বিজয় সিংহ
(খ) রঘুনাথ
(গ) দশানন
(ঘ) চাণক্য
উত্তর: (ক) বিজয় সিংহ
৬. তিব্বতে জ্ঞানের দীপ জ্বেলেছিলেন কোন বাঙালি?
(ক) শ্রীচৈতন্যদেব
(খ) রামমোহন রায়
(গ) অতীশ দীপঙ্কর
(ঘ) বিদ্যাসাগর
উত্তর: (গ) অতীশ দীপঙ্কর
৭. আদি বিদ্বান ‘কপিল’ কোন শাস্ত্রের রচয়িতা?
(ক) বেদান্ত
(খ) সাংখ্যকার
(গ) ব্যাকরণ
(ঘ) অলঙ্কার
উত্তর: (খ) সাংখ্যকার
৮. ‘বরোভুদরের’ ভিত্তি কারা স্থাপন করেছেন?
(ক) সিংহলী স্থপতি
(খ) তিব্বতি স্থপতি
(গ) বাঙালি স্থপতি
(ঘ) চীন দেশের স্থপতি
উত্তর: (গ) বাঙালি স্থপতি
৯. পাল যুগের বিখ্যাত ভাস্কর কারা ছিলেন?
(ক) অজয় ও বিজয়
(খ) ধীমান ও বিটপাল
(গ) জয়দেব ও চণ্ডীদাস
(ঘ) রাম ও যদু
উত্তর: (খ) ধীমান ও বিটপাল
১০. ‘বাঙালির হিয়া’ মথিয়া কে অমর শরীর বা কায়া ধরেছেন?
(ক) বিবেকানন্দ
(খ) নিমাই (শ্রীচৈতন্যদেব)
(গ) রাধাকৃষ্ণ
(ঘ) জয়দেব
উত্তর: (খ) নিমাই (শ্রীচৈতন্যদেব)
১১. অজন্তার গুহাচিত্র অক্ষয় করে রেখেছেন কারা?
(ক) পোটো বা পটুয়ারা
(খ) মুঘল শিল্পীরা
(গ) ইউরোপীয় শিল্পীরা
(ঘ) আধুনিক ভাস্কররা
উত্তর: (ক) পোটো বা পটুয়ারা
১২. “বাঙালির ছেলে ব্যাঘ্রে বৃষভে ঘটাবে সমন্বয়”— এখানে ‘ব্যঘ্র-বৃষভ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) বন ও গৃহপালিত প্রাণী
(খ) হিংসা ও অহিংসার মিলন
(গ) শিকারি ও পশুর যুদ্ধ
(ঘ) কেবল শক্তি প্রদর্শন
উত্তর: (খ) হিংসা ও অহিংসার মিলন
১৩. বাঙালি কবি জয়দেব কোন ভাষায় কাব্য রচনা করেছেন?
(ক) প্রাকৃত
(খ) সংস্কৃত
(গ) পালি
(ঘ) ফারসি
উত্তর: (খ) সংস্কৃত
১৪. কার আশ্রয়ে বাঙালি মড়ক ও মন্বন্তর থেকে বেঁচে গিয়েছে?
(ক) রাজার
(খ) ভগবানের বা বিধাতার
(গ) বীরের
(ঘ) প্রকৃতির
উত্তর: (খ) ভগবানের বা বিধাতার
১৫. শ্মশানের বুকে বাঙালি কী রোপণ করেছে?
(ক) বরবটী
(খ) পঞ্চবটী
(গ) তুলসী গাছ
(ঘ) জবা গাছ
উত্তর: (খ) পঞ্চবটী
১৬. “মর্দ কি বাত হাতি কা দাঁত”— এই ভাবের সামঞ্জস্য কোন পংক্তিতে আছে?
(ক) সত্যে প্রণমি থেমেছে মন
(খ) বাঁচিয়া গিয়াছি সত্যের লাগি
(গ) মরদ বীর হয়
(ঘ) হাতির দাঁত অমূল্য
উত্তর: (খ) বাঁচিয়া গিয়াছি সত্যের লাগি
১৭. বাঙালির দেহ কীসে ভূষিত?
(ক) সোনায়
(খ) অতসী ও অপরাজিতায়
(গ) মুক্তায়
(ঘ) হিরক হারে
উত্তর: (খ) অতসী ও অপরাজিতায়
১৮. “মোদের নব্য রসায়ন শুধু গরমিল মিলাইয়া”— কথাটি কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
(ক) বিজ্ঞান
(খ) আধ্যাত্মিক সমন্বয়
(গ) রান্না
(ঘ) যুদ্ধ
উত্তর: (খ) আধ্যাত্মিক সমন্বয়
১৯. ‘বরদ বঙ্গে’ বলতে বঙ্গভূমিকে কী বলা হয়েছে?
(ক) অভিশপ্ত
(খ) বরদানকারিণী
(গ) নির্দয়
(ঘ) শীতল
উত্তর: (খ) বরদানকারিণী
২০. বাঙালির সেনা শম-দমে বিজয়ী হওয়ার আগে কার সঙ্গে যুদ্ধ করেছে?
(ক) রাবণের প্রপিতামহের
(খ) দশানন জয়ী রামচন্দ্রের প্রপিতামহের
(গ) মুঘলদের
(ঘ) মগদের
উত্তর: (খ) দশানন জয়ী রামচন্দ্র্রের প্রপিতামহের
২১. ‘ওঙ্কার-ধাম’ কোথায় অবস্থিত?
(ক) তিব্বতে
(খ) শ্যাম-কম্বোজে
(গ) জাভা-সুুমাত্রায়
(ঘ) লঙ্কায়
উত্তর: (খ) শ্যাম-কম্বোজে
২২. ‘বাঙালির রবি’ কাকে বলা হয়েছে?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে
(খ) কবি জয়দেবকে
(গ) নজরুল ইসলামকে
(ঘ) ভারতচন্দ্রকে
উত্তর: (খ) কবি জয়দেবকে
২৩. “বিফল নহে এ বাঙালি জনম বিফল নহে এ প্রাণ”— কবির এই বিশ্বাসের কারণ কী?
(ক) বাঙালির ধনসম্পদ
(খ) বাঙালির বীরত্ব ও তপোবল
(গ) বাঙালির বিশাল জনশক্তি
(ঘ) বিলাসিতা
উত্তর: (খ) বাঙালির বীরত্ব ও তপোবল
২৪. বাঙালি একহাতে কাকে রুখেছে?
(ক) ইংরেজকে
(খ) মগদের
(গ) পর্তুগিজদের
(ঘ) ফরাসিদের
উত্তর: (খ) মগদের
২৫. “সত্যে প্রণমি থেমেছে মনের অকারণ স্পন্দন”— কার প্রভাবে এটি সম্ভব হয়েছে?
(ক) ভয়ের প্রভাবে
(খ) তপ বা তপের প্রভাবে
(গ) ধনের প্রভাবে
(ঘ) ক্ষমতার প্রভাবে
উত্তর: (খ) তপ বা তপের প্রভাবে
২৬. বাঙালি কার আশীর্বাদে কাজ সাধবে?
(ক) ব্রিটিশের
(খ) বিধাতা ও ধাতার
(গ) প্রতিবেশীর
(ঘ) নিজের
উত্তর: (খ) বিধাতা ও ধাতার
২৭. বাংলার জয়দেব কবি কেমন পদে শ্লোক লিখেছেন?
(ক) কর্কশ পদে
(খ) কান্ত কোমল পদে
(গ) কঠিন পদে
(ঘ) গদ্য পদে
উত্তর: (খ) কান্ত কোমল পদে
২৮. “মণি অতুলন ছিল যে গোপন সৃজনের শতদলে”— শতদল বলতে কী বোঝায়?
(ক) একশোটি দল
(খ) পদ্ম ফুল
(গ) গোলাপ ফুল
(ঘ) শিউলি ফুল
উত্তর: (খ) পদ্ম ফুল
২৯. বাঙালি কার মুখে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও কেড়ে নিয়েছে?
(ক) যমের
(খ) বেতাালের
(গ) রাজার
(ঘ) শত্রুর
উত্তর: (খ) বেতাালের
৩০. কবি বাঙালির ভবিষ্যৎ কেমন দেখতে চান?
(ক) হতাশাপূর্ণ
(খ) আশা-ভরা আহ্লাদে পূর্ণ
(গ) যুদ্ধবিগ্রহে পূর্ণ
(ঘ) সাধারণ
উত্তর: (খ) আশা-ভরা আহ্লাদে পূর্ণ
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী বাংলা আমরা কবিতার অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Amra Short Question Answer SAQ
১. কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের মতে আমরা কোন তীর্থে বাস করি?
উত্তর: যে তীর্থে মুক্তবেণীর গঙ্গা মুক্তি বিতরণ করে, সেই পবিত্র বঙ্গভূমিতে আমরা বাঙালিরা বাস করি।
২. বাঙালির চরণে কী কী ফুল শোভা পায়?
উত্তর: বাঙালির চরণে পদ্ম, অতসী এবং অপরাজিতার ফুল শোভা পায়।
৩. বাঙালির বীরত্ব বোঝাতে কোন প্রাণীর সঙ্গে যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: বাঙালির বীরত্ব বোঝাতে বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকার কথা বলা হয়েছে।
৪. “সাজিত চতুরঙ্গে”— চতুরঙ্গ সেনার বিভাগগুলি কী কী?
উত্তর: চতুরঙ্গ সেনার চারটি বিভাগ হলো— হস্তী, অশ্ব, রথ এবং পদাতিক।
৫. “মগেরে রুখেছি”— মগ কারা?
উত্তর: মগ হলো ব্রহ্মদেশের বা বর্তমান মায়ানমারের আরাকান অঞ্চল থেকে আসা এক নিষ্ঠুর দস্যু জাতি।
৬. ‘সাংখ্যকার’ কপিল মুনিকে কবি কী বলে সম্বোধন করেছেন?
উত্তর: কপিল মুনিকে কবি ‘জ্ঞানের নিধান আদি বিদ্বান’ বলে সম্বোধন করেছেন।
৭. “অজন্তায় পট অক্ষয় করে রেখেছে”— কারা রেখেছে?
উত্তর: বাংলার ‘সুপটু পটুয়ারা’ তাদের তুলিকার কারুকার্যের মাধ্যমে অজন্তার পট অক্ষয় করে রেখেছে।
৮. বাঙালির ছেলে তিব্বতে জ্ঞান ছড়ানোর আগে কী লঙ্ঘন করেছিল?
উত্তর: বাঙালির ছেলে তিব্বতে যাওয়ার আগে ভয়ঙ্কর গিরি ও তুষার লঙ্ঘন করেছিল।
৯. শ্রীচৈতন্যদেব সম্পর্কে কবি কী মন্তব্য করেছেন?
উত্তর: কবি বলেছেন, বাঙালির হৃদয় বা হিয়া মথিয়ার মাধ্যমেই নিমাই (শ্রীচৈতন্যদেব) তাঁর অমৃত শরীর লাভ করেছেন।
১০. “মন্বন্তরে মরিনি আমরা”— মন্বন্তর বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মন্বন্তর বলতে ভয়াবহ আকাল বা দুর্ভিক্ষকে বোঝায় (যেমন বাংলার ৭৬-এর মন্বন্তর)।
১১. বাঙালি শ্মশানে কী সাধন করতে পেরেছে?
উত্তর: বাঙালি শ্মশানের বুকে পঞ্চবটী রোপণ করে সাধনার মাধ্যমে জগতকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে।
১২. “বেতালের মুখে প্রশ্ন”— বেতাল কে?
উত্তর: পৌরাণিক চরিত্র (বেতাল পঞ্চবিংশতি খ্যাত), যে রাজা বিক্রমাদিত্যকে কঠিন প্রশ্ন করত।
১৩. কবি বাঙালির কোন রসায়নের কথা বলেছেন?
উত্তর: কবি বাঙালির ‘নব্য রসায়ন’-এর কথা বলেছেন, যা গরমিল বা বিবিধকে ঐক্যসূত্রে মেলাতে পারে।
১৪. বাঙালির গৌরবে কী ভরে উঠবে বলে কবি মনে করেন?
উত্তর: বাঙালির গৌরবে সমগ্র ভুবন বা জগত ভরে উঠবে বলে কবি মনে করেন।
১৫. “অমর সে বীজ আমাদের করতলে”— বীজটি কিসের?
উত্তর: বীজটি হলো ভবিষ্যতের সৃজন বা শুভ চেতনার অমর অঙ্কুর।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আমরা কবিতার ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Amra 2 Marks Question Answer
১. “বাম হাতে যার কমলার ফুল, ডাহিনে মধুক-মালা”— কথাটির তাৎপর্য কী?
উত্তর: এর মাধ্যমে বঙ্গভূমির প্রাচুর্য ও বৈচিত্র্যকে বোঝানো হয়েছে। কমলার ফুল বা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ যেমন এ দেশে বাম হাতে আছে, তেমনি ডান হাতে আছে মধুক-মালা যা শিল্পের মাধুর্য ও লৌকিক ঐশ্বর্যের পরিচয় বহন করে।
২. “সিংহল নামে রেখে গেছে নিজ শৌর্যের পরিচয়”— কে, কীভাবে এই পরিচয় রেখেছেন?
উত্তর: বাংলার ছেলে বিজয় সিংহ লঙ্কা জয় করেছিলেন। তাঁর বীরত্ব বা শৌর্যের স্মৃতি বজায় রাখতেই সেই লঙ্কার নামকরণ তাঁর নামানুসারে ‘সিংহল’ হয়েছে। এটি বাঙালির দেশ জয়ের ঐতিহাসিক গর্ব।
৩. “চাঁদ-প্রতাপের হুকুমে হঠিতে হয়েছে দিল্লিনাথে”— পদটির অর্থ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: বাংলার বারো ভূঁইয়ার অন্যতম প্রতাপাদিত্য ও চাঁদরায়ের দুর্ধর্ষ বাধার কাছে মুঘল সম্রাটকেও মাঝে মাঝে পিছু হটতে হয়েছিল। বাঙালির সামরিক শক্তির কাছে সে সময়ের ভারত সম্রাটেরাও নতি স্বীকার করতে বাধ্য হতেন।
৪. স্থপতি ‘বরোভুদরের ভিত্তি’ স্থাপন সম্পর্কে কবির বক্তব্য কী?
উত্তর: যবদ্বীপের বিখ্যাত বৌদ্ধ স্থাপত্য বরোভুদরের মূল পরিকল্পনা ও ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন বাঙালি স্থপতিরা। অর্থাৎ ভারতের বাইরেও বাঙালির স্থাপত্যশৈলী ও সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করেছিল।
৫. ধীমান ও বিটপালকে কবি কেন স্মরণ করেছেন?
উত্তর: ধীমান ও বিটপাল ছিলেন পাল যুগের প্রখ্যাত ভাস্কর ও চিত্রকর। তাঁরা তাঁদের ধ্যান ও কঠোর শ্রমের মাধ্যমে পাথরের মূর্তিকে প্রাণ দিয়েছিলেন এবং বাঙালির শিল্পপ্রতিভাকে অমর করেছিলেন।
৬. “বাঙালির হিয়া মথিয়া নিমাই ধরেছে কায়া”— কথাটির অন্তর্নিহিত ভাব কী?
উত্তর: শ্রীচৈতন্যদেব বা নিমাই কোনো আকাশ থেকে পড়া চরিত্র নন, তিনি বাঙালির হৃদয়ের ভক্তি ও প্রেমের সুমহান নির্যাস। বাঙালির সহজ আবেগ ও ভালোবাসার মাধ্যমেই তাঁর আধ্যাত্মিক সত্তাটি জন্ম নিয়েছে।
৭. “মন্বন্তরে মরিনি আমরা মারী নিয়ে ঘর করি”— বাঙালি জাতির জীবনীশক্তি সম্পর্কে কবির অভিমত কী?
উত্তর: বাঙালি জাতি বহুবার দুর্ভিক্ষ (মন্বন্তর) ও মহামারি (মারী) মোকাবিলা করেছে। শত অভাব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ সত্ত্বেও তারা হার মানেনি, স্রষ্টার আশীর্বাদে আজও বেঁচে আছে।
৮. “বাঙালির ছেলে ব্যাঘ্রে বৃষভে ঘটাবে সমন্বয়”— কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: বাঘ হলো হিংস্রতার প্রতীক আর বৃষভ (ষাঁড়/গরু) হলো নিরীহ শক্তির প্রতীক। বাঙালি তার শিক্ষার মাধ্যমে বিবাদ ও হিংসার বদলে এক অহিংস ও সমন্বয়বাদী বিশ্ব গড়ে তুলবে।
৯. “বিফল নহে এ বাঙালি জনম বিফল নহে এ প্রাণ”— কবির এই আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি কী?
উত্তর: বাঙালির অতীত শৌর্য, বীরত্ব, জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং শিল্পকলার বিশাল ভাণ্ডার দেখে কবি বিশ্বাস করেন যে বাঙালির জন্ম বৃথা হতে পারে না। এই মহান ঐতিহ্যের অধিকারীরা নিশ্চয়ই ভবিষ্যতে আরও বড় কাজ করবে।
১০. “বেতালের মুখে প্রশ্ন যে ছিল আমরা নিয়েছি কেড়ে”— বেতালের প্রশ্নের সমাধানের অর্থ কী?
উত্তর: জগত যখন কঠিন ও জটিল রহস্যের সামনে থমকে দাঁড়ায়, বাঙালি তখন তার প্রজ্ঞা ও বুদ্ধি দিয়ে সেই রহস্যের বা কঠিন প্রশ্নের সমাধান খুঁজে বের করে।
১১. “শ্মশানের বুকে আমরা রোপণ করেছি পঞ্চবটী”— পঞ্চবটী রোপণের তাৎপর্য কী?
উত্তর: শ্মশান হলো মৃত্যু বা বিনাশের স্থান। সেখানে পঞ্চবটী রোপণ করার অর্থ হলো বিনাশের মধ্যেও জীবনের সঞ্চার করা এবং কঠিন তপস্যার মাধ্যমে মুক্তির পথ উন্মোচন করা।
১২. “ভবিষ্যতের অমর সে বীজ আমাদের করতলে”— ‘বীজ’ ও ‘করতল’ শব্দদুটোর ব্যবহারের কারণ কী?
উত্তর: বীজ হলো সৃষ্টির মূল সম্ভাবনা। বাঙালি জাতির বর্তমান প্রজন্মের হাতের তালুর (করতল) মধ্যেই আগামীর এক মহান সৃজনশীল ভারত গড়ার সম্ভাবনা লুকানো আছে।
১৩. “মোদের নব্য রসায়ন শুধু গরমিল মিলাইয়া”— এই নব্য রসায়নের গুণ কী?
উত্তর: বাঙালির এই অধ্যাত্ম-রসায়ন বিবিধ জাতি, ধর্ম ও বর্ণকে এক সুতোয় গাঁথতে পারে। বিষম বা বিপরীত ধাতুর মিলন ঘটিয়ে বাঙালি এক নতুন ঐক্য সৃষ্টি করে।
১৪. “ভবিষ্যতের পানে মোরা চাই আশা-ভরা আহ্লাদে”— কবি কেন খুশি মনে ভবিষ্যতের দিকে তাকান?
উত্তর: কবির বিশ্বাস অতীতে যা ঘটেছে, ভবিষ্যতে তার চেয়েও বড় ঘটনা বাঙালির গৌরব ও বিধাতার আশীর্বাদে ঘটবে। সেই পূর্ণতার আশায় কবি রোমাঞ্চিত।
১৫. “মুক্ত হব দেব-ঋণে মোরা মুক্তবেণীর তীরে”— দেব-ঋণ থেকে মুক্তির উপায় কী?
উত্তর: বাঙালি যখন তার জ্ঞান, প্রেম ও বীরত্বের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছাবে এবং বিশ্বমানবধর্মকে দীক্ষিত করবে, তখনই সে তার বংশগত ও ঐশ্বরিক ঋণ শোধ করতে পারবে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আমরা কবিতার ৩ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Amra 3 Marks Question Answer
১. “জ্ঞানের নিধান আদি বিদ্বান কপিল সাংখ্যকার”— কপিল মুনি ও তাঁর অবদান সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: কপিল মুনি ছিলেন ভারতীয় দর্শনের অন্যতম প্রাচীন ও প্রখ্যাত শাখা ‘সাংখ্য দর্শন’-এর প্রতিষ্ঠাতা। সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁকে ‘আদি বিদ্বান’ বা আদি জ্ঞানী বলে উল্লেখ করেছেন। কবির মতে বাঙালির মাটিতেই সাংখ্যকারের মতো মুনি-ঋষিরা দর্শনের হিরক-হার গেঁথেছেন। অর্থাৎ ভারতের মূল দার্শনিক চিন্তার ভিত্তি স্থাপনে বাঙালির এক বিশাল অবদান রয়েছে। বাঙালির মেধাশক্তি যে অতি প্রাচীন কাল থেকেই বিশ্ববন্দিত, কপিল মুনির উল্লেখের মাধ্যমে কবি তাই ব্যক্ত করেছেন।
২. বাঙালির সামরিক বীরত্ব বর্ণনায় কবি কোন কোন ঐতিহাসিক প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন?
উত্তর: বাঙালির অদম্য সাহসের পরিচয় দিতে কবি বেশ কিছু ঘটনার উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, লঙ্কা জয়ী বিজয় সিংহের কথা, যিনি সিংহল দ্বীপের নামকরণ করেন। দ্বিতীয়ত, মধ্যযুগীয় বারো ভূঁইয়া প্রতাপাদিত্য ও চাঁদরায়ের কথা, যাঁদের সামরিক তর্জনীতে দিল্লিনাথকেও সৈন্য সামন্ত নিয়ে পিছিয়ে যেতে হয়েছিল। এছাড়াও একহাতে মগ (আরাকান দস্যু) এবং অন্য হাতে মুঘলদের প্রতিহত করার কৃতিত্বও কবি বাঙালির অজেয় সেনাবিনীর বলে স্মরণ করেছেন। এই বীরত্ব প্রমাণ করে যে বাঙালি মোটেই ভীরু জাতি নয়।
৩. শিল্প ও স্থাপত্য কলায় বাঙালির শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দাও।
উত্তর: বাঙালির শিল্প প্রতিভা কেবল দেশের মাটিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। কবি জাভা বা যবদ্বীপের ‘বরোভুদর’ মন্দিরের উদাহরণের মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে সেখানে বাঙালি স্থপতিরাই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। এছাড়া হিন্দু-চীন বা শ্যাম-কম্বোজের ‘ওঙ্কার-ধাম’ বাঙালির প্রাচীন কীর্তির স্বাক্ষর বহন করে চলেছে। পাল বংশের ভাস্কর ধীমান ও বিটপাল পাথরের মূর্তিকে প্রাণ দিয়েছিলেন যা আজও বিস্ময়কর। অন্যদিকে পোটো বা পটুয়াদের তুলি দিয়ে করা অজন্তার গুহাচিত্রগুলি বাঙালির অমর চিত্রকলা ও লিলাবৈচিত্র্যের প্রতীক।
৪. “বাঙালির হিয়া মথিয়া নিমাই ধরেছে কায়া”— উক্তিটির বিস্তারিত অর্থ পরিস্ফুট করো।
উত্তর: নিমাই বা শ্রীচৈতন্যদেব হলেন বাঙালির আধ্যাত্মিক প্রেমের মূর্ত প্রতীক। ‘মথন’ কথাটির অর্থ হলো বিড়ন বা নিংড়ে বের করা। কবি বলতে চেয়েছেন, বাঙালির অন্তরে যে পবিত্র ভক্তি, দয়া এবং ব্যাকুলতা লুকিয়ে ছিল, শ্রীচৈতন্যদেব যেন সেই ভাবরাশিকেই শরীরী রূপ দিয়ে ধারণ করেছেন। অর্থাৎ চৈতন্যের প্রেমধর্ম বহিরাগত কিছু নয়, বরং বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠ ফসল। বাঙালির সহজ-সরল মাটির মন থেকেই এই ভক্তিরসের উৎপত্তি হয়েছে, যা জগতকে প্রেমের বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছে।
৫. বাঙালির সমন্বয়বাদী চিন্তাধারা কবিতায় কীভাবে বর্ণনা করা হয়েছে?
উত্তর: বাঙালি জাতি চিরকালই সমন্বয় বা ঐক্যে বিশ্বাসী। কবি ‘নব্য রসায়ন’-এর উপমায় দেখিয়েছেন যে বাঙালি বিষম ধাতুর বা বিপরীতমুখী চিন্তার মিলন ঘটাতে পারে। ‘ব্যঘ্র-বৃষভের সমন্বয়’ কথাটির মাধ্যমে কবি একটি আদর্শ সমাজের কথা বলেছেন যেখানে হিংসা ও অহিংসা মিলেমিশে এক নতুন শক্তির উদ্ভব ঘটাবে। বিবেকানন্দের জগতজোড়া বাণী বা চৈতন্যের প্রেমের মাধ্যমে বাঙালি জাতি সমগ্র বিশ্বের মানুষকে এক মহামিলনের মহামন্ত্রে দীক্ষিত করতে চায়। বিবাদ নয়, মিলনই হলো বাঙালির মূল দর্শন।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আমরা কবিতার বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (৫ নম্বর) | Class 9 Bengali Amra 5 Marks Important Question Answer
১. ‘আমরা’ কবিতা অবলম্বনে বাঙালির অতীত শৌর্য ও বীরত্বের পরিচয় দাও।
উত্তর: কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতাটি বাঙালির হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারের এক অমোঘ মন্ত্র। এই কবিতায় কবি ইতিহাসের পাতা থেকে খুঁজে বের করেছেন বাঙালির সেই বীরত্বের গাথা যা আজ আমাদের গর্বের সম্পদ।
কবির বর্ণনায় বাঙালির বীরত্ব বহুমুখী। বাঙালি কেবল কলম বা তুলি ধরতে জানে না, সে অস্ত্র হাতেও অজেয়। মহাকাব্যিক যুগে দশানন জয়ী রামচন্দ্রের প্রপিতামহের সেনার সঙ্গে বাঙালির সেনা পাল্লা দিয়ে যুদ্ধ করেছে ‘চতুরঙ্গ’ সাজে। বাঙালির বিক্রম কেবল বঙ্গে সীমাবদ্ধ ছিল না; বীর বিজয় সিংহ সাতটি জাহাজ সমেত লঙ্কা জয় করেছিলেন এবং সেখানে নিজের শৌর্য ও বিক্রমের চিহ্নস্বরূপ সেই দ্বীপের নাম আজ ‘সিংহল’। মধ্যযুগে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রচণ্ড প্রতাপের বিরুদ্ধে প্রতাপাদিত্য ও চাঁদরায়ের মতো বীর ভূঁইয়ারা রুখে দাঁড়িয়ে দিল্লির সুলতানকেও পিছু হঠতে বাধ্য করেছিলেন। এছাড়াও জলদস্যু মগ এবং মুঘলদের দুই হাতে প্রতিহত করে বাঙালি ঘর রক্ষা করেছে। এমনকি প্রতিকূল প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বাঘের পাশে বাঙালি আজও বীরের মতো টিকে আছে। কবির এই বীরত্ব বর্ণনা প্রমাণ করে যে বাঙালি জাতি বীর্যবান ও লড়াইয়ের শক্তিতে বলীয়ান।
২. জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকলায় বাঙালির অবদানের যে চিত্র কবিতায় ফুটে উঠেছে তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতায় বাঙালির মেধা ও সৃজনশীলতার এক বিশাল দিক উন্মোচিত হয়েছে। বাঙালির মননশীলতা কেবল ভারতের ইতিহাসে নয়, বিশ্ব মানচিত্রেও গৌরবের আসন লাভ করেছে।
জ্ঞানের ক্ষেত্রে বাঙালি আদি বিদ্বান কপিল মুনির বংশধর, যাঁর ‘সাংখ্য দর্শন’ বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ। বাংলার তুষারাবৃত দুর্গম গিরিপথ পেরিয়ে অতীশ দীপঙ্কর তিব্বতে গিয়ে জ্ঞানের দীপ জ্বেলেছিলেন এবং বৌদ্ধধর্ম সংস্কার করেছিলেন। দর্শনের হিরক-হার গাওয়ার শক্তি যে বাঙালির মজ্জাগত, তা কবি মনে করিয়ে দিয়েছেন।
শিল্প ও স্থাপত্যে বাঙালির জয়কেতন বিদেশের মাটিতেও উড়ছে। যবদ্বীপের বরোভুদর মন্দিরের ভিত্তি বা শ্যাম-কম্বোজের রাজপ্রাসাদের নকশায় বাঙালির সুনিপুণ হাতের ছোঁয়া রয়েছে। পাল যুগের মহান শিল্পী ধীমান ও বিটপাল ধ্যানের মাধ্যমে পাথরের মূর্তিকে দিয়েছিলেন জীবন্ত রূপ। পটুয়াদের অমর তুলিকার ছোঁয়ায় অজন্তার গুহায় গুহায় যে চিত্রবিচিত্র লীলা রচিত হয়েছে, তা আজ বিশ্ববন্দিত। জয়দেব কবির কান্ত কোমল পদাবলী সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে এক নতুন মাধুর্য দান করেছে। বাঙালির এই মেধা ও শিল্পবোধ আজ জগতকে পথ দেখাচ্ছে।
৩. ‘বাঙালি’ জাতির সমন্বয়বাদী চেতনা ও অধ্যাত্মবোধ কীভাবে ‘আমরা’ কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে?
উত্তর: সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাঙালির যে পরিচয় এই কবিতায় দিয়েছেন, তার মূলে রয়েছে ‘সমন্বয়’ এবং ‘প্রেম’। বাঙালি জাতি সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জগতকে বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দিতে চেয়েছে।
বাঙালির অধ্যাত্মবোধের মূলে রয়েছেন নিমাই বা শ্রীচৈতন্যদেব। বাঙালির প্রেমের আবেগ বা ‘হিয়া’ নিংড়েই যেন তাঁর আবির্ভাব। তিনি জাতি-ভেদ ভুলে চণ্ডালকেও বুকে টেনে নিয়েছেন। আবার বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর বজ্রকুণ্ঠে বিশ্ব সভায় হিন্দুধর্মের শাশ্বত সত্য প্রচার করে জগতকে অবাক করে দিয়েছেন। বাঙালি কেবল ভক্তি চায় না, সে বিজ্ঞানের সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার মিলন ঘটাতে চায়। কবির ভাষায়, বাঙালির ‘নব্য রসায়ন’ হলো বিষম বা বিপরীত ধর্মী সব বিষয়কে এক সুতোয় গাঁথা। বাঙালি কবি জয়দেব যেমন প্রেম গীতি শুনিয়েছেন, তেমনি বাঙালি সাধক জড বা জড়ত্ব কাটিয়ে প্রাণের স্পন্দন ঘটিয়েছেন। বাঙালির এই সমন্বয়ের আদর্শই জগতকে মুক্তির পথ দেখাবে। হিংস্রতা ও অহ্বাকে সরিয়ে বাঙালি ব্যাঘ্র ও বৃষভের সমন্বয় ঘটিয়ে এক সুন্দর পৃথিবী রচনা করবে বলে কবি বিশ্বাসী।
৪. “বিফল নহে এ বাঙালি জনম বিফল নহে এ প্রাণ”— কবির এই উক্তির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: এই উক্তিটির মাধ্যমে কবির গভীর আত্মবিশ্বাস ও জাতির প্রতি অপরিসীম মমতা প্রকাশ পেয়েছে। কবির মতে বাঙালির অতীত কোনো সাধারণ ইতিহাস নয়, তা হলো এক অনন্ত গৌরবগাথা।
বাঙালির জন্ম বিফল নয় কারণ, বাঙালি তার মেধায় কপিলের মতো সাংখ্যকার, অতীশ দীপঙ্করের মতো জ্ঞান-দীপ জ্বালানো মনীষী পেয়েছে। বাঙালির জীবন বৃথা নয় কারণ, তার রণরক্তে ফুটে রয়েছে বিজয় সিংহের লঙ্কা জয় বা প্রতাপাদিত্যের দিল্লির সুলতানকে রোখার ইতিহাস। বাঙালির প্রতিভা বিফল হতে পারে না কারণ, ধীমান-বিটপাল বা বরোভুদরের স্থপতিরা প্রমাণ করেছেন যে বাঙালি সৃজনশীলতায় শ্রেষ্ঠ। শ্রীচৈতন্যদেবের প্রেম বা বিবেকানন্দের বজ্রহুংকার প্রমাণ করেছে বাঙালির হৃদয়ের বিস্তার। কবি বিশ্বাস করেন, অতীত ও বর্তমানের এই বিশাল সঞ্চয় বৃথা যেতে পারে না। ভবিষ্যতের বাঙালি নিশ্চয়ই আরও মহান কিছু করে দেখাবে। বাঙালির সাধনা জগতকে মুক্তির সন্ধান দেবে, তাই এই জাতির প্রতিটি মানুষের জন্ম সার্থক এবং তাদের প্রাণ এক মহান লক্ষ্যের দিকে নিবেদিত।
৫. ‘আমরা’ কবিতায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনার মধ্য দিয়ে বঙ্গভূমির কোন চিত্র ফুটে উঠেছে?
উত্তর: কবিতার প্রারম্ভেই কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বঙ্গভূমির এক মায়াবী ও পবিত্র বর্ণনা দিয়েছেন। বাঙালির বাসস্থান কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, তা হলো একটি বরদ তীর্থ।
যেখানে গঙ্গার জল ‘মুক্তবেণী’ বা তিন নদীর মিলনে পবিত্র আভা ধারণ করে মুক্তি বিতরণ করে, সেই বঙ্গে আমাদের বাস। বাংলার প্রকৃতি যেন এক দেবীমূর্তি। কবি কল্পনা করেছেন— ডান হাতে মধুক-মালা এবং বাম হাতে কমলার ফুল নিয়ে মা বাংলা দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর কপালে কাঞ্চনজঙ্ঘার শুভ্র তুষার-মুকুট এবং দেহের জ্যোতিতে সমগ্র ভুবন আলোকিত। বাংলার অবারিত শস্যক্ষেত যেন ধানের সোনার কণকে মোড়া সোনালি মায়া। বাঙালির দেহ অতসী ও অপরাজিতা ফুলের মতো সুন্দর বর্ণে শোভিত। গঙ্গা যমুনার পলিমাটি মাখা এই উর্বর ভূমি এবং চারদিকে সাগরের তরঙ্গ ভঙ্গে মায়ের বন্দনা গান গাওয়া বঙ্গভূমি সত্যই এক ‘বাঞ্ছিত ভূমি’। এই সৌন্দর্যের কারণেই বাঙালিরা তাদের জন্মভূমিকে নিয়ে গর্বিত এবং প্রকৃতির এই শান্ত ছায়াতেই বাঙালির শৌর্য ও জ্ঞানের লালন ঘটেছে।
৬. ‘আমরা’ কবিতার নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: নামকরণের সার্থকতা বিচারের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের এই কবিতাটি কোনো বিশেষ খণ্ডচিত্র নয়, বরং একটি সমগ্র জাতির দীর্ঘকালীন ভাবাবেগের প্রতিনিধি। ‘আমরা’ শব্দটির মাধ্যমে কবি একটি বিশাল ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারকে চিহ্নিত করেছেন।
কবিতাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাঙালি জাতির বীরত্ব, স্থাপত্য, ভাস্কর্য, ধর্মবোধ এবং জ্ঞানচর্চার প্রতিটি ক্ষেত্রে কবি ‘আমরা’ শব্দটি ব্যবহার করে বাঙালিকে একটি সংহত শক্তিতে পরিণত করেছেন। লঙ্কা জয় থেকে বরোভুদরের ভিত্তি স্থাপন, কিম্বা দিল্লির সম্রাটকে বাধা দেওয়া—সবই বাঙালির সম্মিলিত সাহস। বিবেকানন্দ বা শ্রীচৈতন্যদেব বাঙালিরই আত্মার প্রতিফলন। কবি ব্যক্তিগত গণ্ডি পেরিয়ে যে সুমহান বাঙালির রূপ তুলে ধরেছেন, তা কোনো একক শব্দে প্রকাশ করা অসম্ভব ছিল। এখানে ‘আমরা’ মানে আমি বা তুমি নও, বরং সেই কোটি কোটি বাঙালি যারা জগতকে জ্ঞান দিয়েছে ও ত্যাগের দীক্ষায় দীক্ষিত করেছে। তাই বিষয়বস্তুর ব্যঞ্জনা ও বাঙালির সম্মিলিত জয়ধ্বনি হিসেবে ‘আমরা’ নামকরণটি সার্থক, যুক্তিযুক্ত এবং শিল্পসম্মত হয়েছে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আজকের পোস্ট এর মধ্যে আমরা কবিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা, কবিতাটির বিষয়বস্তু এবং উত্তর সহ প্রশ্নও আলোচনা করা হল, যেগুলি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ ভাবে তোমাদের সহায়ক হয়ে উঠবে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী অন্যান্য সমস্ত বিষয়ের নোট (Class IX All Notes) |
নবম শ্রেণী আমরা প্রশ্ন উত্তর | আমরা কবিতার সারাংশ | সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত আমরা প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Bengali Amra Questions and Answers | আমরা প্রশ্নোত্তর MCQ SAQ ও বড় প্রশ্ন।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম Study গ্রুপে যুক্ত হোন -


