আধুনিক বাংলা কবিতার প্রাণপুরুষ জীবনানন্দ দাশ রচিত ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতাটি নবম শ্রেণির পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কবির কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ ‘রূপসী বাংলা’ থেকে এই কবিতাটি সংকলিত হয়েছে। এই কবিতায় গ্রামবাংলার গোধূলি বেলার মায়াবী রূপ এবং প্রকৃতির তুচ্ছাতিতুচ্ছ অনুষঙ্গের মধ্য দিয়ে বাংলার শাশ্বত রূপটি অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটে উঠেছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| পাঠের নাম | আকাশে সাতটি তারা |
| কবি | জীবনানন্দ দাশ |
| কাব্যগ্রন্থ | রূপসী বাংলা |
আকাশে সাতটি তারা – জীবনানন্দ দাশ (নবম শ্রেণী বাংলা কবিতা)
আজকের এই পোস্টে জীবনানন্দ দাশ রচিত ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতাটির উৎস, সারাংশ, নামকরণের তাৎপর্য এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর খুব সহজ ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে।
আকাশে সাতটি তারা – কবি পরিচিতি
বিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪)। রবীন্দ্র-উত্তর যুগে বাংলা কবিতাকে নতুন আধুনিকতার রূপ দিয়েছেন তিনি। প্রকৃতির অতীন্দ্রিয় মায়া ও রূপ বর্ণনায় তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়। তাঁর কবিতায় গ্রামবাংলার নিসর্গ এক অলৌকিক ব্যঞ্জনা লাভ করে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে ‘ঝরা পালক’, ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’, ‘বনলতা সেন’, ‘মহাপৃথিবী’ এবং মৃত্যুর পর প্রকাশিত ‘রূপসী বাংলা’। ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি ছত্র যেন বাংলার প্রকৃতির প্রতি এক গভীর প্রেমের দলিল।
আকাশে সাতটি তারা কবিতার সারাংশ (Summary)
সূর্য ডোবার পর যখন আকাশে সাতটি তারা (সপ্তর্ষিমণ্ডল) ফুটে ওঠে, কবি তখন ঘাসের ওপর বসে নিভৃতে বাংলার রূপ আস্বাদন করেন। দিনের আলো নিভে আসার মুহূর্তে কামরাঙা ফলের মতো লাল মেঘ যেন মৃত মণিয়ার মতো গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে যায়। ঠিক সেই সময়েই নেমে আসে বাংলার শান্ত, অনুগত নীল সন্ধ্যা।
কবি কল্পনা করছেন, সন্ধ্যা যেন এক রহস্যময় কেশবতী কন্যা। মেঘের অন্ধকারকে তিনি সেই কন্যার একরাশ কালো চুলের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা কবির চোখে, মুখে, মনে স্পর্শ দিয়ে যায়। হিজল, কাঁঠাল বা জামগাছের ডালে যেন ঝরে পড়ে সেই কেশবতীর চুলের চুমো। কবি অনুভব করেন যে, বিশ্বের কোথাও বাংলার সন্ধ্যার মতো এত অপরূপ রূপ ও স্নিগ্ধ গন্ধ পাওয়া যায় না।
কবিতার শেষ অংশে বাংলার সাধারণ রূপটি ধরা পড়েছে। নরম ধানের গন্ধ, কলমী শাকের ঘ্রাণ, হাঁসের পালক, পুকুর আর চাঁদা-সরপুঁটিদের মৃদু গন্ধের মধ্যে বাংলার আসল অস্তিত্ব মিশে আছে। কিশোরীর হাত ধোয়া জল, কিশোরের পায়ে মাড়ানো মুথা ঘাস, বট ফলের ব্যথিত গন্ধ—এই সমস্ত তুচ্ছ উপাদানের মধ্যেই কবি খুঁজে পান ‘বাংলার প্রাণ’। যখন আকাশে সাতটি তারা ফোটে, তখনই কবি এই শাশ্বত সত্যটি উপলব্ধি করেন।
আকাশে সাতটি তারা কবিতার নামকরণের সার্থকতা
সাহিত্যে নামকরণ একটি শিল্পসম্মত বিষয়। জীবনানন্দ দাশের এই কবিতাটি মূলত বাংলার সান্ধ্য প্রকৃতি ও তার মায়াবী রূপ নিয়ে রচিত হলেও এর সূচনায় রয়েছে ‘আকাশে সাতটি তারা’।
‘সাতটি তারা’ বলতে কবি এখানে সপ্তর্ষিমণ্ডলকে বুঝিয়েছেন। যখন অন্ধকার গাঢ় হয় এবং আকাশে এই নক্ষত্ররাজি প্রকাশ পায়, তখনই কবি নির্জনে বাংলার প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য পান। অর্থাৎ সন্ধ্যার এই বিশেষ মুহূর্তটিই হলো প্রকৃতির রূপ আস্বাদনের সূচনাকল। দিনের কোলাহল থেমে গিয়ে যখন আকাশে তারা ফোটে, তখনই সন্ধ্যারূপী কেশবতী কন্যার আগমন ঘটে। কবির মরমী চেতনায় বাংলার রূপটি কেবল এই বিশেষ সময়ে বা নক্ষত্রের লগ্নেই পূর্ণাঙ্গ হয়ে ধরা দেয়।
কবিতাটি শুরু হয়েছে ‘আকাশে সাতটি তারা যখন উঠেছে ফুটে’ দিয়ে এবং শেষ হয়েছে পুনরায় ‘আকাশে সাতটি তারা যখন উঠেছে ফুটে আমি পাই টের’ পংক্তির মাধ্যমে। অর্থাৎ পুরো কবিতাটির ভাবমণ্ডল এই নক্ষত্র উদয়ের সময়কালকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত। তাই বিষয়বস্তু এবং ব্যঞ্জনার দিক থেকে ‘আকাশে সাতটি তারা’ নামকরণটি যুক্তিযুক্ত ও সার্থক।
আকাশে সাতটি তারা কবিতার বিশেষ শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| আকাশে সাতটি তারা | সপ্তর্ষিমণ্ডল (সাতটি প্রধান নক্ষত্র) |
| কামরাঙা | এক জাতীয় টক ফল (পাকার পর লালচে-হলুদ হয়) |
| মনিয়া | একটি ছোট পাখি |
| মৃত মনিয়া | পার্থিব অস্তিত্বহীন বা শান্ত পাখি |
| গঙ্গাসাগর | যেখানে গঙ্গা সাগরে মিশেছে (তীর্থস্থান) |
| অনুগত | বাধ্য বা শান্ত |
| নীল সন্ধ্যা | সন্ধ্যাবেলার মায়াবী নীল আভা |
| কেশবতী কন্যা | যার মাথায় একরাশ কালো চুল আছে |
| চুল | অন্ধকারের প্রতীকী আভা |
| হিজল | জলজ অঞ্চলের গাছ |
| অবিরত | থামাহীন ভাবে বা একটানা |
| স্নিগ্ধ | মিষ্টি বা কোমল |
| বিন্যাস | সাজানো পদ্ধতি |
| মুথা ঘাস | এক ধরনের ঘাস যার ম-ম গন্ধ থাকে |
| ব্যথিত গন্ধ | দুঃখী বা কাতর ঘ্রাণ (পাকা বটফল থেঁতলে যাওয়ার গন্ধ) |
| ক্লান্ত নীরবতা | একধরনের নিস্তব্ধতা যা শ্রান্তি দূর করে |
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আকাশে সাতটি তারা পাঠ্যাংশের প্রশ্ন উত্তর (বহুবিকল্প প্রশ্ন উত্তর) | Class 9 Akashe Sat ti Tara MCQ Question Answer
১. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া?
(ক) বনলতা সেন
(খ) রূপসী বাংলা
(গ) ঝরা পালক
(ঘ) মহাপৃথিবী
উত্তর: (খ) রূপসী বাংলা
২. কবি কোথায় বসে থাকাকালীন আকাশে সাতটি তারা ফোটে?
(ক) ছাদে
(খ) বারান্দায়
(গ) সমুদ্রতীরে
(ঘ) নরম ঘাসে
উত্তর: (ঘ) নরম ঘাসে
৩. কামরাঙা-লাল মেঘকে কবি কিসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
(ক) হিজল ফল
(খ) রাঙা জাম
(গ) মৃত মনিয়া পাখি
(ঘ) বটের ফল
উত্তর: (গ) মৃত মনিয়া পাখি
৪. সন্ধ্যার সময় লাল মেঘ কোথায় ডুবে যাচ্ছে বলে কবির মনে হয়েছে?
(ক) পুকুরে
(খ) মেঘের তলে
(গ) গঙ্গার ঢেউয়ে
(ঘ) গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে
উত্তর: (ঘ) গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে
৫. সন্ধ্যার প্রকৃতিকে কবি কেমন বলেছেন?
(ক) ব্যস্ত ও ক্লান্ত
(খ) শান্ত ও অনুগত
(গ) রুক্ষ ও ধসর
(ঘ) চঞ্চল ও চপল
উত্তর: (খ) শান্ত ও অনুগত
৬. ‘নীল সন্ধ্যা’ কার মতো আকাশে নেমে এসেছে?
(ক) মেঘের মতো
(খ) কেশবতী কন্যার মতো
(গ) মনিয়া পাখির মতো
(ঘ) ধানের গন্ধের মতো
উত্তর: (খ) কেশবতী কন্যার মতো
৭. কেশবতী কন্যার চুল কোথায় ভাসছে বলে কবি কল্পনা করেছেন?
(ক) আকাশে
(খ) চোখের ও মুখের ওপর
(গ) জলের ওপর
(ঘ) ঘাসের ওপর
উত্তর: (খ) চোখের ও মুখের ওপর
৮. কোন কন্যার রূপ পৃথিবীর পথ দেখেনি?
(ক) বনলতা সেন
(খ) মনিয়া পাখি
(গ) কেশবতী কন্যা
(ঘ) কিশোরী
উত্তর: (গ) কেশবতী কন্যা
৯. কার চুলের চুমো হিজল, কাঁঠাল আর জামগাছে ঝরে?
(ক) বনদেবীর
(খ) আকাশের
(গ) শিউলি ফুলের
(ঘ) কেশবতী কন্যার
উত্তর: (ঘ) কেশবতী কন্যার
১০. রূপসীর চুলের বিন্যাসে কবি কী অনুভব করেছেন?
(ক) ফুলের মালা
(খ) স্নিগ্ধ গন্ধ
(গ) জলকণা
(ঘ) শীতের আমেজ
উত্তর: (খ) স্নিগ্ধ গন্ধ
১১. কবি পৃথিবীর পথে ঘুরে কিসের গন্ধ পান?
(ক) চন্দনের
(খ) বকুল ফুলের
(গ) নরম ধানের
(ঘ) মাটির
উত্তর: (গ) নরম ধানের
১২. কলমীর ঘ্রাণ ছাড়াও আর কিসের ঘ্রাণ কবি অনুভব করেছেন?
(ক) শ্যাওলা
(খ) পুকুরের জল
(গ) ঝোপঝাড়
(ঘ) নদীর বালু
উত্তর: (খ) পুকুরের জল
১৩. কোন মাছের গায়ের গন্ধের কথা কবিতায় উল্লেখ আছে?
(ক) চিংড়ি ও কাতলা
(খ) কই ও মাগুর
(গ) শোল ও বোয়াল
(ঘ) চান্দা ও সরপুঁটি
উত্তর: (ঘ) চান্দা ও সরপুঁটি
১৪. হাঁসের পালকের সঙ্গে কবির আর কী মনে পড়েছে?
(ক) খড়
(খ) জল
(গ) শর
(ঘ) পাথর
উত্তর: (গ) শর
১৫. কিশোরী কী ধুয়েছিল?
(ক) কলমিলতা
(খ) বট ফল
(গ) চাল ধোয়া ভিজে হাত
(ঘ) মুথা ঘাস
উত্তর: (গ) চাল ধোয়া ভিজে হাত
১৬. কিশোরের পায়ে কী দলা পিষে গেছিল?
(ক) কাদা
(খ) মুথা ঘাস
(গ) হিজল ফল
(ঘ) কচুরিপানা
উত্তর: (খ) মুথা ঘাস
১৭. বট ফলের গন্ধকে কবি কেমন বলেছেন?
(ক) মধুর
(খ) কটু
(গ) বিচিত্র
(ঘ) ব্যথিত
উত্তর: (ঘ) ব্যথিত
১৮. ‘বাংলার প্রাণ’ কোথায় নিহিত আছে?
(ক) মন্দিরে
(খ) প্রকৃতির ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনুষঙ্গে
(গ) শহরের ভিড়ে
(ঘ) রাজপথে
উত্তর: (খ) প্রকৃতির ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনুষঙ্গে
১৯. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতাটি একটি—
(ক) সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা
(খ) নাটক
(গ) ভ্রমণকাহিনি
(ঘ) ছোটগল্প
উত্তর: (ক) সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা
২০. ‘মনিয়া’ একটি কিসের নাম?
(ক) লতা
(খ) ফল
(গ) মাছ
(ঘ) পাখি
উত্তর: (ঘ) পাখি
২১. ‘হি জলে কাঁঠালে জামে’ কী ঝরে?
(ক) বৃষ্টি
(খ) শিশির
(গ) কেশবতীর চুলের চুমো
(ঘ) পাতা
উত্তর: (গ) কেশবতীর চুলের চুমো
২২. “অজস্র চুলের চুমা…” চুলের এই চুমোয় কেমন অনুভতি হয়?
(ক) রূঢ়
(খ) শীতল
(গ) স্নিগ্ধ
(ঘ) উষ্ণ
উত্তর: (গ) স্নিগ্ধ
২৩. সরপুঁটিদের গন্ধ কেমন?
(ক) প্রকট
(খ) পচা
(গ) মিষ্টি
(ঘ) মৃদু
উত্তর: (ঘ) মৃদু
২৪. আকাশে কয়টি তারা ফুটে ওঠার কথা বলা হয়েছে?
(ক) পাঁচটি
(খ) সাতটি
(গ) দশটি
(ঘ) অসংখ্য
উত্তর: (খ) সাতটি
২৫. “কামরাঙা-লাল মেঘ যেন মৃত মনিয়া…” – মেঘকে কামরাঙা বলা হয়েছে কেন?
(ক) রঙের সাদৃশ্যে
(খ) স্বাদের ভয়ে
(গ) আকারের জন্য
(ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: (ক) রঙের সাদৃশ্যে
২৬. ‘মৃত মনিয়া’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) জীবিত মনিয়া
(খ) প্রানহীন মনিয়া পাখি
(গ) কাল্পনিক পক্ষী
(ঘ) মেঘ
উত্তর: (খ) প্রানহীন মনিয়া পাখি
২৭. কবি কিসের ওপর বসে বাংলার সন্ধ্যা দেখেন?
(ক) মাচায়
(খ) ঘাসের ওপর
(গ) পিঁড়িতে
(ঘ) বিছানায়
উত্তর: (খ) ঘাসের ওপর
২৮. কিশোরীর হাত কেমন ছিল?
(ক) রুক্ষ
(খ) গরম
(গ) চালধোয়া ভিজে শীত হাত
(ঘ) কোমল
উত্তর: (গ) চালধোয়া ভিজে শীত হাত
২৯. “ক্লান্ত নীরবতা” কিসের মাঝে দেখা যায়?
(ক) শহরের
(খ) মেঘের
(গ) বটফলের ব্যথিত গন্ধের
(ঘ) আকাশে
উত্তর: (গ) বটফলের ব্যথিত গন্ধের
৩০. ‘আকাশে সাতটি তারা’ ফুটে উঠলে কবি কিসের টের পান?
(ক) বৃষ্টির
(খ) ঝড়ের
(গ) বাংলার প্রাণের
(ঘ) ভয়ের
উত্তর: (গ) বাংলার প্রাণের
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী বাংলা আকাশে সাতটি তারা কবিতার অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Akashe Sat ti Tara Short Question Answer SAQ
১. আকাশে সাতটি তারা ফুটে উঠলে কবি কোথায় বসে থাকেন?
উত্তর: আকাশে সাতটি তারা ফুটে উঠলে কবি ঘাসের ওপর অর্থাৎ প্রকৃতির নির্জন সান্নিধ্যে বসে থাকেন।
২. কামরাঙা-লাল মেঘকে কবি কিসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
উত্তর: কামরাঙা-লাল মেঘকে কবি ‘মৃত মনিয়া’ পাখির সঙ্গে তুলনা করেছেন যা গোধূলির আলোয় শান্ত হয়ে গেছে।
৩. কবি আকাশগামী সন্ধ্যাকে কেমন বলেছেন?
উত্তর: কবি আকাশগামী সন্ধ্যাকে ‘শান্ত অনুগত বাংলার নীল সন্ধ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন।
৪. সান্ধ্য অন্ধকারকে কবি কার চুলের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
উত্তর: সান্ধ্য অন্ধকার বা সন্ধ্যাকে কবি এক ‘কেশবতী কন্যা’র একরাশ কালো চুলের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
৫. “পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো” – এখানে কোন কন্যার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: এখানে বাংলার মায়াবী রূপ ও অন্ধকারের প্রতীকী রূপ ‘কেশবতী কন্যা’র কথা বলা হয়েছে।
৬. রূপসীর চুলের চুমো কোথায় ঝরে পড়ে বলে কবি মনে করেন?
উত্তর: রূপসীর চুলের চুমো বাংলার হিজল, কাঁঠাল আর জামগাছে অবিরাম ঝরে পড়ে।
৭. কবি পৃথিবীর পথে ঘোরার সময় কিসের গন্ধে মুগ্ধ হন?
উত্তর: কবি পৃথিবীর পথে ঘোরার সময় নরম ধানের গন্ধ আর কলমীর ঘ্রাণে মুগ্ধ হন।
৮. ‘ব্যথিত গন্ধ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: লাল বটের ফল যখন মাটিতে পড়ে থেঁতলে যায়, তখন তার যে একধরণের তীব্র ও কাতর গন্ধ বেরোয়, তাকেই কবি ‘ব্যথিত গন্ধ’ বলেছেন।
৯. কার হাতকে ‘শীত হাত’ বলা হয়েছে?
উত্তর: চাল ধোয়া ভিজে শীতল জল যাদের হাতে লেগে থাকে, সেই কিশোরীর হাতের কথা এখানে বলা হয়েছে।
১০. কবি বাংলার প্রাণের অস্তিত্ব কোথায় খুঁজে পান?
উত্তর: কবি বাংলার প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পান নরম ধানে, পুকুরের মরা জলে, মাছেদের গন্ধে, কলমীর ঘ্রাণে আর নির্জন প্রকৃতির নীরবতায়।
১১. মুথা ঘাসকে কিশোরের পা দিয়ে কী করার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: মুথা ঘাসকে কিশোরের পা দিয়ে দলা বা মাড়ানো হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
১২. হিজল-কাঁঠাল-জাম গাছে কী ঝরছে?
উত্তর: হিজল-কাঁঠাল-জাম গাছে সন্ধ্যা রূপী কেশবতী কন্যার চুলের ওষ্ঠস্পর্শ বা চুমো ঝরছে।
১৩. কবি কখন ‘বাংলার প্রাণ’ টের পান?
উত্তর: যখন গোধূলি শেষে আকাশে সাতটি তারা ফুটে ওঠে, তখনই কবি বাংলার প্রাণ স্পষ্টভাবে টের পান।
১৪. ‘চাঁদা-সরপুঁটিদের’ গন্ধ কেমন?
উত্তর: চাঁদা-সরপুঁটি মাছের গন্ধ হলো আঁশটে কিন্তু খুব ‘মৃদু’।
১৫. ‘মৃত মনিয়া’ মেঘ কোথায় ডুবে যায়?
উত্তর: ‘মৃত মনিয়া’ রূপী কামরাঙা-লাল মেঘটি গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে যায়।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আকাশে সাতটি তারা কবিতার ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Akashe Sat ti Tara 2 Marks Question Answer
১. “কামরাঙা-লাল মেঘ যেন মৃত মনিয়া মতো” – উপমাটির সার্থকতা আলোচনা করো।
উত্তর: সূর্যাস্তের সময় আকাশের মেঘ কামরাঙা ফলের মতো গাঢ় লাল বর্ণ ধারণ করে। দিন শেষে মেঘের সেই তেজ কমে গিয়ে যখন তা নিথর হয়ে যায়, তাকে কবি আকাশের দিগন্তে শান্ত হয়ে থাকা ‘মৃত মনিয়া’ পাখির সঙ্গে তুলনা করেছেন। কামরাঙার লাল রঙ আর মনিয়া পাখির শান্ত অবস্থার এই মেলবন্ধনে উপমাটি সার্থক হয়েছে।
২. “আসিয়াছে শান্ত অনুগত বাংলার নীল সন্ধ্যা” – সন্ধ্যাকে ‘শান্ত অনুগত’ ও ‘নীল’ বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: বাংলার গ্রাম্য পরিবেশে গোধূলি বেলার সন্ধ্যা অত্যন্ত শান্ত ও ধীর পদক্ষেপে আসে, কোনো কোলাহল ছাড়াই সে যেন প্রকৃতির নিয়ম মানে, তাই সে ‘অনুগত’। আর গোধূলির শেষ আলোর সঙ্গে অন্ধকারের মিশ্রণে এক ধরণের মায়াবী নীল আভা ছড়িয়ে পড়ে বলে কবি একে ‘নীল সন্ধ্যা’ বলেছেন।
৩. কেশবতী কন্যার চুলের বর্ণনায় কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার বৈকালিক অন্ধকারকে এক কেশবতী কন্যার ঘন কালো চুলের সঙ্গে কল্পনা করেছেন। সেই চুল যেন আকাশময় ছড়িয়ে পড়েছে এবং কবির চোখ ও মুখের ওপর আধাররূপী স্নিগ্ধ পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে। এর মাধ্যমে সন্ধ্যার রহস্যময় রূপটি ফুটে উঠেছে।
৪. “পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো” – কথাটির তাৎপর্য কী?
উত্তর: বাংলার সান্ধ্য প্রকৃতির যে স্নিগ্ধতা ও মায়াবী রূপ কবি অনুভব করেছেন, তা একান্তই বাংলার নিজস্ব সম্পদ। বিশ্বের অন্য কোথাও গ্রামবাংলার এই অকৃত্রিম রহস্যময় অন্ধকার ও প্রকৃতির নিবিড় সমাবেশ দেখা যায় না বলেই কবি এই মন্তব্য করেছেন।
৫. “হিজলে কাঁঠালে জামে ঝরে অবিরত…” – কী ঝরে পড়ে এবং এর মধ্য দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: সান্ধ্য অন্ধকারের প্রতীক কেশবতী কন্যার চুলের মিষ্ট চুমো বা ওষ্ঠস্পর্শ হিজল, কাঁঠাল আর জামগাছে ঝরে পড়ছে বলে কবি মনে করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, বাংলার প্রকৃতি ও সন্ধ্যা একে অপরের সঙ্গে এক অবিচ্ছেদ্য প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ।
৬. কবি বাংলার পথে ঘুরে কিসের কিসের ঘ্রাণ অনুভব করেছেন?
উত্তর: কবি বাংলার প্রকৃতির ধূলি-মাটি আর ঘাসের মধ্য থেকে নরম ধানের গন্ধ, কলমী শাকের ঘ্রাণ, হাঁসের পালক, শর, পুকুরের জল এবং চাঁদা-সরপুঁটি মাছের মৃদু আঁশটে গন্ধ অনুভব করেছেন।
৭. “চাঁদা-সরপুঁটিদের মৃদু ঘ্রাণ” – এই অনুষঙ্গটির গুরুত্ব কী?
উত্তর: বাংলার প্রকৃতি কেবল দৃশ্যমান নয়, তা তার বিশেষ গন্ধেও চেনা যায়। খলসে, চাঁদা বা সরপুঁটির মতো ছোট ছোট মাছেরা বাংলার পুকুর ও বিলের প্রাণ। তাদের গায়ের মৃদু গন্ধ বাংলার জলাভূমির এক নিজস্ব পরিচয় বহন করে, যা কবিকে নাড়া দেয়।
৮. কিশোরীর ‘শীত হাত’ এবং কিশোরের ‘মুথা ঘাস’ মাড়ানোর প্রসঙ্গ কেন এসেছে?
উত্তর: বাংলার সাধারণ গৃহস্থালীর ছবি আঁকতে কবি কিশোরীর চাল ধোয়া ভিজে শীত হাতের কথা বলেছেন। আবার গ্রামের মাঠে খেলে বেড়ানো কিশোরের পায়ে দলা হওয়া মুথা ঘাসের গন্ধের কথা তুলে ধরেছেন। এইসব গ্রাম্য ও লৌকিক অনুষঙ্গের মধ্যেই বাংলার সহজ ও স্বাভাবিক জীবনধারা স্পন্দিত হয়।
৯. “লাল লাল বটের ফলের ব্যথিত গন্ধের ক্লান্ত নীরবতা” – বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: পাকা বট ফল যখন মাটিতে ঝরে পড়ে এবং পায়ে মাড়ানো বা থেঁতলে যায়, তখন তার মধ্য থেকে একটি বিষণ্ণ ও কটু স্বাদযুক্ত গন্ধ বের হয়। কবির কাছে এই গন্ধটি ‘ব্যথিত’ বা দুঃখী মনে হয়েছে, যা সন্ধ্যার নিস্তব্ধ পরিবেশকে আরও বিষণ্ণ ও ক্লান্ত করে তোলে।
১০. “এরই মাঝে বাংলার প্রাণ” – বাংলার প্রাণ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: বাংলার প্রাণ কোনো কৃত্রিম অট্টালিকায় নয়, বরং নরম ধান, কলমীর ঘ্রাণ, হাঁসের পালক, কিশোরীর শীত হাত, বটের ফল আর আকাশের সাতটি তারার নিচে যে নিভৃত গ্রাম্য প্রকৃতি রয়েছে—তাতেই নিহিত। এই তুচ্ছ উপাদানগুলিই হলো বাংলার শাশ্বত অস্তিত্বের কেন্দ্রবিন্দু।
১১. “আসিয়াছে শান্ত অনুগত / বাংলার নীল সন্ধ্যা” – এই সন্ধ্যা অন্য জায়গার চেয়ে আলাদা কেন?
উত্তর: অন্যান্য দেশের সন্ধ্যা হয়তো অনেক বেশি উজ্জ্বল বা কোলাহলপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু বাংলার সন্ধ্যা যেন এক অনুগত কন্যার মতো শান্ত ও স্নিগ্ধ। এই সন্ধ্যার মায়াবী আভা কবির চোখে, মুখে এবং প্রকৃতির অলিগলিতে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ছড়িয়ে দেয় যা অন্য কোথাও অমিল।
১২. “মুথাঘাস—লাল লাল বটের ফলের / ব্যথিত গন্ধের ক্লান্ত নীরবতা” – এখানে মুথা ঘাস ও বটফলের গন্ধের বৈপরীত্য কী?
উত্তর: মুথা ঘাস হলো প্রাণচঞ্চল বা সতেজ গন্ধের প্রতীক, যা কিশোরের পায়ে পিষ্ট হওয়ার সময় এক ধরণের ঘ্রাণ ছড়ায়। অন্যদিকে ফেটে যাওয়া বট ফলের গন্ধ ক্লান্ত ও বিষণ্ণ। এই দুটো উপাদানের মাধ্যমেই বাংলার সন্ধ্যার দুটি ভিন্ন অনুভূতি কবি ফুটিয়ে তুলেছেন।
১৩. রূপসীর চুলের স্নিগ্ধ গন্ধ কবি কোথায় পান?
উত্তর: রূপসী বাংলার প্রকৃতির পরতে পরতে কবি রূপসীর চুলের স্নিগ্ধ গন্ধ পান। বিশেষত হিজল, কাঁঠাল ও জাম গাছের ডালে ঝুলে থাকা অন্ধকারের ভেতর দিয়ে চুইয়ে আসা গন্ধকেই তিনি এই কেশবতী কন্যার চুলের বিন্যাসের গন্ধ বলে অনুভব করেছেন।
১৪. “গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে গেছে” – কী ডুবে গেছে এবং কখন?
উত্তর: সূর্যাস্তের সময় আকাশের কামরাঙা-লাল মেঘটি যখন অন্ধকারে মিলিয়ে যায়, সেটাকেই কবি মনে করেছেন যেন মৃত মনিয়া পাখির মতো সেই লোহিতাভ মেঘটি গঙ্গাসাগরের সলিল সমাধিতে বিলীন হয়ে গেল।
১৫. “আকাশে সাতটি তারা যখন উঠেছে ফুটে আমি পাই টের।” – কবি কী টের পান?
উত্তর: আকাশে যখন সপ্তর্ষিমণ্ডল বা সাতটি তারা দেখা দেয়, তখন কবি প্রকৃতির স্নিগ্ধ স্পর্শ ও লৌকিক গন্ধের সমাহারে গ্রামবাংলার শাশ্বত ও অমর প্রাণের অস্তিত্ব অনুভব বা টের পান।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আকাশে সাতটি তারা কবিতার ৩ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Akashe Sat ti Tara 3 Marks Question Answer
১. “কামরাঙা-লাল মেঘ যেন মৃত মনিয়ার মতো / গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে গেছে” – কবি এখানে কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: কবি এখানে সূর্যাস্তের অসাধারণ এক চিত্রকল্প তৈরি করেছেন। কামরাঙা ফল পাকার পর যেমন লাল রঙ ধারণ করে, গোধূলির আকাশের মেঘও তেমনই সিঁদুরে লাল হয়। দিনের শেষে সেই গোধূলির আলো যখন নিভে যায়, তখন মেঘমালা প্রাণহীন মনিয়ার মতো নিঃশব্দে দিগন্তের বা গঙ্গাসাগরের জলে বিলীন হয়ে যায়। এর মাধ্যমে কবি দিনান্তের এক নিরুত্তাপ ও শান্ত পরিসমাপ্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন।
২. সন্ধ্যাকে ‘কেশবতী কন্যা’ হিসেবে বর্ণনা করার সার্থকতা কী?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশ প্রকৃতির মধ্যে মানবিকতা খুঁজে পান। তিনি সন্ধ্যার অন্ধকারকে অন্ধকার না বলে তাকে এক রূপসী কন্যার দীর্ঘ কালো চুলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সন্ধ্যাবেলা যেমন অন্ধকার ক্রমে ঘন হয়ে গাছপালা ও পৃথিবীকে আবৃত করে, তেমনই কেশবতীর চুলও কবির চোখ ও মুখ ঢেকে দিয়েছে বলে তাঁর মনে হয়। চুলের স্পর্শে যেমন মাধুর্য থাকে, সন্ধ্যার সেই অন্ধকারেও তেমনই এক প্রশান্তি ও স্নিগ্ধতা রয়েছে, যা কবিকে মুগ্ধ করে।
৩. “পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো” – কবির এই উক্তির কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কবির মতে, বাংলার পল্লী প্রকৃতির সান্ধ্য রূপ বিশ্বের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। বাংলার গ্রামগুলিতে সন্ধ্যা নামার যে নিজস্ব মায়াবী কৌশল, তার যে অদ্ভুত নীল আভা এবং হিজল-কাঁঠাল গাছের ওপর দিয়ে অন্ধকারের যে রহস্যময় চলাচল—তা পৃথিবীর অন্য কোনো ভৌগোলিক পথে দেখা সম্ভব নয়। বাংলার প্রকৃতির এই অদ্বিতীয় স্নিগ্ধতা ও রূপই কবিকে এই মন্তব্য করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
৪. বাংলার গ্রামীন ও তুচ্ছ অনুষঙ্গগুলি কীভাবে ‘বাংলার প্রাণ’ প্রকাশ করে?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশ অত্যন্ত সাধারণ উপকরণের মধ্যে বাংলার সৌন্দর্য খুঁজে পেয়েছেন। নরম ধান, কলমীর ঘ্রাণ, শর, পুকুরের জল, হাঁসের পালক, চাঁদা-সরপুঁটি মাছ কিংবা বট ফলের গন্ধ—এগুলো অতি সাধারণ ও তুচ্ছ লৌকিক অনুষঙ্গ। কিন্তু কবির কাছে এগুলোই হলো বাংলার আসল পরিচয়। শহরের যান্ত্রিকতা বাদ দিলে এই মাটির সোঁদা গন্ধ আর ধানের মিষ্ট ঘ্রাণের মধ্যেই বাংলার জীবনের আসল স্পন্দন ধুকপুক করে।
৫. “ব্যথিত গন্ধের ক্লান্ত নীরবতা” – এই পংক্তিটির মধ্য দিয়ে কবির কোন মানসিকতা ফুটে উঠেছে?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশ একজন নির্জনতার ও বিষণ্ণতার কবি। বট ফল মাটিতে পড়ে নষ্ট হয়ে যে গন্ধ ছড়ায়, তাকে তিনি ‘ব্যথিত’ বলেছেন। এই ব্যথিত গন্ধের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে একপ্রকার ক্লান্ত নীরবতা। বাংলার শান্ত দুপুর বা মন্থর সন্ধ্যা এই বিষণ্ণতাকে বয়ে নিয়ে চলে। বড় কোনো উৎসবের চেয়েও কবি এই ম্লান ও বিষণ্ণ প্রকৃতির মধ্যেই বাংলার শাশ্বত রূপটিকে বেশি প্রত্যক্ষ করেছেন।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
ক্লাস ৯ বাংলা আকাশে সাতটি তারা কবিতার বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Akashe Sat ti Tara 5 Marks Important Question Answer
১. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় জীবনানন্দ দাশ বাংলার সন্ধ্যার যে মায়াবী রূপ বর্ণনা করেছেন, তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: জীবনানন্দ দাশ তাঁর ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় বাংলার গ্রামীন সন্ধ্যার এক অসাধারণ চিত্রকল্প পেশ করেছেন। কবির বর্ণনায় বাংলার সন্ধ্যা কোনো সাধারণ সময় নয়, তা যেন এক অলৌকিক অনুভূতি। সূর্যাস্তের ম্লান আলো যখন গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে বিলীন হয়ে যায়, ঠিক তখনই বাংলার আকাশে নেমে আসে ‘শান্ত অনুগত’ এক নীল সন্ধ্যা।
এই সন্ধ্যাকে কবি কল্পনা করেছেন এক রহস্যময় ‘কেশবতী কন্যা’ হিসেবে। একরাশ লম্বা কালো চুলের অধিকারী সেই কন্যা যেন আকাশের বুক জুড়ে নেমে আসে। তার ঘন চুলের অন্ধকার কবির চোখে মুখে স্পর্শের আবেশ তৈরি করে। কবি অনুভব করেন, সেই চুলের স্নেহভরা চুমো যেন অবিরত ঝরে পড়ছে বাংলার হিজল, কাঁঠাল আর জামগাছের ডালপালায়। সন্ধ্যার এই রূপ বিশ্বের আর কোথাও দেখা যায় না। বাংলার সান্ধ্য প্রকৃতির এই অন্ধকার কেবল দৃষ্টিগোচর নয়, তা স্নিগ্ধ গন্ধেও ভরপুর। হিজল ও জামের ডাল থেকে চুইয়ে আসা সেই গন্ধ কবিকে মোহাচ্ছন্ন করে রাখে। কবির কাছে বাংলার এই নীল সন্ধ্যা শান্তিময় ও শাশ্বত সৌন্দর্যের এক মূর্ত রূপ।
২. “এরই মাঝে বাংলার প্রাণ” – কোন অনুষঙ্গগুলির মাধ্যমে কবি বাংলার এই প্রাণের পরিচয় দিয়েছেন এবং কেন?
উত্তর: রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার প্রাণের সন্ধান করেছেন গ্রামীন প্রকৃতির অতি তুচ্ছ ও সাধারণ উপাদানগুলির মধ্যে। বড় কোনো ঘটনা বা রাজকীয় আভিজাত্যে নয়, কবির মতে বাংলার প্রাণ স্পন্দিত হয় নিচের বিষয়গুলিতে:
মাটির গন্ধ ও ঘাস: নরম ধানের গন্ধ আর মুথা ঘাসের মিষ্টি ঘ্রাণের মধ্যে বাংলার আসল পরিচয় লুকিয়ে রয়েছে।
জলাভূমি ও প্রাণী: কলমীর ঘ্রাণ, পুকুরের জল, হাঁসের পালক আর শরবনের প্রকৃতির মধ্য দিয়ে বাংলার জলজ জীবনধারা ফুটে ওঠে। এমনকি অতি সাধারণ চাঁদা বা সরপুঁটির মতো মাছের মৃদু আঁশটে গন্ধও কবির কাছে বাংলার প্রিয় অনুষঙ্গ।
মানবিক পরশ: চাল ধোয়া ভিজে শীত হাত নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরী কিম্বা মুথা ঘাস মাড়িয়ে চলা কিশোরের সাধারণ জীবনের মধ্যেই বাংলার প্রাণ চঞ্চল হয়ে ওঠে।
নিস্তব্ধতা ও বিষণ্ণতা: মাটির ওপর ঝরে পড়া বট ফলের ‘ব্যথিত গন্ধ’ আর সন্ধ্যার ‘ক্লান্ত নীরবতা’র মধ্যে কবি বাংলার এক শাশ্বত রূপকে প্রত্যক্ষ করেছেন।
কবির মতে, এগুলি কেবল কিছু দৃশ্য বা গন্ধ নয়, এগুলি হলো বাংলার আত্মা। যান্ত্রিক সভ্যতার বাইরে এই অকৃত্রিম ও নিভৃত প্রকৃতির মধ্যেই বাংলার প্রকৃত সত্তা বিরাজ করে বলেই কবি এই তুচ্ছ অনুষঙ্গগুলিকে ‘বাংলার প্রাণ’ বলেছেন।
৩. ‘আকাশে সাতটি তারা’ সনেটের গঠনবৈশিষ্ট্য এবং বিষয়বস্তুর সার্থকতা আলোচনা করো।
উত্তর: ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতাটি একটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা। গঠনগত দিক থেকে এটি দুইটি অংশে বিভক্ত—অষ্টক (প্রথম আট লাইন) এবং ষটক (পরবর্তী ছয় লাইন)।
অষ্টকের বিশ্লেষণ: প্রথম আট লাইনে কবি বাংলার সান্ধ্য সৌন্দর্যের এক আকাশব্যাপী কল্পনা প্রকাশ করেছেন। গোধূলির কামরাঙা আকাশ থেকে শুরু করে রহস্যময় নীল সন্ধ্যার আগমন এবং কেশবতী কন্যার চুলের রূপকীয় বর্ণনা এই অংশে প্রধান। এখানে কবির দৃষ্টি ঊর্ধ্বমুখী এবং আকাশমুখী।
ষটকের বিশ্লেষণ: পরবর্তী ছয় লাইনে কবির দৃষ্টি নেমে এসেছে মর্ত্যে বা মাটির পৃথিবীতে। এখানে তিনি বাংলার ঘাসে, ধানে, পুকুরে, মাছের গন্ধে বা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ছোঁয়ায় বাংলার প্রাণকে খুঁজছেন।
সার্থকতা: সনেটটির প্রধান বিশেষত্ব হলো এর ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতা। কবি এখানে কেবল দৃষ্টিশক্তি ব্যবহার করেননি, বরং শ্রবণ, স্পর্শ এবং আঘ্রাণের মাধ্যমে বাংলার রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন। যখন আকাশে সাতটি তারা ফুটে ওঠে, তখনই প্রকৃতির এই পূর্ণাঙ্গ পরিচয় কবির সামনে উন্মোচিত হয়। প্রকৃতির বিশালত্বের সঙ্গে লৌকিক জীবনের সহজ সারল্যকে একই সুতোয় গেঁথে কবি সনেটটিকে শিল্পসার্থক করে তুলেছেন।
৪. “পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো” – বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? বাংলার প্রকৃতির সাথে কবির যে নিবিড় সম্পর্ক তা এই উক্তির সাপেক্ষে বিচার করো।
উত্তর: কবির মতে বাংলার প্রকৃতি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। বাংলার প্রকৃতির স্নিগ্ধতা ও মায়াবী রূপ বিশ্বের অন্য কোনো ভৌগোলিক পথে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। ‘কেশবতী কন্যা’ রূপী সন্ধ্যা যখন বাংলার হিজল, জাম বা কাঁঠাল বনে তার অন্ধকার চুলের মেঘ বিছিয়ে দেয়, তখন যে অপূর্ব মায়াকাজল পৃথিবী চাক্ষুষ করে, তা কেবল বাংলারই সম্পদ।
কবির প্রকৃতিপ্রেম অত্যন্ত নিবিড় ও আত্মিক। তিনি প্রকৃতির কেবলমাত্র বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, তার রূপ-রস-গন্ধের গভীরতায় নিমজ্জিত হয়েছেন। তিনি যেখানে কলমীর ঘ্রাণ বা সরপুঁটি মাছের আঁশটে গন্ধের মধ্যে ‘বাংলার প্রাণ’ খুঁজে পান, সেখানেই তাঁর অকৃত্রিম প্রকৃতিপ্রেম প্রমাণিত হয়। প্রকৃতির অতি সামান্য উপাদানও যে রাজকীয় রূপ নিতে পারে, জীবনানন্দ দাশই তা বিশ্বকে দেখিয়েছেন। এই বিশেষ অনুভূতি বিশ্বের অন্য কোনো কবি বা অন্য কোনো দেশের পথে না পাওয়ার গ্যারান্টি স্বরূপই তিনি আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
৫. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতার নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: জীবনানন্দ দাশের এই কালজয়ী কবিতাটির নাম ‘আকাশে সাতটি তারা’। নামকরণের সার্থকতা বিচার করলে দেখা যায়, এই কবিতাটির রূপ ও রস আবর্তিত হয়েছে একটি নির্দিষ্ট সময়কে কেন্দ্র করে।
সেই সময়টি হলো যখন আকাশে ‘সপ্তর্ষিমণ্ডল’ বা সাতটি তারা ফুটে ওঠে। গোধূলি আর সন্ধ্যার সন্ধিক্ষণে সাতটি তারার উদয় হলো এক অনন্য মুহূর্ত। এই সময়েই কবি মায়াবী নীল সন্ধ্যার আগমন প্রত্যক্ষ করেন। দিনের কোলাহল থেমে যাওয়ার পর এই নক্ষত্রখচিত প্রহরেই বাংলার প্রকৃতি তাঁর সমস্ত রূপ ও গন্ধ নিয়ে কবির সামনে হাজির হয়।
কবিতাটি শুরু হয়েছে সপ্তর্ষির ফুটে ওঠার বর্ণনা দিয়ে এবং সমাপ্তিতেও কবি পুনশ্চ জানিয়েছেন যে নক্ষত্র উদয়ের এই লগ্নটিতেই তিনি বাংলার প্রকৃত অস্তিত্ব বা প্রাণ টের পান। অর্থাৎ কবিতার বিষয়বস্তু যে সান্ধ্য অনুভূতি ও প্রকৃতির চিত্রকল্প, তার পটভূমি ও প্রেক্ষাপট তৈরি করে দেয় আকাশের ওই সাতটি তারা। তাই ভাববস্তু ও গঠনগত সংহতির বিচারে কবিতাটির নামকরণ সর্বতোভাবে সার্থক ও সংগতিপূর্ণ হয়েছে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতাটির প্রতিটি পংক্তির গভীর অর্থ, কবির দর্শন এবং পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত ছোট-বড় প্রশ্নের উত্তর তোমাদের সামনে তুলে ধরা হলো। আশা করি, জীবনানন্দ দাশের এই রূপসী বাংলার বর্ণনা তোমাদের হৃদয় স্পর্শ করবে এবং পড়াশোনায় বিশেষ সহায়ক হবে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী অন্যান্য সমস্ত বিষয়ের নোট (Class IX All Notes) |
আকাশে সাতটি তারা জীবনানন্দ দাশ | নবম শ্রেণী বাংলা আকাশে সাতটি তারা | আকাশে সাতটি তারা প্রশ্ন উত্তর MCQ SAQ | ক্লাস ৯ বাংলা কবিতা সাজেশন
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম Study গ্রুপে যুক্ত হোন -


