আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী রচিত ‘আবহমান’ কবিতাটি নবম শ্রেণির পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কবির ‘অন্ধকার বারান্দা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে এই কবিতাটি সংকলিত হয়েছে। এই কবিতায় গ্রামবাংলার শাশ্বত রূপ এবং শিকড়ের টানে মানুষের ঘরে ফেরার চিরন্তন আকুলতা নিপুণভাবে ফুটে উঠেছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| পাঠের নাম | আবহমান |
| কবি | নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী |
| কাব্যগ্রন্থ | অন্ধকার বারান্দা |
আবহমান – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (নবম শ্রেণী বাংলা কবিতা)
আজকের এই পোস্টে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী রচিত ‘আবহমান’ কবিতাটির উৎস, সারাংশ, নামকরণের তাৎপর্য এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর খুব সহজ ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে।
আবহমান – কবি পরিচিতি
বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রথিতযশা বাঙালি কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (১৯২৪-২০১৮)। তিনি তাঁর কলম দিয়ে আধুনিক কবিতার জগৎকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর কবিতায় যেমন নাগরিক জীবনের ক্লান্তি উঠে এসেছে, তেমনই সহজ ভাষায় লৌকিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রকাশ ঘটেছে। তিনি আনন্দবাজার পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘকাল ‘কিশোর ভারতী’ পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে ‘নীল নির্জন’, ‘অন্ধকার বারান্দা’, ‘উলঙ্গ রাজা’ ইত্যাদি। ১৯৭৪ সালে তিনি ‘উলঙ্গ রাজা’ কাব্যগ্রন্থের জন্য সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। ‘আবহমান’ কবিতাটি তাঁর গ্রামবাংলার মাটির প্রতি গভীর মমত্ববোধের পরিচয়বাহী।
আবহমান কবিতার সারাংশ (Summary)
‘আবহমান’ শব্দের অর্থ যা অনন্তকাল ধরে চলে আসছে। কবি এই কবিতায় মানুষের ভিটেমাটির প্রতি চিরায়ত ভালোবাসার কথা বলেছেন। কবিতার শুরুতে কবি আমাদের সেই পুরোনো উঠানে গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন, যেখানে লাউমাচার পাশে একটি ছোট ফুল হাওয়ায় দুলছে। এটি কেবল একটি ফুল নয়, এটি আমাদের ফেলে আসা শৈশব ও সংস্কৃতির প্রতীক।
বহু বছর আগে মানুষ এই নিবিড় অনুরাগে গ্রামবাংলার বুকে ঘর বেঁধেছিল। জীবিকার সন্ধানে মানুষ শহরমুখী হয়, যাযাবর জীবন বেছে নেয়, কিন্তু তার অন্তরের টান সব সময় পড়ে থাকে সেই জন্মভূমির মাটিতে। কবির ভাষায়, সেই পুরোনো ভিটেতে যাওয়ার আসার পালা কখনও ফুরায় না। মানুষের মনের সেই একগুঁয়ে জেদের মতো পিপাসাও মেটে না। সে সারাদিন ঘাসের গন্ধে ডুবে থাকে এবং রাতভর তারায় তারায় স্বপ্ন বুনে চলে।
যান্ত্রিক সভ্যতার পেষণে মানুষের জীবনে যন্ত্রণা আসে, দুঃখ বাসি হয় না, কিন্তু তবুও তার বাগান থেকে কুন্দফুলের হাসি হারায় না। অর্থাৎ প্রতিকূলতার মধ্যেও জীবনের ছন্দ ফুরিয়ে যায় না। নটেগাছটি বুড়িয়ে গেলেও মুড়িয়ে যায় না—এই রূপকের মাধ্যমে কবি মানুষের অপরাজেয় জীবনীশক্তি এবং মাটির সঙ্গে নাড়ির টানের অবিনশ্বরতাকে বুঝিয়েছেন। তাই বারবার মানুষ সেই সন্ধ্যার বাতাসে দুলতে থাকা ছোট ফুলটির টানে নিজের ঠিকানায় ফিরে ফিরে আসে।
আবহমান কবিতার নামকরণের সার্থকতা
সাহিত্যে নামকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ‘আবহমান’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো— যা চিরকাল ধরে চলে আসছে বা যা পরম্পরাগত।
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর এই কবিতায় জীবন ও প্রকৃতির এমন এক স্তরের কথা বলা হয়েছে যা ফুরিয়ে যায় না। মানুষ একসময় ভালোবাসার টানে গ্রামবাংলার বুকে ঘর বাঁধে। প্রয়োজনের খাতিরে সে হয়তো দেশান্তরী হয়, যান্ত্রিক সভ্যতার অংশ হয়, কিন্তু তার হাহাকার ও নাড়ির টান চিরকাল সেই পুরোনো ভিটেমাটির জন্যই থাকে। নটেগাছ বুড়িয়ে গেলেও তার অস্তিত্ব যেমন গুরুত্ব হারায় না, তেমনই মানুষের শিকড়ের টানও শেষ হয় না।
কবিতায় বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে— “যা গিয়ে ওই উঠানে তোর দাঁড়া / লাউমাচাটার পাশে”। এই পুনরাবৃত্তির মাধ্যমেই কবি বুঝিয়েছেন যে এই ফিরে আসার ধারা অনন্ত। মানুষের দুঃখ, আর্তি, ভালোবাসা এবং প্রকৃতির চিরন্তন রূপ—সবই এখানে ‘আবহমান’। তাই বিষয়বস্তুর গভীরতা এবং সময়ের নিরবচ্ছিন্নতাকে প্রাধান্য দিয়ে এই নামকরণ সার্থক ও শিল্পসম্মত হয়েছে।
আবহমান কবিতার বিশেষ শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| আবহমান | যা চিরকাল ধরে হয়ে আসছে বা ক্রমাগত চলছে |
| নিবিড় | গভীর বা নিবিড় |
| অনুরাগ | ভালোবাসা বা ভক্তি |
| একগুঁয়ে | জেদি বা যা সহজে নমনীয় হয় না |
| পিপাসা | তৃষ্ণা (এখানে ঘরে ফেরার আকুলতা) |
| নটেগাছ | এক ধরনের সাধারণ শাকগাছ (এখানে রূপকার্থে ব্যবহৃত) |
| মুড়য় না | নিঃশেষ হয় না বা ফুরিয়ে যায় না |
| বাসি | পুরোনো (দুঃখ বাসি হয় না মানে দুঃখ চিরনতুন থাকে) |
| কুন্দফুল | এক ধরনের সাদা ছোট বুনো ফুল |
| সান্ধ্য | সন্ধ্যাবেলার |
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আবহমান পাঠ্যাংশের প্রশ্ন উত্তর (MCQ) | Class 9 Abahaman MCQ Question Answer
১. ‘আবহমান’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
(ক) নীল নির্জন
(খ) অন্ধকার বারান্দা
(গ) উলঙ্গ রাজা
(ঘ) কলকাতার যীশু
উত্তর: (খ) অন্ধকার বারান্দা
২. কবি কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন?
(ক) বারান্দায়
(খ) শানবাঁধানো ঘাটে
(গ) উঠানে
(ঘ) বাগানে
উত্তর: (গ) উঠানে
৩. উঠানে কিসের পাশে দাঁড়াতে বলা হয়েছে?
(ক) আমগাছের
(খ) লাউমাচাটার
(গ) কুয়োর
(ঘ) তুলসীতলার
উত্তর: (খ) লাউমাচাটার
৪. ছোট ফুলটি কোন বাতাসে দুলছে?
(ক) ভোরের
(খ) দুপুরের
(গ) চৈত্রমাসের
(ঘ) সন্ধ্যার
উত্তর: (ঘ) সন্ধ্যার
৫. মানুষ ঘর বেঁধেছিল কেমনভাবে?
(ক) প্রয়োজনের তাগিদে
(খ) নিবিড় অনুরাগে
(গ) ভয়ে ভয়ে
(ঘ) অনিচ্ছায়
উত্তর: (খ) নিবিড় অনুরাগে
৬. “কে এখানে হারিয়ে গিয়েও আবার…”—
(ক) চলে যায়
(খ) স্মরণে রাখে
(গ) ফিরে আসে
(ঘ) কেঁদে ওঠে
উত্তর: (গ) ফিরে আসে
৭. নটেগাছটি বুড়িয়ে ওঠে, কিন্তু কী হয় না?
(ক) শুকিয়ে যায় না
(খ) মুড়িয়ে যায় না
(গ) ফল দেয় না
(ঘ) ভেঙে পড়ে না
উত্তর: (খ) মুড়িয়ে যায় না
৮. মানুষের পিপাসাকে কবি কেমন বলেছেন?
(ক) শান্ত
(খ) মিষ্ট
(গ) দুরন্ত
(ঘ) লবণাক্ত
উত্তর: (গ) দুরন্ত
৯. সারাদিন মানুষ কিসের গন্ধ মাখে?
(ক) কাদার
(খ) ঘাসের
(গ) ফুলের
(ঘ) বৃষ্টির
উত্তর: (খ) ঘাসের
১০. সারারাত কবি স্বপ্ন কোথায় এঁকে রাখার কথা বলেছেন?
(ক) পাতায় পাতায়
(খ) তারায় তারায়
(গ) মনে মনে
(ঘ) খাতায় খাতায়
উত্তর: (খ) তারায় তারায়
১১. “নেভে না তার যন্ত্রণা যে…”—
(ক) ভয় হয় না
(খ) কান্না আসে না
(গ) দুঃখ হয় না বাসি
(ঘ) আলো জ্বলে না
উত্তর: (গ) দুঃখ হয় না বাসি
১২. বাগান থেকে কিসের হাসি হারায় না?
(ক) শিউলি ফুলের
(খ) জুই ফুলের
(গ) কুন্দফুলের
(ঘ) পদ্মফুলের
উত্তর: (গ) কুন্দফুলের
১৩. “তেমন করেই সূর্য ওঠে, তেমন করেই…”—
(ক) বৃষ্টি পড়ে
(খ) বাতাস বয়
(গ) ছায়া নামলে
(ঘ) দিন কাটে
উত্তর: (গ) ছায়া নামলে
১৪. সান্ধ্য নদীর হাওয়া কীভাবে ছুটে আসে?
(ক) আস্তে আস্তে
(খ) ধীর লয়ে
(গ) আবার ছুটে আসে
(ঘ) ঝোড়ো গতিতে
উত্তর: (গ) আবার ছুটে আসে
১৫. মানুষের জীবনে যাতায়াত কেমন?
(ক) একবারের
(খ) ক্ষণিকের
(গ) ফুরয় না তার আসা এবং ফুরয় না তার যাওয়া
(ঘ) অনিশ্চিত
উত্তর: (গ) ফুরয় না তার আসা এবং ফুরয় না তার যাওয়া
১৬. ‘আবহমান’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ কী?
(ক) আকাশপথ
(খ) চিরকালীন
(গ) আধুনিক
(ঘ) ক্ষণস্থায়ী
উত্তর: (খ) চিরকালীন
১৭. কবি কবিতায় কোনটির ওপর বেশি জোর দিয়েছেন?
(ক) ইতিহাস
(খ) যান্ত্রিকতা
(গ) শিকড়ের টান
(ঘ) রাজনীতি
উত্তর: (গ) শিকড়ের টান
১৮. “হারায় না তার বাগান থেকে…”—কী হারায় না?
(ক) ফল
(খ) কুন্দফুলের হাসি
(গ) ছোট পাখি
(ঘ) পুরোনো স্মৃতি
উত্তর: (খ) কুন্দফুলের হাসি
১৯. নটেগাছটি কীসের প্রতীক?
(ক) লৌকিক গল্পের প্রথা
(খ) মৃত্যুর
(গ) অলসতার
(ঘ) নতুন যুগের
উত্তর: (ক) লৌকিক গল্পের প্রথা
২০. আকাশ থেকে কী নামলে হাওয়া ছুটে আসে?
(ক) বৃষ্টি
(খ) ছায়া
(গ) বিদ্যুৎ
(ঘ) তুষার
উত্তর: (খ) ছায়া
২১. কবিতায় ‘ছোট ফুল’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) আভিজাত্য
(খ) গ্রাম্য সারল্য ও অস্তিত্ব
(গ) সুগন্ধ
(ঘ) রাজকীয়তা
উত্তর: (খ) গ্রাম্য সারল্য ও অস্তিত্ব
২২. “এখনও সেই ফুল দুলছে”—কোথায় দুলছে?
(ক) নদীর তীরে
(খ) সন্ধ্যার বাতাসে
(গ) শহরের পার্কে
(ঘ) জানালার ঝরোখায়
উত্তর: (খ) সন্ধ্যার বাতাসে
২৩. ‘স্বপ্ন এঁকে রাখে’—কে স্বপ্ন আঁকে?
(ক) কবি
(খ) যাযাবর মানুষ
(গ) তারা
(ঘ) ঘাস
উত্তর: (খ) যাযাবর মানুষ
২৪. “ফুরয় না তার কিছুই ফুরয় না”—উক্তিটি কতবার ব্যবহৃত হয়েছে?
(ক) একবার
(খ) দুবার
(গ) তিনবার
(ঘ) বহুবার
উত্তর: (ঘ) বহুবার (ভাবার্থে)
২৫. “একগুঁয়েটার দুরন্ত পিপাসা”—এখানে একগুঁয়ে কে?
(ক) নটেগাছ
(খ) যাযাবর মানুষ বা মন
(গ) জল
(ঘ) সূর্য
উত্তর: (খ) যাযাবর মানুষ বা মন
২৬. দুঃখ ‘বাসি হয় না’ কেন?
(ক) দুঃখ খুব মিষ্ট
(খ) এটি চিরনতুন ও প্রবহমান
(গ) কেউ ভোলে না
(ঘ) খুব সাধারণ বলে
উত্তর: (খ) এটি চিরনতুন ও প্রবহমান
২৭. “কে এখানে ঘর বেঁধেছে নিবিড় অনুরাগে”—এখানে ‘অনুরাগ’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) রাগ করা
(খ) ভালোবাসা
(গ) ঘৃণা
(ঘ) ভয়
উত্তর: (খ) ভালোবাসা
২৮. ‘আবহমান’ কবিতাটি কোন ছন্দে লেখা?
(ক) অক্ষরবৃত্ত
(খ) মাত্রাবৃত্ত
(গ) দলবৃত্ত
(ঘ) গদ্যছন্দ
উত্তর: (ক) অক্ষরবৃত্ত
২৯. “মুড়য় না” শব্দটির অর্থ কী?
(ক) শেষ হয় না
(খ) ভেঙে পড়ে না
(গ) খুলে যায় না
(ঘ) জন্মায় না
উত্তর: (ক) শেষ হয় না
৩০. আকাশের তারারা কী করে?
(ক) আলো দেয়
(খ) স্বপ্ন আঁকতে সাহায্য করে
(গ) বৃষ্টি নামায়
(ঘ) অন্ধকার বাড়ায়
উত্তর: (খ) স্বপ্ন আঁকতে সাহায্য করে
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
নবম শ্রেণী বাংলা ধীবর-বৃত্তান্ত নাট্যাংশের অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Abahaman Short Question Answer SAQ
১. কবি কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন?
উত্তর: কবি পুরোনো দিনের স্মৃতিবিজড়িত নিজের উঠানে লাউমাচার পাশে গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন।
২. সন্ধ্যার বাতাসে কী দুলছে?
উত্তর: সন্ধ্যার বাতাসে একটি ছোট ফুল (লাউ ফুল) অবিরাম দুলছে।
৩. “কে এখানে ঘর বেঁধেছে নিবিড় অনুরাগে”—ঘরের এই অবস্থানের কারণ কী?
উত্তর: জন্মভূমির প্রতি গভীর মমতা ও ভালোবাসার কারণেই মানুষ নিবিড় অনুরাগে এখানে ঘর বেঁধেছে।
৪. মানুষের পিপাসাকে ‘দুরন্ত’ বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: শিকড় বা জন্মভূমির টানে মানুষের মনে যে অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষা থাকে, তা কখনও শান্ত হয় না বলে একে দুরন্ত পিপাসা বলা হয়েছে।
৫. নটেগাছটির অবস্থা কেমন হয়েছে?
উত্তর: নটেগাছটি সময়ের সাথে সাথে বুড়িয়ে গিয়েছে কিন্তু তার অস্তিত্ব শেষ বা মুড়িয়ে যায়নি।
৬. “ফুরয় না তার কিছুই ফুরয় না”—কী ফুরয় না?
উত্তর: মানুষের পুরোনো স্মৃতি, যাতায়াত এবং শিকড়ের টানে ফিরে আসার ব্যাকুলতা ফুরয় না।
৭. যাযাবর মানুষ সারাদিন কী করে?
উত্তর: যাযাবর মানুষ সারাদিন আপন মনে ঘাসের গন্ধ মাখে, অর্থাৎ প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকে।
৮. মানুষ তারায় তারায় কী এঁকে রাখে?
উত্তর: মানুষ গভীর রাতে আকাশের তারায় তারায় তার রঙিন স্বপ্নগুলি এঁকে রাখে।
৯. “দুঃখ হয় না বাসি”—কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: দুঃখের অনুভূতি মানুষের মধ্যে সবসময় সতেজ বা জীবন্ত থাকে, তা কখনও পুরোনো বা গুরুত্বহীন হয়ে যায় না।
১০. বাগান থেকে কী হারায় না?
উত্তর: বাগান থেকে কুন্দফুলের পবিত্র হাসি কখনও হারিয়ে যায় না।
১১. সান্ধ্য নদীর হাওয়া কখন ছুটে আসে?
উত্তর: আকাশে যখন সূর্য ডুবে ছায়া নামে, তখন সান্ধ্য নদীর হাওয়া ছুটে আসে।
১২. ‘লাউমাচা’ কিসের প্রতীক?
উত্তর: লাউমাচা এখানে বাংলার চিরন্তন গ্রাম্য জীবন ও পারিবারিক বন্ধনের প্রতীক।
১৩. যাযাবর কেন বারবার ফিরে আসে?
উত্তর: এই মাটিকে এবং এই হাওয়াকে বারবার ভালোবাসে বলেই যাযাবর মানুষ হারিয়ে গিয়েও ফিরে আসে।
১৪. কবিতায় ‘ছোট ফুল’ দোলার গুরুত্ব কী?
উত্তর: ছোট ফুল দোলার মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে জীবন গতিশীল এবং আশা এখনও শেষ হয়ে যায়নি।
১৫. ‘আবহমান’ কবিতাটির মূল সুর কী?
উত্তর: কবিতাটির মূল সুর হলো গ্রামবাংলার শাশ্বত রূপের বর্ণনা এবং মানুষের শিকড় সন্ধানী মানসিকতা।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আবহমান কবিতার ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Abahaman 2 Marks Question Answer
১. “যা গিয়ে ওই উঠানে তোর দাঁড়া”—উঠানটি কেমন এবং সেখানে কী আছে?
উত্তর: উঠানটি হলো সেই পুরোনো ভিটে যা স্মৃতির সঙ্গে জড়িত। সেখানে একটি লাউমাচা আছে এবং সন্ধ্যার বাতাসে একটি ছোট ফুল দুলছে।
২. “একগুঁয়েটার দুরন্ত পিপাসা”—পিপাসা কেন দুরন্ত এবং একগুঁয়ে কে?
উত্তর: এখানে মানুষের সত্তা বা মনকে একগুঁয়ে বলা হয়েছে। জন্মভূমির প্রতি মানুষের নাড়ির টান এতই প্রবল যে হাজারো যান্ত্রিকতার ভিড়েও সে পুরোনো ভিটেয় ফিরতে চায়। এই অনন্ত ইচ্ছাই হলো দুরন্ত পিপাসা।
৩. “নটেগাছটা বুড়িয়ে ওঠে, কিন্তু মুড়য় না”—তাত্পর্য বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: রূপকথার গল্প শেষ হলে নটেগাছটি মুড়িয়ে যায়, কিন্তু এই কবিতার নটেগাছটি বুড়িয়ে গেলেও শেষ হয় না। এর অর্থ হলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও শিকড়ের টান চিরকালীন, তা কখনও নিঃশেষ হয় না।
৪. “ফুরয় না তার কিছুই ফুরয় না”—উক্তিটির মাধ্যমে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে মানুষের ভিটেমাটির টান, আসা-যাওয়ার অভ্যাস এবং হারানোকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা—এই চক্রটি আবহমান কাল ধরে চলছে এবং চলতেই থাকবে।
৫. সারাদিন ঘাসের গন্ধ মাখা এবং স্বপ্ন আঁকার তাৎপর্য কী?
উত্তর: এর মাধ্যমে নাগরিক ক্লান্তি ভুলে প্রকৃতির কোলে ফিরে যাওয়া এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন আশা বা স্বপ্ন বুনে যাওয়ার চিরন্তন সত্যটি প্রকাশিত হয়েছে।
৬. “নেভে না তার যন্ত্রণা যে”—কোন যন্ত্রণার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: যাযাবর জীবনের ক্লান্তি এবং ফেলে আসা ভিটেমাটির জন্য মনের গভীরে যে হাহাকার বা আর্তি আছে, সেই যন্ত্রণার কথাই এখানে বলা হয়েছে।
৭. কুন্দফুলের হাসি কেন হারায় না?
উত্তর: মানুষের যান্ত্রিক জীবনে শত দুঃখ-কষ্ট থাকলেও প্রকৃতির স্বাভাবিক ছন্দ এবং জীবনের সতেজতা (কুন্দফুল) কখনও নিঃশেষিত হয় না।
৮. “আবার ফিরে আসে”—কে কী কারণে ফিরে আসে?
উত্তর: সেই মানুষটি ফিরে আসে যে একসময় ঘর বেঁধেছিল, পরে হারিয়ে গিয়েছিল। সে ফিরে আসে মাটির প্রতি ভালোবাসা এবং নাড়ির টানে।
৯. সন্ধ্যার বাতাসে জালের ছোট ফুল দোলার তাৎপর্য কী?
উত্তর: এটি জীবনের বহমানতা এবং গ্রাম্য প্রকৃতির স্নিগ্ধতাকে ধরে রাখার প্রতীক। হাজারো যন্ত্রণার মাঝেও এই সৌন্দর্য অমলিন।
১০. ছায়া নামলে সান্ধ্য নদীর হাওয়া ছুটে আসার কারণ কী?
উত্তর: দিন শেষে যখন শান্তি ও নিস্তব্ধতা নামে, তখনই স্মৃতিরা ভিড় করে এবং সেই পুরোনো সান্ধ্য হাওয়া মানুষকে স্মৃতিকাতর করে তোলে।
১১. “যাওয়া” এবং “আসা” ফুরয় না কেন?
উত্তর: মানুষ জীবিকার সন্ধানে বাইরে যায়, কিন্তু তার মন বারবার পুরোনো ভিটেতে ফিরে আসে। এই চক্রটি একটি শাশ্বত প্রক্রিয়া।
১২. ‘বাতাসে ফুল দোলা’ কীভাবে জীবনকে নির্দেশ করে?
উত্তর: ফুল দোলা মানেই হলো প্রাণ স্পন্দিত হওয়া। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও জীবনের জয়গান ও আশার প্রতীক হিসেবেই ফুলটি বাতাসে দুলছে।
১৩. “সে এই মাটিকে ভালোবাসে”—কোন মাটির কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: যে মাটিতে মানুষ ঘর বেঁধেছিল, যার ঘ্রাণ সে শৈশবে আত্মস্থ করেছিল—সেই জননী জন্মভূমির মাটির কথা বলা হয়েছে।
১৪. নটেগাছটা বুড়িয়ে যাওয়ার সাথে জীবনের কী মিল আছে?
উত্তর: মানুষ বা সমাজ সময়ের সাথে বৃদ্ধ বা জীর্ণ হতে পারে (বুড়িয়ে যাওয়া), কিন্তু জীবনধারা বা আদর্শ কখনও মুছে যায় না (মুড়য় না)।
১৫. ‘কুন্দফুলের হাসি’ এবং ‘দুঃখ বাসি না হওয়া’—এই দুটি বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক কী?
উত্তর: জীবনের মুদ্রার দুটি পিঠ হলো দুঃখ ও আনন্দ। দুঃখ যেমন নতুন থাকে (বাসি হয় না), আনন্দও (কুন্দফুলের হাসি) তেমনই অমলিন ও শাশ্বত।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আবহমান কবিতার ৩ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Abahaman 3 Marks Question Answer
১. “যা গিয়ে ওই উঠানে তোর দাঁড়া / লাউমাচাটার পাশে”—বক্তা কে? তিনি কেন এ কথা বলেছেন?
উত্তর: বক্তা হলেন স্বয়ং কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। আধুনিক মানুষ কর্মব্যস্ততা ও নাগরিক জীবনের যন্ত্রনায় নিজের শিকড়কে ভুলে যায়। কবি চান মানুষ যেন তার ফেলে আসা শৈশবের সহজ-সরল উঠানে ফিরে গিয়ে নিজের হারানো সত্তাকে নতুন করে আবিষ্কার করে। লাউমাচা আর উঠান হলো সেই শান্তিনিকেতন, যেখানে শান্তির পরশ পাওয়া যায়।
২. “কে এখানে ঘর বেঁধেছে নিবিড় অনুরাগে”—পংক্তিটির মাধ্যমে কবির কোন ভাবনা ফুটে উঠেছে?
উত্তর: মানুষ ভবঘুরে বা যাযাবর হলেও তার আদি নিবাস হলো গ্রামবাংলা। আদিমকাল থেকেই মানুষ এই মাটির টানে নিবিড় ভালোবাসায় ঘর বেঁধেছিল। কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে ঘর কেবল ইঁট-পাথরের নয়, তা হৃদয়ের টানে তৈরি। এই আদিম ও অকৃত্রিম সংলগ্নতার কথাই এখানে বলা হয়েছে।
৩. “নটেগাছটা বুড়িয়ে ওঠে, কিন্তু মুড়য় না”—রূপকটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আমরা ছোটবেলায় গল্প শুনতাম— ‘আমার কথাটি ফুরোল, নটেগাছটি মুড়োল’। কিন্তু কবি এখানে উল্টো কথা বলেছেন। তাঁর মতে, নটেগাছ বুড়িয়ে যেতে পারে অর্থাৎ কালক্রমে পরিবেশ বদলে যেতে পারে, কিন্তু মানুষের বংশপরম্পরা এবং মাটির প্রতি টান কখনও মুড়িয়ে বা মুছে যায় না। এটি ঐতিহ্যের অবিনশ্বরতার প্রতীক।
৪. “হাওয়ায় দুলছে ফুল”—এই চিত্রের মাধ্যমে কবি কোন বার্তায় পৌঁছেছেন?
উত্তর: এই চিত্রের মাধ্যমে কবি জীবনের প্রবহমানতা এবং চিরন্তন সত্যকে তুলে ধরেছেন। মানুষ শহরমুখী হলেও গ্রাম তার আপন ঐশ্বর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। সন্ধ্যার বাতাসে ছোট ফুল দোলার দৃশ্যটি প্রমাণ করে যে জীবন ফুরিয়ে যায়নি, সেখানে এক অমোঘ আকর্ষণ এখনও রয়ে গেছে।
৫. “হারিয়ে গিয়েও আবার ফিরে আসে”—কার ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে? কেন সে ফিরে আসে?
উত্তর: এখানে সেই চিরন্তন মানুষের কথা বলা হয়েছে যে যান্ত্রিকতার দাপটে শহরমুখী হয়েছিল। সে ফিরে আসে মাটির প্রতি ভালোবাসা এবং হাওয়ার টানে। শিকড়ের প্রতি এই যে পিছুটান, যা মানুষকে বারবার তার জন্মভিটায় ফিরিয়ে আনে, তাকেই কবি এখানে ফুটিয়ে তুলেছেন।
৬. “ফুরয় না তার আসা এবং ফুরয় না তার যাওয়া”—উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: এটি মানুষের জীবনের এক শাশ্বত চক্র। মানুষ প্রয়োজনে গ্রাম ছাড়ে (যাওয়া), আবার প্রাণের আকুলতায় বা শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করতে ফিরে আসে (আসা)। এই নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াতের প্রথাটি আবহমান কাল ধরে চলে আসছে বলে তা ফুরায় না।
৭. “দুঃখ হয় না বাসি”—কথাটির অন্তর্নিহিত অর্থ কী?
উত্তর: সাধারণত পুরোনো জিনিস বাসি হয়ে যায়, কিন্তু ভিটেমাটি হারানোর বা শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার যে বেদনা, তা সবসময় টাটকা বা সতেজ থাকে। মানুষের মন এই দুঃখকে লালন করে বলেই তা কখনও বাসি বা অপ্রাসঙ্গিক হয় না।
৮. “একগুঁয়েটার দুরন্ত পিপাসা”—একগুঁয়ে কাকে বলা হয়েছে এবং কেন?
উত্তর: এখানে মানুষের সত্তা বা তার মনকে একগুঁয়ে বলা হয়েছে। কারণ সে শত বাধা ও পরিবর্তনের মাঝেও পুরোনো ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চায়। তার জন্মমাটির প্রতি এই যে অদম্য তৃষ্ণা বা আকাঙ্ক্ষা, যা কখনও মেটে না, তাকেই দুরন্ত পিপাসা বলা হয়েছে।
৯. “সারারাত তারায় তারায় স্বপ্ন এঁকে রাখে”—যাযাবর মানুষের এই আচরণের কারণ কী?
উত্তর: যাযাবর মানুষ সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করে নাগরিক যন্ত্রণায় দগ্ধ হয়। কিন্তু রাতের নিস্তব্ধতায় সে যখন আকাশে তারা দেখে, তখন সে তার স্বপ্নের ভিটেমাটি আর সুখের ভবিষ্যতের ছবি সেখানে আঁকে। স্বপ্নই তাকে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা দেয়।
১০. সান্ধ্য নদীর হাওয়া এবং ছায়া নামার প্রেক্ষাপটটি আলোচনা করো।
উত্তর: দিন শেষে যখন প্রকৃতিতে ছায়া নামে, তখন সান্ধ্য নদীর শীতল হাওয়া বয়ে আসে। এই পরিবেশটি অত্যন্ত শান্ত ও স্মৃতিমেদুর। যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল যখন কমে আসে, তখনই মানুষ তার ফেলে আসা অতীত আর হারানো মাটিকে আরও নিবিড়ভাবে অনুভব করে।
১১. “কুন্দফুলের হাসি”—প্রতীকটির সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: কুন্দফুল হলো সাদা ও পবিত্র। বাগান থেকে কুন্দফুলের হাসি না হারানোর অর্থ হলো—জীবন থেকে আনন্দ ও সৌন্দর্য চিরতরে মুছে যায় না। হাজারো প্রতিকূলতা ও দুঃখের মাঝেও প্রকৃতির অমোঘ সৌন্দর্য ও পবিত্রতা মানুষকে আনন্দ দিয়ে যায়।
১২. “আবহমান” কবিতার সঙ্গে বর্তমান নাগরিক জীবনের বৈপরীত্য কোথায়?
উত্তর: বর্তমান নাগরিক জীবন যান্ত্রিকতা, স্বার্থপরতা ও শিকড়হীনতায় ভরা। অন্যদিকে, ‘আবহমান’ কবিতাটি মাটির সোঁদা গন্ধ, লাউমাচা এবং শৈশবের নির্মল স্মৃতির কথা বলে। নগরায়নের ফলে মানুষ ঘর হারালেও তার মন যে চিরকাল গ্রামের সেই উঠানকে খোঁজে, এই বৈপরীত্যই কবিতায় দেখা যায়।
১৩. “সে এই মাটিকে এই হাওয়াকে আবার ভালোবাসে”—মাটি ও হাওয়ার এই গুরুত্ব কী?
উত্তর: মাটি ও হাওয়া হলো জন্মভূমির মূল অস্তিত্ব। মানুষ যে পরিবেশে বড় হয়, সেই মাটি ও হাওয়ার সঙ্গে তার এক অদৃশ্য নাড়ির বন্ধন তৈরি হয়। এই ভালোবাসাই মানুষকে যাযাবর জীবন থেকে মুক্তি দিয়ে নিজের ঘরে ফিরিয়ে আনে।
১৪. নটেগাছ বুড়িয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে সময়ের কোন ইঙ্গিত পাওয়া যায়?
উত্তর: সময়ের সাথে সাথে পৃথিবী বদলেছে, মানুষের বয়স বেড়েছে, গ্রামের রূপও হয়তো পাল্টেছে—এটাই হলো বুড়িয়ে যাওয়া। কিন্তু যা বদলায়নি তা হলো মানুষের আবেগ। সময়ের গতির কাছে আবেগ হারের মানেনি বলেই নটেগাছটি মুড়িয়ে যায়নি।
১৫. কবিতার শেষ স্তবকে কেন শুরুর পংক্তিগুলি ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: কবিতার শেষে শুরুর পংক্তির পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে যে এই চাকাটি চক্রাকারে ঘোরে। এটি একটি অন্তহীন প্রক্রিয়া। মানুষের ফিরে আসা এবং সেই লাউমাচার পাশে দাঁড়ানো—এটি এক শাশ্বত কাল ধরে চলছে এবং চলবে, যা আবহমান নামের সার্থকতা দেয়।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
ক্লাস ৯ বাংলা আবহমান কবিতার বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর | Class 9 Bengali Abahaman 5 Marks Important Question Answer
১. ‘আবহমান’ কবিতায় কবির যে স্বদেশপ্রেম ও শিকড় সন্ধানী মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে, তা বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর: কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘আবহমান’ কবিতাটি কেবল গ্রামবাংলার প্রকৃতির বর্ণনা নয়, এটি আসলে মানুষের নিজের শিকড়কে খোঁজার এক আর্তি। আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতায় মানুষ যখন নিজের আত্মাকে বন্ধক রেখেছে শহরের কাছে, তখন কবি তাকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন তার ফেলে আসা উঠান ও লাউমাচার কথা।
মানুষ একসময় অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এই গ্রামবাংলার মাটিতে ঘর বেঁধেছিল। কিন্তু প্রয়োজনের তাগিদে সে বারবার সেই ভিটে ছেড়ে শহরমুখী হয়েছে, যাযাবর হয়েছে। কিন্তু কবির লক্ষ্যণীয় পর্যবেক্ষণ হলো—মানুষ যত দূরেই যাক না কেন, তার অবচেতন মন পড়ে থাকে সেই পুরোনো ভিটেতে। “কে এখানে হারিয়ে গিয়েও আবার ফিরে আসে”—এই পংক্তির মাধ্যমে কবি মানুষের চিরন্তন শিকড় সন্ধানী সত্তাকে চিনিয়েছেন। মাটির মমতা, ঘাসের গন্ধ আর তারায় ভরা রাতের স্বপ্ন তাকে বারবার ঘরে ফেরার আমন্ত্রণ জানায়।
কবির মতে, নটেগাছ বুড়িয়ে গেলেও মুড়য় না, অর্থাৎ সময়ের পরিবর্তন হলেও ঐতিহ্য ও শিকড়ের প্রতি টান অমলিন থাকে। নাগরিক জীবনের ক্লান্তি ও যন্ত্রণা থাকলেও মানুষের অন্তরে জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা আবহমান কাল ধরে সতেজ থাকে। এই স্বদেশপ্রেম কেবল ভূখণ্ডের প্রতি নয়, তা হলো নিজের আপন অস্তিত্বের আদি ঠিকানার প্রতি এক গভীর আনুগত্য।
২. “নটেগাছটা বুড়িয়ে ওঠে, কিন্তু মুড়য় না”—উক্তিটির তাৎপর্য সহজ কথায় বুঝিয়ে দাও। এই রূপকের মাধ্যমে কবি কোন চিরন্তন সত্যকে তুলে ধরেছেন?
উত্তর: প্রচলিত বাংলা লোককথা বা রূপকথার শেষে বলা হয়, “আমার কথাটি ফুরোল, নটেগাছটি মুড়োল।” অর্থাৎ গল্প শেষ হলে নটেগাছও শেষ বা নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ‘আবহমান’ কবিতায় এই লোকায়ত প্রথাকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নটেগাছটি বুড়িয়ে যায় কিন্তু মুড়িয়ে যায় না।
এর মধ্য দিয়ে কবি এক গভীর দার্শনিক সত্যকে তুলে ধরেছেন। সময়ের গতির সাথে সাথে সবকিছু জীর্ণ বা পুরোনো (বুড়িয়ে যাওয়া) হয় ঠিকই, গ্রামের রূপ পাল্টায়, মানুষের বয়স বাড়ে—কিন্তু মানুষের মন থেকে জন্মভূমির স্মৃতি এবং মাটির প্রতি টান কখনও নিঃশেষ (মুড়য় না) হয় না। আধুনিক যাযাবর মানুষ আজ শহরবাসী হতে পারে, কিন্তু তার শৈশবের লাউমাচা আর উঠান আজও তার মনের গহীনে সতেজ আছে।
যান্ত্রিক সভ্যতার পেষণে মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে, কিন্তু আদি লৌকিক অস্তিত্ব বা শেকড়ের টান এতটাই শক্তিশালী যে তা কখনও শেষ হয়ে যায় না। নটেগাছ এখানে ঐতিহ্যের প্রতীক। বুড়িয়ে গেলেও তা সগৌরবে দাঁড়িয়ে থাকে মানুষের স্মৃতিতে। এই রূপকের মাধ্যমে কবি জীবনের অবিনশ্বরতা ও আবহমান প্রবহমানতাকে সার্থকভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
৩. ‘আবহমান’ কবিতার নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: সাহিত্যের নামকরণ সর্বদা সেই রচনার মূল ভাবকে বহন করে। নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘আবহমান’ কবিতাটির ক্ষেত্রেও এই কথাটি একইভাবে প্রযোজ্য। ‘আবহমান’ শব্দের অর্থ হলো যা আদি কাল থেকে একইভাবে প্রবহমান বা চিরকালীন।
কবিতাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কবি এখানে মানুষের ফেলে আসা ঘর ও সম্পর্কের কথা বলেছেন। মানুষ একসময় গভীর ভালোবাসায় এই ধরণীর বুকে নিবিড় ঘর বেঁধেছিল। সময়ের সাথে মানুষ শহরগামী হয়েছে, যাযাবর জীবন বেছে নিয়েছে সত্যি, কিন্তু তার ঘরে ফেরার আকাঙ্ক্ষা কখনও ফুরিয়ে যায়নি। এই ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা, মাটির প্রতি অনুরাগ এবং স্মৃতি রোমন্থন—এ সবই ‘আবহমান’ কাল ধরে চলে আসছে।
কবিতায় দেখা যায়, যান্ত্রিকতা সত্ত্বেও কুন্দফুলের হাসি হারায় না, সূর্যের উদয় ও ছায়ার নামা বন্ধ হয় না এবং মানুষের পিপাসাও মেটে না। এই সবকটি অনুষঙ্গই নির্দেশ করে যে জীবনের মূল সুরটি প্রবহমান। মাটির টানে যাযাবর মানুষের ফিরে আসা এবং সেই লাউমাচার পাশে দাঁড়ানো—এই চক্রটি কখনও শেষ হয় না। বিষয়বস্তুর এই চিরকালীনতা বা অনন্ত প্রবহমানতাকেই কবিতাটির শিরোনামে ‘আবহমান’ শব্দটির মাধ্যমে ব্যক্ত করা হয়েছে। তাই নামকরণটি সম্পূর্ণ সার্থক ও ব্যঞ্জনাধর্মী।
৪. যাযাবর মানুষের যন্ত্রণা ও প্রত্যাশার ছবি ‘আবহমান’ কবিতায় কীভাবে ফুটে উঠেছে?
উত্তর: ‘আবহমান’ কবিতায় যাযাবর মানুষ হলো আধুনিক নাগরিক সভ্যতার সেই প্রতিনিধি, যে তার শিকড়চ্যুত হয়েও স্মৃতির জগতে বাস করে। তার জীবন আজ নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন। কবি বলেছেন— “নেভে না তার যন্ত্রণা যে, দুঃখ হয় না বাসি”। এই যন্ত্রণা হলো ঘর হারানোর যন্ত্রণা, অকৃত্রিম প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার হাহাকার। প্রতিকূল যান্ত্রিক জীবনে তার দুঃখ কখনও পুরোনো হয় না, তা সর্বদা সতেজ যন্ত্রণায় তাকে বিদ্ধ করে।
কিন্তু এই যন্ত্রণার ওপাশে রয়েছে এক উজ্জ্বল প্রত্যাশার ছবি। যাযাবর মানুষটি সারাদিন ঘাসের গন্ধ মাখে এবং রাতে তারায় তারায় রঙিন স্বপ্ন বুনে রাখে। সে বিশ্বাস করে, জীবন ফুরিয়ে যায়নি। তার বাগান থেকে কুন্দফুলের পবিত্র হাসি এখনও মুছে যায়নি। তার প্রত্যাশা হলো—আবার সেই পুরোনো লাউমাচার পাশে গিয়ে দাঁড়ানো, যেখানে সন্ধ্যার বাতাসে চিরন্তন ফুলটি দুলছে।
যাযাবর মানুষটির এই ঘরে ফেরার “দুরন্ত পিপাসা” এবং মাটির প্রতি নিবিড় অনুরাগই তাকে প্রতিকূলতার মধ্যে বাঁচিয়ে রাখে। অর্থাৎ, মৃত্যু বা বিনাশ নয়, যন্ত্রণার সমুদ্র পেরিয়ে আশার আলোয় নিজের শিকড়কে খুঁজে পাওয়াই হলো যাযাবর মানুষের মূল প্রত্যাশা।
৫. প্রকৃতির অমোঘ সৌন্দর্য কীভাবে মানুষের জীবনের ক্লান্তি দূর করে তা ‘আবহমান’ কবিতার ভিত্তিতে আলোচনা করো।
উত্তর: নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ‘আবহমান’ কবিতায় দেখিয়েছেন যে প্রকৃতি হলো মানুষের পরম আশ্রয়স্থল। যখন যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল ও ক্লান্তি মানুষকে ঘিরে ধরে, তখন প্রকৃতির ছোট ছোট উপাদানই তাকে শান্তির পরশ দেয়।
কবিতায় লাউমাচা, ছোট ফুল, ঘাসের গন্ধ, সান্ধ্য নদীর হাওয়া এবং আকাশের তারা—এই সবকটি অনুষঙ্গই প্রকৃতির স্নিগ্ধ রূপকে ফুটিয়ে তোলে। কবি আহ্বান করেছেন সেই উঠানে গিয়ে দাঁড়াতে, কারণ সেখানেই প্রকৃত শান্তি আছে। সারাদিন আপন মনে ঘাসের গন্ধ মাথায় মাখলে মনের বিষাক্ত নাগরিক ক্লান্তি দূর হয়। সন্ধ্যার বাতাস যখন সেই ছোট ফুলটিকে দোলায়, তখন তা মনের গভীরে আশার সঞ্চার করে।
সূর্যের উদয় এবং ছায়া নামার সাথে সাথে সান্ধ্য নদীর হাওয়া যখন মানুষের গায়ে লাগে, তখন তার সারাদিনের যন্ত্রণা লঘু হয়ে যায়। তারায় তারায় স্বপ্ন এঁকে রাখার মাধ্যমে মানুষ অসীম আকাশের সাথে নিজের ক্ষুদ্র অস্তিত্বকে মেলাতে পারে। প্রতিকূলতার মাঝেও কুন্দফুলের হাসি অমলিন থাকা জীবন ও প্রকৃতির অপরাজেয় জীবনীশক্তিকেই প্রমাণ করে। এভাবেই প্রকৃতি তার শান্ত ও নির্মল রূপের মাধ্যমে মানুষের জীবনের নিরবচ্ছিন্ন ক্লান্তি দূর করে তাকে আবহমান প্রবহমানতায় যুক্ত করে।
৬. “ফুরয় না তার আসা এবং ফুরয় না তার যাওয়া”—এই পংক্তিটির আলোকে মানুষের বিবর্তন ও চিরন্তন প্রবৃত্তি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আলোচ্য পংক্তিটি মানুষের চিরকালীন গতিশীলতাকে নির্দেশ করে। মানুষের জীবন হলো এক নিরন্তর প্রবাহ। আদিম যুগে মানুষ জঙ্গল কাটিয়ে গ্রাম বানিয়েছিল, শস্যের ক্ষেত তৈরি করেছিল এবং নিবিড় অনুরাগে ঘর বেঁধেছিল। এটিই ছিল ‘আসা’।
পরবর্তীতে উন্নতির নেশায় বা জীবনধারণের তাগিদে মানুষ সেই শান্ত পরিবেশ ছেড়ে শহরে পাড়ি দিল। সে যাযাবর হলো, উদ্বাস্তু হলো—এটি হলো ‘যাওয়া’। কিন্তু বিবর্তনের এক পর্যায়ে গিয়ে মানুষ বুঝতে পারল যে যান্ত্রিকতা তাকে শান্তি দিতে পারছে না। ফলে সে আবারও তার শৈশবের ঠিকানায়, তার মাটির টানে ফিরে আসতে চাইল। এই যাওয়া ও আসার চক্রটি মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক শাশ্বত সত্য।
মানুষের এই প্রবৃত্তি কখনও মরে না। সে নতুনকে খুঁজতে গিয়ে পুরোনোকে হারায়, আবার হারানোকে ফিরে পেতে আর্তনাদ করে। এই আসা-যাওয়ার খেলাটিই সভ্যতার চাকার মতো ঘুরছে। এটি আদি ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। মানুষের এই চিরন্তন প্রবৃত্তির জন্যই কবির ভাষায় তার আসা-যাওয়ার পালা কখনও ফুরায় না।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আজকের পোস্ট এর মধ্যে আবহমান কবিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা, কবিতাটির বিষয়বস্তু এবং উত্তর সহ প্রশ্নও আলোচনা করা হল, যেগুলি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ ভাবে তোমাদের সহায়ক হয়ে উঠবে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী অন্যান্য সমস্ত বিষয়ের নোট (Class IX All Notes) |
নবম শ্রেণী আবহমান প্রশ্ন উত্তর | আবহমান কবিতার সারাংশ | আবহমান নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Bengali Abahaman Questions and Answers | আবহমান প্রশ্নোত্তর MCQ SAQ ও বড় প্রশ্ন।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম Study গ্রুপে যুক্ত হোন -


