পশ্চিমবঙ্গে তরুনের স্বপ্ন প্রকল্পের মাধ্যমে মাধ্যমিক পাশ করে একাদশ শ্রেণীতে ১০০০০ টাকার ট্যাবের বাস স্মার্টফোন কেনার দেয়া হতো। স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে বাড়তে থাকা মোবাইল-আসক্তি নিয়ে এবার তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর থেকেই শিক্ষক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি রাজ্যে বন্ধ হতে চলেছে ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পের অধীনে ট্যাব কেনার ১০,০০০ টাকার আর্থিক সাহায্য?
Taruner Swapna Scheme 2026-27: মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ
সম্প্রতি নিউটাউনে আয়োজিত ‘বিদ্যাসাগর শিক্ষাসম্মান’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মোবাইল ফোন স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলছে। রাত দেড়টা-দুটোর আগে তারা ঘুমোতে যাচ্ছে না। অভিভাবকরা শুয়ে পড়ার পর আড়ালে চলে মোবাইল দেখা। এটা একটা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক কুপ্রভাব।”
প্রসঙ্গক্রমে তিনি গুজরাতের উদাহরণ টেনে এনে বলেন, “গুজরাতে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের মোবাইলে হাত দিতে দেওয়া হয় না। মোবাইল সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রণ না করলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষক দিবসের মতো উদযাপনের কোনো মানেই থাকবে না।” পাশাপাশি তিনি মেনে নেন, “এটি একটি খুব কঠিন সিদ্ধান্ত। এতে হয়ত আমার ভোট কমে যেতে পারে, তবুও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে কঠিন কথা বলতে হবে।”
যদিও পরবর্তীতে তিনি সংযোজন করেন যে, সব বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ সঠিক নয় এবং পরিবার ও অভিভাবকদেরও এক্ষেত্রে বড় দায়িত্ব রয়েছে।
Taruner Swapna Tab er Taka: কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? বন্ধের পক্ষে শিক্ষকরাও!
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরপরই শিক্ষক মহলের একাংশ খোলাখুলিভাবে ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্প বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।
- বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি: সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল জানান, “আমরা শুরু থেকেই দাবি জানিয়ে আসছিলাম যে ট্যাব বা তার টাকা দেওয়া বন্ধ করা হোক। এর ফলে পড়ুয়াদের মধ্যে মোবাইল-আসক্তি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সরকারের এতে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”
- অল পোস্ট গ্রাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন: সংগঠনের প্রতিনিধি চন্দন গড়াই বলেন, “পড়ুয়াদের এই ট্যাবের টাকা দেওয়া বন্ধ করা উচিত। মুখ্যমন্ত্রীর সময়োপযোগী বক্তব্যকে আমরা পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি।”
বিস্তারিত জানুন: Biometric Attendance: স্কুল পড়ুয়াদের বায়োমেট্রিক হাজিরা! উপস্থিতি কম হলে বসতে পারবে না পরীক্ষায়
শিক্ষক মহল ও বিশেষজ্ঞদের দ্বিধাবিভক্ত মত
তবে শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বর্তমান যুগে মোবাইল বা ডিজিটাল ডিভাইস সম্পূর্ণ বর্জন করা কার্যত অসম্ভব। কারণ পাঠ্যক্রমের বাইরেও সরকারের বহু পরিষেবা, অনলাইন ফর্ম ফিল-আপ এবং শিক্ষা সংক্রান্ত কাজ এখন অ্যাপ-নির্ভর।
তাঁদের মতে, সমস্যাটি প্রযুক্তির ব্যবহারে নয়, বরং অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে। মোবাইল ব্যবহারের একটি সুনির্দিষ্ট সীমারেখা তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে প্রযুক্তিকে সঠিক শিক্ষার কাজে ব্যবহার করা যায় এবং তার ক্ষতিকর আসক্তি থেকে ছাত্রছাত্রীদের দূরে রাখা যায়।
‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্প বা ট্যাবের ১০,০০০ টাকা দেওয়া বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি রাজ্য সরকার। তবে স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে বাড়তে থাকা মোবাইল-আসক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিতের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল ব্যবহারের ওপর কঠোর নিয়ম আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে বাড়িতেও অতিরিক্ত মোবাইলে আসক্ত না হয়ে পড়ে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে।
নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের কী কী কাজ প্রস্তুত রাখতে হবে?
যদি শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্প চালু থাকে, তবে আবেদন করার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের কিছু প্রয়োজনীয় নথি ও শর্তাবলি মেনে চলতে হবে:
- ছাত্র-ছাত্রীর নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।
- ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, আধার কার্ড এবং স্কুলের খাতায় নামের বানান ও তথ্য হুবহু এক হতে হবে।
- ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার কার্ড ও সক্রিয় মোবাইল নম্বর লিঙ্ক (Aadhaar Seeding) থাকা বাধ্যতামূলক।
নির্দেশিকা দেখে নিন! স্কুলে মোবাইল ব্যান! শিক্ষা সংসদের নতুন নির্দেশ, কী কী মানতে হবে ছাত্রছাত্রীদের?
| গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | লিংক |
|---|---|
| অফিসিয়াল লেটেস্ট আপডেট » | Click Here → |
| Taruner Swapna Portal (সেলফ ডিক্লারেশন এবং ভেরিফিকেশন পোর্টাল) | https://selfdeclaration.wb.gov.in/ |
বর্তমান পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের মোবাইল ব্যবহারের সময়সীমা এবং পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকার বা শিক্ষা দফতর কোনো নতুন নীতি বা রূপরেখা তৈরি করে কিনা, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যের অভিভাবক ও ছাত্র সমাজ।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন -

