বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘চৈতালি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘খেয়া’ কবিতাটি নবম শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। গ্রামীণ বাংলার অতি সাধারণ এক শান্ত ও স্নিগ্ধ পটভূমিকায় কবিতাটি রচিত। এখানে একদিকে আছে নদীর দুই তীরের দুটি গ্রামের মানুষের চিরন্তন সহজ-সরল জীবনযাত্রা, আর অন্যদিকে আছে বহির্বিশ্বের রাজায়-রাজায় যুদ্ধ, সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন ও সভ্যতার কোলাহল। কবি এই কবিতায় তুচ্ছ গ্রামীণ জীবনের স্থায়িত্বের সঙ্গে বৃহত্তর জগতের অস্থিরতার এক তুলনামূলক চিত্র অঙ্কন করেছেন।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| পাঠের নাম | খেয়া |
| কবি | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| কাব্যগ্রন্থ | চৈতালি |
খেয়া – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (নবম শ্রেণী বাংলা কবিতা)
আজকের এই পোস্টে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘খেয়া’ কবিতাটির উৎস, সারাংশ, নামকরণের সার্থকতা এবং অধ্যায়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর খুব সহজ ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে।
খেয়া – কবি পরিচিতি
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা। কাব্য, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ও সংগীত—সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় তাঁর পদচারণা উজ্জ্বল। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
‘খেয়া’ কবিতাটি কবির ‘চৈতালি’ কাব্যগ্রন্থের ১৮ সংখ্যক কবিতা। ১৮৯৬ সালে যখন কবি নদীমাতৃক বাংলাদেশে জমিদারি তদারকির জন্য বোটে করে ঘুরতেন, সেই সময়কার গ্রামীণ জীবনের অভিজ্ঞতা এই কবিতার মূল ভিত্তি।
খেয়া কবিতার সারাংশ (Summary)
নদীর স্রোতে একটি খেয়ানৌকা অবিরাম দুই তীরের মধ্যে যাতায়াত করে। নদীর দুই তীরে দুটি গ্রাম রয়েছে যাদের মধ্যে আজন্ম চেনা-জানা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রামের মানুষ এই নৌকায় করে নদী পারাপার হয়—কেউ প্রয়োজনে ঘর থেকে বাইরে আসে, কেউ কাজ শেষে ঘরে ফিরে যায়। এই জীবনধারা অত্যন্ত শান্ত ও নিরবচ্ছিন্ন।
কিন্তু এই ক্ষুদ্র গ্রাম্য জীবনের বাইরে পৃথিবীর বৃহত্তর অঙ্গনে চলছে নিরন্তর অস্থিরতা। সেখানে কত সাম্রাজ্যের বিনাশ ঘটছে, রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাধ্যমে নতুন নতুন ইতিহাস রচিত হচ্ছে। ক্ষমতার পালাবদলে কত সোনার মুকুট ভাঙছে আর গড়ছে। সভ্যতার অগ্রগতির নামে বাড়ছে মানুষের হিংসা ও তৃষ্ণা, উঠছে হলাহল ও সুধা।
তবে এই সমস্ত জাগতিক অশান্তি ও কোলাহলের ঢেউ গ্রাম্য জীবনের নিস্তরঙ্গ শান্তিতে কোনো আঘাত হানতে পারে না। রাজসিংহাসনের জয়-পরাজয় বা ইতিহাসের রক্তপাত নির্বাসিত থাকে এই দুই গ্রামের সীমানার বাইরে। দুই তীরের গ্রাম দুটি কেবল একে অপরের দিকে পরম মায়ার সঙ্গে চেয়ে থাকে, আর মাঝখানের নদীস্রোতে চিরন্তন খেয়ানৌকাটি সাধারণ মানুষের ঘরে যাওয়ার ও ঘর থেকে আসার সেতুবন্ধন হয়ে কাজ করে।
খেয়া কবিতার নামকরণের সার্থকতা
সাহিত্যে নামকরণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্ম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘খেয়া’ কবিতাটির নামকরণের মধ্যে এক গভীর জীবনদর্শন লুকিয়ে আছে।
‘খেয়া’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো নদী পারাপারের নৌকা। কবিতার শুরুতেই কবি দেখিয়েছেন খেয়ানৌকা কীভাবে নদীর দুই তীরের মানুষের মিলন ঘটাচ্ছে। বাহ্যিক বিচারে খেয়া কেবল একটি পারাপারের মাধ্যম, কিন্তু কবির দৃষ্টিতে এটি এক চিরন্তন জীবনপ্রবাহের প্রতীক। পৃথিবীর ইতিহাসে যখন বড় বড় যুদ্ধবিগ্রহ ঘটছে, যখন ক্ষমতার লোভে মানুষ রক্তপাত ঘটাচ্ছে, তখন এই তুচ্ছ খেয়ানৌকাটি যেন স্তব্ধ সময়ের সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
বৃহত্তর জগতের সভ্যতা ও ইতিহাসের উন্মাদনা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু মানুষের ঘরে ফেরার যে টান, একে অপরের সঙ্গে গড়ে ওঠা যে মমত্ববোধ—তা শাশ্বত। এই শাশ্বত জীবনধারাকে বহন করে নিয়ে চলে খেয়ানৌকাটি। কবির বর্ণনায় খেয়া হলো সেই যোগসূত্র যা জাগতিক কোলাহলের ঊর্ধ্বে মানুষের সহজ-সরল বেঁচে থাকাকে টিকিয়ে রাখে। তাই বিষয়বস্তু ও ভাবসত্যের দিক থেকে ‘খেয়া’ নামকরণটি সার্থক ও ব্যঞ্জনাধর্মী হয়ে উঠেছে।
খেয়া কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| খেয়া | নদী পারাপার করার নৌকা |
| আনাগোনা | যাতায়াত বা চলাফেরা |
| পারা-পার | এক তীর থেকে অন্য তীরে যাওয়া |
| দ্বন্দ্ব | বিরোধ বা ঝগড়া |
| রক্তপ্রবাহ | রক্তের স্রোত (যুদ্ধের প্রতীক) |
| মুকুট | রাজার মাথার চূড়া বা অলঙ্কার |
| তৃষ্ণা | পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বা তৃপ্তিহীনতা |
| হলাহল | বিষ বা অমঙ্গল |
| সুধা | অমৃত বা শান্তি |
| দোঁহা-পানে | দুজনের দিকে (এখানে দুই গ্রামের পারস্পরিক চাউনি) |
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
খেয়া কবিতার প্রশ্ন উত্তর (বহুবিকল্প প্রশ্ন উত্তর) | Class 9 Kheya MCQ Question Answer
১. ‘খেয়া’ কবিতাটি কার লেখা?
(ক) কাজী নজরুল ইসলাম
(খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(গ) জীবনানন্দ দাশ
(ঘ) জসীমউদ্দীন
উত্তর: (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২. ‘খেয়া’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
(ক) চিত্রা
(খ) বলাকা
(গ) সোনার তরী
(ঘ) চৈতালি
উত্তর: (ঘ) চৈতালি
৩. ‘খেয়া’ কথাটির অর্থ কী?
(ক) মাছ ধরার নৌকা
(খ) নদী পারাপারের নৌকা
(গ) পাল তোলা জাহাজ
(ঘ) স্টিমার
উত্তর: (খ) নদী পারাপারের নৌকা
৪. খেয়ানৌকা কোথায় পারাপার করে?
(ক) সমুদ্রে
(খ) পুকুরে
(গ) বিলে
(ঘ) নদীস্রোতে
উত্তর: (ঘ) নদীস্রোতে
৫. নদীর দুই তীরে গ্রামগুলির সম্পর্ক কেমন?
(ক) একে অপরের শত্রু
(খ) সম্পূর্ণ অপরিচিত
(গ) জানাশোনা
(ঘ) খুব দূরে অবস্থিত
উত্তর: (গ) জানাশোনা
৬. গ্রামগুলির মধ্যে মানুষের আনাগোনা কখন চলে?
(ক) কেবল সকালে
(খ) কেবল সন্ধ্যায়
(গ) দুপুরবেলা
(ঘ) সকাল হইতে সন্ধ্যা
উত্তর: (ঘ) সকাল হইতে সন্ধ্যা
৭. পৃথিবীতে কী গড়ে ওঠে বলে কবি জানিয়েছেন?
(ক) নতুন সভ্যতা
(খ) নতুন নতুন ইতিহাস
(গ) নতুন রাস্তাঘাট
(ঘ) নতুন নগর
উত্তর: (খ) নতুন নতুন ইতিহাস
৮. নতুন ইতিহাস কিসের মাঝে ফেঁপে বা ফেনিয়ে ওঠে?
(ক) জলপ্রবাহের মাঝে
(খ) রক্তপ্রবাহের মাঝে
(গ) রাজনীতির মাঝে
(ঘ) সমুদ্রের মাঝে
উত্তর: (খ) রক্তপ্রবাহের মাঝে
৯. কী ফুটে ওঠে আর টুটে যায়?
(ক) পদ্মফুল
(খ) সোনার মুকুট
(গ) চাঁদের আলো
(ঘ) নতুন নৌকা
উত্তর: (খ) সোনার মুকুট
১০. সভ্যতার নব নব কী জেগে ওঠে?
(ক) সম্পদ
(খ) তৃষ্ণা ও ক্ষুধা
(গ) শান্তি
(ঘ) গান
উত্তর: (খ) তৃষ্ণা ও ক্ষুধা
১১. ‘উঠে কত হলাহল’— হলাহল শব্দের অর্থ কী?
(ক) মধু
(খ) অমৃত
(গ) বিষ
(ঘ) জল
উত্তর: (গ) বিষ
১২. হলাহলের সঙ্গে আর কী ওঠার কথা বলা হয়েছে?
(ক) কাদা
(খ) জল
(গ) সুধা
(ঘ) গাল
উত্তর: (গ) সুধা
১৩. দুই তীরে গ্রামদুটি একে অপরের দিকে কীভাবে চেয়ে আছে?
(ক) ঘৃণার সঙ্গে
(খ) রাগের সঙ্গে
(গ) দোঁহা-পানে চেয়ে
(ঘ) উদাসভাবে
উত্তর: (গ) দোঁহা-পানে চেয়ে
১৪. “কেবা জানে নাম”—কারা জানাশোনার কথা বলা হয়েছে?
(ক) রাজাদের
(খ) বিজ্ঞানীদের
(গ) দুই তীরের দুই গ্রামের
(ঘ) ইতিহাসবেত্তাদের
উত্তর: (গ) দুই তীরের দুই গ্রামের
১৫. ‘খেয়া’ কবিতাটির মূল সুর কী?
(ক) যুদ্ধের বর্ণনা
(খ) গ্রামীণ জীবনের স্থিরতা ও সভ্যতার অস্থিরতা
(গ) প্রকৃতির ধ্বংসলীলা
(ঘ) রাজাদের মহিমা
উত্তর: (খ) গ্রামীণ জীবনের স্থিরতা ও সভ্যতার অস্থিরতা
১৬. পৃথিবীতে কত কী হওয়ার কথা কবি বলেছেন?
(ক) উন্নতি
(খ) দ্বন্দ্ব ও সর্বনাশ
(গ) আমোদ-প্রমোদ
(ঘ) মেলা
উত্তর: (খ) দ্বন্দ্ব ও সর্বনাশ
১৭. নব নব সভ্যতার তৃষ্ণা ও ক্ষুধার কথা বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
(ক) খাদ্যের অভাব
(খ) সাম্রাজ্য বিস্তারের লালসা
(গ) জলের চেষ্টা
(ঘ) জ্ঞানার্জন
উত্তর: (খ) সাম্রাজ্য বিস্তারের লালসা
১৮. “দোঁহা-পানে চেয়ে আছে দুইখানি গ্রাম”— গ্রাম দুটির মাঝখানে কী বয়ে যায়?
(ক) রাস্তা
(খ) মাঠ
(গ) নদীস্রোত
(ঘ) পাহাড়
উত্তর: (গ) নদীস্রোত
১৯. “সোনার মুকুট কত ফুটে আর টুটে”—এখানে টুটে শব্দের অর্থ কী?
(ক) গড়ে ওঠা
(খ) ভেঙে যাওয়া
(গ) উজ্জ্বল হওয়া
(ঘ) চুরি হওয়া
উত্তর: (খ) ভেঙে যাওয়া
২০. খেয়া পারাপারের সময় মানুষের গন্তব্য কী?
(ক) বিদেশে যাওয়া
(খ) হাটে যাওয়া
(গ) ঘর হতে আসাও এবং ঘরে ফেরা
(ঘ) যুদ্ধে যাওয়া
উত্তর: (গ) ঘর হতে আসাও এবং ঘরে ফেরা
২১. কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই কবিতাটি কোন সময়কালীন অনুভূতির ফসল?
(ক) বার্ধক্যকালের
(খ) বাল্যকালের
(গ) পদ্মাবক্ষে জমিদারি তদারকির সময়কার
(ঘ) নোবেল পাওয়ার পরের
উত্তর: (গ) পদ্মাবক্ষে জমিদারি তদারকির সময়কার
২২. পৃথিবীতে কত সর্বনাশ ঘটে এর কারণ কী?
(ক) ভূমিকম্প
(খ) মানুষের ক্ষমতার লড়াই ও হিংসা
(গ) অনাবৃষ্টি
(ঘ) বন্যা
উত্তর: (খ) মানুষের ক্ষমতার লড়াই ও হিংসা
২৩. ইতিহাসকে কবি কিসের সঙ্গে যুক্ত করেছেন?
(ক) শান্তির সঙ্গে
(খ) রক্তপ্রবাহের সঙ্গে
(গ) সত্যের সঙ্গে
(ঘ) কল্পনার সঙ্গে
উত্তর: (খ) রক্তপ্রবাহের সঙ্গে
২৪. ‘সুধা’ শব্দের প্রতিশব্দ কোনটি?
(ক) হলাহল
(খ) অমীয় (অমৃত)
(গ) জল
(ঘ) সলিল
উত্তর: (খ) অমীয় (অমৃত)
২৫. খেয়ানৌকাটি কেমন?
(ক) রাজকীয়
(খ) অতি সাধারণ বা তুচ্ছ
(গ) অতি আধুনিক
(ঘ) যান্ত্রিক
উত্তর: (খ) অতি সাধারণ বা তুচ্ছ
২৬. “সকাল হইতে সন্ধ্যা করে আনাগোনা”—আনাগোনা কথাটি কিসের ব্যঞ্জনা দেয়?
(ক) নিরন্তর জীবনধারার
(খ) ক্লান্তির
(গ) ব্যস্ততার
(ঘ) ব্যবসার
উত্তর: (ক) নিরন্তর জীবনধারার
২৭. গ্রামে গ্রামান্তরে মানুষ কিসের সাহয্যে যোগযোগ রাখে?
(ক) সেতু
(খ) খেয়ানৌকা
(গ) সাঁকো
(ঘ) বাস
উত্তর: (খ) খেয়ানৌকা
২৮. সভ্যতার অগ্রগতিতে কী বাড়তে দেখা যায়?
(ক) কেবল শান্তি
(খ) কোলাহল ও হলাহল
(গ) বনের পরিমাণ
(ঘ) নীরবতা
উত্তর: (খ) কোলাহল ও হলাহল
২৯. “কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে”—এই পঙক্তিটির পুনরাবৃত্তি কেন?
(ক) ছন্দ রক্ষার জন্য
(খ) জীবনের চিরন্তন ও শাশ্বত গতি বোঝাতে
(গ) শব্দ সংখ্যা বাড়াতে
(ঘ) অলঙ্কার হিসেবে
উত্তর: (খ) জীবনের চিরন্তন ও শাশ্বত গতি বোঝাতে
৩০. ‘চৈতালি’ কাব্যগ্রন্থের প্রকাশকাল কত?
(ক) ১৩০৩ বঙ্গাব্দ
(খ) ১৩১০ বঙ্গাব্দ
(গ) ১৩২৫ বঙ্গাব্দ
(ঘ) ১৩০০ বঙ্গাব্দ
উত্তর: (ক) ১৩০৩ বঙ্গাব্দ
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
খেয়া কবিতার অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর (SAQ) | Class 9 Kheya 1 Mark Questions
১. ‘খেয়া’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
উত্তর: ‘খেয়া’ কবিতাটি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চৈতালি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
২. খেয়ানৌকা কোথায় পারাপার করে?
উত্তর: খেয়ানৌকা নদীর স্রোতে দুই তীরের মধ্যস্থলে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পারাপার করে।
৩. নদীর দুই তীরের গ্রাম দুটির মধ্যে সম্পর্ক কেমন?
উত্তর: নদীর দুই তীরের গ্রাম দুটির মধ্যে বহুকাল ধরে গভীর ‘জানাশোনা’ বা সদ্ভাব সম্পর্ক বর্তমান।
৪. “সকাল হইতে সন্ধ্যা করে আনাগোনা”—কারা আনাগোনা করে?
উত্তর: খেয়ানৌকায় করে নদীর দুই তীরের গ্রামবাসী সাধারণ মানুষ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আনাগোনা করে।
৫. পৃথিবীতে কী জন্য দ্বন্দ্ব ও সর্বনাশ ঘটে?
উত্তর: সাম্রাজ্য বিস্তার, ক্ষমতার মোহ এবং মানুষের পারস্পরিক হিংসার কারণে পৃথিবীতে ধ্বংস বা সর্বনাশ ঘটে।
৬. রক্তপ্রবাহের মাঝে কী ফেনিয়ে ওঠে?
উত্তর: যুদ্ধের কারণে রক্তের যে প্রবাহ তৈরি হয়, তার মাঝেই সভ্যতার নতুন নতুন ইতিহাস ফেনিয়ে ওঠে।
৭. “সোনার মুকুট কত ফুটে আর টুটে”—এর তাৎপর্য কী?
উত্তর: এর অর্থ হলো ক্ষমতার পালাবদলে রাজবংশের উত্থান (ফুটে) এবং সাম্রাজ্যের পতন (টুটে) ঘটা।
৮. সভ্যতার বিবর্তনে কী কী জেগে ওঠার কথা কবি বলেছেন?
উত্তর: সভ্যতার বিবর্তনে নব নব ক্ষুধা ও তৃষ্ণা এবং হলাহল ও সুধা জেগে ওঠার কথা কবি বলেছেন।
৯. “কেবা জানে নাম”—নাম না জানার কারণ কী?
উত্তর: বৃহত্তর জগতের রাজকীয় কোলাহলের কাছে এই শান্ত ক্ষুদ্র গ্রামগুলির খবর পৌঁছায় না বলেই কেউ এদের নাম জানে না।
১০. দুই তীরের গ্রাম দুটি কীভাবে তাকিয়ে থাকে?
উত্তর: দুই তীরের গ্রাম দুটি নদীর মধ্যবর্তী ব্যবধান সত্ত্বেও পরম মায়ার সঙ্গে একে অপরের দিকে (দোঁহা-পানে) চেয়ে থাকে।
১১. ‘হলাহল’ ও ‘সুধা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘হলাহল’ শব্দের অর্থ হলো তীব্র বিষ এবং ‘সুধা’ শব্দের অর্থ হলো অমৃত।
১২. কবি ক্ষুদ্র গ্রামীণ জীবনকে কিসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
উত্তর: কবি ক্ষুদ্র গ্রামীণ জীবনকে সভ্যতার রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের বিপরীতে এক স্থির, শান্ত ও শাশ্বত আশ্রয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
১৩. নদীর স্রোতে খেয়া পারাপার কী নির্দেশ করে?
উত্তর: নদীর স্রোতে খেয়া পারাপার মানুষের বেঁচে থাকার একটি নিরবচ্ছিন্ন ও শাশ্বত গতিকে নির্দেশ করে।
১৪. “রক্তপ্রবাহের মাঝে ফেনাইয়া ওঠে”—কী ফেনিয়ে ওঠে?
উত্তর: যুদ্ধের রক্তস্রোতের মাঝে নতুন নতুন ‘ইতিহাস’ ফেনিয়ে ওঠে।
১৫. খেয়া কবিতায় কতবার “কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে” পদটি ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: কবিতাটির প্রথম এবং শেষ দুই লাইনে—অর্থাৎ মোট দুবার এই পদটি ব্যবহৃত হয়েছে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
খেয়া কবিতার ২ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Kheya 2 Marks Questions
১. “দুই তীরে দুই গ্রাম আছে জানাশোনা”—এই জানাশোনার গভীরতা বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: নদীর দুই তীরের গ্রামের মানুষরা কেবল প্রতিবেশী নয়, তারা আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ। প্রতিদিন একই খেয়ানৌকায় যাতায়াত করার ফলে তারা একে অপরের সুখ-দুঃখের অংশীদার। এই ‘জানাশোনা’ হলো দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক এক নিবিড় বন্ধন।
২. “পৃথিবীতে কত দ্বন্দ্ব কত সর্বনাশ”—কবি এই সর্বনাশ বলতে কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: আধুনিক সভ্যতায় ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা ও সাম্রাজ্য বিস্তারের লোভে মানুষের মধ্যে যে ভয়াবহ যুদ্ধবিগ্রহ বা সংঘাত ঘটে, তাকেই কবি ‘সর্বনাশ’ বলেছেন। এতে অগণিত প্রাণহানি ও মানবিকতার অবক্ষয় ঘটে।
৩. নতুন ইতিহাস কীভাবে রচিত হয় বলে কবি মনে করেন?
উত্তর: কবির মতে, ইতিহাস শান্ত পথে চলে না। রাজায়-রাজায় যুদ্ধের রক্তপ্রবাহের মধ্য দিয়েই নতুন ইতিহাসের জয়গান রচিত হয়। মানুষের লোভ ও সংঘর্ষই হলো ইতিহাসের চালিকাশক্তি।
৪. “সোনার মুকুট কত ফুটে আর টুটে” পঙক্তিটির অর্থ কী?
উত্তর: এর অর্থ হলো রাজবংশের উত্থান ও পতন। একটি সাম্রাজ্য যখন জয়ী হয় তখন তার সাফল্যের মুকুট ফুটে ও ওঠে, আবার শক্তির হ্রাসে সেই রাজশক্তি চূর্ণবিচূর্ণ বা ‘টুটে’ যায়। অর্থাৎ পার্থিব ক্ষমতা যে ক্ষণস্থায়ী, কবি তাই বুঝিয়েছেন।
৫. সভ্যতার ‘নব নব ক্ষুধা ও তৃষ্ণা’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: বর্তমান সভ্যতায় মানুষের লালসা সীমাহীন। সাম্রাজ্য দখল, প্রাকৃতিক সম্পদ লুট এবং অন্যকে পদানত করার যে তীব্র বাসনা আধুনিক মানুষের মধ্যে আছে, তাকেই কবি নব নব ক্ষুধা ও তৃষ্ণা বলেছেন।
৬. সভ্যতার দ্বন্দ্বে ‘হলাহল’ ও ‘সুধা’ কীসের প্রতীক?
উত্তর: ‘হলাহল’ হলো যুদ্ধের ধ্বংসলীলা ও অমানবিকতার প্রতীক। উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানুষ অশান্তির বিষ ছড়ায়। অন্যদিকে ‘সুধা’ হলো কদাচিৎ পাওয়া জয় বা শান্তির প্রতীক, যা দ্বন্দ্বের শেষেই দেখা দেয়।
৭. কেন গ্রাম দুটির নাম বাইরের কেউ জানে না?
উত্তর: গ্রাম দুটি শান্ত, নিভৃত ও তুচ্ছ। সেখানে ক্ষমতার লড়াই বা ইতিহাসের কোলাহল নেই। রাজারা বড় বড় যুদ্ধ বা দেশ জয়ের নাম জানলেও এই সাধারণ জনপদের মানবিকতার খবর তারা রাখে না বলেই এর নাম প্রচার পায়নি।
৮. “দোঁহা-পানে চেয়ে আছে দুইখানি গ্রাম”—পঙক্তিটি কোন মানসিকতার পরিচয় দেয়?
উত্তর: এই পঙক্তিটি দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক মায়া, ভরসা ও সৌহার্দ্যের পরিচয় দেয়। হিংসা বা দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে তারা স্থিরভাবে একে অপরের পরিপূরক হয়ে বেঁচে থাকে।
৯. খেয়ানৌকার চিরদিন চলার তাৎপর্য কী?
উত্তর: পৃথিবীর রাজশক্তি পাল্টে যায়, ইতিহাস বদলে যায়, কিন্তু মানুষের সাধারণ জীবনের চাহিদা—যেমন ঘরে ফেরা বা জীবিকার সন্ধানে বাইরে আসা—তা কখনও বদলায় না। নদীস্রোতে খেয়া চলা হলো জীবনের এই শাশ্বত গতির প্রতীক।
১০. ‘চৈতালি’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ‘খেয়া’ কবিতার গুরুত্ব কী?
উত্তর: ‘চৈতালি’ কাব্যের কবিতাগুলি প্রকৃতি ও মানুষের সহজ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে লেখা। ‘খেয়া’ কবিতায় কবি অত্যন্ত সংক্ষেপে বৈশ্বিক দ্বন্দ্বের চেয়ে গ্রামীণ জীবনের মৈত্রী ও স্থিরতাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
১১. নদীর স্রোত খেয়া পারাপারের ওপর কী প্রভাব ফেলে?
উত্তর: নদীর স্রোত হলো সময়ের প্রতীক। সময় বয়ে চললেও খেয়ানৌকাটি তার কর্তব্য অর্থাৎ মিলন ঘটিয়ে চলা বন্ধ করে না। স্রোত এখানে জীবনের নিরবচ্ছিন্নতাকে বজায় রাখে।
১২. “কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে”—এই দুই বিপরীতধর্মী কাজের সমন্বয় কীভাবে ঘটে?
উত্তর: মানুষের জীবনচক্র দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত—বাইরে কর্মসংস্থান এবং শেষে আপন গৃহকোণে শান্তি। খেয়ানৌকাটি এই দুই মেরুর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখে।
১৩. কেন কবি ‘সোনার মুকুট’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন?
উত্তর: রাজকীয় ক্ষমতা ও অহংকারের প্রতীক হলো সোনার মুকুট। এটি পৃথিবীর ভোগবিলাস ও ক্ষণভঙ্গুর রাজকীয় আড়ম্বরকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
১৪. গ্রাম দুটির জানাশোনা শুধু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ কি না?
উত্তর: না, এটি কেবল মানুষের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়। এটি প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের এবং এক গ্রামের অস্তিত্বের সঙ্গে অন্য গ্রামের অস্তিত্বের প্রাণের মিলনকে বোঝায়।
১৫. কবিতার শেষে কবি কেন সেই একই চরণে ফিরে এলেন?
উত্তর: সভ্যতার যত কোলাহলই থাক না কেন, দিনশেষে মানুষের সত্য হলো ‘ঘরে ফেরা’। এই শ্বাশ্বত সত্যটি প্রতিষ্ঠার জন্যই কবি কবিতার শেষে পুনরায় “কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে” পঙক্তিটি ব্যবহার করেছেন।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
খেয়া কবিতার ৩ নম্বরের প্রশ্ন উত্তর | Class 9 Kheya 3 Marks Questions
১. “সকাল হইতে সন্ধ্যা করে আনাগোনা”—প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এর মাধ্যমে প্রকাশিত গ্রামীণ জীবনের ছবিটি আঁকো।
উত্তর: কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘খেয়া’ কবিতায় গ্রামীণ বাংলার এক শাশ্বত চিত্র তুলে ধরেছেন। নদীর দুই তীরে অবস্থিত দুটি গ্রামের মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে বা প্রীতির টানে প্রতিদিন খেয়ানৌকায় যাতায়াত করে। এই ‘আনাগোনা’ কেবল চলাফেরা নয়, এটি তাদের নিরবচ্ছিন্ন জীবনের প্রতীক। গ্রামবাসী কেউ জীবিকার জন্য ঘর থেকে বেরোয়, আবার কেউ দিনান্তে শান্তি খুঁজতে ঘরে ফিরে যায়। এই প্রক্রিয়ায় ক্লান্ত নেই, বিরাম নেই। বাইরের জগত যখন যুদ্ধের উন্মাদনায় চঞ্চল, তখন গ্রামীণ জীবনের এই ধীর ও শান্ত চলাফেরাই কবির চোখে জীবনের সার্থক রূপ হিসেবে ফুটে উঠেছে।
২. “রক্তপ্রবাহের মাঝে ফেনাইয়া ওঠে/ নুতন নুতন কত গড়ে ইতিহাস”—উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আলোচ্য উক্তিটি কবি রবীন্দ্রনাথের ‘খেয়া’ কবিতা থেকে সংগৃহীত। এখানে ইতিহাসের এক কঠোর সত্যের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। কবির মতে, সাম্রাজ্য বিস্তার বা ক্ষমতার লড়াইয়ে যে ব্যাপক রক্তপাত ঘটে, সেই রক্তের ওপর দাঁড়িয়েই নতুন নতুন ক্ষমতা হস্তান্তরের ইতিহাস রচিত হয়। ইতিহাস হলো বিজয়ীর কাহিনী, যা সাধারণ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে তৈরি হয়। বৃহত্তর পৃথিবীর এই ইতিহাস দ্বন্দ্ব ও ধ্বংসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা গ্রামীণ জীবনের নিরুপদ্রব শান্তির সম্পূর্ণ বিপরীত।
৩. খেয়া কবিতায় ‘সোনার মুকুট’ ফোটা আর টুটার তাৎপর্য আলোচনা করো।
উত্তর: ‘সোনার মুকুট’ বলতে সম্রাট বা রাজাদের চরম অহংকার ও ক্ষমতাকে বোঝানো হয়েছে। ‘ফোটা’ হলো নতুন রাজবংশের সিংহাসনে আরোহণ বা জয়ের আনন্দ। অন্যদিকে ‘টুটা’ হলো সেই রাজশক্তি বা সাম্রাজ্যের পরাজয় ও পতন। মানুষের ক্ষমতার দম্ভ যে স্থায়ী নয়, সময়ের প্রভাবে যে এক রাজা সরে গিয়ে অন্য রাজার উত্থান ঘটে—এই শ্বাশ্বত পরিবর্তনশীলতাকেই কবি ফোটা ও টুটার মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। এটি গ্রাম্য জীবনের স্থিরতার বিপরীতে রাজকীয় জীবনের অস্থিরতাকেই প্রমাণ করে।
৪. “সভ্যতার নব নব কত তৃষ্ণা ক্ষুধা”—এই তৃষ্ণা ও ক্ষুধা বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘খেয়া’ কবিতায় কবি সভ্যতার কুৎসিত রূপটি ফুটিয়ে তুলেছেন ‘তৃষ্ণা’ ও ‘ক্ষুধা’ শব্দ দুটির ব্যবহারের মাধ্যমে। আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতা কেবল আরও বেশি এলাকা দখল ও সম্পদ অধিকার করতে চায়। এই আগ্রাসী মানসিকতাই হলো সভ্যতার ক্ষুধা। মানুষ যখন তার নৈতিকতা হারিয়ে ক্ষমতার চরম শিখরে পৌঁছাতে চায়, তখনই সভ্যতার এই অতৃপ্ত তৃষ্ণা জাগে। এর ফলেই সমাজে হলাহল বা অশান্তি ও হাহাকার দেখা দেয়।
৫. “দোঁহা-পানে চেয়ে আছে দুইখানি গ্রাম”—পঙক্তিটি কবি কেন ব্যবহার করেছেন?
উত্তর: পৃথিবীর কোলাহল ও রাজতৈন্ত্রিক রক্তপাত থেকে গ্রামীণ জনপদ বহুদূরে। নদীর দুই তীরের গ্রাম দুটি যুদ্ধের উন্মাদনায় অংশ নেয় না। কবি দেখিয়েছেন, ধ্বংসের মাঝখানে দাঁড়িয়েও মানবিকতা অমর। গ্রাম দুটির এই একে অপরের দিকে চেয়ে থাকা আসলে সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা এবং অবিচ্ছেদ্য গ্রামীণ সংহতির প্রতীক। বাইরের জগত তাদের নাম না জানলেও তারা নিজেরা নিজেদের মধ্যে প্রাণের আদান-প্রদান ঘটিয়ে শান্তিতে টিকে থাকে। এই চিত্রটি মানবিক সম্পর্কের জয়গানেরই প্রতিফলন।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
খেয়া কবিতার বড়ো প্রশ্ন ও উত্তর (৫ নম্বর) | Class 9 Bengali Kheya 5 Marks Important Question Answer
১. ‘খেয়া’ কবিতায় কবি একদিকে যুদ্ধের ধ্বংসলীলা ও অন্যদিকে গ্রামীণ জীবনের স্থিরতা—এই দুইয়ের যে বৈপরীত্য দেখিয়েছেন তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘খেয়া’ কবিতায় আধুনিক সভ্যতার অস্থিরতার বিপরীতে গ্রামীণ বাংলার শাশ্বত শান্তির এক অপূর্ব তুলনামূলক চিত্র অঙ্কন করেছেন।
একদিকে রয়েছে বৃহত্তর জগত ও সভ্যতার উগ্র রূপ। সেখানে রাজায়-রাজায় যুদ্ধ লেগে আছে, ক্ষমতার লোভে রক্তগঙ্গা বয়ে যাচ্ছে। কবি দেখিয়েছেন, ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষায় সেখানে ‘সোনার মুকুট’ ভেঙে চুরমার হয় আবার গড়ে ওঠে। এই জগতটি হলো দ্বন্দ্ব, হলাহল ও বিনাশের। রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বের মাধ্যমে সেখানে ইতিহাস রচিত হয় এবং সভ্যতার নতুন নতুন ‘ক্ষুধা ও তৃষ্ণা’ মানুষের মধ্যে হাহাকার জাগিয়ে তোলে। এই জীবনধারাটি চঞ্চল, ধ্বংসাত্মক ও ক্ষণভঙ্গুর।
অন্যদিকে কবি দেখিয়েছেন নদীর দুই তীরের গ্রামীণ চিত্র। সেখানে কোনো রক্তপাত বা সাম্রাজ্য জয়ের নেশা নেই। দুই তীরের মানুষের মধ্যে জন্মজন্মান্তরের নিবিড় জানাশোনা। দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি সরল খেয়ানৌকা তাদের ঘর থেকে আসাও আর ঘরে ফেরার মাধ্যম হয়ে থাকে। বাইরের যুদ্ধের ঢেউ এই শান্ত জনপদে আছড়ে পড়ে না। পৃথিবীর বড় বড় রাজাদের কাছে এই গ্রাম ও তার মানুষেরা হয়তো তুচ্ছ বা অপরিচিত, কিন্তু তাদের এই মিলন ও ভালোবাসার জীবনধারাই হলো প্রকৃত শাশ্বত সত্য।
পরিশেষে বলা যায়, কবির দৃষ্টিতে ধ্বংসের চেয়ে স্রষ্টি এবং লড়াইয়ের চেয়ে সম্প্রীতিই বড়। বাহ্যিক ইতিহাসের রক্তপাতের চেয়ে মানুষের শান্ত গৃহকোণ ও সহজ-সরল বেঁচে থাকাই জীবনের পরম সার্থকতা। ‘খেয়া’ কবিতাটি এই স্থিরতা বনাম অস্থিরতার দ্বন্দ্বে গ্রামীণ শান্তির জয়গানই গেয়ে ওঠে।
২. “খেয়ানৌকা পারাপার করে নদীস্রোতে;/ কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে”—কবিতার এই শুরুর ও শেষের চরণের মিল ও অমিল আলোচনা করে কবিতার মূল ভাবটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘খেয়া’ কবিতার শুরু এবং শেষে অত্যন্ত দক্ষভাবে একই পঙক্তির পুনরাবৃত্তি করেছেন। এই গঠনশৈলী কবিতার অন্তর্নিহিত দর্শনকে প্রতিষ্ঠা করতে সহায়ক হয়েছে।
মিল: কবিতার প্রথম এবং শেষ চরণ দুটিতেই নদীর স্রোতে খেয়া পারাপারের কথা এবং মানুষের প্রয়োজনে ঘর থেকে আসা ও ঘরে ফিরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই মিলটি মানবজীবনের চিরন্তন গতিকে নির্দেশ করে। জগত ও জীবন যে নিয়মে চলছে, তা কোনো মতেই থামবার নয়—পঙক্তিদ্বয় এই অমোঘ সত্যটিকেই প্রতিফলিত করে।
মূল ভাব বিশ্লেষণ: প্রথম যখন কবি এই লাইনটি ব্যবহার করেন, তখন তা পাঠককে গ্রামীণ স্নিগ্ধ পরিবেশে নিয়ে যায়। কিন্তু এরপরেই কবি পরবর্তী পঙক্তিগুলিতে পৃথিবীর রক্তক্ষয়ী ইতিহাস, রাজাদের পতন এবং সভ্যতার ক্ষুধার বর্ণনা দেন। এই ধ্বংসের বর্ণনা দেওয়ার পর পাঠক যখন কবিতার শেষে পুনরায় সেই একই চরণে ফিরে আসে, তখন তার অর্থ বদলে যায়। এখানে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে পৃথিবীতে কত সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়ে গেছে, কত রাজা ধুলোতে মিশে গেছে, কিন্তু মানুষের এই ঘর থেকে বের হওয়া আর দিনের শেষে ঘরে ফেরার টানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
বৃহত্তর পৃথিবীর কোলাহলের চেয়েও ক্ষুদ্র মানুষের ভালোবাসার এই ঘর-ফেরার টান অনেক বেশি শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী। সভ্যতা পরিবর্তনশীল, যুদ্ধ ধ্বংসাত্মক—কিন্তু মানুষের অন্তরের মিলন এবং সহজ বেঁচে থাকার ধারাটিই শেষ পর্যন্ত পৃথিবীতে টেকে। এই শাশ্বত নিরবিচ্ছিন্নতা বোঝানোর জন্যই কবি কবিতার প্রারম্ভে ও সমাপ্তিতে একই চরণের প্রয়োগ ঘটিয়েছেন।
৩. ‘খেয়া’ কবিতার নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: নামকরণের মাধ্যমেই কোনো রচনার মূল ভাববস্তু বা দর্শন পাঠকচিত্তে ধরা দেয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘খেয়া’ কবিতাটি নামকরণের দিক থেকে যেমন কাব্যিক, তেমনি গভীর ভাবব্যঞ্জক।
‘খেয়া’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো নদী পারাপারের ক্ষুদ্র তরণী। কবিতার উপরিস্তরে কবি নদীর দুই তীরের শান্ত গ্রামের জীবনচিত্র এঁকেছেন। সেখানে খেয়ানৌকাটি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রামের মানুষের পারাপার নিশ্চিত করে। এটি গ্রামীণ সমাজের যোগাযোগের একমাত্র অবলম্বন। গ্রামের মানুষ এই নৌকায় করে ঘর থেকে আসে এবং প্রয়োজনে আবার ঘরে ফিরে যায়। এই সহজ ও সাধারণ কাজটিই কবিতার আধারে একটি গভীর প্রতীকী রূপ পেয়েছে।
কবি দেখিয়েছেন, পৃথিবীর রাজপথে যখন যুদ্ধের দামামা বাজে, ক্ষমতার দম্ভে সোনার মুকুট টুটে যায় এবং রক্তক্ষয়ী ইতিহাস রচিত হয়, তখন এক তীরের মানুষের অন্য তীরে যাওয়ার মাধ্যম এই ‘খেয়া’ চিরকাল অটুট থাকে। খেয়া এখানে কেবল কাঠের তৈরি বস্তু নয়, এটি হলো ‘জীবনপ্রবাহ’ এবং ‘মিলনের’ প্রতীক। আধুনিক সভ্যতা তার আগ্রাসী ক্ষুধা দিয়ে পৃথিবীকে বিষিয়ে তুললেও, সাধারণ মানুষের এই শান্ত প্রীতি ও প্রতিবেশীর প্রতি জানাশোনাটুকুই হলো জীবনের প্রকৃত সঞ্চয়। রাজারা বড় হতে চায়, কিন্তু গ্রামবাসী ভালোবাসায় টিকে থাকতে চায়। এই ভালোবাসার সেতুবন্ধন হলো ‘খেয়া’।
কবিতাটিতে খেয়া শব্দটি যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে শুরু হয়ে শেষে মানবিকতার শাশ্বত নিদর্শনের প্রতীকে রূপান্তরিত হয়েছে। ক্ষুদ্রের মাঝেই যে সুন্দরের বাস এবং দ্বন্দ্বর বদলে মৈত্রীর জয়গানই যে শ্রেষ্ঠ—তা এই নামকরণের মাধ্যমেই কবি প্রকাশ করেছেন। তাই কাব্যিক ব্যঞ্জনা এবং বিষয়ের গভীরতা বিচারে ‘খেয়া’ নামকরণটি সর্বতোভাবে সার্থক হয়েছে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী ও পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি WhatsApp গ্রুপ |
আজকের পোস্ট এর মধ্যে খেয়া কবিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা, কবিতাটির বিষয়বস্তু এবং উত্তর সহ প্রশ্নও আলোচনা করা হল, যেগুলি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষ ভাবে তোমাদের সহায়ক হয়ে উঠবে।
| Details | Link |
|---|---|
| নবম শ্রেণী অন্যান্য সমস্ত বিষয়ের নোট (Class IX All Notes) |
ক্লাস নাইন বাংলা খেয়া কবিতা প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস ৯ বাংলা খেয়া কবিতা শর্ট কোশ্চেন | খেয়া কবিতার নামকরণের সার্থকতা | নবম শ্রেণী বাংলা সাজেশন খেয়া কবিতা | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের খেয়া কবিতা সারমর্ম।
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম Study গ্রুপে যুক্ত হোন -


